বাদশা বাবর ব্যগ্রকণ্ঠে ভিষকবৃন্দকে ডাকলেন।
রাজ্যের যত বিজ্ঞ হেকিম, কবিরাজ, দরবেশ সবাই মিলে বাদশাজাদার চিকিৎসা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত ছিলেন।
মোগল সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুন দীর্ঘদিন দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত। তার চিকিৎসার জন্য রাজ্যের যত বিজ্ঞ হেকিম, কবিরাজ, দরবেশ ব্যতিব্যস্ত। বাদশাজীদার প্রাণরক্ষার জন্য তাঁরা দিন-রাত পরিশ্রম করেন। সবাই একসঙ্গে বসে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসার বিধান নির্দেশ করেন। বাদশাজাদার সেবাযত্নের বিধিবিধানে একটুও ত্রুটি করেন না। এসব কারণেই তারা ব্যতিব্যস্ত ছিলেন।
উদ্দীপকের পিতা বংশীবদন ও 'জীবন বিনিময়' কবিতার পিতা বাদশা বাবর দুজনের সাদৃশ্য হলো তাঁরা উভয়েই সন্তানের মঙ্গলের জন্য স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা জানিয়েছেন।
সন্তান পৃথিবীতে পিতা-মাতার শ্রেষ্ঠ উপহার। তারা অসহায় অবস্থায় পৃথিবীতে আসে। পিতা-মাতা তাদের আদর-যত্নে বড় করে তোলেন। সন্তানের মঙ্গলের জন্য তাঁরা সর্বদা স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করেন।
উদ্দীপকের বংশীবদন তাঁর কন্যার ভালো বিয়ের জন্য ভগবান শঙ্করের কাছে প্রার্থনা করেন। তিনি চান ভগবান যেন তাঁর সন্তানকে ভালো ঘর, ভালো বর দেন। কন্যার যেন ভালো বিয়ে হয়, সে যেন সুখে-শান্তিতে, কল্যাণে থাকে। অন্যদিকে সন্তানের কল্যাণ চিন্তা করে 'জীবন বিনিময়' কবিতার পিতা বাদশা বাবরও মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। তিনি অসুস্থ সন্তানের সুস্থতা কামনা করেন নিজের জীবনের বিনিময়ে। বাদশা বাবর নিরিবিলি গৃহে শান্তভাবে আল্লাহর কাছে দুহাত তুলে সন্তানের জীবনের জন্য প্রার্থনা করেন। এভাবে উদ্দীপকের পিতা বংশীবদন ও 'জীবন বিনিময়' কবিতার পিতা বাদশা বাবর দুজনের সাদৃশ্য হলো তাঁরা উভয়েই সন্তানের মঙ্গলের জন্য স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা জানিয়েছেন।
"উদ্দীপকটি 'জীবন বিনিময়' কবিতার মূলভাবকে প্রকাশ করে না।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
পিতা সব সময় সন্তানের সুখের কথা চিন্তা করে ব্যাকুল হন। সন্তানের সুখের শান্তির জন্য নিজের সুখ-শান্তি বিসর্জন দেন। প্রয়োজনে নিজের জীবন দিতেও কুণ্ঠিত হন না। কারণ পিতার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান তাঁর সন্তানের জীবন।
উদ্দীপকে 'জীবন বিনিময়' কবিতার সন্তানের মঙ্গল কামনার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। উভয় জায়গায় পিতা সন্তানের মঙ্গলের জন্য স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করেছেন। তবে উদ্দীপকে আত্মত্যাগী পিতার চিত্র ফুটে ওঠেনি, যা আলোচ্য কবিতায় ফুটে উঠেছে। 'জীবন বিনিময়' কবিতায় একজন পিতার সন্তানবাৎসল্যের অসাধারণ দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছে, যিনি নিজের জীবনের বিনিময়ে সন্তানের জীবন রক্ষা করেছেন। তাঁর পিতৃস্নেহের কাছে অপ্রতিরোধ্য মৃত্যুরও পরাজয় ঘটেছে। পক্ষান্তরে উদ্দীপকের পিতা শুধু সন্তানের সুখ ও মঙ্গলের জন্য প্রার্থনা করেছেন। দরিদ্র হওয়ায় কন্যার বর প্রার্থনা করে ভগবানের কাছে কন্যার সুখ-সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেছেন।
'জীবন বিনিময়' কবিতায় একজন পিতা সন্তানের জন্য নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কথা প্রকাশ পেয়েছে। সন্তানের সুস্থতা ও মঙ্গলই তাঁর জীবনের লক্ষ্য। অন্যদিকে উদ্দীপকেও একজন পিতার সন্তানের সুন্দর জীবনের জন্য প্রার্থনা ফুটে উঠেছে। তিনি ভালো ঘরে বিয়ে দিয়ে কন্যাকে সুখী দেখতে চেয়েছেন, কিন্তু সন্তানের জন্য তাকে জীবনোৎসর্গ করতে হয়নি। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All'জীবন বিনিময়' কবিতায় প্রত্যেক মানুষের নিজের জীবনকে 'সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ধন' বলা হয়েছে।
কবি 'জীবন বিনিময়' কবিতায় নীরবতাকে নিষ্ঠুর বলেছেন হুমায়ুনের রোগমুক্তির উপায় নেই এমন ভাব প্রকাশ পাওয়ায়।
'জীবন বিনিময়' কবিতায় বাবরপুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত। রাজ্যের যত চিকিৎসক আছেন সবাই আসার পরও হুমায়ুনের রোগমুক্তির কোনো উপায় হয় না। একসময় বাবর যখন রাগান্বিত হয়ে চিকিৎসকদের বলেন, রোগ থেকে বাদশাজাদার মুক্তি মিলবে কি না, তখন রোগ থেকে মুক্তি সম্ভব নয় ভেবে চিকিৎসকরা নীরব থাকেন। এ কারণেই নীরবতাকে নিষ্ঠুর বলা হয়েছে।
উৎপলকে সরিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে উদ্দীপকের পিতার মাঝে 'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবরের যে পরিচয় মেলে তা হলো পুত্রের জন্য পিতার আত্মত্যাগ।
সন্তানের প্রতি পিতার স্নেহের তুলনা হয় না। পিতা হলেন সন্তানের জীবনের প্রধান ছায়া। পিতা সন্তানের সুখের জন্য হাজারো কষ্ট সহ্য করেন। সন্তানকে ভালো রাখতে পিতার চেষ্টার শেষ নেই।
'জীবন বিনিময়' কবিতায় পিতৃস্নেহের মহৎ দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে। পিতার স্নেহ-বাৎসল্যের কাছে মৃত্যুর পরাজয় ঘটেছে। মোগল সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়। রাজ্যের কোনো চিকিৎসক তার রোগমুক্তির উপায় বের করতে পারেন না। শেষে যখন এক দরবেশ বাবরকে শ্রেষ্ঠ ধন কোরবানি দিতে বলেন তখন তিনি নিজের প্রাণই দিয়ে দেন। সন্তানকে ভালো রাখার জন্য এমন আত্মত্যাগ উদ্দীপকের উৎপলের পিতার মধ্যেও দেখা যায়। যখন তারা ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন তখন উৎপলকে সরিয়ে তার পিত্য ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত হন। এভাবে উদ্দীপকের পিতার মাঝে 'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবরের আত্মত্যাগের পরিচয় মেলে।
"ভাবগত ঐক্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'জীবন বিনিময়' কবিতার ঘটনাপ্রবাহের সমার্থক নয়"- মন্তব্যটি যথার্থ।
জগতে পিতা ও সন্তানের সম্পর্ক চিরন্তন। সন্তানের সুখের জন্য অনেক পিতা নিজ জীবন পর্যন্ত দিয়ে দেন। আবার সন্তানও পিতাকে অনেক শ্রদ্ধা করে, ভালোবাসে। তারা একে অপরের ঢালস্বরূপ।
'জীবন বিনিময়' কবিতায় পিতৃস্নেহের এক মহৎ দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে। পিতার স্নেহ-বাৎসল্যের কাছে মৃত্যুর পরাজয় ঘটেছে। কবিতায় মোগল সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত। বিজ্ঞ চিকিৎসকেরা তার রোগমুক্তির কোনো উপায় বের করতে পারেন না। তারপর এক দরবেশ যখন বাবরকে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ধন কোরবানি করতে বলেন তখন বাবর উপলব্ধি করেন তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ধন হলো নিজের প্রাণ। তিনি বিধাতার কাছে নিজের প্রাণের বিনিময়ে অসুস্থ পুত্রের প্রাণভিক্ষা চান। উদ্দীপকেও পুত্রের প্রতি পিতার ভালোবাসার দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে। তবে 'জীবন বিনিময়' কবিতার ঘটনাপ্রবাহ অনেক বেশি হৃদয়স্পর্শী।
উদ্দীপক ও কবিতা উভয় জায়গাতেই পিতার অপত্যস্নেহ প্রকাশ পেয়েছে। তবে আলোচ্য কবিতায় পিতার প্রাণদানের বিনিময়ে পুত্রের প্রাণরক্ষা অনেক বেশি মর্মস্পর্শী। উদ্দীপকে এমন কিছুর ইঙ্গিত নেই। উদ্দীপকে পিতা ও পুত্র দুজন দুজনের ঢালস্বরূপ। তাই বলা যায়, ভাবগত ঐক্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'জীরন বিনিময়' কবিতার ঘটনাপ্রবাহের সমার্থক নয়।
'জীবন বিনিময়' কবিতায় রোগ হলো বাদশাজাদা হুমায়ুনের।
"জীবন-প্রদীপ নিভিয়া আসিছে অন্তরবির প্রায়"- কথাটি দ্বারা কবি বোঝাতে চেয়েছেন, বাদশাজাদা হুমায়ুনের জীবন অন্তপ্রায় সূর্যের মতো শেষ হয়ে যাচ্ছে।
সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত। রাজ্যের যত বিজ্ঞ হাকিম, কবিরাজ, দরবেশ দিন-রাত তার চিকিৎসায় ব্যস্ত। সেবা-যত্নের কোনো ত্রুটি নেই। কিন্তু বাদশাজাদার কঠিন রোগ কিছুতেই সারে না। যত দিন যাচ্ছে ততই দুর্ভোগ বেড়ে চলেছে। হুমায়ুনের জীবন-প্রদীপ অস্তপ্রায় সূর্যের মতো নিভে যেতে বসেছে। দিনের শেষে সূর্য যেমন পশ্চিম দিগন্তে হারিয়ে যায় তেমনই বাদশাজাদা হুমায়ুনের জীবনও শেষ হয়ে যাচ্ছে- কবি প্রশ্নোক্ত কথাটির মধ্য দিয়ে এ কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!