গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন। এ শাসনব্যবস্থায় শাসকগণ জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হয়ে শাসনকার্য পরিচালনা করে। এ গণতন্ত্র ব্যক্তি জীবনকে অর্থবহ এবং স্বাধীনতাকে উপভোগ্য করে তোলে।
স্বাধীনতা হলো মানুষের সাথে একান্তভাবে সম্পর্কযুক্ত এক মৌল রাজনৈতিক ধারণা। স্বাধীনতা ব্যতীত কোনো ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র উন্নতি লাভ করতে পারে না। স্বাধীনতা সভ্য সমাজের অপরিহার্য উপাদান। আর এই স্বাধীনতার উপভোগের জন্য প্রয়োজন গণতন্ত্র। কেননা গণতন্ত্র সাম্যভিত্তিক সমাজ সৃষ্টি করে। স্বাধীনতার ক্ষেত্রকে সম্প্রসারিত করতে পারে। আর এভাবে সাম্যভিত্তিক সমাজব্যবস্থার মাধ্যমে স্বাধীনতা নাগরিকদের গণতান্ত্রিক চেতনা উন্মেষে সহায়তা করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রধানমন্ত্রীর নীতি দ্বারা যে বিষয়টি প্রকাশ পায় সেটি হলো স্বাধীনতা। স্বাধীনতার মতো অন্য কোনো ধারণা এত বিচিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ নয়। অন্যের কাজে কোনোরূপ হস্তক্ষেপ না করে নিজের ইচ্ছামতো নিজের কাজ করাকে স্বাধীনতা বলে। এ স্বাধীনতার প্রাকৃতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ইত্যাদি রূপ পরিলক্ষিত হয়। যা নিম্নরূপ-প্রাকৃতিক স্বাধীনতা: কোনো কোনো চিন্তাবিদ বলে থাকেন রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বে প্রকৃতির রাজ্য বিরাজমান ছিল। তখন প্রকৃতিতে মানুষ কিছু কিছু সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত। আর প্রকৃতির রাজ্যের এ ধরনের সুযোগ-সুবিধাগুলোকে প্রাকৃতিক স্বাধীনতা বলা হয়।
সামাজিক স্বাধীনতা: মানুষ সমাজে সুসভ্য জীবনযাপন করতে যেসব
সুযোগ-সুবিধা ব্যক্তিস্বাধীনতাকে সর্বাধিক সংরক্ষণ করে সেসব সুযোগ-সুবিধাকে সামাজিক স্বাধীনতা বলে। যেমন উদ্দীপকে প্রধানমন্ত্রীর স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার কথা বলা হয়েছে।
রাজনৈতিক স্বাধীনতা: রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব অংশগ্রহণ করার স্বাধীনতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা: ব্যক্তির অভাব-অনটন বা বেকারত্বের হাত থেকে মুক্তির নাম অর্থনৈতিক স্বাধীনতা।
জাতীয় স্বাধীনতা: জাতীয় স্বাধীনতা বলতে রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতাকে বোঝায়।
উদ্দীপকে প্রতিফলিত বিষয়টির সাথে আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক আছে বলে আমি মনে করি। উত্তরের সপক্ষে যুক্তি নিম্নরূপ-আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। আইন স্বাধীতার অভিভাবক হিসেবে কাজ করে। আইন স্বাধীনতা বিনষ্টকারী শক্তিকে প্রতিহত করে যাতে করে সমাজের সবাই স্বাধীনতাকে উপভোগ করতে পারে। আইন ছাড়া সমাজে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা দানা বেঁধে ওঠে এবং শক্তিই অধিকারের ভিত্তি হিসেবে গণ্য হয়। ফলে সবল দুর্বলের অধিকার হরণ করে। আইন রাষ্ট্রীয় জীবনে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে ব্যক্তির স্বাধীনতা রক্ষা করে। আইনের লক্ষ্য ব্যক্তিস্বাধীনতা খর্ব করা নয় বরং ব্যক্তির স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও অধিকারসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা। এজন্য বলা হয় আইন আছে বলেই স্বাধীনতা সুরক্ষিত আছে এবং আইনের কর্তৃত্ব আছে বলেই ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশের অনুকূল পরিবেশ গড়ে ওঠে। সমাজ বা রাষ্ট্রের জনগণ প্রথমে অর্জন করেছে। স্বাধীনতা আর এ স্বাধীনতা অর্জনকে সংরক্ষণ করেছে আইন।
সুতরাং আইন ও স্বাধীনতার মধ্যে রয়েছে গভীর সম্পর্ক।
Related Question
View Allআইন হলো- সার্বভৌম শাসকের আদেশ"- কথাটি বলেছেন জন অস্টিন।
সুশাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আইনের শাসন।
আইনের শাসন বলতে মূলত বোঝানো হয় রাষ্ট্রীয় জীবনে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মানবাধিকারের সংরক্ষণকে। সংখ্যালঘু ও রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এর শর্ত। স্বাধীন নিরপেক্ষ এবং দুর্নীতিমুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। এটি জনগণের অধিকার রক্ষার রক্ষাকবচ।
আইনের শাসন গণতন্ত্রের ভিত্তি। মমতাজ সাহেব গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় লেখনী ধারণ করেন।
তিনি আইনের শাসনকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় মূল্যবোধের বিকাশের মূল হিসেবে দেখেছেন। যথাযথ আইনের শাসনের মাধ্যমে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। জনগণের জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির নিশ্চয়তা লাভ করে। আইনের শাসনের মাধ্যমে 'সকল নাগরিক সমান' এ নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগে সমান সুযোগের ভিত্তিতে সবাই বিচার লাভ করবে। দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে সবাই নিরাপত্তা লাভ করবে। আইনের শাসনের এ বিষয়গুলো মূলত গণতন্ত্রের সাথে খুব ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রধানত সংখ্যাগুরুর মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত শাসনব্যবস্থা। এতে সংখ্যালঘুরাও সমান সুযোগ পাবে, মত প্রকাশের সমান অধিকার থাকবে। আইনের শাসন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে, গণতন্ত্র চর্চাকে পরিশীলিত করে এবং সুশাসন নিশ্চিত করে।
প্রচলিত সাধারণ অর্থানুসারে আইন হলো কতকগুলো বিবিবিধান যা মানুষ সামাজিক প্রাণী হিসেবে মানতে বাধ্য থাকে। অন্যদিকে, স্বাধীনতা বলতে যা খুশি তাই করার ক্ষমতাকে বোঝায়। আপাতদৃষ্টিতে আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী দুটি বিষয়। কিন্তু মমতাজ সাহেবের উত্থাপিত বিষয়টি আমাদেরকে বলতে চাচ্ছে যে, আইন স্বাধীনতার সহায়ক।
বস্তুত আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। আইন স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক। আইন না থাকলে স্বাধীনতা থাকতে পারে না। আইন আছে বলেই স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করা যায়। আইন স্বাধীনতাকে সম্প্রসারিত করে। উইলোবি এজন্যই বলেছেন যে, "আইন আছে বলেই স্বাধীনতা রক্ষা পায়।" অন্যদিকে, স্বাধীনতা না থাকলে আইন অর্থহীন হয়ে যায়। কেননা পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকলে আইনের প্রয়োগ সম্ভব হয় না। আইন আছে বলেই কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আইনের বলেই স্বাধীন বাংলার মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার ফিরে পেয়েছে। আইন না থাকলে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার অর্থহীন হয়ে যায়। আইনের মাধ্যমে প্রাপ্ত অধিকার দ্বারাই জনগণ সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে স্বাধীনতা লাভ করে। আইন না থাকলে দুর্বলের স্বাধীনতা রক্ষা করা কতটা সম্ভব হতো তা প্রশ্ন সাপেক্ষ ব্যাপার। এজন্যই বলা যায়, সাংবাদিক মমতাজ সাহেবের উত্থাপিত বিষয়টি যথার্থ।
আব্রাহাম লিংকন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট।
মূল্যবোধ বলতে তুলনামূলক অর্থমূল্য বা অন্তর্নিহিত গুণাবলিকে বোঝানো হয়। আর সমাজে প্রচলিত মূল্যবোধ বলতে বোঝানো হয় এমন রীতিনীতি, আদর্শ ও লক্ষ্য যা সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং সমর্থিত। সমাজের বৃহত্তর অংশ দ্বারা মূল্যবোধ সমর্থিত হতে হবে। এটি কোনো স্থির বিষয় নয়। সমাজ-স্থান-কাল-পাত্রভেদে মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!