১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয়।
ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের জনগণের জাতীয় জীবনে অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ১৯৫২ সালে সংঘটিত ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের জনগণের পরবর্তী সব আন্দোলনে প্রেরণার প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করেছে। এর ফলে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়, ১৯৬২ সালের শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা দাবি, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচন সর্বোপরি ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতার সংগ্রাম মূলত ভাষা আন্দোলনের প্রত্যক্ষ প্রভাবের ফল। তাই এটি আমাদের জাতীয় জীবনে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের ছকটি পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক সৃষ্ট অর্থনৈতিক বৈষম্যকে উপস্থাপন করে। পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার বৈষম্যের খণ্ডচিত্রে দেখা যায়, তৎকালীন পাকিস্তান শাসনামলে রাজস্ব খাতে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য ব্যয় করা হতো ১৫০০ কোটি আর পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য ৫০০০ কোটি টাকা। বৈদেশিক সাহায্যের ব্যয় পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য ছিল ৮০%, যেখানে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য ছিল মাত্র ২০%। উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ পূর্ব পাকিস্তানের জন্য ছিল ৩০০০ কোটি টাকা আর পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য ছিল ৬০০০ কোটি টাকা, যা অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রতিফলন।
পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার হয় অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণের মাত্রা ছিল অধিক। এ কারণে পূর্ব পাকিস্তান অর্থনৈতিকভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারেনি। মুদ্রাব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক দিক নিয়ন্ত্রণ হতো কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা। পূর্ব পাকিস্তান থেকে যে রাজস্ব আদায় হতো তার অধিকাংশ পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার হতো। কেন্দ্রীয় সরকার পূর্ব পাকিস্তানকে শাসন ও শোষণ করত। মূলত পশ্চিম পাকিস্তান পরিকল্পিতভাবে পূর্ব পাকিস্তানকে শোষণ করেছে।
সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকের ছকটি পশ্চিম পাকিস্তানের আনীত অর্থনৈতিক বৈষম্যকে উপস্থাপন করে।
পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মাঝে অর্থনৈতিক বৈষম্যের পাশাপাশি অন্যান্য বৈষম্যও বিদ্যমান ছিল, যা পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীনতায় উদ্বুদ্ধ করেছিল। যেমন-
পূর্ব পাকিস্তানের ওপর পশ্চিম পাকিস্তান সামরিক ক্ষমতায় চরম অবহেলা করেছে। সামরিক অফিসারদের মাত্র ৫% বাঙালি ছিলেন। প্রশাসনিক দিকে পাকিস্তানের চালিকাশক্তি ছিল সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাগণের কাছে। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ৪২,০০০ জন কর্মকর্তার মধ্যে মাত্র ২,৯০০ জন বাঙালি ছিলেন। লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবি থাকলেও সেটা আদৌ বাস্তবায়িত হয়নি। অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিকভাবে পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানকে শোষণ করে। আইয়ুব খান ছলে বলে কৌশলে স্বৈরশাসন কায়েম করার চেষ্টা করে। শিক্ষা ক্ষেত্রে ভাষা হিসেবে বাংলার পরিবর্তে উর্দু ও আরবি ভাষাকে প্রাধান্য দেয়। শিক্ষার ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য কোনো বরাদ্দ করা হয়নি।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নয়, বরং সর্বক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করে পশ্চিম পাকিস্তান নিজের সমৃদ্ধি ঘটিয়েছিল। পশ্চিম পাকিস্তানের এরূপ আচরণ পূর্ব পাকিস্তানকে পশ্চিম পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতায় উদ্বুদ্ধ করেছিল।
Related Question
View All'সমাজবিজ্ঞান সমীক্ষণ' বই-এর লেখক ড. এ. কে. নাজমুল করিম।
বিবাহ বিহীন পরিবার গঠন দিবালোকে স্বপ্ন দেখার মতো। এমন কোনো পরিবারের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি যারা বিবাহ বহির্ভূত পরিবার গঠন করেছে। এজন্য পরিবারের ভিত্তি বলা হয় বিবাহকে। যখন একজন পুরুষ ও একজন স্ত্রীলোক একত্রে বৈধভাবে বসবাস করে তখন তাকে পরিবার বলে। এ সংজ্ঞা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, পরিবার গঠনের পূর্বশর্ত বিবাহ।
উদ্দীপকে ভাষা আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই বাঙালিদের সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বশ্যতা স্বীকার করানোর জন্য পাকিস্তানিরা উঠে পড়ে লাগে। ১৯৪৭ সালেই উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব আসলে বুদ্ধিজীবীরা নানা রচনার মাধ্যমে তার প্রতিবাদ জানান। ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতায় বলেন, "উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।" বাংলার নির্ভীক ছাত্রসমাজ সাথে সাথে এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানায়। তারপর ১৯৫২ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দীন ঢাকার এক জনসভায় আবারও ঘোষণা করেন, "উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।" এ ঘোষণা শোনা মাত্রই পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ভাষা আন্দোলনের গতিকে তীব্রতর করতে গঠিত হয় 'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ'। তীব্র আন্দোলন চলার এক পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জারিকৃত ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্ররা মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশ বাহিনী গুলি করলে বরকত, জব্বার, রফিক প্রমুখ শহিদ হন।
উদ্দীপকের আইদান প্রভাত ফেরীতে শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে বাবাকে জিজ্ঞেস করে, আমরা শহিদ মিনারে কেন ফুল দেই? বাবা বলেন, এই দিনে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য ছাত্রজনতা বুকের রক্ত রাজপথে ঢেলে দিয়েছিল। তাদের স্মরণে আমরা শহিদ মিনারে ফুল দেই। পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, আইদানের বাবার বক্তব্যে ভাষা আন্দোলনের প্রতিচ্ছবিই ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের দিবসটি অর্থাৎ শহীদ দিবসের মতোই স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ইত্যাদি বাংলাদেশের নগর সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে।
বাঙালির বিভিন্ন দিবস পালনকে সাংস্কৃতিক অথবা আর্থ-সামাজিক যেভাবেই বিবেচনা করি না কেন, তার গুরুত্বকে অস্বীকার করা যায় না। গ্রামীণ ও নগর সংস্কৃতিতে এসব দিবস পালনের অনুষ্ঠানে ভিন্নতা দেখা যায়। স্বাভাবিকভাবেই গ্রামীণ সংস্কৃতি অপেক্ষা নগর সংস্কৃতিতে যেকোনো দিবস ঘটা করে পালন করা হয়। যেমন ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস। এ দিনটি উপলক্ষে নগরে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড হাতে নেওয়া হয়। যেমন- আনন্দ র্যালি বের করা, বিভিন্ন সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, ইত্যাদি করা হয়। এসব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সবসময়ই নগরবাসীকে অনুপ্রেরণা যোগায়। এ কারণে নগর সমাজের মানুষ জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন দিবসের অনুষ্ঠানে আগ্রহ সহকারে অংশগ্রহণ করে। এছাড়া এ জাতীয় অনুষ্ঠান নগর সমাজের শিশুরা খুব কাছে থেকে উপভোগ করে বলে তাদের মধ্যে গভীর দেশপ্রেম দানা বাঁধতে থাকে। ফলে দেশের প্রতি তাদের মনে গভীর ভালোবাসার সৃষ্টি হয়। শুধু তাই নয়, এসব দিবস উদযাপন নগর সমাজের সব শ্রেণি ও পর্যায়ের মানুষের মধ্যে এক ধরনের জাতীয়তাবাদী চেতনা তৈরি করে।
উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায়, বাঙালির বিভিন্ন দিবস উদযাপন নগর সংস্কৃতি বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
সংস্কৃতি জাতির পরিচয় বহন করে।
সাঁওতালরা মূলত এ দেশে আসে কৃষি মজুর হয়ে, জমি পরিষ্কার করে চাষাবাদ করার জন্য, রেললাইন বসাতে এবং চা বাগানের শ্রমিক হিসেবে। ধারণা করা হয়, বর্তমান সাঁওতালদের পূর্বপুরুষরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার রাজ্য ও অন্যান্য পার্বত্য অঞ্চল থেকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে এসে এখানকার পার্বত্য এলাকা ও আশপাশের বন-জঙ্গলে ও পতিত জমিতে বসতি স্থাপন করে। পরে তারা এসব বন-জঙ্গল পরিষ্কার করে পতিত জমিকে চাষযোগ্য করে তোলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!