বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মূল কারণ বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি।
বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও মিথেন গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় তা গ্রিন হাউজ ইফেক্ট তৈরি করেছে। গ্রিন হাউজ ইফেক্টের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে পৃথিবীর জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে। পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রের পানি প্রসারিত হয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। ফলে সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলসহ পৃথিবীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে ৩টি পার্থক্য উল্লেখ করা হলো-
১. কোনো স্থানের বায়ুমন্ডলের স্বল্পকালীন অবস্থাই আবহাওয়া। আর কোনো স্থানের অনেক বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থাই জলবায়ু।
২. কোনো স্থানের আবহাওয়া অল্প সময়ের মধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে। কিন্তু কোনো স্থানের জলবায়ু সহসা পরিবর্তন হয় না। পরিবর্তন হলে সেটা হতে অনেক বছর লেগে যায়।
৩. কাছাকাছি অঞ্চলের আবহাওয়া একই সময়ে ভিন্ন হতে পারে। যেমন- কোনো নির্দিষ্ট দিনে ফরিদপুরে বৃষ্টি হতে পারে কিন্তু বরিশালে বৃষ্টি নাও হতে পারে। কিন্তু কাছাকাছি অঞ্চলের জলবায়ু সাধারণত একই রকম। যেমন- বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু একই রকম।
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে পরিবেশ বিজ্ঞানীদের সর্বোত্তম পন্থাটি হলো পরিবেশে কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ কমানো। নিচে এর যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করা হলো-
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন আর বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণ বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও মিথেন গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি। কার্বন ডাইঅক্সাইড ও মিথেন গ্যাসের নিঃসরণ কমিয়ে অথবা কোনোভাবে এদেরকে বায়ুমণ্ডল থেকে সরিয়ে আমরা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধ করতে পারি। মিথেন গ্যাসকে বায়ুমণ্ডল থেকে সরানো যায় না। এর উৎপাদন বা নিঃসরণও বন্ধ করা কঠিন। কারণ এটি উৎপাদিত হয় কৃষিকাজ থেকে। বর্তমানে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবেলায় প্রধান সুপারিশ হলো কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ কমানো। কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ানো কমিয়ে তার বদলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি (যেমন- সৌরশক্তি, বায়ুপ্রবাহ থেকে বিদ্যুৎ ইত্যাদি) ব্যবহার করলে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস নিঃসরণ কমে। বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাইঅক্সাইড কমানোর জন্য আরেকটি উপায়ের কথা বলা হয়। তা হলো বেশি করে গাছ লাগানো। কারণ গাছ কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে খাদ্য তৈরি করে। ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড কমে আসে।
Related Question
View Allবৃষ্টির পানি চুইয়ে চুইয়ে মাটির নিচে গিয়ে সঞ্চিত হয়। মাটির নিচের এ সঞ্চিত পানিই ভূগর্ভস্থ পানি।
ট্রপোমণ্ডলের ঠিক ওপরেই শুরু হয়েছে স্ট্রাটোমণ্ডল। এ স্তর ট্রপোমণ্ডল থেকে শুরু হয়ে ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৩৯ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এ স্তরে রয়েছে ওজোন নামের একটি গ্যাস যা সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে আমাদের রক্ষা করে। এ কারণেই স্ট্রাটোমণ্ডল জীবজগতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকে হচ্ছে উদ্ভিদ এবং Z হচ্ছে প্রাণী। উদ্ভিদ ও প্রাণী পরিবেশে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষা করে।
জীব বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে শ্বসনের কাজ চালায়। শ্বসন প্রক্রিয়া শেষে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ করে। আবার উদ্ভিদ বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করে খাদ্য তৈরি করে এবং অক্সিজেন ছেড়ে দেয়। এভাবে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাসের পরিমাণে একটা ভারসাম্য বজায় থাকে। প্রথমত, উদ্ভিদ ও প্রাণী শ্বসন প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ ভেঙে শক্তি উৎপাদন
করার সময় বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড বায়ুমণ্ডলে ছেড়ে দেয়। দ্বিতীয়ত, উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহ পোড়ালে তাতে কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয়ে বায়ুমণ্ডলে মেশে।
তৃতীয়ত, উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহ মাটিতে পচবার সময় ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক কার্বন ডাইঅক্সাইড বায়ুতে ছেড়ে দেয়।
তাহলে দেখা গেল, বায়ুমণ্ডল থেকে উদ্ভিদ কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে গ্লুকোজ তৈরির মাধ্যমে উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহে কার্বন সঞ্চয় করে। উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহের কার্বন তিনভাবে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড হিসেবে ফিরে আসে। এভাবে পরিবেশে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের ভারসাম্য বজায় থাকে।
উদ্দীপকের চিত্রে Z থেকে অর্থাৎ প্রাণী থেকে নির্গত গ্যাসটির নাম কার্বন ডাইঅক্সাইড। এ কার্বন ডাইঅক্সাইড আমাদের পরিবেশের বায়ুমণ্ডলে বিরাজ করে। আমাদের পরিবেশে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গেলে তা প্রাণিকুলের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ পরিণতি
নিয়ে আসবে। এগুলো হলো-
১. পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে।
২. তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে পর্বতের চূড়া ও মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাবে।
৩. সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে।
৪. তাপমাত্রা বেড়ে সমুদ্রের পানি প্রসারিত হবে।
৫. বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ বিশ্বের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হবে।
৬. বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন খরা, বন্যা, অতিবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি দেখা দিবে।
আবহাওয়ার প্রধান উপাদানগুলো হচ্ছে বায়ুর তাপমাত্রা, চাপ, বায়ুর আর্দ্রতা বা বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ, মেঘ, কুয়াশা ও বৃষ্টিপাত।
মার্চ মাসে বাংলাদেশে সাধারণত শীতের শেষ ও ফাল্গুনের শুরুতে বসন্তকাল হয়। এ সময়ে সূর্যতাপ সহনশীলমাত্রায় থাকে। অর্থাৎ তাপমাত্রা খুব বেশিও থাকে না আবার কমও থাকে না। এ আরামদায়ক তাপমাত্রার কারণেই বাংলাদেশে মার্চ মাসে আবহাওয়া বেশ আরামদায়ক থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
