ইসলামের প্রথম খলিফা হলেন হযরত আবু বকর (রা)।
ধনসম্পদ ও রকমারি পণ্যদ্রব্যের জন্য প্রাচীনকালে একে 'সুখী আরব ভূমি' বা সৌভাগ্য আরব নামে অভিহিত করা হতো।
দক্ষিণ আরবের ইয়েমেন, হাজরামাউত ও ওমানে অনেক উর্বর ও বিস্তৃত উপত্যকা ছিল। এ উর্বর ভূখণ্ডগুলোতে কফি, নীল, খেজুর, শাকসবজি ও বিভিন্ন ফল ও ফসলের উৎপাদন হতো। এছাড়া ধান, গম, বার্লি, ভূট্টা, আতা, ডুমুর, পীচ ও আঙ্গুর এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হতো। এর ফলে আরবের এ অঞ্চল অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এবং কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল।
মদিনা সনদের তিনটি শর্ত লিখা হলো-
মহানবি (স) মদিনা ও আশেপাশের বসবাসকারী মুসলিম, ইহুদি, খ্রিষ্টান ও পৌত্তলিকদের মধ্যে সম্ভাব গড়ে তোলার জন্য যে সনদ প্রণয়ন করে তাই ইসলামের ইতিহাসে 'মদিনা সনদ' নামে পরিচিত। এ সনদের তিনটি শর্ত হলো-
১. সনদে স্বাক্ষরকারী সম্প্রদায়সমূহ একটি সাধারণ জাতি গঠন করবে এবং নাগরিক অধিকার ভোগ করবে।
২. মুহাম্মদ (স) হবে মদিনা প্রজাতন্ত্রের সভাপতি ও প্রধান বিচারক।
৩. মদিনা নগরী আক্রান্ত হলে দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সকলে যুদ্ধ করবে এবং প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ ব্যয়ভার বহন করবে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মহাপুরুষের শহরে বসবাসকারী ভিন্নধর্মীয় লোকদের নিয়ে সম্ভাব, সম্প্রীতি ও দেশপ্রেম প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সংবিধান তৈরি করেন। যা মদিনা সনদকে নির্দেশ করে।
মদিনা সনদের ফলাফল আলোচনা করা হলো-
ইসলামের ইতিহাসে মদিনা সনদের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। এ সনদের মাধ্যমে মহানবি (স)-এর সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে দূরদর্শিতা প্রতিফলিত হয়। এটিই ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম লিখিত দলিল। তাই আধুনিক ঐতিহাসিকগণ একে "The first written constitution" হিসেবে আখ্যা দিয়ে আরবের ম্যাগনাকার্টা বলে অভিহিত করেছেন। এ সনদে প্রত্যেক সম্প্রদায়ের স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন স্বীকৃত হয়। যা ধর্মীয় স্বাধীনতার ইঙ্গিত প্রদান করে। এ সনদে প্রমাণিত হয় যে মহানবি (স) শুধু একজন ধর্মীয় নেতাই নন বরং তিনি আইন, বিচার, সামরিক ও প্রশাসনিক বিভাগের প্রধান। যা তার Supreme leadership এর পরিচয় বহন করে। এ সনদের ফলে মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। সর্বোপরি এ সনদের ফলে ইসলামের ব্যাপক প্রসার ও প্রচার ঘটে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মহানবি (স) মুসলমান ও অন্যান্য জাতির মধ্যে
সম্ভাব, সম্প্রীতি ও দেশপ্রেম প্রতিষ্ঠায় একটি সংবিধান প্রণয়ন করেন। তার এ সংবিধান পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম লিখিত সংবিধান। যা মদিনার সনদকে নির্দেশ করে। পরিশেষে বলা যায়, মদিনার সনদ স্বাক্ষরিত হওয়ার পর মুসলমানদের সাথে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠে। ফলে ইসলাম প্রসারের পথ সুগম হয়।
Related Question
View Allমহানবি (স) ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।
সততা ও বিশ্বস্ততার ধারক হওয়ায় মহানবি (স)-কে আল-আমিন বলা হয়।
আল আমিন' শব্দের অর্থ বিশ্বাসী। মহানবি (স) ছোটবেলা থেকেই এ গুণটির অধিকারী ছিলেন। তিনি কখনো মিথ্যা কথা বলতেন না। তাই সবাই তাঁকে প্রচণ্ড বিশ্বাস করত এবং তাঁর ওপর আস্থা রাখত। এ মহান গুণের জন্য তাঁকে সবাই 'আল-আমিন' বলে ডাকত।
মহানবি (স)-এর বিদায় হজের ভাষণে দেওয়া দাস-দাসীদের প্রতি সদয় আচরণের উপদেশটি মেনে চললে আশরাফ সাহেব অধীনদের সাথে বিরূপ আচরণ করতে পারতেন না।
১০ম হিজরির ৯ জিলহজ (৬৩২ খ্রিষ্টাব্দ) মহানবি (স) বিশ্বমানবতার জীবন পরিচালনার সার্বিক নির্দেশনাস্বরূপ মক্কার আরাফাতের ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন, যা বিদায় হজের ভাষণ নামে খ্যাত। এ ভাষণে তিনি মানবজাতির সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার সার্বিক উপদেশ প্রদান করেন। অধীন বা দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহারও ছিল এ ভাষণের একটি উপদেশ। কিন্তু আশরাফ সাহেব এ নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন।
আশরাফ সাহেব তার অধীন ড্রাইভার, পরিচারিকা, বাবুর্চির সাথে সমতাভিত্তিক আচরণ করেন না। তিনি তাদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করেন। তাদের চিকিৎসা, পোশাক, বাসস্থানের ব্যাপারেও তিনি উদাসীন। অথচ বিদায় হজের ভাষণে রাসুল (স) বলেছেন, 'দাস-দাসীদের সাথে সদয় ব্যবহার করো। তাদের ওপর কোনোরূপ অত্যাচার করো না। তোমরা যা খাবে, তাদেরও তাই খাওয়াবে, তোমরা যা পরবে, তাদেরও তাই পরাবে- ভুলে যেও না তারাও তোমাদের মতো মানুষ।'
রাসুল (স)-এর এ নির্দেশ মেনে চললে আশরাফ সাহেব তার অধীন কর্মচারীদের প্রতি অন্যায় আচরণ করতে পারতেন না।
উদ্দীপকে নারীর প্রতি যে অবহেলা প্রকাশ পেয়েছে তা মহানবি (স)-এর বিদায় হজের ভাষণের নারীর প্রতি সদ্ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশনার পরিপন্থি
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর বিদায় হজের ভাষণ ছিল মানবজাতির জীবন পরিচালনার সার্বিক দিকনির্দেশনা। এ ভাষণে মানবজাতির মুক্তির নির্দেশনা দিতে গিয়ে রাসুল (স) বলেন 'তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সদয় ব্যবহার করবে, তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করবে না। তাদের ওপর তোমাদের যেমন অধিকার রয়েছে তেমনি তোমাদের ওপরও তাদের অধিকার রয়েছে।' কিন্তু জনাব আশরাফ এ নির্দেশ অমান্য করেছেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আশরাফ সাহেব তার স্ত্রীর সাথে দুর্ব্যবহার করেন। পারিবারিক কোনো সিদ্ধান্তে তিনি স্ত্রীর মতামত গ্রহণ করেন না। তার এ কর্মকাণ্ড ইসলাম তথা রাসুল (স)-এর নির্দেশের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। কারণ ইসলাম নারীর সবধরনের অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছে। মহান আল্লাহ স্ত্রীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাসুল (স)ও বিদায় হজের ভাষণে স্ত্রীদের প্রতি সদয় আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
পরিশেষে বলা যায়, ইসলাম নারীকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করে তাদের সকল প্রকার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই প্রত্যেকের কর্তব্য হলো ইসলামের এ নির্দেশ মেনে চলে নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা করা।
হযরত মুহাম্মদ (স)-এর মাতার নাম আমিনা বেগম।
হিলফুল ফুজুল বলতে কিশোর বয়সে মহানবি (স) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি শান্তিসংঘকে বোঝায়।
মহানবি (স) ছিলেন শান্তির দূত। তাই বালক বয়সে যখন তিনি পাঁচ বছর স্থায়ী 'হারবুল ফুজ্জার' যুদ্ধের (৫৮৪-৫৮৮ খ্রি.) ভয়াবহতা দেখলেন তখন তাঁর অন্তর মানবতার জন্য কেঁদে উঠল। এ প্রেক্ষিতেই তিনি সমমনা কয়েকজন উৎসাহী যুবক ও পিতৃব্য যুবাইরকে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন 'হিলফুল ফুজুল' নামের শান্তিসংঘটি। সংগঠনটি গোত্রীয় যুদ্ধের অবসানসহ সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করত। এটি প্রায় ৫০ বছর স্থায়ী ছিল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!