পৃথিবী পৃষ্ঠ হতে 600 km উচ্চতায় একটি কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপন করা হলো। পৃথিবীর ব্যাসার্ধ 6400 km এবং পৃথিবী পৃষ্ঠে অভিকর্ষজ ত্বরণ 9.8 ms-2

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

ভূ-স্থির উপগ্রহ হলো এমন একটি কৃত্রিম উপগ্রহ যা নিরক্ষীয় তলে পৃথিবীর ঘূর্ণনের সাথে একই কৌণিক বেগে পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করে। এর ফলে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপগ্রহটিকে স্থির বলে মনে হয়। একটি ভূ-স্থির উপগ্রহের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর কক্ষপথের পর্যায়কাল পৃথিবীর আহ্নিক গতির পর্যায়কালের সমান, অর্থাৎ 24 ঘন্টা (বা 86400 সেকেন্ড)। এই উপগ্রহ পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় 35,786 km উচ্চতায় অবস্থান করে।

উদ্দীপকে উল্লিখিত উপগ্রহটিকে ভূ-স্থির উপগ্রহে রূপান্তর করা সম্ভব কি না, তা গাণিতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরীক্ষা করা যাক। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী,

        
  • উপগ্রহের উচ্চতা, \(h = 600 \text{ km} = 600 \times 10^3 \text{ m}\)
  •     
  • পৃথিবীর ব্যাসার্ধ, \(R = 6400 \text{ km} = 6400 \times 10^3 \text{ m}\)
  •     
  • পৃথিবী পৃষ্ঠে অভিকর্ষজ ত্বরণ, \(g = 9.8 \text{ ms}^{-2}\)

উপগ্রহের কক্ষপথের ব্যাসার্ধ, \(r = R+h = (6400 + 600) \text{ km} = 7000 \text{ km} = 7 \times 10^6 \text{ m}\) কক্ষপথে আবর্তনশীল উপগ্রহের পর্যায়কালের সূত্রটি হলো: \[T = 2\pi\sqrt{\frac{(R+h)^3}{gR^2}}\] মান বসিয়ে পাই: \[T = 2\pi\sqrt{\frac{(7 \times 10^6)^3}{9.8 \times (6400 \times 10^3)^2}}\] \[T = 2\pi\sqrt{\frac{343 \times 10^{18}}{9.8 \times (6.4 \times 10^6)^2}}\] \[T = 2\pi\sqrt{\frac{343 \times 10^{18}}{9.8 \times 40.96 \times 10^{12}}}\] \[T = 2\pi\sqrt{\frac{343 \times 10^{18}}{401.408 \times 10^{12}}}\] \[T = 2\pi\sqrt{0.8545 \times 10^6}\] \[T = 2\pi \times 924.4\] \[T \approx 5809.9 \text{ s}\] প্রাপ্ত পর্যায়কালকে ঘন্টায় রূপান্তর করলে পাই: \[T \approx \frac{5809.9}{3600} \text{ hours} \approx 1.614 \text{ hours}\]

গাণিতিক বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায় যে, উদ্দীপকের উপগ্রহটি 600 km উচ্চতায় স্থাপন করায় তার পর্যায়কাল হয়েছে প্রায় 1.614 ঘন্টা। কিন্তু একটি ভূ-স্থির উপগ্রহের পর্যায়কাল অবশ্যই 24 ঘন্টা হতে হবে। যেহেতু উপগ্রহটির পর্যায়কাল 24 ঘন্টা নয়, তাই এই উচ্চতায় এটি ভূ-স্থির উপগ্রহ হিসেবে কাজ করতে পারবে না। ভূ-স্থির উপগ্রহ হতে হলে উপগ্রহটিকে পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে প্রায় 35,786 km উচ্চতায় একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্থাপন করতে হবে, যাতে তার পর্যায়কাল 24 ঘন্টা হয়।

সুতরাং, উদ্দীপকের 600 km উচ্চতায় স্থাপিত উপগ্রহটিকে সরাসরি ভূ-স্থির উপগ্রহে রূপান্তর করা সম্ভব নয়। এটি যদি ভূ-স্থির উপগ্রহ হতে চায়, তবে এর কক্ষপথের উচ্চতা পরিবর্তন করে ভূ-স্থির কক্ষপথের উচ্চতায় (প্রায় 35,786 km) নিয়ে যেতে হবে। কক্ষপথের উচ্চতার সাথে পর্যায়কালের সম্পর্ক সরাসরি জড়িত বিধায় বর্তমান উচ্চতায় ভূ-স্থির হওয়া সম্ভব নয়।

Satt AI
Satt AI
5 days ago
467

৭.১ সূচনা

Introduction

গ্রহ-নক্ষত্রের প্রকৃতি, স্বরুপ, গতিবিধি ইত্যাদি সম্পর্কে প্রাচীনকাল থেকেই বিজ্ঞানীদের অপরিসীম কৌতূহল ছিল। বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ টাইকো ব্র (Tycho Brahe), জোহান্স কেপলার (Johannes Kepler) গ্রহ, নক্ষত্রের গতিবিধি সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। কেপলার প্রথম উপলব্ধি করেন যে গ্রহগুলো কোন এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরত ঘুরছে। কিন্তু কি ধরনের বল ক্রিয়াশীল তা সঠিকভাবে বোঝাতে সমর্থ হননি। 1681 খ্রিস্টাব্দে মহাবিজ্ঞানী স্যার আইজাক নিউটন (Sir Isaac Newton) প্রথম “মহাকর্ষ সূত্র' আবিষ্কার করে এ সমস্যার সমাধান করেন। কথিত আছে, নিউটন তাঁর গৃহ-সংলগ্ন বাগানে একটি আপেল গাছের নিচে বসে বই পড়ছিলেন। এমন সময় একটি আপেল তাঁর নিকটে মাটিতে পড়ে। তিনি ভাবলেন গাছের উপরে ফাঁকা, নিচে ফাঁকা, ডানে ফাঁকা এবং বামেও ফাঁকা। আপেল ফল মাটিতে পড়ল কেন ? এই 'কেন' এর উদ্ঘাটন করতে গিয়ে তিনি মহাকর্ষ (Gravitation) এবং অভিকর্ষ (Gravity) আবিষ্কার করেন এবং সূর্যের চারদিকে গ্রহ-উপগ্রহের আবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করেন। এ অধ্যায়ে আমরা মহাকর্ষ, অভিকর্ষ, নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র, অভিকর্ষজ ত্বরণ, মুক্তি বেগ, কেপলারের সূত্র, গ্রহের গতি ইত্যাদি আলোচনা করব।

৭.২ মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ

Gravitation and gravity

বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার আইজাক নিউটন আবিষ্কার করেন যে এ মহাবিশ্বের যে কোন দুটি বস্তু বা বস্তু কণার মধ্যে একটি পারস্পরিক আকর্ষণ রয়েছে। দুটি বস্তু বা বস্তুকণার মধ্যকার এই পারস্পরিক আকর্ষণ বলকে কখনও মহাকর্ষ আবার কখনও অভিকর্ষ বলা হয়। 

এ দুটি বলের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাহলে প্রশ্ন জাগে মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ কি ? এদের সংজ্ঞা নিম্নে দেয়া হল : 

মহাকর্ষ : “নভোমণ্ডলে অবস্থিত দুটি বস্তু বা বস্তুকণার মধ্যকার পারস্পরিক আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বলে।

অভিকর্ষ : “পৃথিবী এবং অন্য একটি বস্তু বা বস্তুকণার মধ্যকার আকর্ষণ বলকে অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলে।” 

উদাহরণ :

 সূর্য এবং চন্দ্রের মধ্যকার পারস্পরিক আকর্ষণ বলের নাম মহাকর্ষ, অপর পক্ষে পৃথিবী ও চন্দ্রের মধ্যকার পারস্পরিক আকর্ষণ বলই অভিকর্ষ। আরও সোজা ভাষায় বলা যায় পৃথিবী এবং আম গাছের একটি আমের মধ্যকার যে আকর্ষণ বল তা অভিকর্ষ। কিন্তু একই আম গাছের দুটি আমের মধ্যকার পারস্পরিক আকর্ষণ বলের নাম মহাকর্ষ।

শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews