
প্রতিকূল পরিবেশে খাদ্য অনুসন্ধান, আত্মরক্ষা, বংশবিস্তার- এই ধরনের শারীরবৃত্তীয় প্রয়োজনে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যায়। যে পদ্ধতিতে প্রাণী নিজ চেষ্টায় সাময়িকভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যায়, তাকে ঐ প্রাণীর চলন বলে। যে তত্ত্ব দেহের কাঠামো গঠন করে, নির্দিষ্ট আকৃতি দেয়, বিভিন্ন অঙ্গকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে এবং চলনে সাহায্য করে, তাকে কঙ্কালতন্ত্র বলে।
এ অধ্যায়ে আমরা কঙ্কালতন্ত্রের গঠন, কাজ এবং এর রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে জানতে পারব।
এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
•মানবকঙ্কালের বর্ণনা করতে পারব।
• দৃঢ়তা প্রদান এবং চলনে কঙ্কালের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে পারব।
• বিভিন্ন প্রকার অস্থি ও অস্থিসন্ধির কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব।
• পেশির ক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব।
• টেনডন ও লিগামেন্টের কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব।
•অস্টিওপোরোসিসের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার বর্ণনা করতে পারব।
• আর্থ্রাইটিসের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার বর্ণনা করতে পারব।
•অস্টিওপোরোসিস ও আর্থ্রাইটিসের কারণ অনুসন্ধান করতে পারব।
• মানবকঙ্কালের বিভিন্ন অংশের চিত্র অঙ্কন করে চিহ্নিত করতে পারব।
• অস্থির সুস্থতা রক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারব।
Related Question
View Allগেঁটেবাত এক ধরনের বাত রোগ। অনেকদিন যাবৎ বাতজ্বরে ভুগলে এবং এর যথাযথ চিকিৎসা না করা হলে এ রোগটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সাধারণত বয়স্করা এ রোগে আক্রান্ত হয়। কম বয়সী ছেলেমেয়েদের ক্ষেত্রেও গেঁটেবাত হতে পারে।
বিনিতার আঘাতপ্রাপ্ত অংশটি হলো লিগামেন্ট। এর সাহায্যে অস্থিসমূহ পরস্পরের সাথে সংযুক্ত থাকে। এ অংশটিকে দরজার কব্জার সাথে তুলনা করার কারণ কজা যেমন পাল্লাকে দরজার কাঠামোর সাথে আটকে রাখে অনুরূপভাবে অস্থিবন্ধনী বা লিগামেন্ট অস্থিসমূহকে পরস্পরের সাথে আটকে রাখে। এতে অঙ্গটি সবদিকে সোজা বা বাঁকা হয়ে নড়াচড়া করতে পারে এবং হাড়গুলো স্থানচ্যুত ও বিচ্যুত হয় না।
উদ্দীপকের উল্লিখিত বিনিতার কার্যক্রমটি সম্পন্ন করতে টেনডনের সমন্বয় অপরিহার্য। কারণ মাংসপেশির প্রান্তভাগ রজ্জুর মতো শক্ত হয়ে অস্থিগাত্রের সাথে সংযুক্ত থাকে। এই শক্ত প্রান্তকে টেনডন বলে। ঘন, শ্বেত তত্ত্বময় যোজক টিস্যু দ্বারা টেনডন গঠিত। এ ধরনের টিস্যুর আন্তঃকোষীয় পদার্থে বা ম্যাট্রিক্সে শ্বেততত্ত্ব ছড়ানো থাকে। পেশি ও টেনডনের সংযোগকে আরও শক্তিশালী করার জন্য টেনডনের আঁটিগুচ্ছ বেষ্টনকারী অ্যারিওলার টিস্যু, পেশি বান্ডল বা আঁটির আবরক টিস্যুর সাথে অবিচ্ছন্ন যোগাযোগ তৈরি করে। পেশি বা অস্থির তুলনায় টেনডনের ভেঙ্গে বা ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম। পেশি বন্ধনী পেশি প্রান্তে রজ্জুর ন্যায় শক্ত হয়ে অস্থির সাথে সংযুক্ত থাকে, পেশি অস্থির সাথে আবদ্ধ হয়ে দেহ কাঠামো গঠন ও দৃঢ়তা দানে সাহায্যে করে, অস্থিবন্ধনী গঠনে সাহায্য করে এবং চাপ-টানের বিরুদ্ধে যান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তাই বলা যায় বিনিতার কার্যক্রমটি সম্পন্ন করতে টেনডনের সমন্বয় অপরিহার্য।
মাংসপেশির যে প্রান্তভাগে রজ্জুর মতো শক্ত হয়ে অস্থিগাত্রের সাথে সংযুক্ত হয় যে শক্ত প্রান্তই টেনডন।
অস্টিওপোরোসিস হলো অস্থি সম্পর্কিত একটি রোগ। সাধারণত বয়স্ক পুরুষ ও মহিলাদের এ রোগটি হয়। বহুদিন যাবৎ স্টেরয়েডযুক্ত ঔষধ সেবন, মহিলাদের মেনোপজ হওয়ার পর, অলস জীবন-যাপন ও অনেক দিন যাবৎ আর্থ্রাইটিস রোগে ভুগলে এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!