সমাজবিজ্ঞান সমীক্ষণ' বইয়ের লেখক হলেন অধ্যাপক ড. এ. কে. নাজমুল করিম।
সমাজবিজ্ঞান সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা করে। সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরতে গিয়ে সমাজের কোনটি ভালো, কোনটি মন্দ, কী হওয়া উচিত, কী হওয়া অনুচিত, কোনটি ঠিক, কোনটি ঠিক নয়; ইত্যকার প্রশ্নে সমাজবিজ্ঞান নিরপেক্ষতা অবলম্বন করে। আর সমাজ গবেষণার ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞানীকে এ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হয়, কেননা সমাজবিজ্ঞানী যদি পক্ষপাতমূলক গবেষণা করেন, তাহলে সমাজের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠবে না, ফলে সমাজের নানা সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান পাওয়া যাবে না। আর এ জন্যই সমাজ গবেষণায় নিরপেক্ষতা আবশ্যক।
উদ্দীপকের ড. গণির সাথে সমাজবিজ্ঞানী ড. এ. কে. নাজমুল করিমের বেশকিছু সাদৃশ্য রয়েছে।
প্রথমত, উদ্দীপকের ড. গণি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি তথা শিক্ষক। আর ড. নাজমুল করিমও ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। সুতরাং পেশাগত দিক দিয়ে উভয়ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
দ্বিতীয়, ড. গণির নেতৃত্বে ১৯৪৯ সালে স্থাপিত হয়েছিল 'মৃত্তিকা বিজ্ঞান' নামে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ। আর ড. এ. কে. নাজমুল করিমের চেষ্টায় ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের যাত্রা শুরু হয়েছিল।
তৃতীয়ত, ড. গণি মৃত্তিকা বিভাগের উন্নয়নে অনেক সহযোগিতা করেন। তার প্রচেষ্টায় এ বিভাগটি যোগ্যতাসম্পন্ন মৃত্তিকা গবেষক তৈরি করতে পেরেছিল। ঠিক একইভাবে ড. এ. কে. নাজমুল করিমও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের উন্নয়নে অনেক সহযোগিতা করেন। তারই নিরলস পরিশ্রমের কারণে এ বিভাগটি যোগ্যতাসম্পন্ন সমাজবিজ্ঞানী তৈরি করতে পেরেছিল।
উপরের তুলনামূলক আলোচনায় সুস্পষ্ট যে, পেশাগত অবস্থান ও অবদানের দিক থেকে উদ্দীপকের ড. ওসমান গনি ও ড. এ. কে. নাজমুল করিমের মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান।
উদ্দীপকের ন্যায় মানুষগুলো তথা ড. গণি এবং ড. এ. কে. নাজমুল করিমের মতো মানুষরা নবদিগন্তে আলোর দিশারী। বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের বিবর্তনের আলোকে এ বিষয়টি দিবালোকের মতো প্রমাণিত।
বাংলাদেশে মৃত্তিকাবিজ্ঞানের শিক্ষায় যেমন ড. গণি অসামান্য অবদান রেখেছেন, তেমনি ড. এ. কে. নাজমুল করিম বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ১৯৪৯-৫০ সালে ড. এ.কে. নাজমুল করিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের খণ্ডকালীন লেকচারার এবং পরের বছর পূর্ণকালীন লেকচারার নিযুক্ত হন। এ সময়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটি কোর্স হিসেবে সমাজবিজ্ঞান পড়ানো হতো। কিন্তু তাতে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অর্জন সম্পূর্ণ হতো না। ১৯৫০ সালে প্রখ্যাত ফরাসি প্রফেসর লেভি স্ট্রস বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞানের পঠন-পাঠনের সম্ভাব্যতা যাচাই করার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিদর্শন করেন। এ সময় ড. এ. কে. নাজমুল করিম অধ্যাপক অজিত কুমার সেনকে সঙ্গে নিয়ে তার সাথে দেখা করেন এবং সমাজবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠায় ইউনেস্কোর সাহায্য-সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। এরই ফলশ্রুতিতে লেভি স্ট্রসের সক্রিয় আগ্রহে ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান নামে স্বতন্ত্র বিভাগ চালু হয়। ড. এ. কে. নাজমুল করিম এখানে শিক্ষাদান কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। 'সমাজবিজ্ঞান সমীক্ষণ' নামে একটি বই রচনা করে তিনি সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে সহায়তা করেন। অর্থাৎ তারই উদ্যোগে এদেশে সমাজবিজ্ঞান নামক শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত হয়। এটি নতুন জ্ঞানের আলোর পথ প্রশস্ত করে। তাই বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের বিবর্তনের আলোকে ড. এ. কে. নাজমুল করিমের মতো মানুষদেরকে নবদিগন্তের আলোর দিশারী বলা হয়।
Related Question
View Allচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে সমাজের মানুষের অবদান ও অধিকার সম্পর্কে জানা যায়। শুধু সামাজিক অধিকারই নয়, সামাজিক দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কেও সমাজবিজ্ঞান আমাদের জ্ঞান দান করে। আর সে কারণেই বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা যেমন জনসংখ্যা সমস্যা, নিরক্ষরতা, অপরাধ ইত্যাদি মোকাবিলায় সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য। বস্তুত সামাজিক সমস্যা চিহ্নিত করা ও সমাধানের দিক নির্দেশনা দেওয়া আমাদের সামাজিক কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। এসব কর্তব্য পালনের জন্য অর্থাৎ সমাজ সংস্কারের জন্য সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান একান্ত প্রয়োজন।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের বিকাশধারার পরিচয় ফুটে উঠেছে। কেননা ১৯১৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান পাঠ শুরুর মাধ্যমে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণা শুরু হয়। ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বপ্রথম সমাজবিজ্ঞান নামে একটি নতুন বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং উক্ত বিভাগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাজবিজ্ঞান চর্চা শুরু হয়। এছাড়া বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের জনক এ কে নাজমুল করিম ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণ করেন যা উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' দেশের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উত্ত দেশের অর্থাৎ বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের বিকাশধারা একটিমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে- বক্তব্যটি আমি সমর্থন করি না। এর সপক্ষের যুক্তিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো-
মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমাজবিজ্ঞানের পঠন-পাঠন শুরু হলেও পরবর্তীতে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও এটি ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৬৪ সালের ২৪ আগস্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানের পঠন-পাঠন শুরু হয়। ১৯৭০ সালে এখানে সম্মান কোর্স চালু হয়। এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৭০ সালে সমাজতত্ত্ব নামক আলাদা একটি বিভাগের আত্মপ্রকাশ ঘটে। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে সিলেটে অবস্থিত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়। এর পরবর্তী দশকে ২০০২ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের কার্যক্রম শুরু হয়। এছাড়া ২০১২ সাল থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কিছু কলেজে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর স্তরে সমাজবিজ্ঞান পড়ানো হচ্ছে।
সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের বিকাশধারা কেবল একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এ বিষয়ে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও অবদান রয়েছে।
সমাজবিজ্ঞান মানবতাবাদী বিজ্ঞান হিসেবে স্বীকৃত।
পঠন পরিসর ও উদ্দেশ্যের কারণে সমাজবিজ্ঞানকে মানবতাবাদী প্রায়োগিক বিজ্ঞান বলা হয়।
সামাজিক প্রয়োজন ও মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার আলোকেই সমাজবিজ্ঞানের বিকাশধারা প্রবাহিত হয়। উদাহরণস্বরূপ পরিবারের কথা বলা যায়, পরিবার বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন- একক পরিবার, যৌথ পরিবার, পিতৃতান্ত্রিক পরিবার, মাতৃতান্ত্রিক পরিবার ইত্যাদি। সমাজবিজ্ঞান সবধরনের পরিবারকেই স্বীকৃতি দেয়। আর এ কারণেই সমাজবিজ্ঞান মানবতাবাদী প্রায়োগিক বিজ্ঞান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!