গ্রামের ভাদুই কুমোর কুয়া কাটার মজুরি চাইতে লেখকদের বাড়ি এসেছিল।
নিজের তৈরি করা মিথ্যে কথা বিশ্বাস না করাতে পেরে বিধুর কাছে আসা লোকটি তাকে শাসিয়েছিল।
পড়ে পাওয়া বাক্সের ব্যাপারে কিশোররা লিফলেট বা কাগজ লিখে বিভিন্ন জায়গায় লাগায়। সেই লেখা দেখে একজন প্রতারক শ্রেণির লোক বিধুর কাছে আসে। বিধু তাকে নানা প্রশ্ন করে বুঝতে পারে সে মিথ্যা কথা বলছে এবং বাক্সটি তার নয়। সে তার কোনো কথা বিশ্বাস করে না। তখন লোকটি বিধুকে দেখে নেবে বলে শাসিয়ে যায়।
উদ্দীপকের শাহেদা বেগম 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কাপালি চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
পিবদগ্রস্থ মানুষের অনেক সময় হিতাহিত জ্ঞান লোপ পায়। তারা অনেকটা অসহায় বোধ করে। সেই সময়টাতে তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং সাহায্য-সহযোগিতা করা সর্বাপেক্ষা জরুরি।
উদ্দীপকের শাহেদা বেগম অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পথে যানজটের কবলে পড়েন। তার এই দিশেহারা ও অসহায় অবস্থা দেখে কলেজপড়ুয়া সঞ্জয় ও সাজিদ এগিয়ে আসে এবং অসুস্থ শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতালে যায়। এই শাহেদা বেগমের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে পড়ে পাওয়া গল্পের কাপালিদের সাদৃশ্য রয়েছে। কাপালিকের সমস্যাটা ভিন্ন হলেও তিনিও অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। মেয়ের বিয়ের গহনা এবং টাকা হারিয়ে যাবার পর সর্বনাশা বন্যায় বাড়ি-ঘর নদী-গর্ভে ভেঙে পড়লে তারা নিতান্ত অসহায় হয়ে পড়েন। এই বিপদগ্রস্ত হওয়ার দিক থেকে গল্পের কাপালিদের সঙ্গে উদ্দীপকের শাহেদা বেগমের সাদৃশ্য রয়েছে।
হ্যাঁ, সঞ্জয় ও সাজিদ 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কিশোর চরিত্রের সার্থক প্রতিরূপ। কেননা তারা সকলেই নৈতিকবোধ সম্পন্ন এবং দায়িত্বশীল।
নৈতিকতার পাশাপাশি দায়িত্বশীলতাও মানব চরিত্রের অতি-আবশ্যকীয় গুণ। একজন পরিপূর্ণ মানুষ হতে গেলে এসব গুণের অধিকারী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
উদ্দীপকের সঞ্জয় ও সাজিদ যে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে তা অসাধারণ ও অতুলনীয়। তারা একজন বিপদগ্রস্থ অসহায় মাকে তার অসুস্থ সন্তানকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যাপারে সাহায্য করেছে। তাদের নৈতিকতা, বিবেচনাবোধ এবং দায়িত্বশীলতার জন্যই সাদেজা বেগমের অসুস্থ শিশু সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছতে পেরেছে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কিশোরদের মাঝেও এমন গুণাবলি পরিলক্ষিত হয়। তারাও অন্যের সম্পদ হাতে পেয়েও আত্মসাৎ না করে তাকে ফিরিয়ে দেবার ব্যবস্থা করেছে।
'পড়ে পাওয়া' গল্পটিতে কিশোররা তাদের বয়সের চেয়ে বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। তাদের চারিত্রক দৃঢ়তার পাশাপাশি তীক্ষ্ণ বিবেচনা বোধও প্রকাশ পেয়েছে। তারা লোভ পরিত্যাগ করে অন্যের হারানো সম্পদ তাকে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। উদ্দীপকের সঞ্জয় ও সাজিদ একইভাবে একজন অসহায় বিপদগ্রস্ত মাকে তার অসুস্থ সন্তানকে হাসপাতালে পাঠাতে সাহায্য করেছে। তাই সঞ্জয় ও সাজিদকে গল্পের কিশোরদের সার্থক প্রতিরূপ বলা যায়।
Related Question
View All'পড়ে পাওয়া' রচনাটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি কিশোর গল্প।
'ওর মতো কত লোক আসবে'- বিধুর এ কথাটির অর্থ হলো লোভের বশবর্তী হয়ে বাক্সের মালিক না হয়েও অনেক লোক মালিকানা দাবি করতে আসবে।
মানুষ লোভের বশবর্তী হয়ে মিথ্যাকে সত্য করতে পারে, আর সত্যকে মিথ্যা করতে পারে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কিশোররা একটি টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায় এবং সেটি প্রকৃত মালিকের হাতে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়। এই বিজ্ঞপ্তি পেয়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি বাক্সটির মালিকানা দাবি করে। প্রকৃতপক্ষে সে মালিক নয়- এ উপলব্ধি থেকেই বিধু কথাটি বলেছে।
উদ্দীপকের আরিফ মানিব্যাগের প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার পদক্ষেপ নেয় এবং বিধুরা বাক্সের প্রকৃত মালিক খোঁজার পদক্ষেপ নেয়-এ দিক থেকে বিধুদের সঙ্গে উদ্দীপকের আরিফকে তুলনা করা যায়।
সততা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া প্রত্যেক মানুষের কর্তব্য। নির্লোভ মানসিকতা মানুষকে মহৎ হতে শেখায়। সততা মানুষের মনে শান্তি দেয়।
উদ্দীপকের আরিফ টেক্সি ক্যাব চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। একবার একজন আরোহীকে গন্তব্যে পৌছে দিয়ে সে বিশ্রাম নিচ্ছিল। এমন সময় গাড়ির ভেতরে একটি মানিব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে এবং ব্যাগে অনেক ডলার দেখতে পায়। কিন্তু সে লোভের বশবর্তী না হয়ে মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ছাপানোর ব্যবস্থা করে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের বিধুরাও টাকাভর্তি একটি বাক্স পড়ে পায়। ওরা বাক্সের প্রকৃত মালিকের কাছে বাক্সটা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে বিজ্ঞপ্তি দেয়। পড়ে পাওয়া জিনিস তার প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা সেই দিক থেকে উদ্দীপকের আরিফকে বিধুদের সঙ্গে তুলনা করা যায়।
কলেবরে ক্ষুদ্র হলেও আরিফ চরিত্রটি 'পড়ে পাওয়া' গল্পের মূল সুরকেই ধারণ করে আছে। কথাটি যথার্থ।
অন্যের উপকার করার মধ্যেই প্রকৃত সুখ নিহিত। আর এজন্য প্রয়োজন সততা ও নির্লোভ মানসিকতা। নির্লোভ মানসিকতার অধিকারীরাই জীবনে জয়ী হয়।
উদ্দীপকের আরিফের মধ্যে নির্লোভ মানসিকতার ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। কারণ আরিফ সামান্য ট্যাক্সিচালক হয়েও অন্যের টাকায় লোভ করেনি। তাই সে প্রকৃত মালিকের কাছে মানিব্যাগটি ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিল। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের বিধু, নিধু, মিঠু, বাদলরাও আরিফের মতো নির্লোভ। তারাও টাকা ভর্তি বাক্স পেয়েও লোড করেনি।
আলোচ্য গল্পের কিশোররা সৎ, বুদ্ধিমান ও দায়িত্বশীল। তাই প্রকৃত মালিককে খুঁজে পাওয়ার আগ পর্যন্ত বাক্সটিকে সযত্নে রক্ষা করেছে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের মূল বিষয় সততা ও দায়িত্বশীলতা, যা উদ্দীপকের আরিফ চরিত্রের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকৃতিপ্রেমিক লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
"দুজনই হঠাৎ ধার্মিক হয়ে উঠলাম।"- কথাটি দ্বারা কিশোরদের সৎ ও নির্লোভ মানসিকতার দিকটি বোঝানো হয়েছে।
'পড়ে পাওয়া' গল্পের বাদল ও গল্পকথক একটি টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায়। বাক্সটার মধ্যে দামি কিছু আছে বলে তারা মনে করে। তাই তারা এটি ভাঙতে চায়। কিন্তু হঠাৎ তাদের মনে আসে- 'না, বাক্সটি ভাঙা ঠিক হবে না। কারণ এই বাক্সের মালিক তো তারা নয়। যে লোকের বাক্সটি সে হয়তো বাক্সের চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারবে না।' এই কথা মনে আসার সঙ্গে সঙ্গে উভয়ে যেন ধার্মিক হয়ে উঠল এবং বাক্সটির প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার উপায় খুঁজতে লাগল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!