প্রজ্ঞার টবে থাকা গাছগুলো নেতিয়ে পড়েছে। এজন্য সে টবের শুকনো মাটি পানি দিয়ে ভিজিয়ে দেয়। এতে গাছগুলো সজীব হয়ে উঠে। কৌতূহলবশত পরের দিন দুপুরে সে গাছের একটি ডাল পাতাসহ পলিথিনের মোড়ক দিয়ে ঢেকে দিল। বিকালে লক্ষ করল, পলিথিনের ভিতরে বিন্দু বিন্দু পানি জমে আছে।

Updated: 1 year ago
উত্তরঃ

কলয়েডধর্মী বিভিন্ন পদার্থ যে প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের তরল পদার্থ শোষণ করে তাকে ইমবাইবিশন বলে।

উত্তরঃ

ফুলের সুবাস ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। যে প্রক্রিয়ায় একই তাপমাত্রা ও বায়ুমন্ডলীয় চাপে বেশি ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের স্থানের অণুগুলো ছড়িয়ে পড়ে তাকে ব্যাপন বলে। ফুলের নিকটবর্তী স্থানে সুবাসে অণুগুলো অধিক ঘনত্ব সম্পন্ন হওয়ায় ব্যাপন প্রক্রিয়ায় আশেপাশের কম ঘনত্বের স্থানের দিকে ধাবিত হয়। এর ফলে ফুলের সুবাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।

উত্তরঃ

উল্লেখিত গাছগুলোতে পানি দেওয়ায় গাছগুলো অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় মূলরোমের সাহায্যে পানি গ্রহণ করার ফলে সজীব হয়ে উঠে। উদ্দীপকের টবের মাটি শুকিয়ে যাওয়ায় সেখানে পানিশূন্যতার সৃষ্টি হয়। ফলে গাছ মাটির কণা থেকে পানি শোষণ করতে না পারায় নেতিয়ে যায়। তাই যখন টবের শুকনো মাটি পানি দিয়ে ভিজিয়ে দেওয়া হয় তখন মাটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি থাকে যা গাছ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় শোষণ করে নেয়। অভিস্রবণের মাধ্যমে শোষিত এই পানি জাইলেম টিস্যুতে পৌছায়। জাইলেমের মাধ্যমে রসের বা পানির ঊর্ধ্বমুখী পরিবহনের মাধ্যমে পানি উদ্ভিদের পাতায় পৌছায়। এতে করে প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় বের হয়ে যাওয়া পানির ঘাটতি পূরণ হয় এবং গাছগুলো সজীব হয়ে উঠে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের দ্বিতীয় শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াটি হচ্ছে প্রস্বেদন।

প্রস্বেদন প্রক্রিয়া উদ্ভিদ জীবনে একটি অনিবার্য প্রক্রিয়া। প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদ তার দেহ থেকে পানি বের করে অতিরিক্ত পানির চাপ থেকে মুক্ত করে। প্রস্বেদনের ফলে কোষরসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। কোষ রসের ঘনত্ব বৃদ্ধি অন্তঃঅভিস্রবণের সহায়ক হয়ে উদ্ভিদকে পানি ও খনিজ লবণ শোষণে সহায়তা করে। উদ্ভিদদেহকে ঠান্ডা রাখে এবং পাতার আর্দ্রতা বজায় রাখে। প্রস্বেদনের ফলে খাদ্য তৈরির জন্য পাতায় অবিরাম পানি সরবরাহ সম্ভব হয়। এ থেকে বুঝা যায় প্রস্বেদন উদ্ভিদ জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদ দেহ থেকে প্রচুর পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। অনেক সময় গাছের গোড়ায় পানির সরবরাহ থাকে না, কিন্তু প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় পানি অনবরত বের হতে থাকে। ফলে উদ্ভিদ নেতিয়ে যায়। কখনো কখনো মারাও যায়। সুতরাং বলা যায় যে, প্রস্বেদন প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও কখনো কখনো তা উদ্ভিদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

167

উদ্ভিদ মূলের সাহায্যে মাটি থেকে পানি ও পানিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণ শোষণ করে এবং সেই পানি ও রস কাণ্ডের ভিতর দিয়ে পাতায় পৌঁছায়। আবার দেহে শোষিত পানি উদ্ভিদ বাষ্প আকারে দেহ থেকে বের করে দেয়। উদ্ভিদ যে প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন গ্যাস ত্যাগ করে, দেহে পানি ও পানিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণ শোষণ করে ঐ রস দেহের নানা অঙ্গে পরিবহন করে ও দেহ থেকে পানি বাষ্প আকারে বের করে দেয় সেই সব প্রক্রিয়া ব্যাপন, অভিস্রবণ, শোষণ, পরিবহন ও প্রস্বেদনের মাধ্যমে ঘটে।

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
   • ব্যাপন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব;
   • অভিস্রবণ প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব;
   • প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের পানি পরিত্যাগ ব্যাখ্যা করতে পারব;
   • উদ্ভিদের পানি শোষণ ব্যাখ্যা করতে পারব।

Related Question

View All
উত্তরঃ

উদ্ভিদ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি ও খনিজ লবণ মূলরোম দ্বারা শোষণ করে।

325
উত্তরঃ

ব্যাপন ও অভিস্রবণের মধ্যে দুটি পার্থক্য নিচের ছকে দেখানো হলো-

ব্যাপন

অভিস্রবণ

১. ব্যাপন হচ্ছে কোনো পর্দার বাঁধা ছাড়া ঘন দ্রবণ থেকে দ্রব্যের অণুর পাতলা দ্রবণের দিকে ছড়িয়ে পড়া।

১. অভিস্রবণ হচ্ছে অর্ধভেদ্য পর্দার ভেতর দিয়ে পাতলা দ্রবণ থেকে ঘন দ্রবণের দিকে দ্রাবকের চলন।

২. ব্যাপন প্রক্রিয়ায় দ্রব ও দ্রাবক' উভয়ের ব্যাপন ঘটে।

২. অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় শুধু দ্রাবকের ব্যাপন ঘটে।

334
উত্তরঃ

উদ্দীপকে যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেন্ট এর ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে তা হলো ব্যাপন। নিচে ব্যাপন প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করা হলো-
আমরা জানি সব পদার্থই কতকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণু দিয়ে তৈরি। এ অণুগুলো গতিশীল বা চলমান অবস্থায় থাকে। তরল ও গ্যাসের ক্ষেত্রে অণুগুলোর চলন দ্রুত হয় এবং বেশি ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের দিকে অণুগুলো ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে যতক্ষণ না অণুগুলোর ঘনত্ব দুই স্থানে সমান হয়। অণুগুলোর এরূপ চলন প্রক্রিয়াকে বলে ব্যাপন। ব্যাপনকারী পদার্থের অণু-পরমাণুগুলোর গতিশক্তির প্রভাবে এক প্রকার চাপ সৃষ্টি হয় যার প্রভাবে অধিক ঘনত্বযুক্ত স্থান থেকে কম ঘনতযুক্ত স্থানে অণুগুলো ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণেই সেন্ট এর ঘ্রাণ ব্যাপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।

187
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রক্রিয়াটি হলো ব্যাপন। নিচে ব্যাপন প্রক্রিয়াটি গুরুত্ব আলোচনা করা হলো-

জীবের সব রকম শারীরবৃত্তীয় কাজে ব্যাপন প্রক্রিয়া ঘটে। উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের সময় বাতাসের কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে। এ অত্যাবশ্যক কাজ ব্যাপন দ্বারা সম্ভব হয়। জীবকোষে শ্বসনের সময় গ্লুকোজ জারণের জন্য অক্সিজেন ব্যবহৃত হয়। ব্যাপন ক্রিয়ার দ্বারা কোষে অক্সিজেন প্রবেশ করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড বের হয়ে যায়। উদ্ভিদ দেহে শোষিত পানি বাষ্পাকারে প্রস্বেদনের মাধ্যমে দেহ থেকে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বের করে দেয়।

184
উত্তরঃ

উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর থেকে পাতার মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বলে।

328
উত্তরঃ

উদ্ভিদ পরিবহনের পথ বলতে বুঝায় জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুকে।

কারণ জাইলেম ও ফ্লোয়েম নামক পরিবহন টিস্যুর মাধ্যমে উদ্ভিদে পরিবহন ঘটে। জাইলেম উদ্ভিদে ঊর্ধ্বমুখী পরিবহন পথ হিসেবে কাজ করে। জাইলেমের মাধ্যমে মূল দ্বারা শোষিত পানি পাতায় পৌছে। আর ফ্লোয়েম উদ্ভিদে নিম্নমুখী পরিবহন পথ হিসেবে কাজ করে। ফ্লোয়েমের মাধ্যমে পাতায় উৎপন্ন তরল খাদ্য সারা দেহে পরিবাহিত হয়।

184
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews