রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান; যার জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব রয়েছে।
পুঁজিবাদী রাষ্ট্র এবং সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র দুটি ভিন্ন রাষ্ট্র। যাদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। পুঁজিবাদী রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বোঝায়, সেখানে সম্পত্তির ওপর ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকার করা হয়। অপরদিকে, সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যক্তি মালিকানা স্বীকার করে না। পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে উৎপাদনের উপকরণসমূহ ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকে, সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে উৎপাদনের উপকরণগুলো রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থাকে। রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন ও বণ্টনের ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। এটি পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বিপরীত।
প্রতিচ্ছবি-১ জনকল্যাণের ভিত্তিতে গঠিত রাষ্ট্র ব্যবস্থা তথা কল্যাণমূলক রাষ্ট্রকে নির্দেশ করছে।
যে রাষ্ট্র জনগণের দৈনন্দিন ন্যূনতম চাহিদা পূরণের জন্য কল্যাণমূলক কাজ করে তাকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলে। এ ধরনের রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য কর্মের সুযোগ সৃষ্টি করে। বেকার ভাতা প্রদান করে, বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
উদ্দীপকের প্রতিচ্ছবি-১ এ দেখা যায়, সুমন 'A' নামক রাষ্ট্রে বাস করে।
কর্মে নিযুক্ত নয় বলে রাষ্ট্রটি সুমনকে বেকার ভাতা প্রদান করে। অন্যান্য নাগরিকদের জন্যও রাষ্ট্রটি বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। এসব বিষয় কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থাকেই নির্দেশ করে। কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি সমাজের মঙ্গলের জন্য সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করে। খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করে। রাস্তাঘাট, সরাইখানা, খাদ্য ভর্তুকি প্রদান ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে এবং বেকার ভাতা, অবসরকালীন ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ইত্যাদি প্রদান করে। স্বচ্ছলদের ওপর কর ধার্য করে দরিদ্র ও দুস্থদের সাহায্য ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে। কল্যাণমূলক রাষ্ট্র কৃষক, শ্রমিক ও মজুরদের স্বার্থরক্ষার জন্য ন্যূনতম মজুরির ব্যবস্থা করে তাদের জীবনযাত্রার মান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করে। এছাড়াও সমবায় সমিতি গঠন ও শ্রমিক কল্যাণ সমিতি গঠন করে কৃষক, শ্রমিক ও -মজুরদের স্বার্থ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে।
প্রতিচ্ছবি-২ উত্তরাধিকার সূত্রের ভিত্তিতে গঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থাকে তথা রাজতন্ত্রকে নির্দেশ করছে।
বিশ্বের কোনো কোনো রাষ্ট্রে রাষ্ট্র প্রধানগণ উত্তরাধিকারসূত্রে রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা লাভ করে। এ ধরনের রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে বলা হয় রাজতন্ত্র। রাজতন্ত্রে রাজার ছেলে বা মেয়ে উত্তরাধিকার সূত্রে রাষ্ট্রের রাজা বা রানি হয়ে থাকে।
উদ্দীপকের প্রতিচ্ছবি-২ এ দেখা যায়, 'B' নামক রাষ্ট্রে বাস করে রিজওয়ান। এখানে রাষ্ট্রপ্রধানের ছেলে বা মেয়ে পরবর্তীতে রাষ্ট্রপ্রধান হন। এ বিষয়টি রাজতন্ত্রকেই নির্দেশ করে। রাজতন্ত্র ২ ধরনের। যথা- নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র এবং নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র। নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রে রাজা বা রানি রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। এতে শাসন ব্যবস্থায় জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। বর্তমান বিশ্বে এ ধরনের সরকারের সংখ্যা নগণ্য। সৌদি আরবে নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র বিদ্যমান রয়েছে। অপরদিকে, নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রে রাজা বা রানি উত্তরাধিকার সূত্রে বা নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্রপ্রধান হন। কিন্তু তিনি সীমিত ক্ষমতা ভোগ করেন। রাষ্ট্রের প্রকৃত শাসনক্ষমতা থাকে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে। যুক্তরাজ্যে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র প্রচলিত রয়েছে।
উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, উদ্দীপকের প্রতিচ্ছবি-২ এ রাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, যা নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র ও নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র এই দুই ভাগে বিভক্ত।
Related Question
View Allউত্তরাধিকারসূত্রে গঠিত সরকারব্যবস্থার নাম হলো রাজতন্ত্র।
যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় সম্পত্তির ওপর নাগরিকদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকার করা হয় তাই পুঁজিবাদী রাষ্ট্র।
পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে উৎপাদনের উপাদানসমূহ ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকে। এর ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এখানে অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎপাদনব্যবস্থা পরিচালিত হয়। এ ধরনের রাষ্ট্রে নাগরিকগণ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সম্পদ ভোগ ও এর মালিকানা লাভ করে থাকে। বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রই পুঁজিবাদী। যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ভারত প্রভৃতি।
'ক' রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান।
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বলতে সেই সরকারকে বোঝায় যেখানে শাসন বিভাগ আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে না। রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিসভার সদস্যগণ আইনসভার সদস্য নন। মন্ত্রীগণ তাদের কাজের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে দায়ী থাকেন। রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টির ওপর মন্ত্রীদের কার্যকাল নির্ভর করে। 'ক' রাষ্ট্রের সরকারব্যবস্থায়ও এমন বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের শাসক আইনসভার নিকট দায়ী নন। এ ধরনের সরকারব্যবস্থায় জাতীয় স্বার্থ বেশি গুরুত্ব পায়। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারেরও এ ধরনের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এ ধরনের সরকারে রাষ্ট্রপতি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তিনিই প্রকৃত শাসক ও সরকার প্রধান। তিনি কোনো কাজে মন্ত্রীদের পরামর্শ গ্রহণ করতেও পারেন আবার নাও পারেন। ছকের 'ক' রাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থাটিও পাঠ্যবইয়ের রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ছকে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী 'খ' রাষ্ট্রে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় জনমতের প্রাধান্য লক্ষ করা যায়।
সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় সাধারণ নির্বাচনে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী দল মন্ত্রিসভা গঠন করে। দলের আস্থাভাজন ব্যক্তি হন প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর দল আইনসভায় বিভিন্ন দল-মতের প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন আইন পাস করে।
সংসদীয় সরকারের আইনসভা সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভা তাদের কাজের জন্য আইন পরিষদের নিকট দায়ী থাকে। আইনসভার আস্থা হারালে মন্ত্রিসভার পতন ঘটে। সংসদীয় সরকারের সদস্যগণ বিশেষ করে বিরোধী দলের সদস্যগণ সংসদে বসে সরকারের কাজের সমালোচনা করার সুযোগ পায়। তাছাড়া সংসদীয় সরকার জনমতের দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় জনমতকে অনুকূলে রাখার জন্য সরকারি ও বিরোধী দল সবসময় তৎপর থাকে।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় যে, সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় জনমতের প্রাধান্য লক্ষ করা যায়- উক্তিটি যথার্থ।
এক দলের শাসন কায়েম হয় একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায়।
উত্তরাধিকারের ভিত্তিতে গঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থায় শাসনক্ষমতা বংশ পরম্পরা অনুযায়ী হয়ে থাকে।
বিশ্বের কোনো কোনো রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানগণ উত্তরাধিকারসূত্রে শাসনক্ষমতা লাভ করেন। এ ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রাজতন্ত্র বলা হয়। এ ব্যবস্থায় রাজার ছেলে বা মেয়ে উত্তরাধিকার সূত্রে রাষ্ট্রের রাজা বা রানি হয়ে থাকেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!