উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রতিবেদনটির প্রথম অংশে দেখানো দুর্যোগের নাম হচ্ছে খরা।
প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাতের অভাবে খরা হয়ে থাকে। প্রতিবছর বসন্তের শেষ এবং গ্রীষ্মের শুরুতে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে (রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, গাইবান্ধা ইত্যাদি জেলা) খরা দেখা দেয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের প্রথমাংশে খরা দুর্যোগটিই দেখানো হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ হওয়ায় এটি সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে মানবসৃষ্ট কারণগুলোর বিষয়ে সচেতন হলে ও সময়মতো কিছু ব্যবস্থা নিলে খরাজনিত কিছু ক্ষয়ক্ষতি কমানো যেতে পারে।
বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে খরাজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। এক্ষেত্রে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষায় মাটির নিচ থেকে পানি উত্তোলন হ্রাস করা জরুরি। প্রয়োজনে তা বন্ধ করতে হবে। সেইসাথে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে রাখতে হবে, যাতে তা দিয়ে কৃষিকাজ এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো যায়। এছাড়া সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনা ও পানির অপচয় রোধে গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি 'এড়াতে পর্যাপ্ত বনায়নের বিকল্প নেই। একইসাথে আশেপাশের খাল, পুকুর ও ডোবা খনন করতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, উল্লিখিত উদ্যোগগুলো গ্রহণ করলে খরাজনিত কিছু ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতে পারে।
Related Question
View Allবাংলাদেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত।
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশের জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ, অর্থাৎ এখানে শীত বা গ্রীষ্ম কোনোটিই খুব বেশি তীব্র নয়।
বাংলাদেশের গ্রীষ্মকাল উষ্ণ ও বৃষ্টিবহুল এবং শীতকাল শুষ্ক। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে, বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। তবে সব এলাকায় সমান বৃষ্টিপাত হয় না। সিলেট, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এলাকায় বেশি বৃষ্টিপাত হয়। খৗসুমি বায়ুর প্রভাবে অনেক সময় এদেশে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস হয়।
উদ্দীপকের বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যার কারণে সৃষ্ট দুর্যোগের হুমকির মুখোমুখি।
পৃথিবী আজ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। বিশে করে বাংলাদেশের মতো যেসব দেশ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার কাছাকাছি অবস্থানে আছে, সেসব দেশে এ সমস্যা বহুগুণ বেশি দেখা দিচ্ছে। জলবায় পরিবর্তন হওয়ায় এখন ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আবহাওয়ার পরিবর্তন লক্ষ করা যায় না। যেমন- বর্ষাকালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। শীতকালে শীত দেরিতে আসছে এবং স্বল্পসময়ে চলে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিমাণও বেড়ে যাচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণ বাংলাদেশের জন্য অদূর ভবিষ্যতে ভয়াবহ হয়ে দাঁড়াবে। কেননা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে মেরু অঞ্চলের বরফগলা পানি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে দেশের দক্ষিণাংশের নিম্ন অঞ্চল ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই বলা যায়, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে জলবায়ুর যে পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে, তাতে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
উদ্দীপকে পরিবেশের যে বিপর্যয়ের কথা বলা হয়েছে তার জন্য মানুষের কর্মকাণ্ডই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দায়ী।
বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ গ্রিনহাউস গ্যাস। বায়ুমণ্ডলে এ গ্যাস অতিরিক্ত মাত্রায় সঞ্চারিত হয়ে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়িয়ে তোলে। বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধির জন্য মানুষের কাজকর্মই সবচেয়ে বেশি দায়ী। মানুষের তৈরি গ্রিনহাউস গ্যাসের মধ্যে কার্বন ডাইঅক্সাইডের রিমাণ সবচেয়ে বেশি। যেমন: বিদ্যুৎ উৎপাদন, যানবাহনের তেল-গ্যাসের বায়া, ইটের ভাটা প্রভৃতি থেকে এই কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়। লে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস সঞ্চারের পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে গেছে। এ বারণে জলবায়ুগত পরিবর্তনের হুমকিও মারাত্মক হচ্ছে।
সতরাং বলা যায় যে, মানুষের অসচেতন কর্মকাণ্ডই দেশকে বিভিন্ন প্রকৃতিক দুর্যোগের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
প্রচন্ড গতিসম্পন্ন ঘূর্ণিঝড়কে 'টর্নেডো' বলা হয়।
কালবৈশাখি হলো এক ধরনের স্বল্পস্থায়ী ও স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট প্রচণ্ড তসম্পন্ন ঘূর্ণিঝড়।
বাংলাদেশে সাধারণত বৈশাখ মাসে 'কালবৈশাখি ঝড়' বেশি হয়। গ্রীষ্মে কানো স্থানের তাপমাত্রা খুব বেড়ে গেলে সেখানকার বাতাস হালকা য় ওপরে উঠে যায়। তখন পাশের অঞ্চলের অপেক্ষাকৃত শীতল বাতাস বল বেগে এই শূন্যস্থানে ধেয়ে আসে ও ঝড়ের সৃষ্টি করে।ন শিরভাগ সময় উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে এ ঝড়টা আসে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!