বিধবা বিবাহ আইন পাস করেন লর্ড ডালহৌসি।
লর্ড ওয়েলেসলি যে কৌশলী সাম্রাজ্য বিস্তার নীতি অনুসরণ করেন, তাই ইতিহাসে 'অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি' হিসেবে পরিচিত।
ভারতে ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি ছিলেন ঘোর সাম্রাজ্যবাদী শাসক। কৌশলে উপমহাদেশে ব্রিটিশ শক্তিকে শক্তিশালী করে তোলাই ছিল তার সাম্রাজ্যবাদী নীতির অন্যতম লক্ষ্য। তিনি পূর্ববর্তী শাসক জন শোরের নিরপেক্ষতা নীতি বর্জন করে সাম্রাজ্যবাদী নীতি গ্রহণ করেন। এ নীতি অনুযায়ী, যেসব দেশীয় রাজ্যের রাজা অধীনতামূলক মিত্রতা নীতিতে আবদ্ধ হবেন, তারা ইংরেজদের বিনা অনুমতিতে অপর কোনো রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা কিংবা কোনোরূপ আলাপ-আলোচনা চালাতে পারবে না। তাছাড়া এ নীতিতে সামরিক, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক যে কোনো সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ইংরেজ কোম্পানির কর্তৃত্বই ছিল চূড়ান্ত।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের শাসক বলতে আমার পাঠ্যবইয়ের টিপু সুলতানকে বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত একের পর এক যুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন, পিতার মতই পরাক্রমশালী, বীরত্ব ও নির্ভীকতা প্রদর্শন এসব বিষয় টিপু সুলতানের কথা মনে করিয়ে দেয়। একজন সাহসী যোদ্ধা ও বীর সৈনিক হিসেবে টিপু সুলতান কৃতিত্ব অর্জন করেন। তিনি তার পিতা হায়দার আলীর সাথে দ্বিতীয় মহীশূর যুদ্ধে ইংরেজদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করেছিলেন। এ যুদ্ধে তিনি ব্রিটিশ সেনাপতি ব্রেইথ ওয়েটকে পরাজিত করে বিপুল সম্মান ও খ্যাতি অর্জন করেন। দ্বিতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ চলাকালে হায়দার আলীর অকস্মাৎ মৃত্যু হয় এবং তার পুত্র টিপু সুলতান মহীশূরের সিংহাসনে আরোহণ করেন। পিতার মতোই তিনি উপলব্ধি করেন, ভারতবর্ষের সকল শক্তির সাধারণ শত্রু হলো ইংরেজ শক্তি। এ শক্তিকে রুখতে না পারলে ভারতবাসীর সার্বভৌমত্ব বলে কিছু থাকবে না। এজন্য তিনি ক্রমবর্ধমান ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করেন। টিপু সুলতান সারা জীবন ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রাম করেছেন। ইংরেজদের বিরুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা রক্ষার্থে তিনি যে বীরত্ব ও নির্ভীকতা দেখিয়েছেন, তা টিপু সুলতানকে
ভারতের ইতিহাসে দেশপ্রেমিকের মর্যাদা দিয়েছে। উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, টিপু সুলতান একজন পরাক্রমশালী ও বীরত্বপূর্ণ শাসক ছিলেন।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের শাসক তথা টিপু সুলতান দেশের স্বাধীনতা রক্ষার্থে তার শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে চেষ্টা করে গেছেন।
টিপু সুলতান ছিলেন হায়দার আলীর সুযোগ্যপুত্র। ১৭৮২ সালে পিতার মৃত্যুর পর টিপু সুলতান মহীশূরের সিংহাসনে আরোহণ করেন। পিতার মতোই তিনি উপলব্ধি করেন, ইংরেজ শক্তিকে রুখতে না পারলে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা বলে কিছু থাকবে না। টিপু সুলতানের এই স্বাধীনতার
স্পৃহাই মূলত তৃতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধের কারণ। ইংরেজদের বিরুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা রক্ষার্থে তিনি যে বীরত্ব প্রদর্শন করেছেন, তা তাকে ভারতের ইতিহাসে দেশপ্রেমিকের মর্যাদা দিয়েছে। ভারতে মুসলিম শাসনের চরম দুঃসময়ে তিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে চরম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন।
পিতা হায়দার আলীর মতো তিনি নিজেই শাসন সংক্রান্ত সকল বিষয় পরিদর্শন করতেন। তিনি বহুবিধ সংস্কার প্রবর্তন করে মহীশূরের অভ্যন্তরীণ শাসন ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করতে সক্ষম হন। কৃষক ও কৃষির উন্নয়নের জন্য তিনি পুরস্কার দেয়ার ব্যবস্থা চালু করেন। তিনি একটি উন্নত মানের গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেন। ১৭৯১ সালে সারদাদেবীর মূর্তি নির্মাণের জন্য তিনি অর্থদান করেন। তিনি হিন্দু মন্দির ও পুরোহিতদের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। যদিও টিপু সুলতান শেষ পর্যন্ত তার দেশকে রক্ষা করতে পারেননি, কিন্তু অনাগতকালের স্বাধীনতাকামী ভারতবাসীর মনে তিনি স্বাধীনতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন
Related Question
View Allব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংসকে ইমপিচমেন্টের সম্মুখীন হতে হয়।
ভারতে ব্রিটিশ শাসনামলে নির্ধারিত তারিখে সূর্যাস্তের আগে সরকারি রাজস্ব পরিশোধে ব্যর্থ হলে ভূমি নিলামে তুলে বকেয়া আদায়ের যে কঠোর আইন ছিল, তাকে সূর্যাস্ত আইন বলে।
১৭৯৩ সালে সূর্যান্ত আইন প্রণয়ন করা হয়। এ আইন অনুযায়ী জমিদারদের নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের আগে সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করতে হতো। যেসব জমিদার ঐ সময়ের মধ্যে রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থ হতেন, তাদের জমিদারি নিলামে তোলা হতো। সূর্যান্ত আইনের কবলে পড়ে বাংলার অসংখ্য জমিদার, বিশেষ করে মুসলমান ভূস্বামীরা তাদের জমিদারি হারান
উদ্দীপকে বর্ণিত আইনে ব্রিটিশ ভারতের নিয়ামক আইন বা রেগুলেটিং অ্যাক্ট-এর প্রতিফলন ঘটেছে।
দ্বৈতশাসনের কারণে সৃষ্ট জটিলতা ও ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের ফলে বাংলায় ব্যাপক মানবীয় বিপর্যয় ঘটে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারীরা আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়। তারা কোম্পানিকে দেউলিয়াত্বের পর্যায়ে নিয়ে যায়। এরপর ১৭৭২ সালে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ওয়ারেন হেস্টিংসকে বাংলার গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়। তার দায়িত্ব ছিল এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটানো। ১৭৭৩ সালে তিনি 'নিয়ামক আইন' প্রণয়ন করেন, যা কোম্পানিকে ভারতের শাসক হিসেবেও স্বীকৃতি দেয়। মূলত এ আইনটি ছিল কোম্পানির ভারতীয় সাম্রাজ্য সম্পর্কে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও কোম্পানি কর্তৃপক্ষের মধ্যকার একটি আপোস রক্ষামূলক ব্যবস্থা।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কোম্পানি পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠার সময় কিছু আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে কোম্পানিটির ব্যাপক বিস্তৃতির ফলে বেশ কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং আইনের কয়েকটি ধারা অকার্যকর প্রমাণিত হয়। এ প্রেক্ষিতে কোম্পানির ব্যবস্থাপককে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়ে নতুন একটি আইন প্রণয়ন করা হয়। নতুন আইনটি কোম্পানির ব্যবসা বৃদ্ধিতে সহায়ক হলেও ত্রুটিপূর্ণ ছিল।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত আইনে ব্রিটিশ ভারতের নিয়ামক আইনেরই প্রতিফলন ঘটেছে
উক্ত আইন অর্থাৎ নিয়ামক আইনের ত্রুটি বিশ্লেষণসহ আমার মতামত
নিম্নরূপ-
প্রথমত, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এ আইনের মাধ্যমে কোম্পানির ভারতীয় সাম্রাজ্যের ওপর সার্বস্ট্রেীম ক্ষমতা স্থাপন করতে চেয়েছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। কেননা, এ আইনে সার্বভৌমত্ব কার্যকর করার জন্য কোনো এজেন্সি গঠনের প্রস্তাব করা হয়নি।
দ্বিতীয়ত, এ আইনের দ্বারা মাদ্রাজ ও বোম্বাই প্রেসিডেন্সির ওপর কলকাতা প্রেসিডেন্সির কর্তৃত্ব স্থাপন করা হয়। কিন্তু কর্তৃত্বের ক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট না থাকায় পরবর্তীতে বহু জটিলতার সৃষ্টি হয়।
তৃতীয়ত, গভর্নর জেনারেল ও তার পরিষদের কর্তৃত্বের ক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট না হওয়ার সুযোগে মাদ্রাজ ও বোম্বাই প্রেসিডেন্সি স্বাধীনভাবে চলতে চেষ্টা করে। এর ফলে বাংলা প্রেসিডেন্সির সাথে মতবিরোধ দেখা দেয়।
চতুর্থত, গভর্নর জেনারেলের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কাউন্সিলের সদস্যবর্গ এবং সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতির নিয়ন্ত্রণ ছিল। এতে শাসনকার্যে অনেক অসুবিধার সৃষ্টি হয়।
পঞ্চমত, ভারতে ব্রিটিশ নাগরিকদের ওপর সুপ্রিমকোর্টের এখতিয়ার স্থাপন করা হলেও এ আইনে ব্রিটিশ নাগরিকদের সংজ্ঞা সুনির্দিষ্ট না 'হওয়ায় কোর্টের সাথে কাউন্সিলের সদস্যদের নানা বিষয়ে মতানৈক্য দেখা যায়।
ষষ্ঠত, সেসময় সুপ্রিমকোর্ট ইংল্যান্ডের আইন অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনা করতো। অপরদিকে, গভর্নর জেনারেল ও তার কাউন্সিল ভারতীয় আইন দ্বারা সদর দেউয়ানি আদালত ও সদর নিজামত আদালতগুলোতে বিচারকার্য চালাতো। ফলে আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, নিয়ামক আইনের উদ্দেশ্য মহৎ ছিল, কিন্তু এ আইনের সৃষ্ট ব্যবস্থা ছিল ত্রুটিপূর্ণ।
১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা রহিত করা হয়।
ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য স্থাপনে যেসব গভর্নর জেনারেল অসাধারণ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন, লর্ড ওয়েলেসলি তাদের অন্যতম। তিনি নতুন ইংরেজ কর্মচারীদের শিক্ষার জন্য কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে একটি কলেজ স্থাপনের প্রস্তাব করেন। কিন্তু বোর্ড অব ডাইরেক্টরস তার এ পরিকল্পনা অনুমোদন না করায় পরে তা ভারতীয় ভাষা শিক্ষার কলেজে পরিণত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!