'শীল' শব্দের অর্থ স্বভাব বা চরিত্র। শীলে অনেক অর্থ আছে। যেমন- নিয়মনীতি, সংযম, সদাচার, আশ্রয়, শৃঙ্খলা ইত্যাদি।
নিত্যপালনীয় শীলের প্রার্থনা বাংলায় উল্লেখ করা হলো-আমি প্রাণী হত্যা থেকে বিরত থাকব, এ শিক্ষাপদ গ্রহণ করছি। আমি অদত্তবস্তু গ্রহণ থেকে বিরত থাকব, এ শিক্ষাপদ গ্রহণ করছি।
আমি ব্যভিচার থেকে বিরত থাকব, এ শিক্ষাপদ গ্রহণ করছি।
আমি মিথ্যাকথা বলা থেকে বিরত থাকব, এ শিক্ষাপদ গ্রহণ করছি। আমি সুরা এবং মাদকজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকব, এ শিক্ষাপদ গ্রহণ করছি।
প্রতিমা বড়ুয়াকে গৃহী উপাসিকা বলা যায়। গৃহী উপাসকরা পঞ্চশীল পালন করে। পঞ্চশীল নিত্যপালনীয় শীল। এগুলো পালনের জন্য নির্দিষ্ট সময় বা স্থান নেই। সবসময় সব জায়গায় পালন করা যায়। উদ্দীপকের প্রতিমা বড়ুয়া প্রত্যহ বিহারে গিয়ে বুদ্ধ, ধর্ম ও সংঘের বন্দনা করেন। তিনি পঞ্চশীলের প্রথম শীল, তৃতীয় শীল ও পঞ্চমশীল ঠিকভাবে পালন করেন। জীবন গঠন করতে হলে নৈতিক গুণ বেশি প্রয়োজন। জীব হত্যা, ব্যভিচার, মিথ্যাবলা, মাদকদ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে শীলবান হতে হয়। শীল মানবজীবন গঠনের ভিত্তিস্বরূপ। যারা পঞ্চশীল পালন করেন তারা ভোগ-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন। সর্বাই তাদের প্রশংসা করেন। স্বর্গে গমন করেন। তারা নির্ভয়ে ও নিঃসংকোচে সজ্ঞানে মৃত্যুবরণ করতে পারে।
শীল হচ্ছে নৈতিক শিক্ষার মূলভিত্তি।
শীলের অনুশীলন ব্যতীত চরিত্র গঠন করা যায় না। শীল অনুশীলনে, কায়, বাক্য ও হৃদয় পরিশুদ্ধ থাকে। স্বভাব সুন্দর হয়। রাগ প্রশমিত হয়। বিদ্বেষভাব থাকে না। হিংসা উৎপন্ন হয় না শীল পালনের সুফল সম্পর্কে বৃদ্ধ বলেছেন, 'ফুলের গন্ধ কেবল বাতাসের অনুকূলে যায়, প্রতিকূলে যায় না। কিন্তু শীলবান ব্যক্তির প্রশংসা বাতাসের অনুকূলে যেমন যায় তেমনি প্রতিকূলেও যায়। হত্যা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যাভাষণ এবং মাদকদ্রব্য গ্রহণ প্রভৃতি অকুশলকর্ম ব্যক্তিজীবনকে কলুষিত করে। কলুষিত ব্যক্তি পরিবার এবং সমাজে নানারকম বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি সৃষ্টি করে। অপরদিকে, শীলবান ব্যক্তি সকল প্রকার অকুশলকর্ম হতে নিবৃত্ত হন। ফলে তাদের পারিবারিক এবং সামাজিক জীবন সুন্দর ও শান্তিময় হয়।
তাই বলা যায়, প্রতিমার আচরণ জন্ম-জন্মান্তরে সুর্গতি লাভ করবে।
Related Question
View All'শীল' শব্দের অর্থ স্বভাব বা চরিত্র। শীলের আরও অনেক অর্থ আছে। যেমন- নিয়ম, রীতি, সংযম, সদাচার ইত্যাদি। নৈতিক জীবন গঠনের জন্য শীল পালন অপরিহার্য। বুদ্ধ সুন্দর চরিত্র গঠনের জন্য শীল পালনের নিয়ম প্রবর্তন করেন।
যে শীলগুলো প্রতিদিন পালন করতে হয় সেগুলোকে পঞ্চশীল বা নিত্যপালনীয় শীল বলে। এগুলো পালনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় বা স্থান নেই। সবসময় সর্বত্র পালন করা হয়।
শীল হচ্ছে নিয়মশৃঙ্খলার ভিত্তি। সুন্দর ও পবিত্র জীবন গঠনের জন্য শীল পালন করতে হয়। আর যে শীলগুলো প্রতিদিন পালন করতে হয়, সেগুলোকে নিত্যপালনীয় শীল বলা হয়। পঞ্চশীল হলো নিত্যপালনীয় শীল, যা পালনের নির্দিষ্ট সময় বা স্থান নেই। সবসময় সর্বত্র পালন করা যায়।
পঞ্চশীল অর্থাৎ পাঁচটি নিয়মনীতির শিক্ষা। যার প্রথম শীলটি প্রাণী হত্যা থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দেয়। দ্বিতীয়টি চুরি বা অদত্ত বস্তু গ্রহণ থেকে বিরত থাকা, তৃতীয়টি কামাচার বা ব্যভিচার থেকে বিরত থাকা, চতুর্থটি মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকা ও পঞ্চমটি সুরা ও মাদকদ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দেয়।
'শীল' শব্দের অর্থ হচ্ছে স্বভাব বা চরিত্র। শীলের আরও অর্থ আছে। যেমন- নিয়ম, নীতি সংযম, সদাচার, আশ্রয়, শৃঙ্খলা ইত্যাদি। আর কায়িক, বাচনকি ও মানসিক সংযমকে বলা হয় শীল। শীল নিয়মশৃঙ্খলার ভিত্তি। বৌদ্ধধর্মের অনুসারীদের শীল পালন করা একান্ত কর্তব্য।
বৌদ্ধধর্মে নানারকম শীল রয়েছে। তার মধ্যে পঞ্চশীল গৃহীরা পালন করেন। যারা উপোসথ গ্রহণ করেন, তারা অষ্টশীল পালন করেন। তাই অষ্টশীলকে উপোসথ শীলও বলা হয়। শ্রমণগণ দশশীল পালন করেন। এজন্য দশশীলকে প্রব্রজ্যা শীল বলা হয়ে থাকে। শীল পালনকারীদের বলা হয় শীলবান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!