অক্ষের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রাণিদেহের বিভিন্ন অংশের বিভাজন প্রকৃতিই হলো প্রতিসাম্যতা।
জীববিজ্ঞানীগণ এ পর্যন্ত ২,৭০,০০০ ভাস্কুলার উদ্ভিদ এবং ১৫ লক্ষেরও বেশি প্রাণী-প্রজাতি শনাক্ত করেছেন । এসব প্রজাতির মধ্যে নানা কারণে ভিন্নতা দেখা যায়।
Related Question
View Allআন্তর্জাতিক নিয়মানুসারে কোনো জীবের নামকরণে প্রথমে 'গণ' নাম এবং পরে 'প্রজাতি' নাম প্রয়োগ করে দুই শব্দের সমন্বয়ে যে নামকরণ করা হয় তাকে দ্বিপদ নামকরণ বলে। এক্ষেত্রে শব্দদ্বয় হবে ল্যাটিন বা রূপান্তরিত ল্যাটিন। যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens। এক্ষেত্রে প্রথম শব্দটি গণ এবং দ্বিতীয় শব্দটি প্রজাতি নির্দেশ করে। অপরদিকে, জীবের নামকরণের আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী গণ, প্রজাতি ও উপপ্রজাতি নামের তিনটি পদ ব্যবহার করে জীবের যে নামকরণ করা হয় তাই ত্রিপদ নামকরণ। যেমন: Corvus splendens protegatus। এটি মূলত শ্রীলঙ্কান কাক। উপপ্রজাতি protegatus শ্রীলঙ্কায় কাকের আবাসস্থল নির্দেশ করে।
উদ্দীপকের X, Y ও Z চিহ্নিত প্রাণী তিনটি যথাক্রমে Platyhelminthes, Nematoda এবং Arthropoda পর্বের প্রাণী। এই পর্বের প্রাণীগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের সিলোম পাওয়া যায়। নিচে এটি ব্যাখ্যা করা হলো-
প্রাণিদেহে এক ধরনের বিশেষ গহ্বর লক্ষ করা যায়, যা সিলোম নামে পরিচিত। বিভিন্ন পর্বের প্রাণীতে এই সিলোম একেক ধরনের হয়ে থাকে। Platyhelminthes পর্বের প্রাণীদের দেহে সিলোমের পরিবর্তে ভূণীয় পরিস্ফুটনের সময় অন্তঃস্থ ফাঁকা স্থানটি মেসোডার্মাল স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা পূর্ণ থাকে। তাই এই পর্বের প্রাণীদের অ্যাসিলোমেট বলা হয়। আবার Nematoda পর্বের প্রাণীদের দেহে যে ধরনের সিলোম দেখা যায় সেটি হচ্ছে স্যুডোসিলোমেট। এক্ষেত্রে এই পর্বের প্রাণীদের ভূণীয় পস্ফুিটনের সময় অন্তঃস্থ ফাঁকা স্থানটিকে ঘিরে কখনো কখনো মেসোডার্মাল কোষস্তর অবস্থান করে। কিন্তু কোষগুলো কখনো পেরিটোনিয়াম সৃষ্টি করে ব্লাস্টোসিলকে সম্পূর্ণ বেষ্টন করে না। Arthropoda পর্বের প্রাণীরা আবার ইউসিলোমেট বা প্রকৃত সিলোমযুক্ত হয়। এক্ষেত্রে এপিথেলিয়াল কোষে গঠিত পেরিটোনিয়াম স্তরে মেসোডার্ম থেকে উদ্ভূত সিলোম সম্পূর্ণরূপে বেষ্টিত থাকে।
তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের X ; Y ও Z চিহ্নিত পর্বের প্রাণীতে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের সিলোম পাওয়া যায়।
উদ্দীপকের Y চিহ্নিত প্রাণীটি হচ্ছে Ascaris lumbricoides এবং Z চিহ্নিত প্রাণীটি হচ্ছে Periplaneta americana যা যথাক্রমে Nematoda ও Arthropoda পর্বের অন্তর্ভুক্ত। এই দুইটি পর্বের মধ্যে Arthropoda পর্বের প্রাণীরা অধিক উন্নত। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
Nematoda পর্বের প্রাণীদের দেহ অখণ্ডকায়িত ও অপ্রকৃত সিলোমবিশিষ্ট কিন্তু Arthropoda পর্বের প্রাণীদের দেহ খণ্ডকায়িত; সুনির্দিষ্ট অঞ্চলায়নবিশিষ্ট এবং প্রকৃত সিলোমবিশিষ্ট। Nematoda পর্বের প্রাণীদের মুখছিদ্র বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ওষ্ঠ দ্বারা পরিবৃত্ত থাকে। কিন্তু Arthropoda পর্বের প্রাণীদের মুখছিদ্র রূপান্তরিত্ জটিল প্রকৃতির মুখোপাঙ্গ দ্বারা পরিবৃত্ত থাকে যা তাদের খাদ্যগ্রহণের সাথে অভিযোজিত। আবার Nematoda পর্বের প্রাণীদের দেহে কোনো শ্বসনতন্ত্র ও সংবহনতন্ত্র নেই। কিন্তু এদের তুলনায় Arthropoda পর্বের প্রাণীদের রক্ত সংবহনতন্ত্র উপস্থিত যা মুক্ত প্রকৃতির এবং হৃৎপিন্ড, ধমনি ও হিমোসিল নিয়ে গঠিত। ট্রাকিয়া, ফুলকা ও বুকলাং এর মাধ্যমে শ্বসন সম্পন্ন করে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো Arthropoda-কে Nematoda-র চেয়ে উন্নত হওয়াকে নির্দেশ করে।
অর্থাৎ উপরের উল্লিখিত বৈশিষ্ট্য থেকে এটি সহজেই বোঝা যায় যে, উন্নত গঠন এবং বিভিন্ন অঙ্গের উপস্থিতির কারণে Arthropoda পর্বের: প্রাণীরা Nematoda পর্বের প্রাণীদের থেকে অধিক উন্নত।
নেফ্রিডিয়া হলো এক ধরনের প্যাঁচানো নালিকা যা Annelida পর্বের প্রাণীদের প্রধান রেচন অঙ্গ।
Diploblastic বা দ্বিস্তরী এবং Triploblastic বা ত্রিস্তরী প্রাণীর মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ-
| দ্বিস্তরী প্রাণী | ত্রিস্তরী প্রাণী |
| i. এদের দেহের কোষগুলো এক্টোডার্ম ও এন্ডোর্ডাম নামক দুটি স্তরে বিন্যস্ত থাকে। | i. এদের দেহের কোষগুলো এক্টোডার্ম, মেসোডার্ম ও এন্ডোডার্ম নামক তিনটি স্তরে বিন্যস্ত থাকে। |
| ii. এদের এক্টোডার্ম ও এন্ডোডার্মের মাঝখানে মেসোগ্লিয়া নামক অকোষীয় স্তর থাকে। | ii. মেসোগ্লিয়া নেই। |
| iii. কোষগুলো টিস্যু বা অঙ্গ গঠন করতে পারে না। | iii. ভূণস্তরের কোষগুলো বিভিন্ন টিস্যু, অঙ্গ ও অঙ্গতন্ত্র গঠন করে। |
উদ্দীপকে B হলো সমুদ্র তারা যা Echinodermata পর্বের প্রাণী। এ পর্বের সকল প্রাণীই সামুদ্রিক। নিচে এ পর্বের বৈশিষ্ট্যগুলো দেওয়া হলো-
১. এ পর্বের প্রাণীরা লার্ভা দশায় দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম হলেও পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় অখণ্ডায়িত ও অরীয় প্রতিসম।
২. ত্বক কাঁটাময়, স্পাইন ও পেডিসিলিয়ার নামের বহিঃকঙ্কাল যুক্ত।
৩. শ্বসন, চলন ও খাদ্য সংগ্রহের জন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত পানি সংবহনতন্ত্র বিদ্যমান।,
৪. এরা নালিকাস্পদের সাহায্যে চলন সম্পন্ন করে।
৫. রক্ত সংবহনতন্ত্র ও রেচনতন্ত্র অনুপস্থিত।
৬. এরা একলিঙ্গিক, নিষেক বাহ্যিক ও জীবনচক্রে মুক্ত সাঁতারু লার্ভা বিদ্যমান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!