ফসল পর্যায় হলো কোনো জমিতে প্রতি বছর একই ফসল চাষ না করে প্রতি বছর ভিন্ন ভিন্ন ফসল চাষ করার পরিকল্পনা।
পল্লীর ভূমিহীন ও স্বল্পবিত্ত বা দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে উৎপাদন ধারায় আনয়ন করতে জামানতবিহীন যে স্বল্প পরিমাণ অর্থ ঋণ হিসেবে প্রদান করা হয়, তাই ক্ষুদ্রঋণ।
বিভিন্ন কারণে ক্ষুদ্রঋণের প্রয়োজন আছে। যেমন- মহাজনদের শোষণ হতে দরিদ্র মানুষকে রক্ষা করা। বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। স্বল্প আয়, স্বল্প সঞ্চয়, স্বল্প বিনিয়োগভিত্তিক বহু পুরোনো দুষ্ট চক্রকে ভেঙ্গে দিয়ে বিনিয়োগের মাধ্যমে অল্প আয়, নতুন বিনিয়োগ, নতুন ঋণ, অধিক আয়ভিত্তিক একটি বিকাশমান অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া আরম্ভ করতে ক্ষুদ্রঋনের প্রয়োজন।
রংপুরের কৃষকেরা সমবায় অধিদপ্তরের পরামর্শ মতো কৃষি সমবায় গঠন করে সুফল পায়। এ সংগঠনের মাধ্যমে তারা ঋণ ও পুঁজি সংগ্রহ করে তাদের প্রয়োজনীয় উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা পরিচালনা করে।
কৃষকের দারিদ্র্যতা, মূলধনের অভাব, খন্ড জমি, কৃষি উপকরণের অধিক দাম, অত্যাধিক উৎপাদন খরচ, কৃষি পণ্যের ন্যায্য দাম না পাওয়া, সেচের অভাব, জলবায়ু পরিবর্তন, উন্নত যন্ত্রপাতির অভাব, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগবালাই, সংরক্ষণের অভাব, বাজারজাতকরণ সমস্যা ও ঝুঁকিসহ বিভিন্ন কারণে কৃষি উৎপাদন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়। এসব সমস্যা একার পক্ষে সমাধান সম্ভব নয়। এসব সমস্যা কৃষি সমবায়ের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। তাই রংপুরের কৃষকরা কৃষি সমবায় গঠন করলেন। কৃষি সমবায় গঠন করার ফলে সদস্যদের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে বড় আকারের পুঁজি গঠন করলেন। এখান থেকে স্বল্প সুদে বা বিনা সুদে ঋণ নিয়ে কৃষি প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ সংগ্রহ করলেন। ফলে কৃষকদের এনজিও কিংবা মহাজনদের বেশি সুদের ঋণের বোঝা টানতে হলো না। এছাড়াও বীজ, সার, পশুপাখির খাদ্য, মাছের খাদ্য, কীটনাশক, রোগ দমনে ওষুধ ইত্যাদি উপকরণ সমবায়ের মাধ্যমে উৎপাদন বা সরবরাহ করলেন।
এভাবে পরিকল্পনামাফিক সমবায় গঠন ও পরিচালনার মাধ্যমে কৃষকেরা তাদের অবস্থার পরিবর্তন করলেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শকৃত সংগঠনটি হলো কৃষি সমবায়। "কৃষি উন্নয়নে সমবায়ের ভূমিকা অপরিসীম।"
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি তথা কৃষি কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুরূপে পরিচালনার জন্য যে সমবায় সমিতি করা হয় তাকে কৃষি সমবায় বলে। আমাদের দেশের কৃষকরা খুব দরিদ্র। কৃষিপণ্য উৎপাদনের জন্য বীজ, সার, সেচের পানি, জ্বালানী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রচুর টাকা খরচ হয়। এছাড়া কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও প্রক্রিয়াজাত খাতেও প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। আবার উৎপাদিত কৃষি পণ্যের দাম কম হলে কৃষকরা মূলধন ফিরে পায় না। পরবর্তী কৃষিপণ্য উৎপাদনের সময় কৃষকদের আর্থিক সংকট থাকে চরমে, ফলে কৃষিপণ্য ক্রয়সহ উৎপাদন কর্মকাণ্ড, পরিচালনা বাধাগ্রস্ত হয়। কৃষকের একার পক্ষে এসব সমাধান করা সম্ভব নয়। কিন্তু সমবায় গঠনের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। সমবায়ের সদস্যদের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে বড় আকারের পুঁজি গঠন করে উপকরণ সংগ্রহ এবং উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষিতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ও কারিগরি ক্ষেত্রে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন সম্ভব হয়। সমবায়ের মাধ্যমে খণ্ড খন্ড জমিগুলোকে একত্রিত করে যৌথভাবে উৎপাদন করার মাধ্যমে ফলন বৃদ্ধি করা যায়। সমবায়ের মাধ্যমেই একমাত্র গ্রামীণ যোগাযোগ, উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্য ও বিদ্যুৎ সুবিধা সৃষ্টি করা সম্ভব। তাছাড়া, রেজিস্ট্রিকৃত কৃষি সমবায় হলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ দিতে আগ্রহী হয়।
অতএব বলা যায়, কৃষকরা কৃষি সমবায় সমিতির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হতে সহজেই কৃষিঋণ লাভ করে, যা বিভিন্ন উপকরণ ক্রয়, ভূমিতে স্থায়ী উন্নতি সাধন, পণ্যের সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন ইত্যাদি কাজে সহায়তা করে।
Related Question
View Allএকটি জমিতে এক বছরে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ফসল চাষের পরিকল্পনাই হলো ফসল বিন্যাস।
শস্য-পর্যায় হলো কোনো জমিতে প্রতি বছর একই ফসল চাষ না করে বছর ভিত্তিক নির্দিষ্ট কিছু ফসল ধারাবাহিকভাবে চাষ করা। একই জমিতে বার বার একই ফসলের চাষ করলে মাটিতে জৈব পদার্থের অভাব পরিলক্ষিত হয়। এতে মাটি অনুর্বর হয়ে যায়। শস্য- পর্যায় অবলম্বন করলে জমির পুষ্টি উপাদান পরিশোধণে সামঞ্জস্য থাকে। মাটিতে বায়বীয় নাইট্রোজেন যোগ হয়ে এর উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।
মাটির পানি ধারণক্ষমতা বাড়ে ও ভূমিক্ষয়ের পরিমাণ কমে যায়। তাছাড়া পোকা-মাকড়ের আক্রমণ হ্রাস পেয়ে ফসলের মান ও ফলন বৃদ্ধি পায়। তাই ফসলের জমিতে শস্য পর্যায় অবলম্বন করা হয়।
উদ্দীপকে কৃষকদের সমবায়ের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে কৃষি ঋণ নিয়ে ফসল চাষের কথা বলা হয়েছে।
ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষি কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করার জন্যে যে সকল ব্যক্তি, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান থেকে কৃষক মূলধন সংগ্রহ করে থাকে সেগুলোই কৃষি ঋণের উৎস। কৃষি ঋণের উৎস দুই ধরনের। যেমন- প্রাতিষ্ঠানিক উৎস ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস। প্রাতিষ্ঠানিক উৎসের মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, সমবায় ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, ভূমি বন্ধকী ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিলে কৃষকের প্রতারিত হবার সম্ভাবনা কম থাকে। কৃষক তার চাহিদা মাফিক ঋণ পেতে পারে। অনেক সময় কোনো বন্ধকীও দেওয়া লাগে না। দুর্যোগকালীন সময়ে বিশেষ সুবিধা বা কম সুদে ঋণ পাওয়া যায়। তবে কিছু সমস্যাও রয়েছে। যেমন- অনেক কৃষকের বন্ধকী দেওয়ার মতো জমি বা অন্যান্য স্থায়ী সম্পদও থাকে না। এ উৎসের ঋণ নেবার ক্ষেত্রে দালালদের দ্বারা প্রতারিত হবার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি দালালেরাও সংস্থা দ্বারা অনেক' সময় প্রতারিত হতে পারে। এই ঋণ নিতে প্রচুর আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে। যার কারনে অনেক সময় ঋণ পেতে দেরি হয়। কৃষি ঋণের অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎসের মধ্যে রয়েছে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব, দালাল ও ব্যাপারী, গ্রাম্য মহাজন, গ্রাম্য ব্যবসায়ী ও দোকানদার, ধনী কৃষক ইত্যাদি। এই ঋণ পেতে জামানত লাগে না এবং অতি দ্রুত টাকা হাতে পাওয়া যায়। প্রাতিষ্ঠানিক উৎসের তুলনায় এই ঋণে সুদের হার কম থাকে বলে বর্তমানে এর চাহিদা বেশি। এই ধরনের ঋণেরও বেশ কিছু অসুবিধা রয়েছে। যেমন- সুদের হার বেশি, স্বল্পমেয়াদি এবং ঋণ পরিশোধে কিস্তি সুবিধা কম। ঋণগ্রহীতা অনেক সময় তার সর্বস্ব হারায়। উল্লিখিত প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উভয় উৎস থেকে কৃষক ঋণ নিতে পারে।
উদ্দীপকের সংগঠনটি হলো কৃষি সমবায়। কৃষি উন্নয়নে কৃষি সমবায়ের ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো- কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি তথা কৃষি কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুরূপে পরিচালনার জন্য যে সমবায় সমিতি করা হয় তাকে কৃষি সমবায় বলে। আমাদের দেশের কৃষকরা খুব দরিদ্র। কৃষিপণ্য উৎপাদনের জন্য বীজ, সার, সেচের পানি, জ্বালানী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রচুর টাকা খরচ হয়। এছাড়া কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও প্রক্রিয়াজাত খাতেও প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। আবার উৎপাদিত কৃষি পণ্যের দাম কম হলে কৃষকরা মূলধন ফিরে পায় না। পরবর্তী কৃষিপণ্য উৎপাদনের সময় কৃষকদের আর্থিক সংকট থাকে চরমে, ফলে কৃষিপণ্য ক্রয়সহ উৎপাদন কর্মকাণ্ড, পরিচালনা বাধাগ্রস্ত হয়।
এসকল কৃষকের একার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। কিন্তু সমবায় গঠনের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। সমবায়ের সদস্যদের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে বড় আকারের পুঁজি গঠন করে উপকরণ সংগ্রহ এবং উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষিতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ও কারিগরি ক্ষেত্রে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন সম্ভব হয়। সমবায়ের মাধ্যমে খন্ড খন্ড জমিগুলোকে একত্রিত করে যৌথভাবে উৎপাদন করার মাধ্যমে ফলন বৃদ্ধি করা যায়। সমবায়ের মাধ্যমেই একমাত্র গ্রামীণ যোগাযোগ, উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্য ও বিদ্যুৎ সুবিধা সৃষ্টি করা সম্ভব। তাছাড়া, রেজিস্ট্রিকৃত কৃষি সমবায় হলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ দিতে আগ্রহী হয়। অতএব বলা যায়, কৃষকরা কৃষি সমবায় সমিতির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হতে সহজেই কৃষিঋণ লাভ করে, যা বিভিন্ন উপকরণ ক্রয়, ভূমিতে স্থায়ী উন্নতি সাধন, পণ্যের সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন ইত্যাদি কাজে সহায়তা করে।
যে প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে উৎপাদিত কৃষি পণ্য কৃষক বা উৎপাদকের কাছ থেকে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছায় তাকেই বলে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ।
পল্লির ভূমিহীন, স্বল্পবিত্ত বা দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে উৎপাদন ধারায় আনতে জামানতবিহীন অল্প পরিমাণ যে ঋণ দেওয়া হয় তাকে ক্ষুদ্রঋণ বলা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে এনজিও থেকে সহজে ক্ষুদ্রঋণ পাওয়া যায়। যেমন- গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক, আশা প্রভৃতি। ক্ষুদ্রঋণ অনেকগুলো কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য। এনজিওগুলো প্রথমে গ্রুপ/সংগঠন তৈরি করে এবং পরবর্তীতে গ্রুপের সদস্যদের চাহিদার ভিত্তিতে ঋণ প্রদান করে থাকে। গ্রুপ বা দল ঋণ পরিশোধের নিশ্চয়তা প্রদান করে। ক্ষুদ্রঋণ ব্যবহার করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের দারিদ্র্য বিমোচনে সক্ষম হচ্ছে। কাজেই, জামানতবিহীন, সহজলভ্য ও স্বল্প সময়ে পাওয়া যায় এবং ঋণের সদ্ব্যবহার ও আদায় নিশ্চিত করা হয় বলে ক্ষুদ্রঋণ জনপ্রিয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!