পাহাড়ের মাটি ধসে পড়াকে ভূমিধস বলে।
পরিবেশ দূষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ বন উজাড়করণ। ব্যাপকহারে বন উজাড়করণের ফলে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গেছে। ফলে বায়ুমণ্ডলে ওজোন স্তর ক্ষয়কারী সিএফসি গ্যাস অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অতিবেগুনি রশ্মি প্রবেশ করে পরিবেশকে করে ভারসাম্যহীন। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে জনজীবন হয় বিপর্যস্ত।
উদ্দীপকের প্রথম অংশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভূমিকম্পের ইঙ্গিত রয়েছে।
নাতাশা চেয়ারে বসে পড়ছিল। হঠাৎ তার মনে হলো তার মাথা ঘুরছে। সে দুলছে। তার পড়ার টেবিলটিও দুলছে। টেবিল থেকে জিনিসপত্র গড়িয়ে পড়ে যাচ্ছে। এ বিষয়টি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভূমিকম্পকে নির্দেশ করছে। ভূমিকম্প সবচেয়ে অল্প সময়ে সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞ ঘটায়। ভূমিকম্পের ব্যাপারে কোনো আগাম সতর্ক সংকেত দেওয়া সম্ভব নয়। ভূমিকম্পের সময় কিছু বুঝে উঠার আগেই একটি বা কয়েকটি ঝাঁকুনিতে পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। "একই স্থানে সাধারণত পর পর কয়েকবার বড়, মাঝারি ও মৃদু ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে। ইরান, চীন, মেক্সিকো, চিলি ও জাপানের ভূমিকম্পে আমরা তার প্রমাণ পেয়েছি। বাংলাদেশ ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা, সিলেট, রংপুর ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে 'এই ঝুঁকি বেশি। চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে ইদানীং প্রায়ই মৃদু ভূমিকম্প হচ্ছে। ২০১১ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর সংগঠিত ভূমিকম্পটি ছিল বেশ প্রচণ্ড। এ ভূমিকম্পে সারা বাংলাদেশ কেঁপে উঠে। ভূমিকম্প প্রতিরোধের কোনো ব্যবস্থা এখনও মানুষের জানা নেই। তবে 'ভূমিকম্পের সময় আত্মরক্ষা এবং ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও ত্রাণকাজ 'সম্পর্কে জানলে ক্ষতির মাত্রা কমানো সম্ভব।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে সংঘটিত দুর্যোগটি সুনামি। আর সুনামি মানবজীবনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে।
সমুদ্রের তলদেশে প্রচণ্ড ভূমিকম্প বা অগ্ন্যুৎপাতের ফলে, কিংবা অন্য কোনো কারণে ভূআলোড়ন সৃষ্টি হলে বিস্তৃত এলাকাজুড়ে প্রবল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। এই সামুদ্রিক ঢেউয়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০০ থেকে ১৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই উপকূলের ঘরবাড়ি, দালান, রেলপথ, রাস্তাঘাট, বৈদ্যুতিক, যোগাযোগব্যবস্থা, বাণিজ্য কেন্দ্র প্রভৃতি ধ্বংস করে দেয়। এই ভয়ঙ্কর ঢেউ উপকূলের ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। যা মানবজীবনের উপর বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করে। যেমন- জাপানের সুনামির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তা বাতাস ও পানির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে যা মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি করে। উদ্দীপকের উল্লিখিত নাতাশা দেখল ৫ মিনিটের মধ্যে তাদের এলাকায় জলোচ্ছ্বাস দেখা দেয়। এর ফলে ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট সব ডুবে যায় এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সাধিত হয়। যা সুনামিকে নির্দেশ করে।
তাই বলা যায়, সুনামি মানবজীবনকে প্রভাবিত করে।
Related Question
View Allকোনো জায়গার গড় জলবায়ুর দীর্ঘমেয়াদি ও অর্থপূর্ণ পরিবর্তন যার ব্যাপ্তিকাল কয়েক যুগ থেকে কয়েক লক্ষ বছর পর্যন্ত হতে পারে, তাকে জলবায়ুর পরিবর্তন বলে। ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা উষ্ণায়নের কারণে সারা পৃথিবীতেই জলবায়ুর পরিবর্তন লক্ষ করা যায়।
জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে উষ্ণমণ্ডলীয় দেশে শুষ্ক মৌসুমে ফসলের উৎপাদন হ্রাস পায়। এছাড়া বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। শুষ্ক মৌসুমে অনাবৃষ্টি ও অত্যধিক খরা, শিলাবৃষ্টি, সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে। এছাড়া শীত মৌসুমে হঠাৎ শৈত্য ও উষ্ণ প্রবাহ এবং ঘন কুয়াশা লক্ষ করা যায়।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটনের কারণ। বাংলাদেশের জীবন ও অর্থনীতির ওপর এসব দুর্যোগের প্রভাব লক্ষ করা যায়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে কয়েকটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলো- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন প্রভৃতি।
বিজ্ঞানের বিস্ময়কর অগ্রগতির মাধ্যমে পৃথিবীর মানুষ একদিকে যেমন তার জীবনকে করেছে সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় অন্যদিকে তেমনি পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশকে করেছে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভারসাম্যহীন। জনসংখ্যার বিস্ফোরণ, বৃক্ষনিধন ও ইঞ্জিনচালিত যানবাহনসহ বড়ো বড়ো শিল্প-কারখানার কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে সৃষ্টি হয় নানা সমস্যার। এসবের ফলে পৃথিবীতে তাপমাত্রা বাড়ছে। একেই বলা হয় বৈশ্বিক উষ্ণায়ন।
বৈশ্বিক সমস্যাগুলোর একটি হলো 'গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া'। এটি একটি জটিল সমস্যা। গ্রিনহাউস মূলত কতকগুলো গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত একটি আচ্ছাদন। গ্রিনহাউস গ্যাসকে তাপ বৃদ্ধিকারক গ্যাসও বলে। এই গ্যাস পৃথিবীর চারপাশে বায়ুমন্ডলে চাদরের মতো আচ্ছাদন তৈরি করে আছে।
গ্রিনহাউস গ্যাস পৃথিবীকে ঘিরে চাদরের মতো একটি আচ্ছাদন তৈরি করেছে। সূর্যের তাপ এই চাদর শোষণ করে এবং তা পৃথিবীপৃষ্ঠে ছড়িয়ে দেয়। পৃথিবীপৃষ্ঠ দ্বারা গৃহীত এ তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবে রাতের বেলা প্রতিফলিত হয়ে, মহাশূন্যে মিলিয়ে যায় এবং এভাবেই পৃথিবী ঠান্ডা হয়। কিন্তু বায়ুমণ্ডলে নির্দিষ্ট কিছু গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিফলিত তাপ সম্পূর্ণভাবে মহাশূন্যে মিলিয়ে 'না যেয়ে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!