হিজরি দ্বাদশ সালে ইয়ামামার যুদ্ধে ৭০ জন হাফিযে কুরআন শহিদ হন।
আরবি 'জামে' শব্দের অর্থ একত্রকারী বা সংকলক। সুতরাং 'জামিউল কুরআন' মানে কুরআনের সংকলনকারী। ইসলামি খিলাফতের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.) পবিত্র কুরআন সংকলনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় তাঁর এ গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মুসলিম উম্মাহ তাঁকে 'জামিউল কুরআন' তথা কুরআন সংকলনকারী উপাধি প্রদান করেন।
আবু বকর (রা.)-এর খিলাফতকালে ইয়ামামার যুদ্ধে বহুসংখ্যক কুরআনের হাফিয শহিদ হন। তখন হযরত আবু বকর (রা.) হযরত উমার (রা.)-এর পরামর্শে প্রধান ওহী লেখক হযরত যায়দ ইবনু সাবিত (রা.)-কে কুরআন মজিদ গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেন। কুরআন সংকলনে হযরত আবু বকর (রা.) এ অবদান না রাখলে কুরআনের হাফিযদের মৃত্যুর পর হয়তো পবিত্র কুরআনের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ত।
অন্যদিকে, হযরত উসমান (রা.)-এর সময়ে আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে আঞ্চলিক ভাষায় কুরআনের পঠন নিয়ে মারাত্মক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দেয়। এ অবস্থায় হযরত উসমান (রা.) বিশিষ্ট সাহাবিগণের সাথে পরামর্শ করে যায়দ ইবনু সাবিত (রা.)-এর মাধ্যমে আবু বকর (রা.)-এর যুগে সংকলিত কুরআনের পান্ডুলিপিকে মূল ধরে কুর আনের আরও সাতটি পাণ্ডুলিপি তৈরি করেন এবং বিভিন্ন প্রদেশে পাঠিয়ে দেন। কুরআন সংকলনে তিনি এ অবদান না রাখলে বর্তমান সময়ে আমরা হয়তো পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন রূপ লক্ষ করতাম এবং এতে মুসলমানদের ঐক্য বিনষ্ট হতো।
হযরত আবু বকর (রা.)-এর যুগে কুরআন মজিদ সংরক্ষণ সম্বন্ধে নিচে বর্ণনা করা হলো-
১. যায়দ ইবনু সাবিতকে দায়িত্ব প্রদান: কুরআন মজিদ একত্রে সংকলনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে হযরত আবু বকর (রা.) বিশিষ্ট ওহী লেখক যায়দ ইবনু সাবিতকে সম্পাদনার দায়িত্ব প্রদান করেন।
২ পান্ডুলিপি সম্পাদনা: হযরত আবু বকর (রা.)-এর নির্দেশে যায়দ ইবনু সাবিত কুরআনের লিখিত পান্ডুলিপির বিচ্ছিন্ন অংশসমূহ সংগ্রহ করেন এবং হাফিযদের সহযোগিতায় পান্ডুলিপি প্রস্তুত করেন।
৩. পান্ডুলিপি সংরক্ষণ যায়দ ইবনু সাবিত কর্তৃক পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করার পর হযরত আবু বকর (রা.) কুরআন মজিদ সংরক্ষণ করেন। তাঁর ইন্তিকালের পর হযরত উমর (রা.) কুরআন মজিদ সংরক্ষণ করেন। হযরত উমর (রা.)-এর ইন্তিকালের পর রাসুল (স.)-এর স্ত্রী বিবি হাফসার নিকট সংরক্ষিত থাকে।
উপরিউক্ত পদ্ধতিতে মহানবি (স.) ও হযরত আবু বকর (রা.)-এর
যুগে কুরআন মজিদ সংরক্ষণ করা হয়। কুরআন মজিদ-এর বিশুদ্ধতা মহাপ্রলয়ের দিন পর্যন্ত অটুট থাকবে। কেননা আল্লাহ নিজেই বলেছেন, "আমি কুরআন নাযিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।"
Related Question
View Allআরবি হরফ উচ্চারণের স্থানকে মাখরাজ বলে।
পবিত্র কুরআন মুখস্থ তিলাওয়াত করা যায়। আবার দেখেও পাঠ করা যায়। দেখে দেখে তিলাওয়াত করাকে নাযিরা তিলাওয়াত বলে। নাযিরা তিলাওয়াত একটি উত্তম ইবাদত। আল্লাহ তায়ালা এরূপ তিলাওয়াতকারীকে আখিরাতে অত্যধিক সম্মান ও মর্যাদা দান করবেন।
নাবিহা দ্বিতীয় পর্যায়ে فِيهَا )ফিহা) তিলাওয়াতের সময়ে ও বর্ণ এবং বর্ণ (তাজবিদ অনুযায়ী) সঠিক নিয়মে পড়েনি। এখানে নাবিহা মাদ্দ-এর নিয়ম অমান্য করেছে।
আমরা জানি, মাদ্দের হরফ মোট তিনটি- আলিফ, ওয়াও, ইয়া )۱...ي( এ তিনটি হরফ নিম্নলিখিত অবস্থায় মাদ্দের হরফ হিসেবে উচ্চারিত হয়-
১.। (আলিফ) এর পূর্বের হরফে যবর থাকলে। যেমন-
২. , (ওয়াও) এর ওপর জযম এবং তার ডান পাশের হরফে পেশ থাকলে। যেমন-
৩. ৬ (ইয়া) এর ওপর জযম এবং এর ডান পাশের অক্ষরে যের থাকলে। যেমন-
উপরিউক্ত তিনটি অবস্থায় ডু...। মাদ্দের হরফ হিসেবে গণ্য হয়। ফলে এর পূর্বের অক্ষর একটু দীর্ঘ করে পড়তে হয়। সুতরাং নাবিহা দ্বিতীয় পর্যায়ে তাজবিদের মাদ্দের বিষয়টি ত্যাগ করেছে।
উদ্দীপকে নারিহাকে তার বাবা নির্ভুল তিলাওয়াতের প্রতি তাগিদ দিয়েছেন।
আমরা জানি, কুরআন তিলাওয়াত সর্বশ্রেষ্ঠ নফল ইবাদত। কুরআন তিলাওয়াতে ফজিলত অপরিসীম। কুরআন তিলাওয়াতের এসব ফজিলত লাড করা যায় শুদ্ধ ও সুন্দরভাবে তিলাওয়াতের মাধ্যমে। এজন্য তাজবিদ অনুযায়ী কুরআন তিলাওয়াত করা অত্যন্ত জরুরি। তাজবিদ সহকারে কুরআন পড়া আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ। তিনি বলেছেন-
وَرَيْلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا অর্থ : আপনি কুরআন আবৃত্তি করুন ধীরে ধীরে ও
সুস্পষ্টভাবে। (সূরা মুয্যাম্মিল: ৪)
তাজবিদ না জেনে কুরআন পাঠ করলে তা শুদ্ধ হয় না। আর কুরআন পাঠ শুদ্ধ না হলে নামায সঠিকভাবে আদায় হয় না। এরূপ তিলাওয়াতকারী কোনো সওয়াবও লাভ করবে না।
সুতরাং বলা যায়, মাওলানা আহমাদ সাহেব তার মেয়ে নাবিহাকে যে বিষয়টি তাগিদ দিয়েছেন, সেটি হচ্ছে তাজবিদ অনুসরণ। কাজেই নাবিহা তাজবিদ মেনে শুদ্ধ ও সুন্দরভাবে কুরআন পাঠ করবে। আর এজন্য প্রথমেই তাজবিদ শিক্ষা করবে। এরপর কুরআন পাঠের সময় এ নিয়মগুলোর অনুশীলন করবে।.
বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থকে একত্রে সিহাহ সিত্তাহ বলা হয়।
আমাদের সমাজে ধনী-গরিব, সাদা-কালো, সুস্থ-অসুস্থ, হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবরকমের লোকদের নিয়েই আমাদের সমাজ। সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। সকলের মধ্যে = ঐক্য ও সহযোগিতা না থাকলে কোনো সমাজ উন্নতি লাভ করতে - পারে না। আর এর জন্য প্রয়োজন মানুষের প্রতি প্রীতি, দয়া-মায়া, ভালোবাসা। আর এটাই মানবপ্রেম, যা মহৎ গুণ হিসেবে বিবেচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!