এ বিশ্ব প্রকৃতির স্রষ্টা একমাত্র আল্লাহ।
আমাদের মাথার উপর বিশাল আকাশ। তাতে আছে গ্রহ, নক্ষত্র, চন্দ্র ও সূর্য। আবার আমরা যে পৃথিবীতে বাস করছি তাও কত সুন্দর। এতে আছে নদীনালা, সাগর-মহাসাগর, পাহাড়-পর্বত ও বনজঙ্গল। আরও আছে নানারকম জীবজন্তু, আছে ফল, ফুল, ফসল এসব নিজে নিজে সৃষ্টি হয় নি। নিশ্চয়ই এসবেরও সৃষ্টিকর্তা আছেন, যিনি অত্যন্ত নিপুণভাবে এসব সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি হলেন আল্লাহ।
আমরা দেখি, আমাদের চারপাশে কত রকমের গাছপালা, গাছে গাছে নানারকমের ফল, অনেক রকমের সুরভিত ফুল। মাঠে দেখি চোখ জুড়ানো সবুজ ধানের খেত। পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে ছোটবড় নদনদী। খালবিলে আছে পানি।
আমাদের মাথার উপরে নীল আকাশ। এতে রয়েছে চন্দ্র, সূর্য, অসংখ্য তারা, গ্রহ ও উপগ্রহ। প্রতিদিন সূর্য পূর্বদিকে ওঠে। দিন হয়। আবার দিন শেষে সূর্য পশ্চিম দিকে ডুবে যায়। রাত হয়। আকাশে চাঁদ ওঠে। মহাকাশ, বিশাল পৃথিবী, সাগর, মহাসাগর, চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র, জীবজন্তু এগুলোর দিকে মন দিয়ে তাকালে বোঝা যায় যে, এগুলো আপনা-আপনি তৈরি হয়নি। কোনো মানুষও এগুলো তৈরি করতে পারে না। এগুলো সৃষ্টি করেছেন মহাবিজ্ঞানী ও মহাশক্তির অধিকারী আল্লাহ তায়ালা।
পবিত্র কুরআনে আছে, "আকাশ ও পৃথিবী এবং দুয়ের মাঝে যা কিছু আছে সবই আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন।" (সূরা আস্ সাজদাহ : ৪) এসব সৃষ্টি সুনিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হওয়ার পিছনে অবশ্যই যথার্থ কারণ নিহিত। আর এর কারণ বিশ্বজগৎ একই স্রস্টার নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হলো তিনি কে? আমাদের বিবেকের উত্তর হলো তিনি মহান আল্লাহ। তিনি এক ও অদ্বিতীয়।
কত সুন্দর আমাদের পৃথিবী। আমাদের মাথার উপর বিশাল আকাশ। এতে রয়েছে চন্দ্র-সূর্য ও গ্রহ-নক্ষত্র। আছে কত ছায়াপথ ও নীহারিকাপুঞ্জ। সৃষ্টির সূচনা থেকে এগুলো একটি নির্ধারিত নিয়মে পরিচালিত হয়ে আসছে। এগুলোর মধ্যে নেই কোনো সংঘাত এবং সংঘর্ষ। পৃথিবীতে আছে নদীনালা, সাগর-মহাসাগর, পাহাড়-পর্বত। এগুলো একটি নিয়মের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। দিন-রাতের আবর্তন, গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান, কোনোকিছুতেই কোনো প্রকার অনিয়ম নেই। এতেই প্রমাণিত হয় যে, এ বিশাল সৃষ্টির এক মহাশক্তিশালী সৃষ্টিকর্তা ও নিয়ন্ত্রণকারী আছেন। একের অধিক সৃষ্টিকর্তা থাকলে এরূপ নিয়মশৃঙ্খলা থাকত না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "যদি পৃথিবী ও আকাশমণ্ডলীতে আল্লাহ ব্যতীত অন্যকোনো ইলাহ থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত।” (সূরা আম্বিয়া: ২২) বস্তুত নিখিল বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা যদি একের অধিক হতেন তবে মহাবিশ্বের চিরন্তন নিয়মে ব্যাঘাত ঘটত। এক রাজ্যের স্বত্বাধিকারী একাধিক বাদশাহ থাকলে সে রাজ্যে শান্তিশৃঙ্খলা ব্যাহত হওয়াটাই স্বাভাবিক। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তাঁর (আল্লাহর) সাথে কোনো ইলাহ নেই। যদি থাকত তবে প্রত্যেক ইলাহ স্বীয় সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং একে অপরের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করত।" (সূরা মু'মিনূন : ৯১)
Related Question
View Allকালিমা তাইয়্যিবার অর্থ হলো- আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসুল।
রিসালাত বলতে নবি রাসুলগণ যে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেসব দায়িত্বকে বোঝায়। রিসালাত শব্দের অর্থ বার্তা, খবর, চিঠি, সংবাদবহন প্রভৃতি। আল্লাহ তায়ালা নবি-রাসুলগণকে অনেক দায়িত্ব দিয়ে প্রেরণ করেছেন। যেমন, মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করা, সত্য দীন প্রচার করা, সত্য ও ন্যায়ের পথে চলা ইত্যাদি। নবি রাসুলগণের এসব দায়িত্বকেই রিসালাত বলা হয়।
মামার নিকট মেজবাহর প্রশ্নটি আকাইদের তাওহিদ বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
আল্লাহ তায়ালাই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও রিযিকদাতা। তিনি ব্যতীত ইবাদতের যোগ্য কেউ নেই। তিনিই হলেন একমাত্র ইলাহ। আল্লাহর প্রতি এরূপ বিশ্বাসকে তাওহিদ বলে।
মেজবাই তার মামার সাথে সুন্দরবন বেড়াতে যায়। সুন্দরবনের গাছগাছালি ও সমুদ্রতীরের মনোরম দৃশ্যাবলি তাকে মুগ্ধ করে। সে অবাক হয়ে তার মামার কাছে জানতে চায়- এসব কিছুর স্রষ্টা কে? জবাবে মামা তাকে বলেন, এসবকিছুর স্রষ্টা আল্লাহ তায়ালা। কারণ সুন্দরবনের গাছগাছালি কোনো মানুষ রোপণ করেনি। সাগর সৃষ্টি করাও মানুষের কাজ নয়। এগুলো প্রকৃতিরও সৃষ্টি নয়। বরং এসব কিছু আল্লাহ তায়ালা মানুষের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করেছেন। তিনি যখন কোনোকিছু সৃষ্টি করতে চান, তখন তিনি বলেন, 'কুন' (হয়ে যাও) তাৎক্ষণিকভাবে হয়ে যায়। আর এগুলো লালন পালনও তিনি করেন। যদি এসব কিছু সৃষ্টি ও লালন-পালনে একাধিক স্রষ্টা থাকত তাহলে প্রত্যেকে নিজ নিজ রাজত্ব নিয়ে পৃথক হয়ে যেত। অথবা রাজত্ব পরিচালনায় বিশৃঙ্খলা দেখা দিত। এ থেকে বোঝা যায়, স্রষ্টা একজন যা – তাওহিদকে প্রকাশ করে।
সুতরাং বলা যায়, মেজবাহর প্রশ্নটি আকাইদের তাওহিদ বিষয়ের বিষয়ের সাথে সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
মেজবাহর প্রশ্নের জবাবে তার মামা বলেছিল, এ পৃথিবীর সবকিছুই আল্লাহর সৃষ্টি। চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র এবং গাছগাছালি, জলপ্রপাত, সমুদ্রের জলরাশি সবই একজনের সৃষ্টি। মেজবাহর মামার এ উত্তরটি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত।
বস্তুত আল্লাহ তায়ালাই সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা ও নিয়ন্তা। মহাজগতের নিয়ম-শৃঙ্খলা তাঁরই দান। আর পশুপাখি, গাছপালাসহ সবকিছুর-নিয়ন্ত্রকও তিনি। তিনিই সবকিছু করেন। বরং তিনি যা ইচ্ছা করেন তা-ই হয়। এসব কিছুতে যদি একের বেশি নিয়ন্তা থাকত, তবে নানারকম বিশৃঙ্খলা দেখা দিত। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন-
لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةً إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا
অর্থ : 'যদি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে, আল্লাহ ব্যতীত বহু ইলাহ থাকত, তবে উভয়েই ধ্বংস হয়ে যেত।' (সূরা আল-আম্বিয়া: ২২)
একটু চিন্তা করলেই আমরা বিষয়টি বুঝতে পারব। যেমন মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা ও বিধানদাতা যদি একাধিক হতেন, তাহলে মহাজগৎ এত সুশৃঙ্খলভাবে চলত না। একজন স্রষ্টা চাইতেন সূর্য পূর্বদিকে উঠুক। আরেকজন চাইতেন পশ্চিম দিকে। আবার অন্যজন দক্ষিণ বা উত্তর দিকে সূর্যকে উদিত করতে চাইতেন। ফলে এক চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিত।
এমনিভাবে আম গাছে আম না হয়ে কোনো কোনো সময় কাঁঠাল, জাম ইত্যাদিও হতে পারত। এতে আমরা বেশ অসুবিধায় পড়তাম। বস্তুত একাধিক স্রষ্টা বা নিয়ন্ত্রক থাকলে বিশ্বজগতের সুন্দর সুশৃঙ্খল অবস্থা বিনষ্ট হয়ে যেত। আল-কুরআনের অন্য এক আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন-
وَمَا كَانَ مَعَهُ مِنْ إِلَهِ إِذًا لَذَهَبَ كُلُّ إِلَهُ بِمَا خَلَقَ وَلَعَلَا بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ
অর্থ : 'আর তাঁর (আল্লাহর) সাথে কোনো ইলাহ নেই। যদি তা থাকত, তবে প্রত্যেক ইলাহ নিজ নিজ সৃষ্টিকে নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং একে অপরের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করত।' (সূরা আল-মুমিনুন : ৯১)
উল্লিখিত আলোচনা হতে এটাই প্রমাণিত হয়, সব কিছুর স্রষ্টা ও নিয়ন্তা হলেন মহান আল্লাহ তায়ালা। এজন্য মেজবাহর মামার উত্তরটি সঠিক ও যৌক্তিক।
আখিরাত শব্দের অর্থ- পরকাল। মৃত্যুর পরবর্তী অনন্ত জীবনই হলো আখিরাত।
নৈতিকতা বলতে সুনীতির অনুশীলন করাকে বোঝায়, অর্থাৎ কথা ও কাজে উত্তম রীতিনীতির অনুশীলন করা, মার্জিত ও বিনয়ী হওয়া, উত্তম চরিত্রবান হওয়া ইত্যাদি। এর পাশাপাশি অন্যায় কাজ, অশ্লীল ও অশালীন কাজ, পাপাচার প্রভৃতি অসৎ চরিত্র পরিত্যাগ করাও নৈতিকতার অন্তর্ভুক্ত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!