সরস্বতী দেবী হচ্ছেন ঈশ্বরের বিদ্যা দানের শক্তি। এ দেবীর আরাধনার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যা লাভ করে সাফল্য অর্জন করতে পারে।
সরস্বতী দেবীর প্রণামমন্ত্র হচ্ছে-
সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে।
বিশ্বরূপে বিশালাক্ষি বিদ্যাং দেহি নমোহস্তু তেঃ
সরলার্থ: হে মহাভাগ সরস্বতী, বিদ্যাদেবী, কমলনয়না, বিশ্বরূপা, বিশালাক্ষী, আমাকে বিদ্যা দাও। তোমাকে নমষ্কার।
পূজার উদ্দেশ্য হচ্ছে ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করা, ঈশ্বরকে কাছে যাওয়া। দেবতার মধ্য দিয়েই সে ঈশ্বরের কাছে পৌছানো যায়। দেবতার মূর্তির মধ্যে তখন দেবতার শক্তির আবির্ভাব ঘটেছে এ বোধ জাগ্রত হয়। তখন ভক্ত তার কাছে আত্মসমর্পণ করে এবং বিভোর হয়ে থাকে ঈশ্বরের শক্তির ধ্যানে। তাই বলা হয়েছে, ঈশ্বর অদ্বিতীয়, নিরাকার ও জ্যোতির্ময়। ভক্তের হিতের জন্য তার রূপ কল্পনা হয়। তাই স্বামী বিবেকানন্দ প্রতিমা পূজা সম্পর্কে বলেছেন, পুতুল পূজা করে না হিন্দু, কাঠ মাটি দিয়ে গড়া মৃন্ময়ী মাঝে চিন্ময়ী হেরে হয়ে যাই আত্মহারা।'
প্রতিমা তৈরি করে তার সামনে বসে মন্ত্র পাঠ করাই পূজার উদ্দেশ্য নয়। পূজার উদ্দেশ্য সুদূরপ্রসারী। পরবর্তীতে তা এককত্বের রূপ নেয়। পূজা হিন্দুধর্মের বিশেষ আনুষ্ঠানিকতা বা আচরণগত দিককে প্রকাশ করে। পূজায় উপাসক ও উপাস্য অর্থাৎ ভক্ত ও দেবতা উভয়েরই আনন্দ হয়। এ আনন্দ আরও বেড়ে যায় যখন সকলে মিলে পূজা করা হয়। সকলে মিলে পূজা করার ফলে পূজা হয়ে ওঠে পার্বণ বা উৎসব। পূজা-পার্বণের মাধ্যমে সামাজিক মিলন ও কল্যাণ সৃষ্টি হয়। পূজার মন্দির, প্রতিমা, পূজার উপকরণ, ধূপের গন্ধ, আরতি, প্রদীপ, সাজসজ্জা, পোশাক ইত্যাদি সবকিছু মিলে সৃষ্টি হয় একটি পবিত্র পরিবেশ। সুন্দরতম ও পবিত্র পরিবেশে মন হয় পবিত্র ও সুন্দর, জাগ্রত হয় ভ্রাতৃত্ববোধ। এছাড়াও একাগ্রতা ও ভক্তি আসে এবং এ ভক্তিতে আসে মুক্তি। দেবতার মূর্তি তৈরির মধ্য দিয়ে শিল্পের বিকাশ ঘটে। এছাড়াও ধর্মীয় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও স্মরণিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনা ও কর্মকান্ডের বিকাশ ঘটে।
পূজা-পার্বণের মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি, কল্যাণকর মনোমুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ।। কারণ পূজায় সবাই আসে ও সবাইকে নিমন্ত্রণ করা হয়। এছাড়াও দেবতার পূজাকে উপলক্ষ করে ধর্মভাবও জাগ্রত হয়।
পূজা-পার্বণের মধ্য দিয়ে হিংসা-দ্বেষ এবং হানাহানি দূর হয়। সকলের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ জন্মে। তাই প্রচলিত পূজা-পার্বণ পদ্ধতি প্রচলন রাখা বাঞ্ছনীয়।
Related Question
View Allপূজা শব্দের অর্থ হচ্ছে প্রশংসা বা শ্রদ্ধা নিবেদন করা।
পূজা হচ্ছে প্রশংসা বা শ্রদ্ধা নিবেদন। আমাদের ভিতরে যে আত্মা আছে তাকে পবিত্র করা, মনকে সুন্দর করা এবং অভীষ্ট দেবতার প্রতি মনের একাগ্রতা ও ভক্তি জাগ্রত করতে আমরা পূজা করে থাকি।
দীপ্তর বাবা গণেশ দেবের পূজা করেন। নিচে গণেশ দেবের পূজা পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো-
দুর্গাপূজা ও বাসন্তী পূজার সময় এবং ভাদ্র ও মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী, তিথিতে বিশেষভাবে গণেশ দেবের পূজা করা হয়। এছাড়া যেকোনো পূজা করার আগে গণেশ দেবের পূজা করার রীতি রয়েছে। পূজা যথাযথভাবে সমাপ্ত করার জন্য পূজার উপকরণ না হয়ে করতেহয়। পূজা করার বিধিসমূহ অনুসরণ করতে হয়। গণেশ পূজায় তুলসীপত্র নিষিদ্ধ।
গণেশ দেবের প্রণামমন্ত্রটি হলো-
একদন্তং মহাকায়ং লম্বোদরং গজাননম্।
বিঘ্ননাশকরং দেবং হেরম্বং প্রণামাম্যহম্।
দীপ্ত তার বিদ্যায় সাফল্য অর্জনের জন্য প্রতিবছর প্রতিমা নির্মাণ করে দেবী সরস্বতীর আরাধনায় মত্ত হয়। আর তার বাবা ব্যবসায়ের সাফল্য কামনা এবং সকল বাধাবিঘ্ন দূর করার জন্য গণেশ দেবের পূজায় মত্ত হয়।
মানুষ সামাজিক জীব। সমাজবদ্ধভাবে বাস করাই মানুষের প্রকৃতি। ধর্ম সমাজকে সুসংঘটিত করে গড়ে তোলে। আধ্যাত্মিক ও আর্থসামাজিক দিক থেকে পূজা-পার্বণ যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে। পূজা পার্বণের মাধ্যমে সামাজিক মিলনের সৃষ্টি হয়। সকলে মিলে যখন পূজা করা হয় তখন পূজা হয়ে ওঠে পার্বণ বা উৎসবমুখর। প্রতিমা আনয়ন, পূজার উপকরণ সংগ্রহ, মন্দিরে পূজার সাজসজ্জা, ধূপের গন্ধ, আরতি, প্রসাদ বিতরণ, নতুন পোশাক পরিচ্ছদ পরিধান প্রভৃতি আমাদের মনে সুন্দর ও পবিত্র পরিবেশের সৃষ্টি করে। এর lov ফলে আমাদের মনে শুভ্রতা সৃষ্টি হয় এবং ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের ভাব acti আগ্রত হয়।
পার্বণ শব্দটির অর্থ হচ্ছে পর্ব বা উৎসব।
১১. মাঘ মাসের শুক্লাপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজা হয়ে থাকে, অন্যদিকে আশ্বিন মাসের শুক্লাপক্ষের পূর্ণিমা তিথিতে লক্ষ্মীপূজা হয়। ২. সরস্বতী দেবীর আরাধনা মূলত বিদ্যার আরাধনা অন্যদিকে লক্ষ্মীদেবীর আরাধনা হচ্ছে সম্পদের আরাধনা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
