জ্ঞানীয় দৃষ্টিভঙ্গি হলো আধুনিক মনোবিজ্ঞানের এমন একটি ধারা যার মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যার সৃজনশীল সমাধান করা হয়।
মানসিক প্রক্রিয়া মনোবিজ্ঞানের পরিধির অন্তর্গত। আধুনিক মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষ ও প্রাণীর আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মত পর্যালোচনাই হলো মনোবিজ্ঞান। মনোবিজ্ঞানের পরিধির মধ্যে মানসিক প্রক্রিয়া অন্যতম। এ ছাড়াও রয়েছে আচরণ, জৈব-সামাজিক প্রক্রিয়া।
মানুষের দৈনন্দিন জীবনে মানসিক কার্যকলাপের প্রভাব অপরিসীম। মানসিক প্রক্রিয়া বলতে আবেগ, চিন্তন, স্বপ্ন, বিশ্বাস, প্রেষণা, স্মৃতি, প্রত্যক্ষণ প্রভৃতিকে বোঝায়।
প্রফেসর জোহা স্যারের আলোচিত বিজ্ঞানটি হলো মনোবিজ্ঞান।
মনোবিজ্ঞানের ইংরেজি প্রতিশব্দ Psychology। গ্রিক শব্দ Psyche এবং Logos থেকে Psychology শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। Psyche শব্দের অর্থ আত্মা এবং Logos শব্দের অর্থ জ্ঞান বা বিজ্ঞান। এ দুটির সমন্বয়ে গঠিত Psychology শব্দের আক্ষরিক অর্থ আত্মা সম্বন্ধীয় বিজ্ঞান। কিন্তু আত্মা অতীন্দ্রিয় বস্তু। তাই পরবর্তীতে আত্মাকে বাদ দিয়ে মনকে করা হয় মনোবিজ্ঞানের মূল বিষয়। তখন মনোবিজ্ঞানকে মন সম্বন্ধীয় বিজ্ঞান হিসেবে বিবেচনা করা হতো। মর্গান কিং, ওয়াইজ এবং স্কোপলার-এর মতে, “মনোবিজ্ঞান হলো মানুষ ও প্রাণীর আচরণ সম্বন্ধীয় বিজ্ঞান এবং এটি মানুষের সমস্যায় এ বিজ্ঞানের প্রয়োগকে অন্তর্ভুক্ত করে।”
ক্লাইডার এবং তাঁর সঙ্গীদের মতে, "মনোবিজ্ঞানকে আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়ার বিজ্ঞানসম্মত অনুধ্যান হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে।"
উদ্দীপকে আলোচিত বিজ্ঞান মানুষের আচরণ ও এর শারীরবৃত্তীয় ও জ্ঞানগত প্রক্রিয়াসমূহ অনুধ্যান করে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে। তাই উক্ত বিষয়টিই মনোবিজ্ঞান তা বলা যায়।
উদ্দীপকের অনিকের পঠিত বিষয়টির পরিধির অন্যতম উপাদান হলো 'মানুষ ও প্রাণীর আচরণ' নিয়ে আলোচনা।
আচরণ হলো বাহ্যিক বস্তুর সঙ্গে ইন্দ্রিয়ের সংযোগ ঘটলে স্নায়ুতন্ত্র উদ্দীপিত হয় এবং প্রাণী তার প্রতি বাহ্যিক ক্রিয়ার মাধ্যমে সাড়া দেওয়া।
আচরণকে বিভিন্নভাবে ভাগ করা যেতে পারে। যেমন- ১. সামগ্রিক বা খণ্ডিত আচরণ, ২. ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক আচরণ এবং ৩. বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ আচরণ। সামগ্রিক আচরণের ক্ষেত্রে একটি পূর্ণাঙ্গ আচরণকে বিশ্লেষণের একক হিসেবে ধরা হয়। আর খণ্ডিত আচরণের ক্ষেত্রে আচরণকে ছোট ছোট ভাগে বিশ্লেষণ করা হয়। আবার ব্যক্তির ঐচ্ছিক আচরণ হলো সেসব আচরণ যেগুলো ব্যক্তির ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু ব্যক্তির যেসব আচরণ তার ঐচ্ছিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে সেসব আচরণকে অনৈচ্ছিক আচরণ বলে। ব্যক্তির যে সকল আচরণ বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ করা যায় বাহ্যিক আচরণ বলে।
আবার যে সকল আচরণ তাকে বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ করা যায় না সেগুলোকে অভ্যন্তরীণ আচরণ বলে।
মনোবিজ্ঞানীরা মূলত মানুষের আচরণ ও মানসিক কার্যকলাপ নিয়ে অনুধ্যান করেন। যে সকল ক্ষেত্রে মানুষের ওপর পরীক্ষণ করা সম্ভব হয় না, বরং ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে সে সকল ক্ষেত্রে নিম্নতর প্রাণী যেমন-ইঁদুর, বিড়াল, কবুতর প্রভৃতির ওপর পরীক্ষণ পরিচালনা করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেই জন্য মানুষ ও প্রাণীর আচরণ মনোবিজ্ঞানের আলোচনার বিষয়।
Related Question
View Allমনোবিজ্ঞান হলো আচরণ ও অভিজ্ঞতার বিজ্ঞানসম্মত অনুধ্যান এবং মানুষের সমস্যায় সেই জ্ঞানের প্রয়োগ।
সমাজ মনোবিজ্ঞানের জ্ঞানকে বাস্তবজীবনে কাজে লাগিয়ে মানুষ সমাজে খাপ-খাইয়ে চলতে শেখে। সামাজিক জীব হিসেবে মানুষকে সমাজে বসবাস উপযোগী আচরণ করতে হয়। সমাজ মনোবিজ্ঞানী ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, ব্যক্তির সাথে দলের এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সমাজের মানুষের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে। সমাজের প্রচলিত রীতি-নীতি, আচার-অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক রীতি পদ্ধতি কীভাবে জীবনে প্রয়োগ করে সুন্দর সমাজ গঠন করা যায় তা মনোবিজ্ঞানের আলোচনা থেকে জানা যায়। আর মনোবিজ্ঞানের এই জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে মানুষ সমাজে খাপ-খাইয়ে চলতে শিখে।
উদ্দীপকের ছবির কাজটি মনোবিজ্ঞানের শিক্ষা মনোবিজ্ঞান শাখায় আলোচনা করা হয়।
শিক্ষা মনোবিজ্ঞান মনোবিজ্ঞানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা। এখানে মানুষের শিক্ষা সম্পর্কিত আচরণের বিভিন্ন সমস্যার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা হয়। শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে শিক্ষা ব্যবস্থা আবর্তিত হয় এবং শিক্ষণ হলো শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের মূল বিষয়বস্তু। সে দিক দিয়ে শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীর জীবনের সার্বিক ও সুষম বিকাশ সাধনে সহায়তা করা; শিক্ষার কার্যকরী পদ্ধতি অনুসন্ধান, উদ্ভাবন ও প্রয়োগ করা; শিক্ষাক্ষেত্রে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা। এছাড়াও কীভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক সৃষ্টি করা যায়, গঠনমূলক আচরণ শেখা যায়, গঠনমূলক আচরণ শেখা যায় তাও মনোবিজ্ঞানের এই শাখায় আলোচিত হয়।
প্রদত্ত উদ্দীপকের দিকে লক্ষ করলে দেখতে পাই, ছবি একটি সরকারি প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষা পরিবেশের ওপর জোর দেন। মূলত শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের তিনটি প্রধান উপাদান হলো শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষা পরিবেশ। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যকার সুন্দর সম্পর্ক শিক্ষা পরিবেশকে তরান্বিত করে। আবার সুন্দর শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে ইতিবাচক গঠনমূলক সম্পর্ক তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কেননা, শিক্ষণের গতি-প্রকৃতি, ধরন, কলা-কৌশল, শর্তাবলি, উপকরণ, শিক্ষণে পুরস্কার ও
শাস্তির প্রভাব, শিক্ষার পদ্ধতি, শিক্ষার পরিবেশ প্রভৃতি হলো শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের মূল আলোচ্য বিষয়। তাই উদ্দীপকের ছবির কাজটি মনোবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ শাখা শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয় তা খুব সহজেই অনুমেয়।
মিতা ও বিজয়ের কাজের মধ্যে বিজয়ের কাজটি অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ।
মনোবিজ্ঞানের একটি অতীব জরুরি শাখা হলো শিল্প ও সাংগঠনিক মনোবিজ্ঞান। শিল্প কারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করার জন্য মনোবিজ্ঞানের এ শাখার উদ্ভব হয়েছে। শিল্প কারখানায় শ্রমিক নিয়োগ, কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী উপযুক্ত লোক নির্বাচন, তাদের প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি ও মূল্যায়ন প্রভৃতি শিল্প মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু। উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে কর্মচারীদের দক্ষতা, মনোবল ও কর্মসন্তুষ্টি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
উদ্দীপকে বর্ণিত মিতার কোম্পানিতে কর্মসন্তুষ্টি ও কাজের সঠিক মূল্যায়ন হওয়ায় উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই বলা যায়, মিতার কোম্পানিতে শিল্প ও সাংগঠনিক মনোবিজ্ঞানের যথাযথ প্রয়োগ হয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত ছবি ও মিতার বন্ধু বিজয় নিয়মিত মানসিক সমস্যাগ্রস্তদের নিয়ে কাজ করেন। বিজয়ের এ কাজটি অস্বভাবী মনোবিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত হলেও তা কোনো না কোনোভাবে অন্যান্য প্রায় সব মনোবিজ্ঞানের শাখার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। অস্বভাবী মনোবিজ্ঞানের কাজ হলো অস্বভাবী আচরণের স্বরূপ বিশ্লেষণ করা, বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে তথ্য সংগ্রহ করে তার কারণ নির্ণয় করা এবং সবশেষে অস্বভাবী আচরণের প্রতিকার ও প্রতিরোধ করা। প্রত্যেক মানুষের ভিতরেই কোনো না কোনো মানসিক চাপ থাকে যা তার আচরণ ও কর্মপরিবেশকে প্রভাবিত করে। মানসিক সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিদের যথাযথভাবে সাহায্য ও প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে পারলে তারা অন্যের উপর বোঝা হয়ে থাকবে না। তারা আত্মনির্ভরশীল ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীতে পরিণত হবে। এর ফলে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য আর্থিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সহজ ও কার্যকরী হবে।
পরিশেষে সার্বিক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, মিতা ও বিজয় উভয়ের কাজ গুরুত্বপূর্ণ হলেও মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিজয়ের কাজটি অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি।
শিক্ষার্থীর জীবনের সার্বিক ও সুষম বিকাশের জন্য শিক্ষা মনোবিজ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষা মনোবিজ্ঞানে মানুষের শিক্ষা সম্পর্কিত আচরণের বিভিন্ন সমস্যার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা হয়ে থাকে। মনোবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ এই শাখায় ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিকতার বিকাশ ঘটানো, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের উন্নতিকরণ, লেখাপড়ার ব্যাপারে ছাত্র-ছাত্রীদের আগ্রহ ও মনোযোগ বাড়ানো, স্মৃতিশক্তি উন্নত করার কৌশল নির্ধারণ, কার্যকরী শিক্ষাদান প্রণালি প্রণয়ন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। তাই শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের জন্যই শিক্ষা মনোবিজ্ঞান খুবই গুরুত্বপূর্ণ
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!