মাঠকর্ম হলো সমাজকর্মের এমন একটি দিক যেখানে সমাজকর্মের তাত্ত্বিক জ্ঞান মাঠপর্যায়ে নিয়ে প্রয়োগ করা হয়।
কেস ম্যানেজমেন্ট বলতে সামাজিক এজেন্সি থেকে লম্বা সময়ের জন্য সাহায্য গ্রহণকারীর সেবা পরিকল্পনা ও মনিটরিং প্রক্রিয়াকে বোঝায়।
এই সেবা কার্যক্রম সাহায্যার্থীর মানসিক স্বাস্থ্য বা আইনগত বিষয়সহ যে কোনো ক্ষেত্রে পরিচালিত হতে পারে। মূলত এটি এমন এক পদ্ধতি যেখানে একজন পেশাদার সমাজকর্মী সাহায্যার্থী ও তার পরিবারের চাহিদার প্রেক্ষিতে সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
উদ্দীপকে সমাজকর্ম শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মাঠকর্মকে উল্লেখ করা হয়েছে।
সমাজকর্ম হলো একটি ব্যবহারিক সামাজিক বিজ্ঞান। এজন্য সমাজকর্মের ব্যবহারিক বিষয়কে ফুটিয়ে তোলার জন্য মাঠকর্ম অনুশীলন করা হয়। মাঠকর্ম হলো তাত্ত্বিক জ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগ। এটি সমাজকর্ম শিক্ষার্থীদের পেশাগত শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে একজন শিক্ষানবিশ সমাজকর্মী তত্ত্ব, পদ্ধতি ও কৌশলকে মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ করে। এর ফলে সে ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে একজন দক্ষ সমাজকর্মী হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
উদ্দীপকের প্রফেসর মোমেন সমাজকর্ম ক্লাসে তার আলোচ্য বিষয়টি সম্পর্কে বলেন, যে এটি সমাজকর্ম শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি সম্পাদনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সমাজকর্মের তাত্ত্বিক জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ করে সমাজকর্মী হিসেবে সনদ অর্জন করে।
উদ্দীপকের প্রফেসর মোমেন এর এই আলোচ্য বিষয়টি উপরে বর্ণিত সমাজকর্মের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মাঠকর্মের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে সমাজকর্ম শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মাঠকর্মকে নির্দেশ করা হয়েছে।
সমাজকর্মের সনদ অর্জন উদ্দীপকে নির্দেশিত মাঠকর্মের যথাযথ সম্পাদনের উপর নির্ভর করে বলে আমি মনে করি।
আধুনিক সমাজকর্ম একটি ফলিত সামাজিক বিজ্ঞান। এর মূল লক্ষ্য হলো সমাজকর্ম সম্পর্কে অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা। এর মাধ্যমে সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যার স্থায়ী সমাধান ও মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন করা সম্ভব হয়। আর এ লক্ষ্য অর্জন করার জন্য একজন সমাজকর্মীকে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি মাঠকর্মের অর্থাৎ ব্যবহারিক জ্ঞানও অর্জন করতে হয়। এজন্য সমাজকর্ম শিক্ষার ক্ষেত্রে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞানেও গুরুত্ব অপরিসীম।
উদ্দীপকের প্রফেসর মোমেন এর আলোচ্য বিষয়টি ছিল মাঠকর্ম যা সমাজকর্ম শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি ছাড়া একজন সমাজকর্মী দক্ষ হয়ে উঠতে পারে না। কেননা, কোনো বিষয়ের তাত্ত্বিক জ্ঞান যতই সমৃদ্ধ হোক না কেন তা ব্যবহারিক ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা ছাড়া এর যথার্থ কার্যকারিতা ও উপযোগিতা লাভ করা যায় না। সেজন্যই তাত্ত্বিক জ্ঞান ও ব্যবহারিক জ্ঞানের সংমিশ্রণ সমাজকর্মে ঘটানো হয় যা একজন পেশাদার সমাজকর্মীর থাকতে হয়। এই ব্যবহারিক প্রশিক্ষণই সমাজকর্মীকে বাস্তবক্ষেত্রে কর্ম উপযোগী করে তোলে। এভাবে মাঠকর্মের যথাযথ সম্পাদনের মাধ্যমে একজন সমাজকর্মী সমাজকর্মের সনদ অর্জন করে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, উদ্দীপকে নির্দেশিত মাঠকর্ম হলো সমাজকর্মের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর মাঠকর্মের যথাযথ সম্পাদনের মাধ্যমে সমাজকর্মের সনদ অর্জন করতে হয়।
Related Question
View AllRapport হচ্ছে সমাজকর্মীর সাথে সাহায্যার্থীর পেশাগত সম্পর্ক তৈরির প্রক্রিয়া।
সামাজিক কার্যক্রম হচ্ছে বাঞ্ছিত সামাজিক পরিবর্তন সাধন ও সমর্থন আদায়ের জন্যে পরিচালিত সুসংবদ্ধ প্রচেষ্টা।
সামাজিক কার্যক্রম একটি ধারাবাহিক ও সুশৃঙ্খল পদ্ধতি। এটি সুসংগঠিত প্রচেষ্টায় জনগণের মধ্যে সচেতনতা আনয়ন করে সমাজের অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলোকে সংশোধন বা পরিবর্তনের মাধ্যমে উন্নয়ন সাধন করে থাকে।
সমাজকর্মের অন্যতম শাখা সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্ম হীরার সমস্যা সমাধানে কাজ করতে পারে।
সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্ম মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের সহায়তায় ভূমিকা রাখে। একজন ব্যক্তি বিভিন্ন কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হতে পারে। এসময় তার পক্ষে সবার সাথে স্বাভাবিক আচরণ করা সম্ভব হয় না। এ ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়ে সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্ম কাজ করে। এক্ষেত্রে এটি মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তির সম্পর্কে অনুধ্যান করে সে অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা প্রদান করে। উদ্দীপকের হীরার সমস্যা সমাধানেও এ শাখা কাজ করতে পারে।
উদ্দীপকের হীরা সৌদি আরব গিয়ে গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করার সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়। এক পর্যায়ে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং অসংলগ্ন আচরণ শুরু করে। হীরার মতো মানসিক সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিদের সমস্যা সমাধানে সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্ম কাজ করে থাকে। তাই বলা যায়, হীরার সমস্যা সমাধানে সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্ম কাজ করতে পারে।
হীরাকে সুস্থ করে তুলতে সমাজকর্মী হিসেবে লুনা মাঠকর্মের সমস্যা নির্ধারণ, পরিকল্পনা, যোগাযোগ ও হস্তক্ষেপ কৌশলের প্রয়োগ ঘটাতে পারে।
সমাজকর্মের তাত্ত্বিক জ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগ মাঠকর্মের মাধ্যমে ঘটানো হয়। মাঠকর্মের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কৌশল হলো সমস্যা নির্ধারণ, পরিকল্পনা, যোগাযোগ ও হস্তক্ষেপ। সমস্যা নির্ধারণ ও পরিকল্পনা কৌশল প্রয়োগ করে সমাজকর্মী সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির সমস্যা চিহ্নিত করতে সক্ষম হন। সেইসাথে তিনি সমস্যা সমাধানে পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। যোগাযোগ কৌশলের মাধ্যমে সমাজকর্মী সাহায্যার্থীর সাথে সমাজে বিদ্যমান কর্মসূচির সংযোগ ঘটান যা ব্যক্তির সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে হস্তক্ষেপ কৌশলের মাধ্যমে সমাজকর্মী সাহায্যার্থীকে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য প্রদান, সমস্যা মোকাবিলায় তাকে সক্ষমকরণ, নির্দেশনা মেনে চলতে সহায়তাকরণ এবং সমস্যা সমাধানের জন্য তার সাথে অর্থপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এর ফলে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি নিজ সমস্যা মোকাবিলায় সক্ষম হয়।
উদ্দীপকের হীরা মানসিকভাবে অসুস্থ। সে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিউটে চিকিৎসা নিচ্ছে। সমাজকর্মের ছাত্রী লুনা তার কেসটি নিয়ে কাজ করছে। এক্ষেত্রে লুনা উপরোল্লিখিত কৌশলগুলো প্রয়োগের মাধ্যমে হীরার সমস্যা নির্ণয় করে তাকে সেবা প্রদানের জন্য একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি লুনা হীরার সাথে বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির সংযোগ ঘটিয়ে তাকে সেবা সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য ও মানসিকভাবে সমর্থন দেবে। তার এ ছোট পদক্ষেপগুলোই তাকে সমস্যা মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে পারে। এছাড়াও লুনা হীরার সাথে অর্থপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। সেইসাথে হীরাকে যেসব নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে তা মেনে চলতে সহায়তা করতে পারে যা হীরার সুস্থ হওয়ায় সহায়ক হবে।
তাই বলা যায়, লুনা মাঠকর্মের সমস্যা নির্ধারণ, পরিকল্পনা, যোগাযোগ ও হস্তক্ষেপ কৌশল প্রয়োগ করে হীরাকে সুস্থ করে তুলতে পারে।
সমাজকর্ম একটি পেশাগত সেবাদান প্রক্রিয়া।
মনো-সামাজিক সমস্যা সমাধানে কার্যকর ও বাস্তবমুখী সমাধান কৌশল প্রণয়ন করায় সমাজকর্ম বর্তমান বিশ্বে ক্রমশই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
সমাজকর্ম তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তবে প্রয়োগ করার মাধ্যমে মানুষকে সরাসরি সেবা প্রদান করে। একজন শিক্ষার্থী তার অর্জিত জ্ঞানের বাস্তবে প্রয়োগ ঘটিয়ে মানুষের বহুমুখী সমস্যার সমাধানে অংশ নিতে পারে। একই সাথে এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারে বলেই বর্তমান বিশ্বে সমাজকর্ম এত জনপ্রিয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!