প্রবন্ধ রচনা লিখুন: 'সবুজ অর্থনীতি ও বাংলাদেশ'

Updated: 3 months ago
উত্তরঃ
‘সবুজ অর্থনীতি ও বাংলাদেশ’

"সবুজ অর্থনীতিই আগামীর অর্থনীতি। "আতিউর রহমান, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক।

ভূমিকা

একবিংশ শতাব্দীর সংকট ও সমাধান বর্তমান বিশ্বে উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার প্রধান চ্যালেঞ্জ। গতানুগতিক শিল্পায়ন ও প্রাকৃতিক সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে পৃথিবী আজ জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতি এবং ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন। বিশ্ব উষ্ণায়ন ও গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাবে মানবসভ্যতা যখন ধ্বংসের কিনারে, তখন আশার আলো হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে সবুজ অর্থনীতি (Green Economy)। এটি এমন এক টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যেখানে প্রকৃতিকে ধ্বংস না করে বরং প্রকৃতির সাথে মিতালি করে সমৃদ্ধি অর্জিত হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী রেখে যাওয়ার লক্ষ্যেই সবুজ অর্থনীতির জয়যাত্রা শুরু হয়েছে।

সবুজ অর্থনীতির ধারণা

সবুজ অর্থনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Green Economy এখানে "সবুজ” শব্দটি পরিবেশের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ সবুজ অর্থনীতি বলতে এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বোঝায় যেখানে পরিবেশের ক্ষতি না করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হয় এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়।

জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) এর মতে-"সবুজ অর্থনীতি হলো সেই অর্থনীতি যা মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করবে কিন্তু পরিবেশগত ঝুঁকি কমাবে এবং পরিবেশগত অভাব দূর করবে।"

সহজ কথায়, যে অর্থনীতি পরিবেশগত ঝুঁকি ও বাস্তুতান্ত্রিক অভাব কমিয়ে মানবকল্যাণ ও সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠা করে, তা-ই সবুজ অর্থনীতি। এর ফলে মানুষের আরাম ও সুস্থতার পাশাপাশি সামাজিক ভারসাম্যের উন্নতি ঘটে এবং সম্পদের অপ্রতুলতা হ্রাস পায়।

সবুজ অর্থনীতির বহুমুখী দিক

সবুজ অর্থনীতির বিভিন্ন দিকগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হলো

  • পরিবেশগত ভারসাম্য (Ecological Balance): উন্নয়নের নামে পাহাড় কাটা, বন উজাড় বা নদী ভরাট না করে বাস্তুসংস্থানের স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ রক্ষা করা।
  • সবুজ অর্থায়ন (Green Financing): পরিবেশবান্ধব শিল্প বা প্রকল্প (যেমন: সৌর বিদ্যুৎ, ইটিপি স্থাপন) বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিশেষ সুদে ও সহজ শর্তে ঋণের জোগান।
  • টেকসই উন্নয়ন (Sustainability): বর্তমানের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্পদ ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করা।
  • প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন (Technological Innovation): এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা যা কার্বন নিঃসরণ কমাবে (যেমন: ইলেকট্রিক ভেহিকেল) এবং শক্তির অপচয় রোধ করবে।
  • ভোক্তা সচেতনতা ও সবুজ ভোক্তা (Consumer Awareness): সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশবান্ধব পণ্য (যেমন: পাটের ব্যাগ, অর্গানিক ফুড) ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলা।
  • বৈদেশিক ও সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়: পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রযুক্তি ও তহবিলের সমন্বয় সাধন করা।
  • ন্যায্য মূল্য (Fair Pricing): পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদনের খরচ অনেক সময় বেশি হয়; সে ক্ষেত্রে ভর্তুকি বা নীতি সহায়তার মাধ্যমে এর দাম সাধারণের নাগালে রাখা।

বিশ্বে সবুজ অর্থনীতির গুরুত্ব

"আমি যে সম্পদ অর্জন করি তা প্রকৃতি থেকে আসে।”- ক্লড মোনে।

সবুজ অর্থনীতি অসমতা দূর করে, দারিদ্র্য কমায় এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পৃষ্ঠপোষকতা যোগায়। সম্পদের অভাব দূর করে। পরিবেশের বিস্তৃত ঝুঁকি কমায় এবং মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা করে আর টেকসই উন্নয়নের শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে। তাই সারা বিশ্বের মনোযোগ বাড়ছে সবুজ অর্থনীতি বিষয়ে।

জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইউএন এনভায়রনমেন্ট-এর তথ্য মতে অন্তর্ভুক্তিমূলক সবুজ অর্থায়ন এমন এক ব্যবস্থা যা পরিবেশের ঝুঁকি কমায়, জনকল্যাণ বাড়ায়, অভাব কমায় এবং সামাজিক সমতা গড়ে তোলে।

২০০৮ সালে জাতিসংঘের পরিবেশ সংস্থা 'গ্রিন ইকোনমি ইনিশিয়েটিভ (GEI)' নামে শুরু করে সবুজ অর্থনীতি কর্মসূচি। যার উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগে সমর্থন জোরদার করা। বৈশ্বিক ঝুঁকি গবেষণায় দেশীয় পর্যায়ে সহায়তা বাড়ানো এবং সবুজ অর্থনীতি কর্মসূচি সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য নীতিনির্ধারকদের প্রভাবিত করা ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

→ ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানির চাহিদা ৪৫% বৃদ্ধি পাবে।

→ তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি ১৮০ ডলার হবে।

→ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ৩৫% বৃদ্ধি পাবে।

→ বৈশ্বিক তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে।

→ দারিদ্র্যের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

→ সুতরাং বৃহৎ জনগোষ্ঠীর চাহিদা মিটিয়ে পরিবেশকে টিকিয়ে রাখতে হলে সবুজ অর্থনীতি ব্যাপক গুরুত্বের দাবি রাখে।

সবুজ অর্থনীতির প্রধান ক্ষেত্র ও উপাদানসমূহ:

সবুজ অর্থনীতির কাঠামো মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র বা স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এই ক্ষেত্রগুলো পরিবেশ সংরক্ষণ, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সবুজ অর্থনীতির মূল লক্ষ্য হলো প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, পরিবেশ দূষণ কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এই কাঠামো প্রধানত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যা নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।

ক. সবুজ জ্বালানি (Green Energy) : জ্বালানি আধুনিক অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। শিল্প, পরিবহন, কৃষি এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রে জ্বালানির প্রয়োজন হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পৃথিবীতে প্রধানত কয়লা, খনিজ তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব জ্বালানির দহন থেকে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের অন্যতম প্রধান কারণ।

সবুজ অর্থনীতি এই সমস্যার সমাধান হিসেবে নবায়নযোগ্য এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহারকে গুরুত্ব দেয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রধান উৎসগুলো হলো

  • সৌরশক্তি
  • বায়ুশক্তি
  • বায়োগ্যাস
  • জলবিদ্যুৎ
  • ভূ-তাপীয় শক্তি

এসব জ্বালানি পরিবেশের জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। একইভাবে বায়ুবিদ্যুৎ এবং বায়োগ্যাস প্রকল্প পরিবেশবান্ধব শক্তি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সবুজ জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ কমে, অন্যদিকে তেমনি জ্বালানি নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা যায়।

খ. সবুজ কর্মসংস্থান (Green Jobs): সবুজ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সবুজ কর্মসংস্থান। পরিবেশবান্ধব শিল্প ও প্রযুক্তির বিকাশের ফলে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এসব কর্মসংস্থানকে সাধারণত "Green Jobs" বলা হয়। সবুজ কর্মসংস্থানের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়-

  • সোলার প্যানেল টেকনিশিয়ান
  • বায়ুবিদ্যুৎ প্রকৌশলী
  • রিসাইক্লিং ইঞ্জিনিয়ার
  • পরিবেশ অডিটর
  • পরিবেশ গবেষক

সবুজ কর্মসংস্থান শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নেই ভূমিকা রাখে না, বরং পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশবান্ধব নির্মাণ শিল্প এবং পরিবেশগত গবেষণা খাতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এই ধরনের কর্মসংস্থান দারিদ্র্য বিমোচনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলে মানুষের আয় বৃদ্ধি পায় এবং সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।

গ. সবুজ বিনিয়োগ (Green Investment): সবুজ অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সবুজ বিনিয়োগ। সবুজ বিনিয়োগ বলতে পরিবেশবান্ধব প্রকল্প, শিল্প এবং প্রযুক্তিতে অর্থ বিনিয়োগকে বোঝায়। এর মাধ্যমে এমন শিল্প ও প্রকল্পে অর্থায়ন করা হয় যা পরিবেশের ক্ষতি না করে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করে।

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী "Green Bond" এবং "Sustainable Finance" এর মাধ্যমে সবুজ বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রিন বন্ড হলো এমন একটি আর্থিক উপকরণ যার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হয়।

  • সবুজ বিনিয়োগের মাধ্যমে।
  • পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রতিষ্ঠা করা যায়।
  • নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন সম্ভব হয়।
  • কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
  • অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।

এছাড়া সবুজ বিনিয়োগ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সহায়তা করে এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে।

ঘ. সবুজ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (4R নীতি): বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। শিল্পায়ন ও নগরায়নের ফলে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে, যা পরিবেশ দূষণের প্রধান কারণ। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সবুজ অর্থনীতিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে 4R নীতি অনুসরণ করা হয়। এই চারটি নীতি হলো

  • Reduce (হ্রাস): বর্জ্যের উৎপাদন যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা। উৎপাদন ও ভোগের ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়িয়ে বর্জ্য কমানো যায়।
  • Reuse (পুনঃব্যবহার): কোনো জিনিস একবার ব্যবহার করার পর ফেলে না দিয়ে পুনরায় ব্যবহার করা। এতে সম্পদের অপচয় কমে।
  • Recycle (পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ): ব্যবহৃত বা ফেলে দেওয়া বর্জ্যকে পুনরায় প্রক্রিয়াজাত করে নতুন কাঁচামাল বা পণ্যে রূপান্তর করা।
  • Recover (পুনঃউদ্ধার): বর্জ্য থেকে জ্বালানি বা অন্যান্য উপযোগী সম্পদ উদ্ধার করা। এই চারটি নীতি অনুসরণ করলে পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব হয় এবং বর্জ্যকে মূল্যবান সম্পদে পরিণত করা যায়।

ঙ. সবুজ পরিবহন (Green Transport) পরিবহন খাত পরিবেশ দূষণের অন্যতম প্রধান উৎস। যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া এবং গ্রিনহাউস গ্যাস বায়ু দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী। সবুজ অর্থনীতি পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

  • বিদ্যুৎচালিত যানবাহন (Electric Vehicles)
  • উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা
  • রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ
  • পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহার

সবুজ পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব এবং পরিবেশের ওপর পরিবহন খাতের নেতিবাচক প্রভাব হ্রাস করা যায়।

চ. সবুজ কৃষি (Green Agriculture)

কৃষি খাত অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু আধুনিক কৃষিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার এবং বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে পরিবেশ দূষণ এবং মাটির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে। সবুজ কৃষিতে পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো

  • জৈব সার ব্যবহার
  • শস্য বহুমুখীকরণ
  • মিশ্র ফসল উৎপাদন
  • পানি ও মাটির সঠিক ব্যবস্থাপনা

সবুজ কৃষির মাধ্যমে মাটির উর্বরতা বজায় রাখা সম্ভব হয় এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা যায়। একই সঙ্গে এটি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে সহায়তা করে।

বাংলাদেশে সবুজ অর্থনীতির গুরুত্ব

"সবুজ অর্থনীতিই আগামীর অর্থনীতি।”- আতিউর রহমান, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ একটি ভাটির দেশ হিসেবে পরিচিত। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের ওপর প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সাইক্লোন ইত্যাদি দুর্যোগ বর্তমানে প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। উন্নত দেশগুলো শিল্পায়ন ও দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নামে বিপুল পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করছে।
এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব পৃথিবীর সর্বত্র মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতির কারণে অবকাঠামো, ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

সম্প্রতি জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের আন্তঃসরকার প্যানেল (IPCC)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান হারে যদি কার্বন নিঃসরণ অব্যাহত থাকে, তবে আগামী ১২ বছরের মধ্যেই পৃথিবীতে খরা, বন্যা এবং তীব্র তাপপ্রবাহের মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

টেকসই উন্নয়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সবুজ অর্থনীতি

"পরিবেশকে ভিত্তি করে সংগঠিত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নই টেকসই উন্নয়ন।" UNEP উন্নয়ন ধারণার গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ধারার একটি দিক হলো টেকসই উন্নয়ন। উন্নয়নের স্থায়িত্ব এবং পরিবেশগত প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনা করে এই ধারণার উদ্ভব হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন এমন এক উন্নয়ন পদ্ধতি যেখানে বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা পূরণ করা হয় কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজন পূরণের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয় না।
অর্থাৎ আন্তঃপ্রজন্ম সমতা টেকসই উন্নয়নের মূল ভিত্তি। টেকসই উন্নয়নের তিনটি প্রধান স্তম্ভ হলো-

১. অর্থনৈতিক উন্নয়ন

২. সামাজিক উন্নয়ন

৩. পরিবেশ সংরক্ষণ

এই তিনটি স্তম্ভ পরস্পর সম্পর্কিত ও একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। এই তিনটির সমন্বিত অগ্রগতির মাধ্যমেই প্রকৃত টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। এই টেকসই উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হলো সবুজ অর্থনীতি।

সবুজ অর্থনীতি পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মাধ্যমে প্রাকৃতিক পুঁজির সংরক্ষণ ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা হয়। ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবনমান উন্নত হয়। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল বা বনাঞ্চলের আশেপাশে বসবাসকারী মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য হ্রাসে সবুজ অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের পরিবেশগত অর্থনৈতিক ক্ষতি ও সবুজ অর্থনীতি:

বিশ্বব্যাংকের "Creating a Green and Sustainable Growth Path for Bangladesh" শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে পরিবেশের অবনতির করণে বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় ৬৫০ কোটি ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এই ক্ষতির পরিমাণ দেশের মোট জিডিপির প্রায় ৩.৪ শতাংশ। তবে পরিবেশবান্ধব সবুজ অর্থনীতির মাধ্যমে এই ক্ষতির একটি বড় অংশ কমানো সম্ভব। যদিও সবুজ অর্থনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনও কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে, তবুও সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। উদাহরণস্বরূপ, দেশে প্রথম সবুজ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে সিরাজগঞ্জে একটি সবুজ শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ সংকট ও বাংলাদেশের বাস্তবতা

পরিবেশ দূষণ বা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে খুবই কম। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সম্ভাব্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ক্রমাগত পরিবেশ বিপর্যয়, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ধ্বংস দেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। গত কয়েক দশকে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষয় অনেক বেশি বেড়ে গেছে। বন উজাড়, বাস্তুতন্ত্রের ধ্বংস এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এই সংকটকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

বাংলাদেশ একটি ছোট আয়তনের দেশ হলেও এখানে জনসংখ্যা অনেক বেশি। এই বিপুল জনসংখ্যা প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এর ফলে বনভূমির পরিমাণ ক্রমশ কমে যাচ্ছে। একটি দেশের জন্য যেখানে অন্তত ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন, সেখানে বাংলাদেশ এই লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক দূরে রয়েছে।

কিন্তু কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা উন্নতি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন নয়। প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণ এবং উন্নয়ন একে অপরের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। একটি আরেকটির পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। তাই একদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা উন্নয়ন এবং অন্যদিকে তার সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ এই দুটিই দেশের জন্য অপরিহার্য। এমন প্রেক্ষাপটে সবুজ অর্থনীতি হতে পারে যুগপৎ উন্নয়নের সর্বোত্তম বিকল্প মাধ্যম।

গৃহীত কার্যক্রম

বাংলাদেশে সবুজ অর্থনীতির বাস্তবায়নের জন্য সরকার বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব নীতিমালা, কৌশল, কর্মপরিকল্পনা, আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসব উদ্যোগ দেশের পরিবেশ রক্ষা, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যে সমন্বয় সাধনে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

প্রথমত, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি কর্তৃপক্ষ আইন অনুমোদন করা হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এর ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে এবং পরিবেশ দূষণ হ্রাস পাবে।

দ্বিতীয়ত, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থার প্রসার ঘটানোর জন্য সৌর বিদ্যুৎ ও বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের দ্রুত সম্প্রসারণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন গ্রামীণ অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের মাধ্যমে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে।

তৃতীয়ত, নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাণিজ্যিক উৎপাদনকে উৎসাহিত করার জন্য সরকার পাঁচ বছরের জন্য আয়কর মওকুফের সুবিধা প্রদান করেছে। এই নীতির ফলে উদ্যোক্তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পের বিকাশ ঘটছে।

চতুর্থত, উপকূলীয় অঞ্চলে পরিবেশ সুরক্ষার জন্য সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় গাছ লাগিয়ে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে, যা ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে সহায়তা করে।

→ পঞ্চমত, পরিবহন খাতে দূষণ কমানোর জন্য তুলনামূলকভাবে কম দূষণকারী জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহার এবং উন্নত প্রযুক্তির যানবাহন ব্যবহারের মাধ্যমে বায়ু দূষণ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

ষষ্ঠত, পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের জন্য পৌর বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট বা জৈব সার তৈরির CDM (Clean Development Mechanism) প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করে পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব হচ্ছে এবং একই সঙ্গে কার্বন ক্রেডিট অর্জন করা যাচ্ছে।

সপ্তমত, ইটভাটা থেকে সৃষ্ট মারাত্মক বায়ুদূষণ কমানোর জন্য এগুলোকে পরিবেশবান্ধব উন্নত প্রযুক্তিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ইটভাটার দূষণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব হচ্ছে।

অষ্টমত, Polluters Pay Principle নীতির আওতায় পরিবেশ দূষণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি আরোপ করা হয়েছে। পরিবেশগত ছাড়পত্রের শর্ত অনুযায়ী শিল্প প্রতিষ্ঠানের দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিত মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

নবমত, বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি Green Banking নীতিমালা জারি করে। এই নীতিমালার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে ঋণ প্রদান এবং সবুজ বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়েছে। এর ফলে পরিবেশবান্ধব শিল্প ও প্রযুক্তির বিকাশে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হয়েছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, এসব গৃহীত পদক্ষেপ বাংলাদেশের সবুজ অর্থনীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং ভবিষ্যতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

সবুজ অর্থনীতি বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতা

সবুজ অর্থনীতি ভবিষ্যতের পৃথিবীকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় কথা বর্তমানে অনেকটাই স্বীকৃত সত্য। কিন্তু বিশ্বব্যাপী সবুজ অর্থনীতির পূর্ণ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনও নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান। বিভিন্ন দেশের ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার ভিন্নতার কারণে সবুজ অর্থনীতির উপযোগিতা নিয়েও কিছু বিতর্ক রয়েছে।

এছাড়া উন্নত দেশগুলোর কথাবার্তা ও বাস্তব কাজের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রই পার্থক্য দেখা যায়। অনেক উন্নত দেশ পরিবেশ রক্ষার কথা বললেও বাস্তবে তারা ভোগবাদী অর্থনৈতিক নীতির অনুসরণ করে থাকে। এর ফলে সবুজ অর্থনীতির প্রকৃত বাস্তবায়ন নিয়ে অনেক ক্ষেত্রে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।

কার্বন নিঃসরণের ক্ষেত্রে মূলত উন্নত ও ধনী দেশগুলোই বেশি দায়ী। কিন্তু এই দেশগুলো অনেক সময় পরিবেশ রক্ষার জন্য গৃহীত আন্তর্জাতিক চুক্তি ও নীতিমালা যথাযথভাবে পালন করে না। ফলে বৈশ্বিক পর্যায়ে সবুজ অর্থনীতির অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। এই প্রেক্ষাপটে ধনী দেশগুলোর উচিত আন্তরিকতার সঙ্গে সবুজ অর্থনীতির বাস্তবায়নে এগিয়ে আসা। সবুজ অর্থনীতিতে সকল দেশের সমান অংশগ্রহণ ও দায়িত্ব নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে যেখানে উন্নত দেশগুলো শুধু নীতি নির্ধারণ করবে আর উন্নয়নশীল দেশগুলোকে তা অনুসরণ করতে হবে যা সবুজ অর্থনীতির ন্যায্যতার নীতির পরিপন্থী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান বলেছেন "সবাই মিলে আমাদের সবুজ অর্থনীতির পক্ষে কাজ করে যেতে হবে।

"সবুজ অর্থনীতি বাস্তবায়নে করণীয় ও সুপারিশ

"আমাদের সবাইকে লোভাতুর অর্থনীতি থেকে সবুজ অর্থনীতিতে যেতে হবে।”- সুতসিলো বামবাং, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, ইন্দোনেশিয়া

সবুজ অর্থনীতি বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো-

→ প্রথমত, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে উৎসাহিত করার জন্য আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রণোদনা প্রদান করা। সরকার এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পরিবেশবান্ধব শিল্প ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের জন্য উদ্যোক্তাদের সহায়তা করতে পারে।

→ দ্বিতীয়ত, ব্যবসায়িক উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ও সামাজিক ঝুঁকি মূল্যায়ন করা জরুরি। পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে এমন প্রকল্প গ্রহণের আগে যথাযথ ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

→ তৃতীয়ত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগে সবুজ ব্যাংকিং কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা যেতে পারে। ইতোমধ্যে শীর্ষ ১০টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সবুজ ব্যাংকিং কার্যক্রমে অবদানের জন্য প্রতিবছর পুরস্কৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

→ চতুর্থত, সমগ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে টেকসই উন্নয়নের উপযোগী করে সাজানোর জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশলগত পরিকল্পনা প্রয়োজন। এই পরিকল্পনা স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। পাশাপাশি একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ নির্ধারণ করা জরুরি।

সবুজ অর্থায়নের উন্নয়নে ব্যাংকিং খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কারণ ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান প্রধানত ব্যাংকের মাধ্যমেই প্রদান করা হয়। ব্যাংকগুলো তাদের গ্রাহকদের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার ও বাস্তবায়নে উৎসাহিত করতে পারে এবং এসব প্রকল্পে অর্থায়ন করতে পারে।

উপসংহার

বর্তমান বিশ্বে পরিবেশ সংকট ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের দ্বন্দ্ব দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সবুজ অর্থনীতি একটি যুগোপযোগী ও কার্যকর উন্নয়ন ধারণা হিসেবে বিশ্বব্যাপী গুরুত্ব অর্জন করেছে। এটি শুধু পরিবেশ সংরক্ষণই নয়, বরং দারিদ্র্য দূরীকরণ, সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ সুগম করে। বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য সবুজ অর্থনীতির গুরুত্ব আরও বেশি। ইতোমধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ ব্যাংকিং এবং পরিবেশ সংরক্ষণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ সবুজ অর্থনীতির পথে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সবুজ অর্থনীতির সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সরকার, বেসরকারি খাত এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সচেতনতারও প্রয়োজন রয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, পরিবেশ সংরক্ষণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমেই একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।

70

লেখক তার নিজের কল্পনাশক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিকে কাজে লাগিয়ে কোনো মননশীল ভাব কিংবা তথ্য বা তত্ত্ব উপযুক্ত ভাষার মাধ্যমে যুক্তি পরম্পরায় উপস্থাপনের মাধ্যমে যে নাতিদীর্ঘ সাহিত্য রচনা করেন তাকে প্রবন্ধ রচনা বলে। এর সাধারণত তিনটি অংশ থাকে। যথা:

০১। ভূমিকা: ভূমিকা হচ্ছে প্রবন্ধের প্রারম্ভিক অংশ যেখানে লেখার মূল বিষয়গত ভাবের প্রতিফলন ঘটে। ভূমিকা যত আকর্ষণীয় হবে রচনাটিও পাঠকের কাছে ততো হৃদয়গ্রাহী হবে। ভূমিকাতে অপ্রাসঙ্গিক ও অনাবশ্যক বিষয়ের অবতারণা করা উচিত নয়।

০২। মূল অংশ: এ অংশে প্রবন্ধের মূল বক্তব্য উপস্থাপিত হবে। পরিবেশনের আগে বিষয়টিকে প্রয়োজনীয় সংকেত (Points) এ ভাগ করে নিতে হবে। সংকেতের বিস্তার কতখানি হবে তা ভাব প্রকাশের পূর্ণতার ওপর নির্ভরশীল। এর আয়তনগত কোনো নির্দিষ্ট পরিমাপ নেই।

০৩। উপসংহার: এটি প্রবন্ধের সিদ্ধান্তমূলক বা সমাপ্তিসূচক অংশ। এখানে লেখক তার আলোচনার সিদ্ধান্তে উপনীত হন এবং তার নিজস্ব অভিমত বা আশা-আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন।

Related Question

View All
উত্তরঃ

একজন লেখক তিনিই যিনি লেখেন। তবে সব লেখা লিখেই লেখক হওয়া যায় না। লেখক সব ধরনের হতে পারে। তবে সৃজনশীল লেখকই হচ্ছে আমাদের মূল কেন্দ্রবিন্দু। লেখক হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম একটি স্বাধীন সত্ত্বা।

একজন লেখক পুরোপুরি তার নিজের সত্ত্বার ওপরে বেঁচে থাকে। অনেকেই লেখক হবার সহজ উপায় খোঁজ করে। কিন্তু পড়তে পড়তে আর লিখতে লিখতেই শুধুমাত্র লেখক হওয়া যায়। এছাড়া আর কোনো উপায় নেই। লেখক অনেক ধরনের হতে পারে।

একজন সাংবাদিকও একজন লেখক। উপন্যাস, গল্প, কবিতা, ছড়া, সাহিত্য, প্রবন্ধ, রম্য, ব্লগ সব ধরনের লেখা যারা লেখে তারাই লেখক। অনেকেই মস্তিষ্কের মধ্যে ওকটা লেখার শক্তি পেয়ে যায় আর অনেকে হয়ত শিখে শিখে লেখক হয়।

সমাজ সভ্যতা কখনোই পুরোপুরি একজন লেখকের পক্ষে থাকে না। বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিপক্ষে চলে যায়। স্বাভাবিকভাবেই একজন লেখক তার কলমের আঘাতে জর্জরিত করতে চায় সকল অন্যায়, অপবাদ। তাই হয়ত বেঁধে যেতে পারে সংঘাত। কলমই হচ্ছে একজন লেখকের দাঁড়ানোর জায়গা। কলম ছাড়া লেখকের অস্তিত্ব বিলীন। তবে সবাইকে যে প্রতিবাদ লিখতে হবে এমন কোনো কথা। কেউ কেউ মনোরঞ্জনের জন্যও লেখে। অনেকে আবার চাটুকারিতা করতে লেখে। কেউ আবার কীভাবে পুরষ্কার তুলে নেওয়া যায় সেই ধান্দা করার জন্য লেখে।

একজন লেখক হয়ে উঠতে পারে ন্যায় অন্যায়ের পার্থক্যকারী। সে কলমের ছোঁয়ায় প্রতিবাদ করতে অন্যায়ের আর ফুটিয়ে তুলবে ন্যায়ের কথা। লেখকের কলমের কালি প্রেরণার সুর হয়ে গান গাইবে। আর অশ্রুসিক্ত নয়নে হাসির ঝলক আনবে লেখকের কলম। একজন লেখকের প্রাণ তার লেখা, তার লেখার ভঙ্গি। সে তার লেখা দিয়ে বাঁচিয়ে তুলতে পারবে অসুস্থ কোনো সভ্যতাকে। লেখক তার কলম দিয়ে জাগ্রত করতে পারবে মানুষের ভীতরে লুকিয়ে থাকা অদম্য সাহস।

একজন লেখক কল্পনাকে নিয়ে আসতে পারে বাস্তবে। আমাদের নিয়ে যেতে পারে কল্পনার গহীন বনে। লেখক আমাদের সবাক যুগ থেকে অবাক যুগে নিয়ে যেতে পারে মুহূর্তের মাঝেই। লেখক জাগাতে পারে প্রেম, লেখক জাগাতে পারে নতুন কাজের স্পৃহা।

অনেকেই মনে করে লেখকের সকল বিষয়ে দ্বায় আছে। কিন্তু লেখকের মূলত কারো কাছেই কোনো দ্বায় নেই। তার দ্বায় থাকে শুধু নিজের মনের কাছে, নিজের বিবেকের কাছে, নিজের সুপ্ত চেতনার কাছে। সমাজ কি ভাববে তা নিয়ে লেখক মাথা ঘামাবে না। লেখক ভয়ে নাথা নোয়াবে না। লেখক যতদিন বাঁচবে বীরের মতোই বাঁচবে।

সারা বিশ্বেই লেখকরা নির্যাতনের শিকার হয়। অনেকেই বলে থাকে লিখে কিছুই হয় না। তাই যদি হতো তাহলে লেখার জন্য লেখকের শাস্তি হতো না। লেখকের ফাঁসি হতো না।

লেখকের কলমে অনেক জোর। সেই জোর ভেঙে চুরে গুড়িয়ে দিতে পারে যেকোনো কিছু। বিশেষ করে সাংবাদিকরা বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত হয় অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে। শাস্তি, সাজা বহু কিছু তাদের সহ্য করতে হয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লিখলে হুমকি আসে, হামলা মামলা বহু ঘটনাই ঘটে। কারণ শাসক, শোষক আর অন্যায়কারীদের অনেক ক্ষমতা। লেখকের সমাজের দায়মুক্তির জন্য জীবনও দিতে হয়। তাইতো একজন লেখক সমাজের শক্তি, সমাজের সম্পদ।

3.7k
উত্তরঃ

সাহিত্য হচ্ছে মানুষের চিন্তা-ভাবনা, অনুভূতি তথা মানব-অভিজ্ঞতার কথা বা শব্দের বাঁধনে নির্মিত নান্দনিক বহিঃপ্রকাশ। এই অর্থে গল্প, কবিতা, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ইত্যাদি উচ্চতর গুণাবলি সমন্বিত বিশেষ ধরনের সৃজনশীল মহত্তম শিল্পকর্ম। সাহিত্য-শিল্পীগণ যখন ‘অন্তর হতে বচন আহরণ’ করে আত্মপ্রকাশ কলায় ‘গীতরস ধারা’য় সিঞ্চন করে ‘আনন্দলোকে’ নিজের কথা- পরের কথা- বাইরের জগতের কথা আত্মগত উপলব্ধির রসে প্রকাশ করেন- তখনই তা হয়ে ওঠে সাহিত্য। রবীন্দ্রনাথের কথায় “বহিঃপ্রকৃতি এবং মানব-চরিত্র মানুষের মধ্যে অনুক্ষণ যে আকার ধারণ করিতেছে, যে-সঙ্গীত ধ্বনিত করিয়া তুলিতেছে, ভাষা-রচিত সেই চিত্র এবং সেই গানই সাহিত্য।…সাধারণের জিনিসকে বিশেষভাবে নিজের করিয়া – সেই উপায়ে তাহাকে পুনরায় বিশেষভাবে সাধারণের করিয়া তোলাই হচ্ছে সাহিত্যের কাজ।” [রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সাহিত্য] সাহিত্য সত্য-সুন্দরের প্রকাশ হিসেবে প্রবহমাণ সময়ে যা ঘটে – সে-সবের মধ্য থেকে যা মহৎ, যা বস্তুসীমাকে ছাড়িয়ে বাস্তবাতীত প্রকাশ করে, যা জীবনের জন্য কল্যাণময় এবং মহৎ আদর্শের দ্যোতক তাকেই প্রকাশ করে। আসলে মহৎ সাহিত্য তাই- যা একাধারে সমসাময়িক-শাশ্বত-যুগধর্মী-যুগোপযোগী-যুগোত্তীর্ণ। সাহিত্য কেবল পাঠককে আনন্দ দেয় না- সমানভাবে প্রভাবিত করে পাঠক এবং সমাজকে।

আভিধানিকভাবে ‘সহিতের ভাব’ বা ‘মিলন’ অর্থে ‘সাহিত্য’ হলো কাব্য, নাটক, গল্প, উপন্যাস ইত্যাদি সৃজনশিল্পের মাধ্যমে এক হৃদয়ের সঙ্গে অন্য হৃদয়ের সংযোগ স্থাপন; সাহিত্য¯্রষ্টা-সাহিত্যের সাথে পাঠকের এক সানুরাগ বিনিময়। কিন্তু আভিধানিক অর্থের নির্দিষ্ট সীমায় সাহিত্যের স্বরূপ-গতি-প্রকৃতি-বৈচিত্র্য ও বিস্তৃতির সম্যক ধারণা দেওয়া যেমন অসম্ভব, কোনো বিশেষ সংজ্ঞায় তাকে সুনির্দিষ্ট করে দেওয়াও তেমন দুঃসাধ্য। বাচ্যার্থ ও ব্যঞ্জনার্থর সীমাকে অতিক্রম করে নানা রূপে, রসে, প্রকরণ ও শৈলীতে সাহিত্যের নিরন্তর যাত্রা সীমা থেকে অসীমে। প্রত্যক্ষ সমাজপরিবেশ তথা সমকালীন বাস্তব পারিপার্শ্বিক, নিসর্গপ্রীতি ও মহাবিশ্বলোকের বৃহৎ-উদার পরিসরে ব্যক্তিচৈতন্য ও কল্পনার অন্বেষণ ও মুক্তি- আর এইভাবেই শ্রেণিবিভাজন, নামকরণ ও স্বরূপমীমাংসার প্রচেষ্টাকে ছাপিয়ে উঠে সাহিত্যের যাত্রা সীমাহীনতায়। প্রকৃত সাহিত্য তাই যেমন তার সমসময় যা যুগমুহূর্তের, তেমনই তা সর্বকালের সর্বজনের। মার্কসবাদী সাহিত্যতত্ত্বে বাস্তব সমাজজীবনকে ‘ভিত্তি’ আর শিল্প-সাহিত্যকে সমাজের উপরিকাঠামোর [ঝঁঢ়বৎংঃৎঁপঃঁৎব] অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। সাহিত্যের মৌল উপকরণসামগ্রী আহৃত হয় জীবনের ভা-ার থেকে- সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বৈরিতার বিচিত্র-অনিঃশেষ ভা-ার থেকে। সাহিত্যসৃষ্টির মূলে সক্রিয় যে সৃজনী-ব্যক্তিত্ব তা নিছক বিমূর্ত কোনো সত্তা নয়; আত্মপ্রকাশ ও মানবিক সংযোগ ও বিনিময়ের বাসনায় অনুপ্রাণিত সে সত্তা তার ভাব-ভাবনা, বোধ ও বিশ্বাসকে এক আশ্চর্য কৌশলে প্রকাশ করে জনসমক্ষে কোনো একটি বিশেষ রূপ-রীতি-নীতির আশ্রয়ে। ব্যক্তিক অনুুভূতি-যাপিতজীবন-মিশ্রকল্পনার জগৎ থেকেই সৃষ্টি হয় সাহিত্যের; যুগান্তরের আলোকবর্তিকা হিসেবে সাহিত্য সত্যের পথে সবসময় মাথা উঁচু করে থেকেছে- সত্যকে সন্ধান করেছে। আসলে সাহিত্য এমনি এক দর্পণ- যাতে প্রতিবিম্বিত হয় মানবজীবন, জীবনের চলচ্ছবি, পরিবেশ-প্রতিবেশ, সমাজজীবনে ঘটমান ইতিহাস- ইতিহাসের চোরাস্রােত নানাবিধ কৌণিক সূক্ষ্মতায়।

সাধারণত আত্মপ্রকাশের বাসনা, সমাজ-সত্তার সঙ্গে সংযোগ কামনা, অভিজ্ঞতার আলোয় কল্পলোক নির্মাণ এবং রূপপ্রিয়তা- এই চতুর্মাত্রিক প্রবণতাই মানুষের সাহিত্য-সাধনার মৌল-উৎস। চতুর্মাত্রিক প্রবণতার [আত্মপ্রকাশের কামনা, পারিপার্শ্বিকের সাথে যোগাযোগ বা মিলনের কামনা, কল্প-জগতের প্রয়োজনীয়তা এবং সৌন্দর্য-সৃষ্টির আকাক্সক্ষা বা রূপমুগ্ধতা] মধ্যে সমাজসত্তার সঙ্গে সংযোগ-কামনা এবং অভিজ্ঞতার আলোয় কল্পলোক নির্মাণ- এই উৎসদ্বয়ের মধ্যে নিহিত রয়েছে সাহিত্য ও সমাজের মধ্যে আন্তর-সম্পর্কের প্রাণ-বীজ। সমাজ শিল্পীকে সাহিত্য-সাধনায় প্রণোদিত করে। ‘সহৃদয়-হৃদয় সংবাদ’এর মাধ্যমে সাহিত্যিকগণ লেখক-পাঠকের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করেন- উভয়ের হৃদয়বীণার তারগুলোকে একই সুতায় গেঁথে দেন। এর কারণে সাহিত্য দেশ-কাল-সমাজের সীমা অতিক্রম করে সর্বসাধারণের হৃদয়কে আকর্ষণ করে। এর ফলে সাহিত্য হয়ে ওঠে সার্বজনীন-সর্বকালের মানুষের হৃদয়ের সামগ্রী এবং সাহিত্য¯্রষ্টাও হয়ে ওঠেন অনেক বড়। কিন্তু বর্তমান বাংলা সাহিত্যচর্চার গতি-প্রকৃতি, সমস্যা-সংকট-সমাধান কোন দিকে? এসব বিষয়ের সন্ধান- এ প্রবন্ধের অন্বিষ্ট।

3.1k
উত্তরঃ

আমাদের লোকশিল্প প্রবন্ধটি আমাদের লোককৃষ্টি গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে। লেখক এ প্রবন্ধে বাংলাদেশের লোকশিল্প ও লোক-ঐতিহ্যের বর্ণনা দিয়েছেন । এ বর্ণনায় লোকশিল্পের প্রতি তার গভীর মমত্ববোধের পরিচয় রয়েছে।
আমাদের নিত্যব্যবহার্য অধিকাংশ জিনিসই এ কুটিরশিল্পের ওপর নির্ভরশীল ।

শিল্পগুণ বিচারে এ ধরনের শিল্পকে লোকশিল্পের মধ্যে গণ্য করা যেতে পারে । পূর্বে আমাদের দেশে যে সমস্ত লোকশিল্পের দ্রব্য তৈরি হতো তার অনেকগুলোই অত্যন্ত উচ্চমানের ছিল। ঢাকাই মসলিন তার অন্যতম। ঢাকাই মসলিন অধুনা বিলুপ্ত হলেও ঢাকাই জামদানি শাড়ি অনেকাংশে সে স্থান অধিকার করেছে।

বর্তমানে জামদানি শাড়ি দেশে-বিদেশে পরিচিত এবং আমাদের গর্বের বস্তু। নকশি কাথা আমাদের একটি গ্রামীণ লোকশিল্প। এ শিল্প আজ বিলুপ্তপ্রায় হলেও এর কিছু কিছু নমুনা পাওয়া যায়। আপন পরিবেশ থেকেই মেয়েরা তাদের মনের মতো করে কীথা সেলাইয়ের অনুপ্রেরণা পেতেন । কাঁথার প্রতিটি সুচের ফোঁড়ের মধ্যে লুকিয়ে আছে এক-একটি পরিবারের কাহিনী, তাদের পরিবেশ, তাদের জীবনগাঁথা ।

আমাদের দেশের কুমোরপাড়ার শিল্পীরা বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্র ছাড়াও পোড়ামাটি দিয়ে নানা প্রকার শৌখিন দ্রব্য তৈরি করে থাকে। নানা প্রকার পুতুল, মূর্তি ও আধুনিক রুচির ফুলদানি, ছাইদানি, চায়ের সেট ইত্যাদি তারা গড়ে থাকে।
খুলনার মাদুর ও সিলেটের শীতলপাটি সকলের কাছে পরিচিত। আমাদের দেশের এই যে লোকশিল্প তা সংরক্ষণের দায়িত আমাদের সকলের । লোকশিল্পের মাধ্যমে আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারি।

arif
arif
3 years ago
3.6k
উত্তরঃ

আমাদের অর্থনৈতিক সম্পদ

 

বাংলাদেশ, একটি দ্রুত উন্নতি লক্ষ্য নির্ধারণ করা দেশ, যা প্রচুর অর্থনৈতিক সম্পদের বেশিরভাগ সম্পদ নিয়ে এগিয়ে চলেছে। এই দেশের অর্থনৈতিক সম্পদ মৌলিকভাবে চারটি প্রধান উৎস থেকে আসে: জমি, কাজ, উদ্যোগ, এবং মানুষের কাজের দক্ষতা। এই সম্পদের বিকাশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, আর্থিক এবং সামাজিক পরিবর্তনের ভূমিকা রয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদের মূল স্তম্ভ হল কৃষি। দেশটি একটি প্রধানত কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির মূল হিসেবে প্রধানত শস্য ও ফসল চাষ প্রসঙ্গে বিকাশ হয়েছে। বাংলাদেশে প্রধানত ধান, পাট, মশুর ডাল, আখ, পটল, পেঁপে, তেল সহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। অত্যন্ত উচ্চ মানের খাদ্য সামগ্রী উৎপাদনের ফলে এই খাদ্য পণ্য রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সম্পদের গড়াতে সাহায্য করে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উৎস হল প্রবৃদ্ধি ও শিক্ষাগত উন্নতি। বাংলাদেশে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অভাব কমে আসছে এবং মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি করছে। বিশেষত, প্রযুক্তির আগমন এবং বিনিয়োগে বৃদ্ধি নেওয়া হচ্ছে, যা অর্থনৈতিক সম্পদের উন্নতির পথে সাহায্য করছে।

অন্যান্য উৎস হিসেবে প্রযুক্তিবিদ্যা এবং সেবা অংশ গুলির অগ্রগতি আছে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সম্পদ হল তার মানুষের চাকরিভার্থী শ্রমিকেরা। তাদের দক্ষতা, উদ্যোগ, ও সামর্থ্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

যদিও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদ উন্নতির পথে অনেক উত্সাহজনক প্রগতি হয়েছে, তবে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ র

য়েছে। প্রধানতঃ গরিব মানুষের জন্য আর্থিক সম্পদের অগ্রগতি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখনও বেশিরভাগ লোকের মধ্যে বৃদ্ধির অভাব আছে। তাছাড়া, পরিবেশের সম্পদ সংরক্ষণের জন্য সঠিক প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন।

পুনর্নির্মাণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পদের বিস্তার ও উন্নতি নিশ্চিত করতে পারে। সঠিক নীতি নির্ধারণ, উদ্যোগের বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত প্রবর্তন এবং শিক্ষাগত উন্নতি এমন পরিবর্তন নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে।

শেষ কথায়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা দেশটির সমৃদ্ধি ও উন্নতির সাথে অবিভাজ্যভাবে সংযোগিত। একটি দ্রুত বৃদ্ধির উপায় হল সঠিক পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা এবং উদ্যোগের বৃদ্ধি করা। এই প্রস্তুতি নেওয়ার মাধ্যমে, বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক সম্পদ উন্নতির পথে আরও এগিয়ে যেতে পারে এবং তার মানুষের জন্য আরো উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।

2.3k
উত্তরঃ

"বিক্ষুব্ধ পূর্ব ইউরোপ" বলতে পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ১৯৮৯ সালের পর সাম্যবাদী শাসনের পতন এবং এর ফলে উদ্ভূত রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতাকে বোঝায়। এই সময়কালে, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো গণতন্ত্র ও বাজার অর্থনীতির দিকে ধাবিত হয়, যার ফলে নতুন জাতীয়তাবাদ, অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সামাজিক পরিবর্তন দেখা যায়। 

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও কারণ: 

সাম্যবাদের পতন:

১৯৮৯ সালের ঐতিহাসিক বছরটি পূর্ব ইউরোপে সাম্যবাদী ব্যবস্থার পতন ঘটায়, যা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এই পরিবর্তনের ফলে দেশগুলো তাদের সাম্যবাদী অতীত থেকে মুক্তি পেতে শুরু করে।

গণতন্ত্রের পথে যাত্রা:

সাম্যবাদের পতনের পর পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও মুক্ত বাজার অর্থনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ে।

বিক্ষোভ ও অস্থিতিশীলতার কারণসমূহ: 

অর্থনৈতিক সংকট:

সাম্যবাদী অর্থনীতি থেকে বাজার অর্থনীতিতে উত্তরণ অনেক দেশে অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করে। বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, এবং ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য বাড়ে, যা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করে।

জাতীয়তাবাদের উত্থান:

অনেক দেশে সাম্যবাদী শাসনের অবসানের পর বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে জাতীয়তাবোধ তীব্র হয়, যা নতুন করে জাতিগত সংঘাতের জন্ম দেয়।

রাজনৈতিক অস্থিরতা:

নতুন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো সুসংহত হতে সময় লাগে, ফলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। অনেক দেশে ক্ষমতা ও আদর্শের লড়াইয়ের কারণে সহিংসতাও ঘটে।

সামাজিক পরিবর্তন:

পুরনো সাম্যবাদী নীতি ও ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন সামাজিক কাঠামো ও মূল্যবোধের জন্ম হতে থাকে, যা সমাজের বিভিন্ন স্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।

গুরুত্বপূর্ণ দিক: 

  • এই বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতি পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে এক নতুন যুগের সূচনা করে, যেখানে তারা তাদের নিজস্ব পথে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ পায়।
  • যদিও এই পরিবর্তন প্রক্রিয়াটি কঠিন ছিল, এটি এই অঞ্চলে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এইভাবে, "বিক্ষুব্ধ পূর্ব ইউরোপ" মূলত সেই সময়ের পরিবর্তন, অস্থিরতা এবং নতুন করে গড়ে ওঠার জটিল প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে, যা সাম্যবাদের পতন ও গণতান্ত্রিক যাত্রার ফলস্বরূপ ঘটেছিল। 

Joy Roy
Joy Roy
8 months ago
2.2k
উত্তরঃ

পররাষ্ট্রনীতি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতির সম্প্রসারণ। পররাষ্ট্রনীতি হলো কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের গৃহীত সেসব নীতি যা রাষ্ট্র তার রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে সম্পাদন করে থাকে। অন্য রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতাকে তুলে ধরে।

১৯৭১ সালে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। স্বাধীনতা লাভের পরবর্তী সময়ে ভৌগোলিক অবস্থান, স্বল্প পরিসরের ভূখন্ড এবং সীমিত অর্থনৈতিক সম্পদ ইত্যাদি বিভিন্ন নিয়ামক বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের সুযোগকে সীমাবদ্ধ করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি মূলত বহিঃশক্তির প্রভাব থেকে  দেশের সাবভৌমত্ব ও ভূখন্ডকে রক্ষা করার মতো বিষয়েই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে।

পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কীয় সাংবিধনিক বিধান  বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নির্দেশনা রয়েছে। এই নির্দেশনাসমূহ বাংলাদেশ সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে। এগুলি হলো:

জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অপর রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা, এ সকল নীতিই হবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এ সকল নীতির ভিত্তিতে-

১. রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকা এবং সাধারণ ও পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করবে; প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করবে; এবং সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ বা বর্ণ্যবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করবে।

২. রাষ্ট্র ইসলামী সংহতির ভিত্তিতে মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক সংহত, সংরক্ষণ এবং জোরদার করতে সচেষ্ট হবে। সংবিধানের ৬৩ অনুচ্ছেদে যুদ্ধ-ঘোষণা সংক্রান্ত নীতি উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে সংসদের সম্মতি ব্যতিত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না, কিংবা প্রজাতন্ত্র কোনো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না। অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক)তে বৈদেশিক চুক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে: ‘বিদেশের সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হবে, এবং রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পেশ করার ব্যবস্থা করবেন। তবে শর্ত হচ্ছে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট অনুরূপ কোন চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হবে।’

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতিসমূহ  পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কিছু মূলনীতি অনুসরণ করে থাকে। জাতিসংঘ এবং ন্যামের মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ এসব সংগঠনের মূলনীতিসমূহ মেনে চলে, এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান নীতিসমূহ এসব সংগঠনের নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান চারটি মূলনীতি হলো:

সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়  একটি দরিদ্র রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল হবার কারণে বাংলাদেশকে বিভিন্ন মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হতে হয়। এ কারণেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমান পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি হিসেবে বলেছিলেন, ‘আমাদের একটি ক্ষুদ্র দেশ, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়, আমরা চাই সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব’।

অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখন্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন  বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য। জাতিসংঘ সনদের ২(৪) ধারায় বলা হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সকল সদস্য-রাষ্ট্র আঞ্চলিক অখন্ডতার বিরুদ্ধে কিংবা অন্য কোনো রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের ভীতি প্রদর্শন থেকে এবং জাতিসংঘের উদ্দেশ্যের সংঙ্গে সামঞ্জস্যহীন কোনো উপায় গ্রহণ করা থেকে নিবৃত্ত থাকবে’।

অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করা  জাতিসংঘ সনদের ২(৭) ধারায় বলা হয়েছে যে,  ‘বর্তমান সনদ জাতিসংঘকে কোনো রাষ্ট্রের নিছক অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অধিকার দিচ্ছে না বা সেরূপ বিষয়ের নিষ্পত্তির জন্য কোনো সদস্যকে জাতিসংঘের দারস্থ হতে হবে না; কিন্তু সপ্তম অধ্যায় অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে এই নীতি অন্তরায় হবে না’। জাতিসংঘের একটি সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এই মূলনীতির উপর তার পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করেছে, যা অন্য রাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে প্রকাশিত।

২০০৯ সালে পুনরায় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে, এবং প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনয়নের কথা ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের নিরাপত্তা ধারণা বিবেচনায় রেখে প্রায় তিন দশক পর ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি সরকার রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে রাশিয়ার সাহায্যে দেশে পারমাণবিক প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সময়ের পরিবর্তনের সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যত অর্জনের সম্ভাবনা অনেকটা ক্ষীণ হয়ে পড়ছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ তার প্রতিবেশী এবং আঞ্চলিক রাষ্ট্রসমূহের সাথে এবং বিশ্বের আরো কিছু রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়’ একটি সত্তুরের দশকের ধারণা, যা প্রায় ৪০ বছরের পুরনো। বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব প্রেক্ষাপটে পুরনো ধারার পরররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত তার অর্জনের সম্ভাবনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সুতরাং পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য নিয়ে নতুন কৌশল-পরিকল্পনা করা উচিত, যার মাধ্যমে পরিবর্তিত বিশ্বে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারে।  [ঊর্মি হোসেন]

Md. Aminul Islam
Md. Aminul Islam
2 years ago
4.4k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews