প্রভাত ফেরি, প্রভাত ফেরি আমায় নিবে সঙ্গে বাংলা আমার বচন আমি জন্মেছি এই বঙ্গে। আগামীকাল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে রাতুল আবৃত্তি করবে। তার মা কবিতাটি শেখাচ্ছেন। রাতুলের আবৃত্তি শুনে বৃদ্ধ দাদু মোশারফ সাহেবের তার ছাত্রজীবনের একটি আন্দোলনের কথা মনে পড়ে গেল। ফেব্রুয়ারি মাসের সেই দিনে ঢাকা শহরে ছাত্রজনতা বিশাল মিছিল নিয়ে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করতে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। শুরু হয় পুলিশের সাথে সংঘর্ষ। সেই গোলাগুলিতে অনেকে শহিদ হন।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয় ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট রাতে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ২ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়। এটি একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। এ সংগঠনটির উদ্দেশ্য ছিল বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার এবং এজন্য আন্দোলন গড়ে তোলা এবং বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা। তাই তো ৬-৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত যুবকর্মী সম্মেলনে 'বাংলাকে শিক্ষা ও আইন আদালতের বাহন' করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর এ সংগঠন 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে। এসময় তমদ্দুন মজলিশ 'ভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে মোশারফ সাহেবের মনে পড়া আন্দোলনটি ভাষা আন্দোলনকে নির্দেশ করছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা। ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে করাচিতে অনুষ্ঠিত এক শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে পূর্ব বাংলায় তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি ওঠে, লেখালেখি শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মিছিল, সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তান সরকার ১৪৪ ধারা জারিসহ সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গণপরিষদের ভাষা হিসেবে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ব্যবহারের দাবি জানান। কিন্তু তা অগ্রাহ্য হয়। একই সালের ১৯ মার্চ গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেন। এর প্রতিবাদে ছাত্র সমাজ ৩০ জানুয়ারি ধর্মঘট পালন করে। ২১ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট এবং ঐদিন রাষ্ট্রভাষা দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কিন্তু ২০ ফেব্রুয়ারি সরকারি এক ঘোষণায় ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪৪ ধারা জারিসহ সভা, সমাবেশ, মিছিল এক মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় (ঢাকা মেডিকেল কলেজের সম্মুখ চত্বর) একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, ১০ জন করে মিছিল শুরু করা হবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের দিক থেকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল এগিয়ে চলে। পুলিশ প্রথমে কয়েকজনকে গ্রেফতার করে, মিছিলে লাঠিচার্জ ও -কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে আবুল বরকত, জব্বার, রফিক, সালামসহ আরও অনেকে শহিদ হন  এবং অসংখ্য লোক আহত হন। ১৯৪৭ সালে সূচিত রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সালে প্রতিবাদ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে পরিণত হয়।

 

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে উক্ত আন্দোলন অর্থাৎ ভাষা আন্দোলন সকলকে ঐক্যবদ্ধ করেছে।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পাকিস্তান রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে এটি ছিল বাঙালি জাতির প্রথম প্রতিবাদ ও বিদ্রোহ, বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম প্রেরণা। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই বাঙালি জাতি পাকিস্তান সরকারের অবহেলা, বঞ্চনা, শোষণের জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছিল। মাতৃভাষা বাংলার প্রতি অবমাননা বাঙালির মনকে প্রবল নাড়া দিয়েছিল। তারা বুঝতে পেরেছিল পাকিস্তানের হাতে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি কিছুই নিরাপদ নয়। তাই পাকিস্তানের প্রতি আগে যে মোহ ছিল তা দ্রুত কেটে যেতে থাকে। নিজস্ব জাতিসত্তা সৃষ্টিতে ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক এবং গুরুত্ব পূর্ব বাংলায় মানুষের কাছে অধিকতর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাঙালি হিসেবে নিজেদের আত্মপরিচয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি গড়ে তোলার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে থাকে। এরই ভিত্তিতে বাঙালি জাতি এক হতে থাকে এবং ভাষা আন্দোলন গড়ে তুলে। প্রথমে এ আন্দোলন শিক্ষিত ও ছাত্রসমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে পূর্ব বাংলার সব ধরনের লোক এতে অংশগ্রহণ করে। ভাষাকেন্দ্রিক এ ঐক্যই জাতীয়তাবাদের মূলভিত্তি রচনা করে যা পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুতরাং বাঙালির জাতীয়তাবাদের বিকাশে ভাষা আন্দোলন সকলকে ঐক্যবদ্ধ করেছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
447
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

৬ দফা দাবিনামায় পূর্ব বাংলার জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সকল অধিকারের কথা তুলে ধরা হয় বলে একে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বলা হয়।

ছয় দফা কর্মসূচি বাঙালির জাতীয় চেতনামূলে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার কথা বলা না হলেও এ ৬ দফা কর্মসূচি বাঙালিদের স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। এ ছয় দফা দাবির পথ ধরে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি। এ কারণে ছয় দফাকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বলা হয়।

 

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
323
উত্তরঃ

সারণি-ক থেকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে।

পাকিস্তান সৃষ্টির আগে পূর্ব বাংলা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে অগ্রসর ছিল। কিন্তু ১৯৪৭ সালে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসনশোষণ প্রতিষ্ঠার ফলে পূর্ব পাকিস্তান দ্রুত পিছিয়ে যেতে থাকে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পেতে থাকে দুই অঞ্চলের মধ্যকার বৈষম্য। এসব ক্ষেত্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র অন্যতম। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনীতে বাঙালিদের নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য বিরাজ করছিল। মোট অফিসারের মাত্র ৫%, সাধারণ সৈনিকদের 'মাত্র ৪%, নৌবাহিনীর উচ্চপদে ১৯%, নিম্নপদে ৯%, বিমানবাহিনীর পাইলটদের ১১% এবং টেকনিশিয়ানদের ১.৭% ছিল বাঙালি।

উদ্দীপকের সারণি-ক থেকে উপরোল্লিখিত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের বৈষম্যের চিত্রই দেখতে পাই। অতএব বলা যায়, সারণি-ক থেকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের বৈষম্য ফুটে উঠেছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1.3k
উত্তরঃ

উদ্দীপকে সারণি-খ এ প্রদর্শিত বৈষম্যের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রকৃত অবস্থা ছিল ভয়াবহ বৈষম্যমূলক।

পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে পূর্ব বাংলার চেয়ে পশ্চিম পাকিস্তান অনেক বেশি অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ করেছিল। ১৯৫৫-৫৬ থেকে ১৯৫৯-৬০ অর্থবছর পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান লাভ করেছিল মোট বাজেটের বরাদ্দের মাত্র ১১৩ কোটি ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা, অপরদিকে পশ্চিম পাকিস্তান পেয়েছিল ৫০০ কোটি টাকা। একইভাবে ১৯৬০-৬১ থেকে ১৯৬৪-৬৫ অর্থবছর পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল ৬৪৮০ মিলিয়ন টাকা আর পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষেত্রে তা ছিল ২২,২৩০ মিলিয়ন টাকা। পূর্ব বাংলার পাট, চা, চামড়া প্রভৃতি বিদেশে রপ্তানি করে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো, তার সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় হতো। ফলে ব্যবসায় বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন, কৃষিসহ অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের চাইতে কয়েকগুণ পিছিয়ে পড়ে।

পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে প্রদর্শিত সারণি-খ এর মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে। এ বৈষম্য ছিল ভয়াবহ ও হতাশাব্যঞ্জক।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1k
উত্তরঃ

বাংলা ভাষা-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বাঙালির জাতিগত পরিচয়ে যে জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠে, সে জাতীয় ঐক্যকে বলা হয় বাঙালি জাতীয়তাবাদ। মূলত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আমাদের মধ্যে যে জাতীয় চেতনার জন্ম হয়, তাই বাঙালি জাতীয়তাবাদ। বাঙালি জাতীয়তাবাদ হচ্ছে বাঙালি জাতির ঐক্যের প্রতীক।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
2.5k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews