রাষ্ট্রীয় কল্যাণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র কর্তৃক গঠিত বা জাতীয়করণকৃত কোনো ব্যবসায়ের মালিকানা, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের অধীনে থাকলে তাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় বলে।
PPP (পিপিপি)-এর পূর্ণরূপ হলো Public-Private Partnership (সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব)।
যৌথ অর্থায়নে বা সামর্থ্যের সহযোগে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায় কার্যক্রমকে পিপিপি (সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বভিত্তিক) বলে। একটি দেশের সরকারকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করতে হয়। এ উদ্দেশ্যে সরকার বিভিন্ন বেসরকারি খাতের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এতে সরকারের আর্থিক চাপ কমে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে ট্যাক্স সুবিধা ভোগ করে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে অংশগ্রহণ করতে পারে।
উদ্দীপকে যে ধরনের পিপিপির বর্ণনা আছে সেটি হলো বিওওটি (BOOT)।
BOOT এর পূর্ণ রূপ হলো Build-Own-Operate-Transfer,। এ ক্ষেত্রে নির্মাণ (Building), মালিকানা (Ownership), পরিচালনা (Operating) ও হস্তান্তর (Transfer) পর্যায়ক্রমে সংঘটিত হয়। অর্থাৎ যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়, সবাই মালিকানা পায়। একত্রে পরিচালনা করে ও একপর্যায়ে মালিকানা সরকারি খাতে স্থানান্তরিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাবের কারণে একটি দেশের সরকার একটি বিদেশি নির্মাণ কোম্পানির সাথে যৌথভাবে সে দেশের একটি শহরে পাতাল রেলপথ তৈরি করল। দেশটির সরকার মূলধন সংস্থান করল। বিদেশি কোম্পানিটি উহার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে। যেহেতু এক্ষেত্রে অবকাঠামো চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় অর্থাৎ ১০ বছর পর্যন্ত বেসরকারি মালিকানায় ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে। অতঃপর মেয়াদান্তে এর মালিকানা ও পরিচালনার দায়িত্ব সরকারের নিকট হস্তান্তর করা হবে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে যে ধরনের পিপিপির বর্ণনা আছে সেটি হলো বিওওটি (BOOT)
"তোমার জয়, আমার জয়-, সরকার এবং বিদেশি কোম্পানি উভয়ের জন্য এটি এক ধরনের একটি সম্পর্ক"- আমি এ বক্তব্যটির সাথে একমত পোষণ করছি। কেননা এতে উভয় পক্ষই লাভবান হয়। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (PPP) ভিত্তিক ব্যবসায় হলো দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারি ব্যবস্থা যেখানে জনগণকে সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বেসরকারি খাত সরকারের সাথে চুক্তি করে যৌথভাবে মূলধন বিনিয়োগ করে। এতে উভয়ের মধ্যে শুধু সহযোগিতার সম্পর্কের উন্নয়নই ঘটে না সেই সাথে সরকারের আর্থিক চাপ হ্রাস পায়। অন্যদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিতে ও সরকারি ট্যাক্স সুবিধা ভোগ করে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে অংশ নিতে পারে। ফলে উভয়পক্ষই উপকৃত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাবের কারণে একটি দেশের সরকার একটি বিদেশি নির্মাণ কোম্পানির সাথে যৌথভাবে সে দেশের একটি শহরে পাতাল রেলপথ তৈরি করল। দেশটির সরকার মূলধন সংস্থান করল। বিদেশি কোম্পানিটি ১০ বছর তার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে। ফলে বিদেশই প্রযুক্তিগত সহায়তায় ঐ দেশের সরকার নিজ দেশে পাতাল রেলপথ তৈরি করে যেমনি নিজ দেশের উন্নয়ন করতে সক্ষম হলো, তেমনি বিদেশি কোম্পানিটি ১০ বছর উক্ত প্রকল্প পরিচালনার সুযোগ পেয়ে প্রচুর আয়ের সুযোগ পেল এবং মেয়াদ শেষে চুক্তি মোতাবেক নিজেদের পুঁজি লাভসহ ফেরত পেল। মূলত এতে উভয়পক্ষই লাভবান হলো।
সুতরা বলা যায়, "তোমার জয়, আমার জয়- সরকার এবং বিদেশি কোম্পানি উভয়ের জন্য এটি এক ধরনের একটি সম্পর্ক”- আমি এ বক্তব্যটির সাথে একমত পোষণ করছি। কেননা এতে উভয়পক্ষই লাভবান হয়।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!