বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরী। তীক্ষ্ণ মননশীলতা, বাকচাতুর্যের চমৎকারিত্ব এবং বুদ্ধির অসিচালনা ছিল তাঁর ভাষাগত বিশেষত্ব। তিনি ১৮৯৯ সালে রবীন্দ্রনাথের অগ্রজ বাংলা প্রথম সিভিলিয়ান সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মেয়ে ইন্দিরা দেবীকে বিয়ে করেন। তিনি রবীন্দ্রনাথকে বাংলা গদ্যে চলিত রীতি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করেন।
প্রমথ চৌধুরী ৭ আগস্ট, ১৮৬৮ সালে যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস- পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর গ্রাম।
তাকে বলা হয় বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক।
প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম-বীরবল।
প্রমথ চৌধুরীর প্রথম প্রবন্ধ 'জয়দেব' ১৮৯৩ সালে 'সাধনা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
'হালখাতা' ('ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশ- ১৯০২), এ গদ্য /প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।বাংলা কা
ব্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
তিনি 'সবুজপত্র' (১৯১৪), 'বিশ্বভারতী পত্রিকা' সম্পাদনা করেন।
তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৩৮ সালে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক লাভ করেন। উল্লেখ্য, স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় নিজ মাতার নামে এ পদক প্রবর্তন করেন।
তিনি ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৬ সালে (১৬ ভাদ্র, ১৩৫৩ বঙ্গাব্দ) শান্তিনিকেতনে মারা যান।
চলিত রীতিতে রচিত তাঁর প্রথম গদ্যরচনাঃ
'হালখাতা' (১৯০২): এটি 'ভারতী' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। [বাজারের অধিকাংশ বইয়ে লেখা যে, চলিত ভাষায় রচিত প্রমথ চৌধুরীর প্রথম গ্রন্থ 'বীরবলের হালখাতা'। প্রকৃতপক্ষে এটি হবে 'হালখাতা'। কারণ, 'বীরবলের হালখাতা' প্রবন্ধগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সালে আর 'হালখাতা' গদ্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে। (সূত্র: বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান)]। উল্লেখ্য, চলিত ভাষায় রচিত প্রথম গ্রন্থ কোনটি? এ প্রশ্নের উত্তরের অপশনে 'হালখাতা' না থাকলে 'বীরবলের হালখাতা' উত্তর দিতে হবে। কারণ, অধিকাংশ প্রশ্নকর্তা বিগত সালের পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো নতুন প্রশ্নে অপশনসহ হুবহু তুলে দেয়।
ভানুসিংহ ছিল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ছদ্মনাম। তিনি এই ছদ্মনামে "ভানুসিংহের পদাবলী" নামক একটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। এই কাব্যগ্রন্থটি মূলত বৈষ্ণব পদাবলীর ঢঙে লেখা একগুচ্ছ কবিতা নিয়ে গঠিত। রবীন্দ্রনাথ তাঁর কৈশোরকালে বৈষ্ণব সাহিত্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এই কবিতাগুলো লেখেন, যেখানে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা, বিরহ ও মিলনকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরা হয়েছে। এটি বাংলা সাহিত্যে তাঁর প্রাথমিক কাব্যপ্রতিভার এক অনন্য নিদর্শন এবং একটি স্বতন্ত্র সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাংলা কথ্যরীতিতে রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো প্যারীচাঁদ মিত্রের 'আলালের ঘরের দুলাল'। ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী রচনা। এর পূর্বে বাংলা গদ্য সাহিত্য প্রধানত সংস্কৃত প্রভাবিত সাধু ভাষায় লেখা হতো। প্যারীচাঁদ মিত্র প্রচলিত কথ্যভাষা বা 'আলালী ভাষা' ব্যবহার করে একটি নতুন ধারার সূচনা করেন, যা পরবর্তীতে চলিত রীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই উপন্যাসে তৎকালীন বাঙালি সমাজের বাস্তব চিত্র, বিশেষ করে বিত্তবান পরিবারের সন্তানদের উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন ও তাদের পরিণতির কথা তুলে ধরা হয়েছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস হলো বৌ-ঠাকুরাণীর হাট। এটি ১৮৮৩ সালে প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসের কাহিনি মূলত যশোহরের রাজা প্রতাপাদিত্যের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অবলম্বনে রচিত, যেখানে ক্ষমতা লিপ্সা, পারিবারিক সংঘাত এবং রাজদ্রোহের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এটি রবীন্দ্রনাথের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস হিসেবেও পরিচিত। তাঁর দ্বিতীয় ঐতিহাসিক উপন্যাস, রাজর্ষি, ১৮৮৭ সালে প্রকাশিত হয় এবং এর বিষয় ত্রিপুরা রাজ্যের ইতিহাস ও ধর্মীয় গোঁড়ামি।