উদ্দীপকের প্রাণজিৎ পুণ্যসম্পদকে প্রকৃত ধন মনে করেন। সাধারণত ধন বলতে টাকা পয়সা, অলঙ্কার, জমি, গাড়ি, বাড়ি প্রভৃতি বোঝায়। মানুষ ভবিষ্যতের সুখের আশায় এসব ধন সঞ্চয় করে। রাজার দৌরাত্ম্য, চোরের উৎপীড়ন, ঋণ, দুর্ভিক্ষ ও আপদ হতে মুক্তির নিমিত্ত মানুষ এসব ধন প্রোথিত করে রাখে বা গোপন স্থানে সংরক্ষণ করে রাখে। কিন্তু এসব ধন চুরি, ছিনতাই, আগুন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রভৃতি কারণে নষ্ট হতে পারে। অপ্রিয় উত্তরাধিকারীগণের হস্তগত হতে পারে। এসব ধন সবসময় অধিকারীর (মালিকের) উপকার সাধন করতে পারে না। পরলোকে গমন করে না। তাছাড়া, এরূপ ধনের কারণে হিংসা-বিদ্বেষ-লোভ-মোহ সৃষ্টি হতে পারে। প্রাণহানি ঘটতে পারে। পারস্পরিক সুসম্পর্ক নষ্ট হতে পারে। এসব ধন সুরক্ষিত নয়। তাই বুদ্ধ এগুলোকে প্রকৃত ধন হিসেবে আখ্যায়িত করেননি। নিধিকুন্ড সূত্রে বুদ্ধ প্রকৃত ধন সম্পর্কে সঠিক ধারণা প্রদান করেন। দান, শীল, ভাবনা এবং 'আত্মসংযম দ্বারা অর্জিত পুণ্যসম্পদই প্রকৃত ধন। চৈত্য, সংঘ, শীলবান ব্যক্তি, অতিথি, মাতাপিতা, বয়োজ্যেষ্ঠদের সেবায় অর্জিত পুণ্যসম্পদই প্রকৃত ধন। এসব ধন স্বয়ং সুরক্ষিত। এ ধনসম্পদ কেউ হরণ করতে পারে না, কখনও বিনষ্ট হয় না। প্রয়োজনে উপকারে আসে এবং সবখানে অনুগমন করে। অতএব পুণ্য সম্পদই প্রকৃত এবং সুরক্ষিত ধন!
Related Question
View Allঅপ্রমাদ বর্গে ১২টি গাথার কথা উল্লেখ আছে।
'অপ্রমাদ' শব্দের অর্থ হচ্ছে উদ্যম, উৎসাহ, উত্থানশীলতা, জাগ্রতভাব, স্মৃতিমান, সংযমশীলতা ইত্যাদি। অপ্রমাদ বুদ্ধের সমস্ত শিক্ষার ভিত্তি ও মূলনীতি। নির্বাণ লাভের জন্য অপ্রমাদ অত্যাবশ্যক। সুতরাং অপ্রমাদ বর্গের গাথাগুলোর মাধ্যমে উপযুক্ত বিষয়ে জ্ঞানার্জন লাভ করা যায়।
উদ্দীপকে ঘটনা-১ এ অপ্রমাদ বর্গের ১নং থেকে ৩নং গাথার ইঙ্গিত বহন করে। ঘটনা-১ বর্গের ১ থেকে ৩নং গাথার সাথে সংগতিপূর্ণ।
বুদ্ধ অপ্রমাদ বর্গের ১ হতে ৩নং গাথা ভাষণ করেছিলেন কৌশাম্বীর অন্তর্গত ঘোষিতারামে অবস্থানকালে। সেসময় মহারাজ উদয়নের প্রধান মহিষী ছিলেন শ্যামাবতী। তিনি ছিলেন বুদ্ধ ভক্ত। তিনি প্রত্যহ বুদ্ধের ধর্ম শ্রবণের জন্য ঘোষিতারামে যেতেন। রাজার অপর রানি ছিলেন মাগন্ধিয়া, সে বুদ্ধবিদ্বেষী। তিনি রানি শ্যামাবতীর বুদ্ধভক্তি একদম সহ্য করতে পারতেন না। তাই শ্যামাবতীর প্রাসাদে আগুন দেয়। এতে শ্যামাবতীসহ পাঁচশ সহচরী পুড়ে মারা যায়। রাজা রানি মাগন্ধিয়াকে প্রাণদণ্ড দেন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনা-১ এর মাধ্যমে অপ্রমাদ বর্গের ১ থেকে ৩নং গাথার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
উদ্দীপকের বিকাশ চাকমার কর্মটি ১২নং গাথার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ঘটনা-২ এ অপ্রমাদ বর্গটির ১২ নম্বর গাথার প্রতিচ্ছবি।
ভিক্ষু তিষ্য শ্রাবস্তীর কাছেই নিগম গ্রামে বাস করতেন। বাইরের জগতের সাথে তাঁর কোনো সংস্রব ছিল না বললেই চলে। নিজের কয়েকজন আত্মীয়স্বজনের বাড়ি ভিক্ষা করে যা পেতেন তাতেই তার প্রয়োজন মিটতো। এর বেশি আকাঙ্ক্ষা তাঁর ছিল না। এ কারণে শ্রেষ্ঠীদের মহাদান বা কোশলরাজ প্রসেনজিতের বড় দান উৎসবে তিষ্যকে কখনো দেখা যায়নি। এ নিয়ে লোকে তাঁকে নিন্দা করত এবং বলত তিষ্য শুধু তার স্বজনদেরকেই ভালোবাসেন। বুদ্ধ তিষ্যের এ অল্পে তুষ্ট আর লোভহীনতার কথা শুনে বেশ প্রশংসা করে অপ্রমাদ বর্গের ১২নং গাথাটি ভাষণ করেছিলেন।
উদ্দীপকে বিকাশ চাকমার ধর্মকর্মের সাথে ভিক্ষু তিষ্যের সাদৃশ্যতা রয়েছে। সুতরাং বলা যায়, ঘটনা-২ অপ্রমাদ বর্গের ১২ নম্বর গাথার প্রতিচ্ছবি।
অনুগামী নিধি হলো দানময়, শীলময়, ভাবনাময়, ধর্ম শ্রবণময়, ধর্মদেশনাময় পুণ্য। অনুগামী নিধি সবখানে সবসময় অনুগমন করে সুখ লাভ করা যায়। অনুগামী নিধি অর্জন করতে হলে দানশীল, ভাবনাময়, ধর্মশ্রবণ ও ধর্মদেশনাময় পুণ্য করতে হবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!