প্রাত্তি যখন ঘরের মধ্যে একটি ঝাঁকুনি অনুভব করলো, ঘরের ঝুলন্ত বস্তুগুলো দুলতে দেখলো এবং বাইরে মানুষকে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখলো, তখন সে মূলত ভূ-আলোড়নের একটি প্রভাব প্রত্যক্ষ করছিল।
ভূ-আলোড়ন হলো ভূ-পৃষ্ঠের অভ্যন্তরে বা উপরিভাগে সংঘটিত যেকোনো প্রাকৃতিক বা ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া যা ভূত্বকের পরিবর্তন বা স্থানচ্যুতি ঘটায়। পৃথিবীর অভ্যন্তরে সৃষ্ট শক্তির প্রভাবে ভূ-পৃষ্ঠ ধীরে ধীরে অথবা আকস্মিকভাবে পরিবর্তিত হয়। এটি ভূপৃষ্ঠের ভূমিরূপ গঠনে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ভূ-আলোড়ন মূলত দুই প্রকারের হয়ে থাকে:
- ধীর আলোড়ন (Slow Movement): এই ধরনের আলোড়ন হাজার হাজার বছর ধরে অত্যন্ত ধীরে ধীরে সংঘটিত হয়। এর ফলে মহাদেশীয় উত্থান (মহীভাবক আলোড়ন) ও পর্বতের সৃষ্টি (গিরিজনী আলোড়ন) ঘটে। ভঙ্গিল পর্বতমালা, চ্যুতি এবং মহাদেশগুলির স্থান পরিবর্তন এই ধীর আলোড়নেরই ফল।
- আকস্মিক আলোড়ন (Sudden Movement): এই আলোড়ন খুব অল্প সময়ে, হঠাৎ করে সংঘটিত হয় এবং এর প্রভাব দ্রুত অনুভূত হয়। ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস, সুনামি ইত্যাদি হলো আকস্মিক ভূ-আলোড়নের উদাহরণ। প্রাত্তি যে ঝাঁকুনি অনুভব করেছিল, সেটি আকস্মিক ভূ-আলোড়নের অন্তর্ভুক্ত, যা সাধারণত ভূমিকম্পের কারণে ঘটে।
এই আলোড়নগুলির মূল কারণ হলো ভূত্বকের প্লেটগুলির সঞ্চালন (Tectonic Plate Movement), ম্যাগমার গতিবিধি (Magma Movement) এবং ভূতাপীয় শক্তির প্রভাব (Geothermal Energy)।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!