সর্বধর্ম' মতবাদের প্রবক্তা শ্রী আনন্দ স্বামী। তিনি অষ্টাদশ শতাব্দীতে ত্রিপুরা জেলার সরাইল পরগনার কালিকচ্ছ গ্রামে এক কৌলিন জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। জমিদারের দায়িত্ব পালনকালে প্রজাদের ধর্মভিত্তিক বিভাজন ও আন্তঃধর্মবিবাদ তাঁকে চিন্তামগ্ন করে তোলে। ধর্ম নিয়ে হত্যা, হানাহানি, রক্তপাত নিরসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি ইসলাম, সনাতন ও খ্রিষ্টধর্মের সমন্বয়ে 'সর্বধর্ম' মতবাদ প্রবর্তন করতে সক্রিয় হন। তার এ 'সর্বধর্ম' মতবাদে প্রকৃত মানবতার আহ্বান থাকলেও তিনি ধর্মভীরু মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন নি। তবে এর মাধ্যমে তিনি সকল শ্রেণির মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হন।

Updated: 3 months ago
উত্তরঃ

সম্রাট হুমায়ুনের পিতার নাম জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর।

উত্তরঃ

'বাবরনামা' হচ্ছে সম্রাট বাবরের আত্মজীবনীমূলক ঐতিহাসিক একটি শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। তিনি গদ্য সাহিত্যে তুর্কি ভাষায় এটি রচনা করেন। এ গ্রন্থে বাবর তার পূর্ব পুরুষদের কথা, তার জন্ম, শৈশব, কৈশোরের কথা উল্লেখ করেছেন। এ গ্রন্থে বাবর তার বোকামি ও ব্যর্থতাগুলো অকপটে তুলে ধরেছেন। এ আত্মজীবনীতে ভারতের আবহাওয়া, পরিবেশ, ফলমূল ও মানুষের বৈশিষ্ট্যের কথা বর্ণনা করেছেন

উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত তৈমুর লং-এর সিস্তান অভিযানের সাথে মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের চৌসার যুদ্ধের সাদৃশ্য রয়েছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত তৈমুর লং সিস্তান অভিযানকালে নির্বিঘ্নে
রাজধানীতে প্রবেশ করেন। সিস্তান অধিপতি রাজধানী ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন। তৈমুর যখন নিশ্চিন্তে রাজধানীতে বিশ্রামরত তখন সিভানের সৈন্যরা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। এরূপ অতর্কিত আক্রমণে তৈমুর লং পরাজিত হন এবং কোনো মতে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে যান। এমনকি কিছুকালের জন্য তিনি রাজ্যহারা হন। অনুরূপ ঘটনা সম্রাট হুমায়ুনের ক্ষেত্রেও লক্ষণীয়। সম্রাট হুমায়ুন ১৫৩৭খ্রিস্টাব্দে শেরশাহকে দমনের উদ্দেশ্যে সামরিক অভিযান শুরু করেন। তিনি শেরশাহের চুনার দুর্গ দখল করেন। ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে তিনি গৌড় ও বাংলা দখল করে ৮ মাস আনন্দ-ফুর্তিতে কাটান। এ সুযোগে শেরশাহ শক্তি সঞ্চয় করেন। ৮ মাস বাংলায় অবস্থান করে হুমায়ুন ১৫৩৯ সালে আগ্রা অভিমুখে রওয়ানা দেন। কিন্তু পথিমধ্যে চৌসা নামক স্থানে শেরশাহ সম্রাট হুমায়ুনের গতিরোধ করেন। অবশেষে ১৫৩৯ সালের ২৬ জুন উভয়ের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধে হুমায়ুন পরাজিত হন। হুমায়ুন নিজাম নামের জনৈক মাঝির সাহায্যে কোনো মতে প্রাণ নিয়ে গঙ্গা পার হয়ে পালিয়ে আগ্রায় পৌঁছেন।
পরিশেষে বলা হয়, উদ্দীপকের বর্ণিত তৈমুর লং-এর সিস্তান

উত্তরঃ

উদ্দীপকের আলোকে সম্রাট হুমায়ুনের উক্ত অভিযান অর্থাৎ চৌসার যুদ্ধের পরিণতি ছিল খুবই দুঃখময়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত তৈমুর লং যুদ্ধে পরাজিত হয়ে কিছুকালের জন্য রাজ্য হারা হন। অনুরূপ কনৌজের যুদ্ধের পর হুমায়ুন রাজ্যবিহীন রাজায় পরিণত হন। তিনি প্রথমে কনৌজের বিলগ্রামের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আগ্রায় যান এবং সেখান হতে দিল্লি। আগ্রা ও দিল্লি আগের মতো থেকে যায়। শুধু হুমায়ুন সপরিবারে সিরহিন্দের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। কামরানের অধীনে তখনও কান্দাহার ও কাবুলের নিয়ন্ত্রণ ছিল। কিন্তু কামরান হুমায়ুনকে সহযোগিতা করা হতে বিরত থাকেন। বাধ্য হয়ে তিনি সিন্দুর দিকে অগ্রসর হয়ে ভাক্কার অবরোধ করেন। কিন্তু এখানেও দুর্ভাগ্য তাকে অনুসরণ করে। যৌধপুরের রাজা

মালবদেবের নিকট হুমায়ুন সাহায্য প্রার্থনা করেন। রাজা তাকে ২০ হাজার সৈন্য দিয়ে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু রাজা প্রয়োজনের সময় হুমায়ুনকে সাহায্য করেননি। হুমায়ুন অমরকোটের রানা প্রাসাদে আশ্রয় নেন, সেখানে সম্রাট আকবরের জন্ম হয়। কান্দাহারের শাসক ও ভাই কামরান শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও হুমায়ুনকে দিল্লির মসনদ উদ্ধার করতে অসহযোগিতা করেন। যা মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের ভাগ্য বিড়ম্বনার অন্যতম নিদর্শন হিসেবে পরিগণিত হয়।
অবশেষে পারস্যের সম্রাট শাহ তাহমাস্পর সাহায্যে হারানো রাজ্য পুনরুদ্ধারে সমর্থ হন। অনেক কষ্টের বিনিময়ে অর্জিত রাজোও বেশি দিন শান্তিতে বসবাস করতে পারেননি। ১৫৫৬ খ্রি. দিল্লিতে পাঠাগারের সিঁড়ি হতে পড়ে গিয়ে আকস্মিক ভাবে মৃত্যুবরণ করেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত তৈমুর লং-এর পরিণতি আর সম্রাট হুমায়ুনে পরিণতি প্রায় একই সূত্রে গাথা।

181
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

'মোজা' শব্দ থেকে মোঙ্গল এবং মোঙ্গল থেকে মুঘল নামের উৎপত্তি ঘটেছে। তারা আদি বাসভূমি মঙ্গোলিয়া ছেড়ে মধ্য এশিয়ার পশ্চিম অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে মুঘল নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৫২৬ খ্রি. মুঘলরা ভারতের সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে ভারতবর্ষের শাসক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেন। মূলত এরপর থেকেই মুঘলরা একটি বৃহৎ জাতিগঠনে অবদান রাখতে শুরু করে।

331
উত্তরঃ

উদ্দীপকের সাথে ভারতবর্ষের মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দে পিতার আকস্মিক মৃত্যুর পর মাত্র ১১ বছর বয়সে বাবর ফারগানার সিংহাসনে উপবিষ্ট হন। সিংহাসন লাভের পর পরই তার দুই পিতৃব্য ও আত্মীয়স্বজন এবং উজবেক নেতা সাইবানি খানের রিরোধিতার মুখে পড়েন। ১৪৯৭ খ্রিস্টাব্দে বাবর সমরখন্দ দখল করেন। কিন্তু ভাগ্যবিপর্যয়ে পতিত হয়ে তিনি সমরখন্দ হারান। ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে ফারগানাও হস্তচ্যুত হয়। অর্থাৎ দাবার ছকের রাজার মতো বাবর স্থান থেকে স্থানান্তর ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। কিন্তু ১৫০০ খ্রিস্টাব্দে তিনি ফারগানা পুনরুদ্ধার করেন।
১৫০২ খ্রিস্টাব্দে সমরখন্দ অধিকার করেন। পরবর্তীকালে ১৫০৩ খ্রিষ্টাব্দে আরচিয়ানের যুদ্ধে সাইবানি খানের কাছে পরাজিত হয়ে ফারগানা ও সমরখন্দ থেকে বিতাড়িত হন। এ সময় কাবুলের অভ্যন্তরীণ অরাজকতার সুযোগে ১৫০৪ খ্রিস্টাব্দে কাবুল অধিকার করে বাদশাহ উপাধি নিয়ে রাজত্ব করতে থাকেন। ১৫১১ খ্রিস্টাব্দে পারস্যের শাহ ইসমাইল সাফাভীর সহযোগিতায় সমরখন্দ দখল করলেও ১৫১২ খ্রিস্টাব্দে তা আবারও হাতছাড়া হয়ে যায়। এরপর ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি কাবুলেই রাজত্ব করেন। কিন্তু অসাধারণ সাহসী বাবর এতেই সন্তুষ্ট থাকেননি। ১৫২৬ খ্রি. তিনি পানিপথের প্রথম যুদ্ধে সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে দিল্লির সুলতানি সাম্রাজ্যের ধ্বংসস্তূপের ওপর মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ভাগ্য বিড়ম্বিত যুবুক ইরফান ও ভারতবর্ষে মুঘল শাসনের প্রতিষ্ঠাতা বাবরই অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ।

633
উত্তরঃ

উদ্দীপকে সম্রাট বাবরের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
সম্রাট বাবর কেবল নির্ভীক সৈনিক, দক্ষ সেনাধ্যক্ষ, সুদক্ষ অস্ত্র পরিচালক, প্রশংসনীয় ঘোড়সওয়ারই ছিলেন না; বরং আলেকজান্ডারের মতো দেশ জয়ের নেশায় বিভোর থাকতেন। পানিপথের প্রথম যুদ্ধ, খানুয়ার যুদ্ধ এবং গোগরার যুদ্ধে তার সাফল্য তাকে ভারতীয় সমর ইতিহাসে উচ্চাসনে- অধিষ্ঠিত করেছে। বাবর মাত্র ১১ বছর বয়স থেকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হন। বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে তিনি প্রথমে কাবুলে এবং পরে ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। শুধু প্রতিষ্ঠা করেই ক্ষান্ত হননি, তার ভিত্তি সুদৃঢ় করে একে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত করেন।
বাবরের চার বছরের শাসনামলে যুদ্ধবিগ্রহ কেটে যায়। এ অবস্থায় নবপ্রতিষ্ঠিত মুঘল সাম্রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় কোনো প্রকার পরিবর্তন ও সংস্কার সাধন করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তথাপি তিনি নিজেকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা হ্রাস করেন। প্রাদেশিক শাসনকার্য পরিচালনার জন্য প্রত্যেক প্রদেশে একজন ওয়ালি (প্রাদেশিক কর্মকর্তা), একজন দিওয়ান (রাজস্ব কর্মকর্তা), শিকদার (সামরিক কর্মকর্তা) এবং কোতওয়াল (নগরকর্তা) ছিল। তিনি প্রশাসনিক কাজে তুর্কি, আফগান ও হিন্দুদের সমান সুযোগ দিতেন। সমগ্র সাম্রাজ্যে ১৫ মাইল অন্তর তিনি ডাক চৌকির ব্যবস্থা করেন। প্রজারঞ্জক বাবর দিল্লি ও আগ্রায় ২০টি উদ্যান, বহু পাকা নর্দমা, সেতু, অট্টালিকা নির্মাণ করেন।
পরিশেষে বলতে পারি, সম্রাট বাবর শুধুমাত্র একজন বিজেতা হিসেবেই প্রশংসার দাবিদার নন, বরং একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবেও তিনি কৃতিত্বের দাবিদার। তাই সার্বিকভাবে বাবরের শাসনকাল কৃতিত্বপূর্ণ একথা নিঃসন্দেহেই বলা যায়।

377
উত্তরঃ

ফিরোজশাহ তুঘলক দিওয়ান-ই-বন্দেগান গঠন করেন কারণ, তিনি ছিলেন ক্রীতদাসদের প্রতি অনুরক্ত। তাই তিনি সিংহাসনে আরোহনের পর একটি বিরাট ক্রীতদাস বিভাগ গড়ে তোলেন। তার আমলে ক্রীতদাসের সংখ্যা ছিল ১,৮০,০০০, যার মধ্যে ৪০,০০০ ক্রীতদাস সুলতানের প্রাসাদে অবস্থান করত। সুলতান তাদের বিভিন্ন সেবা ও সুযোগ-সুবিধার জন্যই 'দিওয়ান-ই-বন্দেগান' গঠন করেন।

825
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews