প্রায় সব দেশে, সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে সব সংস্কৃতিতেই নববর্ষ উদযাপনের প্রথা প্রচলিত আছে। এর মাধ্যমে একটি মৌলিক ঐক্য আমাদের চোখে পড়ে। তা হলো নবজন্ম, বা পুনর্জন্ম, পুরনো জীর্ণতাকে বিদায় দিয়ে সতেজ সজীব নবীন এক জীবনের মধ্যে প্রবেশ করার আনন্দানুভূতি। গ্রাম-নগর নির্বিশেষে বাংলার সব মানুষ, সে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ কি খ্রিষ্টান হোক, পয়লা বৈশাখ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। এ সময় বৈশাখী মেলা, হালখাতা, পুণ্যাহ, বৈসাবি উৎসবসহ নানা উৎসবের আয়োজন করা হয়।

Updated: 7 months ago
উত্তরঃ

৯৯২ হিজরিতে বাংলা সন চালু হয়।

উত্তরঃ

বাড়ির সবার মঙ্গলের জন্য 'আমানি' নামক অনুষ্ঠানটি পালিত হয় বলে একে মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান বলা হয়।

'আমানি' বাংলা নববর্ষের একটি প্রাচীন অনুষ্ঠান, যা মূলত কৃষকদের পারিবারিক অনুষ্ঠান। চৈত্র মাসের শেষদিনের সন্ধ্যারাতে গৃহকর্ত্রী এক হাঁড়ি পানিতে স্বল্প পরিমাণ অপক্ষ চাল ছেড়ে দিয়ে সারারাত ভিজতে দেন এবং তার মধ্যে একটি কচি আমের পাতাযুক্ত ডাল বসিয়ে রাখেন। পয়লা বৈশাখের সূর্য ওঠার আগে ঘর ঝাড়ু দিয়ে গৃহকর্ত্রী সেই হাঁড়ির পানি সারা ঘরে ছিটিয়ে দেন। পরে ভেজা চাল সবাইকে খেতে দেন। তাদের বিশ্বাস যে, এতে বাড়ির সবার মঙ্গল হয় এ ধরনের অনুষ্ঠানকে মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান বলা হয়।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে 'বাংলা নববর্ষ' প্রবন্ধে প্রকাশিত বাংলা নববর্ষ উদযাপনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও এর সর্বজননীতা ও উদ্দেশ্যের দিকটি ফুটে উঠেছে।

নববর্ষ মানেই নতুন বছরের আগমন। পুরোনো জরা-গ্লানি আর দুঃখ মুছে ফেলে নতুনভাবে বেঁচে থাকার প্রেরণায় নববর্ষ উৎসব চির ভাম্বর। নববর্ষের এই চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে বাঙালি জীবন উৎসব আনন্দে মুখরিত হয়।
উদ্দীপকে 'বাংলা নববর্ষ' প্রবন্ধে প্রকাশিত নববর্ষ উদযাপনে বিশ্বের সব জাতির রীতির দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, প্রায় সব দেশে, সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে সব সংস্কৃতিতেই নববর্ষ উদযাপনের প্রথা প্রচলিত।

পুরোনোকে বিদায় দিয়ে নবীন এক জীবনের মধ্যে প্রবেশ করার আনন্দানুভূতির কথা 'বাংলা নববর্ষ' প্রবন্ধেও প্রকাশ পেয়েছে। প্রাবন্ধিকের মতে, পয়লা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। নববর্ষ সকল দেশের সকল জাতিরই আনন্দ উৎসব ও কল্যাণ কামনার দিন। প্রবন্ধের এ দিকটিই উদ্দীপকে উপস্থাপিত হয়েছে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে 'বাংলা নববর্ষ' প্রবন্ধে সম্পূর্ণ ভাব ফুটে ওঠেনি।-মন্তব্যটি সত্য।

বাংলা নববর্ষ পালনের ঐতিহ্য বাঙালির বহুদিনের। বাংলা বছরের প্রথম দিন এ জাতি নানা আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে। বৈশাখী মেলা, বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান ইত্যাদির মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়।

'বাংলা নববর্ষ' প্রবন্ধে বাংলা নববর্ষের বিভিন্ন উৎসবের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে উদ্দীপকে পৃথিবীর সব দেশে সব জাতিতে সব সংস্কৃতিতে নববর্ষ উদ্যাপনের প্রথার কথা বলা হয়েছে। বাঙালি জাতি কীভাবে নতুন বছরকে বরণের উৎসবে মেতে ওঠে তার বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয় 'বাংলা নববর্ষ' প্রবন্ধেও প্রকাশ পেয়েছে। তবে এটিই আলোচ্য প্রবন্ধের একমাত্র বিষয় নয়। এছাড়াও বহুমুখী বিষয় ও ভাবের প্রকাশ ঘটেছে।

'বাংলা নববর্ষ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক নববর্ষ উদ্যাপনের সর্বজনীন দিকটি যেমন তুলে ধরেছেন তেমনই নববর্ষ পালনের সুদীর্ঘ ইতিহাসের বর্ণনা করেছেন। বাংলা নববর্ষ প্রবর্তনের কথা, পাকিস্তানি আমলে এ অনুষ্ঠান পালনের নানা প্রতিবন্ধকতার কথা ইত্যাদি বিষয় উঠে এসেছে, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

80

বাংলা সনের প্রথম মাসের নাম বৈশাখ। পয়লা বৈশাখে বাঙালির নববর্ষ উৎসব। নববর্ষ সকল দেশের, সকল জাতিরই আনন্দ উৎসবের দিন। শুধু আনন্দ উচ্ছ্বাসই না, সকল মানুষের জন্য কল্যাণ কামনারও দিন। আমরাও সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি ও কল্যাণের প্রত্যাশা নিয়েই মহা ধুমধামের সঙ্গে আমাদের নববর্ষ উৎসব উদযাপন করি। একে অন্যকে বলি, শুভ নববর্ষ।

বাংলা নববর্ষ এখন আমাদের প্রধান জাতীয় উৎসব। প্রতি বছরই এ উৎসব বিপুল মানুষের অংশগ্রহণে বিশাল থেকে বিশালতর হয়ে উঠছে। বাংলাদেশে যে এতটা প্রাণের আবেগে এবং গভীর ভালোবাসায় এ উৎসব উদ্‌যাপিত হয় তার কারণ পাকিস্তান আমলে পূর্ববাংলার বাঙালিকে এ উৎসব পালন করতে দেয়া হয়নি । বলা হয়েছে, এটা পাকিস্তানি আদর্শের পরিপন্থী। সে-বক্তব্য ছিল বাঙালির সংস্কৃতির ওপর এক চরম আঘাত। বাঙালি তার সংস্কৃতির ওপর এ আঘাত সহ্য করেনি। তারা এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকল বাঙালির এ উৎসবকে জাতীয় ছুটির দিন ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। কিন্তু সে-দাবি অগ্রাহ্য হয়েছে। ফলে পূর্ববাংলার বাঙালি ফুঁসে উঠেছে। সোচ্চার হয়ে উঠেছে প্রতিবাদে। এভাবেই পূর্ববাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং বাঙালি জাতিসত্তা গঠনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় বাংলা নববর্ষ এবং তার উদযাপনের আয়োজন ।

১৯৫৪ সালের পূর্ববাংলার সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম লীগ সরকারকে বিপুলভাবে পরাজিত করে যুক্তফ্রন্টের সরকার গঠিত হলে মুখ্যমন্ত্রী ও বাঙালিদের জনপ্রিয় নেতা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের সরকার বাংলা নববর্ষে ছুটি ঘোষণা করেন এবং দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। সেটা ছিল বাঙালির এক তাৎপর্যপূর্ণ বিজয়ের দিন। কিন্তু সে-বিজয় স্থায়ী হয়নি। যুক্তফ্রন্ট ভেঙে দিয়ে এবং সামরিক শাসন জারি করে তা সাময়িকভাবে রুখে দিয়েছে স্বৈরাচারী পাকিস্তান সরকার। তবু পূর্ববাংলার বাঙালি পিছু হটেনি । সরকারিভাবে আর নববর্ষ উদযাপিত হয়নি পাকিস্তান আমলে; কিন্তু বেসরকারিভাবে উদ্যাপিত হয়েছে প্রবল আগ্রহ ও গভীরতর উৎসাহ-উদ্দীপনায়। এর মধ্যে সবচেয়ে সুসংগঠিত এবং সুপরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট (১৯৬১)। ১৯৬৭ সাল থেকে রমনার পাকুড়মূলে ছায়ানট নববর্ষের যে-উৎসব শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় বাধাহীন পরিবেশে এখন তা জনগণের বিপুল আগ্রহ-উদ্দীপনাময় অংশগ্রহণে দেশের সর্ববৃহৎ জাতীয় অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। রাজধানী ঢাকার নববর্ষ উৎসবের দ্বিতীয় প্রধান আকর্ষণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ছাত্রছাত্রীদের বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। এই শোভাযাত্রায় মুখোশ, কার্টুনসহ যে-সব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীকধর্মী চিত্র বহন করা হয় তাতে আবহমান বাঙালিত্বের পরিচয় এবং সমকালীন সমাজ-রাজনীতির সমালোচনাও থাকে।

এবার আমরা বাংলা সন ও নববর্ষ উদযাপনের কথা বলি। বাংলা সনের ইতিহাস এখনো সুস্পষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে অধিকাংশ ঐতিহাসিক ও পণ্ডিতই মনে করেন মুগল সম্রাট আকবর চান্দ্র হিজরি সনের সঙ্গে ভারতবর্ষের সৌর সনের সমন্বয় সাধন করে ১৫৫৬ সাল বা ৯৯২ হিজরিতে বাংলা সন চালু করেন। আধুনিক গবেষকদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন মহামতি আকবর সর্বভারতীয় যে ইলাহি সন প্রবর্তন করেছিলেন তার ভিত্তিতেই বাংলায় আকবরের কোনো প্রতিনিধি বা মুসলমান সুলতান বা নবাব বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। সেজন্যই একে ‘সন' বা 'সাল' বলে উল্লেখ করা হয়। 'সন' কথাটি আরবি, আর ‘সাল' হলো ফারসি। এখনো সন বা সালই ব্যাপকভাবে চালু। তবে বঙ্গাব্দও বলেন কেউ কেউ ।

বাংলা সন চালু হবার পর নববর্ষ উদযাপনে নানা আনুষ্ঠানিকতা যুক্ত হয়। নবাব এবং জমিদারেরা চালু করেন ‘পুণ্যাহ’ অনুষ্ঠান। পয়লা বৈশাখে প্রজারা নবাব বা জমিদার বাড়িতে আমন্ত্রিত হতেন, তাদের মিষ্টিমুখও করানো হতো। পান-সুপারিরও আয়োজন থাকত। তবে তার মূল উদ্দেশ্য ছিল খাজনা আদায়। মুর্শিদাবাদের নবাবেরা এ অনুষ্ঠান করতেন। বাংলার জমিদারেরাও করতেন এ অনুষ্ঠান। জমিদারি উঠে যাওয়ায় এ অনুষ্ঠান এখন লুপ্ত হয়েছে।

পয়লা বৈশাখের দ্বিতীয় বৃহৎ অনুষ্ঠান ছিল 'হালখাতা'। এ অনুষ্ঠানটি করতেন ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ কৃষিপ্ৰধান । তাই ফসলের মৌসুমে ফসল বিক্রির টাকা হাতে না এলে কৃষকসহ প্রায় কেউই নগদ টাকার মুখ খুব একটা দেখতে পেত না। ফলে সারাবছর বাকিতে প্রয়োজনীয় জিনিস না কিনে তাদের উপায় ছিল না। পয়লা বৈশাখের হালখাতা অনুষ্ঠানে তারা দোকানিদের বাকির টাকা মিটিয়ে দিতেন। অন্তত আংশিক পরিশোধ করেও নতুন বছরের খাতা খুলতেন । হালখাতা উপলক্ষে দোকানিরা ঝালর কাটা লাল নীল সবুজ বেগুনি কাগজ দিয়ে দোকান সাজাতেন। ধূপধুনা জ্বালানো হতো। মিষ্টিমুখ করানো হতো গ্রাহক-খরিদ্দারদের। হাসি-ঠাট্টা, গল্পগুজবের মধ্যে বকেয়া আদায় এবং উৎসবের আনন্দ উপভোগ দুই-ই সম্পন্ন হতো। হালখাতাও এখন আর তেমন সাড়ম্বরে উদ্যাপিত হয় না। এখন মানুষের হাতে নগদ পয়সা আছে। বাকিতে বিকিকিনি এখন আর আগের মতো ব্যাপক আকারে হয় না।

বাংলা নববর্ষের আর একটি প্রধান অনুষ্ঠান হলো বৈশাখী মেলা। দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈশাখের প্রথম দিনে বার্ষিক মেলা বসে। এইসব মেলার অনেকগুলোই বেশ পুরনো। এই মেলাগুলোর মধ্যে খুব প্রাচীন ঠাকুরগাঁ জেলার রানীশংকৈল উপজেলার নেকমরদের মেলা এবং চট্টগ্রামের মহামুনির বুদ্ধপূর্ণিমা মেলা। এক সময়ে এইসব মেলা খুব ধুমধামের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হতো। সে-মেলা এখনো বসে, তবে আগের সে জৌলুস এখন আর নেই। আগে গ্রামবাংলার এই বার্ষিক মেলাগুলোর গুরুত্ব ছিল অসাধারণ। কারণ তখনো সারাদেশে বিস্তৃত যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে মানুষের জীবনযাত্রা ছিল স্থবির। এখন যেমন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে এক দিনের বেশি লাগে না। আগে তা সম্ভব ছিল না। নৌকা, ঘোড়ার গাড়ি, গরুর, মোষের গাড়িতে মানুষ বা পণ্য পরিবহনে বহুসময় বা কয়েকদিন লেগে যেত। এখন নতুন নতুন পাকা রাস্তা ও দ্রুতগতির যানবাহন চালু হওয়ায় সে-সমস্যা আর নেই। আগে এইসব আঞ্চলিক মেলা থেকেই মানুষ সারা বছরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে রাখত। তাছাড়া এইসব মেলা অঞ্চলবিশেষের মানুষের মিলন মেলায়ও পরিণত হতো। নানা সংবাদ আদান-প্রদান, নানা বিষয়ে মত বিনিময়েরও আদর্শ স্থান ছিল এই সব মেলা। আবার বাৎসরিক বিনোদনের জায়গাও ছিল মেলা। মেলায় থাকত কবিগান, কীর্তন, যাত্রা, গম্ভীরা গান, পুতুল নাচ, নাগরদোলাসহ নানা আনন্দ-আয়োজন।

নববর্ষের ওই তিনটি প্রধান সর্বজনীন উৎসব ছাড়াও বহু আঞ্চলিক উৎসব আছে। এদের মধ্যে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত বলী খেলা বিশেষ উল্লেখযোগ্য। ১৯০৭ সাল থেকে কক্সবাজারসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের নানাস্থানে এই খেলার প্রচলন আছে। এই বিখ্যাত কুস্তি খেলাকেই বলা হয় বলী খেলা। আবদুল জব্বার নামে এক ব্যক্তি এ খেলার প্রবর্তন করেন বলে একে 'জব্বারের বলী খেলা' বলা হয় ।

আমানিও নববর্ষের একটি প্রাচীন আঞ্চলিক মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান। এটি প্রধানত কৃষকের পারিবারিক অনুষ্ঠান। চৈত্র মাসের শেষদিনের সন্ধ্যারাতে গৃহকর্ত্রী এক হাঁড়ি পানিতে স্বল্প পরিমাণ অপক্ব চাল ছেড়ে দিয়ে সারারাত ভিজতে দেন এবং তার মধ্যে একটি কচি আমের পাতাযুক্ত ডাল বসিয়ে রাখেন। পয়লা বৈশাখের সূর্য ওঠার আগে ঘর ঝাড়ু দিয়ে গৃহকর্ত্রী সেই হাঁড়ির পানি সারা ঘরে ছিটিয়ে দেন। পরে সেই ভেজা চাল সকলকে খেতে দিয়ে আমের ডালের কচি পাতা হাঁড়ির পানিতে ভিজিয়ে বাড়ির সকলের গায়ে ছিটিয়ে দেন। তাদের বিশ্বাস, এতে বাড়ির সকলের কল্যাণ হবে। নতুন বছর হবে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির। এ অনুষ্ঠান এখন খুব একটা দেখা যায় না।

নববর্ষের এ ধরনের আরও নানা অনুষ্ঠান আছে। তোমরা নিজ নিজ এলাকায় খোঁজ নিলে তার সন্ধান পাবে। তোমাদের সঙ্গে পরিচয় ঘটবে নানা ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায়ও নববর্ষের উৎসব হয়। নানা আনন্দময় ক্রীড়া-কৌতুকের মধ্য দিয়ে এরা বৈসুব, সাংগ্রাই ও বিজু তিনটিকে একত্র করে 'বৈসাবী' নামে উৎসব করে। গ্রাম-বাংলায় নববর্ষে নানা খেলাধুলারও আয়োজন করা হতো। মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জে হতো গরুর দৌড়, হা-ডু-ডু খেলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোরগের লড়াই, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা, নড়াইলে ষাঁড়ের লড়াই প্রভৃতি ।

আমাদের নববর্ষ উৎসব '৫২ সনের ভাষা আন্দোলনের পর নতুন গুরুত্ব ও তাৎপর্য লাভ করে। আগে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের আয়োজনের কথা বলেছি। এছাড়া বাংলা একাডেমিতে বৈশাখী ও কারুপণ্য মেলা এবং গোটা বিশ্ববিদ্যালয় ও রমনা এলাকা পয়লা বৈশাখের দিনে লক্ষ মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। নতুন পাজামা-পাঞ্জাবি পরে ছেলেরা এবং নানা রঙের শাড়ি পরে নারীরা এই অনুষ্ঠানকে বর্ণিল করে তোলে। রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলের গান, লোকসংগীত এবং বাঁশির সুরে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে সমবেত আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা । আনন্দময় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ এই পরিবেশ আধুনিক বাঙালি জীবনের এক গৌরবময় বিষয়।

Related Question

View All
উত্তরঃ

হালখাতা হলো পহেলা বৈশাখে আয়োজিত অনুষ্ঠানবিশেষ।

হালখাতা অনুষ্ঠানটি করতেন ব্যবসায়ীরা। মানুষ সারাবছর ধরে বাকিতে দোকান থেকে জিনিসপত্র ক্রয় করত। পয়লা বৈশাখের হালখাতা অনুষ্ঠানে দোকানিদের সেই বাকির টাকা মিটিয়ে দিত। হালখাতা উপলক্ষ্যে বিভিন্ন রঙের কাগজ দিয়ে দোকানিরা তাদের দোকান সাজাতেন। গ্রাহক-খরিদ্দারদের মিষ্টিমুখ করানো হতো। এ সময় হাসিঠাট্টা, গল্পগুজবের মধ্যে বকেয়া আদায় এবং উৎসবের আনন্দ উপভোগ দুই-ই সম্পন্ন হতো।

181
উত্তরঃ

চৈতির গানে বাংলা নববর্ষের পুরোনো বছরের দুঃখকষ্ট দূরীভূত হয়ে নতুন বছরে পৃথিবী যেন পূত-পবিত্র হয়ে ওঠে সে দিকটি ফুটে উঠেছে।

বৈশাখ মাসের প্রথম দিন বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়। নববর্ষে নানা রকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সমস্ত জরা-জীর্ণ-ক্লান্তি দূর হয়ে সবার জীবন যেন সুখ-সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে- এই কামনা করা হয়।

উদ্দীপকের দুই বান্ধবী সীমা ও চৈতি বাংলা নববর্ষে লাল পাড় সাদা শাড়ি পরে চলে যায় রমনার বটমূলে। সেখানে অসংখ্য মানুষ নানা রকম সাজে সজ্জিত হয়ে এসেছে। সেখানে গিয়ে সীমা নিজের ও খালাতো বোনের জন্য জিনিসপত্র কেনে। চৈতি মনের আনন্দে গান গেয়ে ওঠে। গানের মূলকথায় পুরোনো সব দুঃখ-গ্লানি মুছে গিয়ে নতুন বছরে পৃথিবী যেন শুচি-শুভ্র হয়ে ওঠে সেই প্রত্যাশা করা হয়।

বাংলা নববর্ষ' প্রবন্ধেও বলা হয়েছে যে, বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রধান জাতীয় উৎসব। নববর্ষ সব দেশের, সব মানুষেরই আনন্দের দিন। শুধু আনন্দ-উচ্ছ্বাসই নয়, সব মানুষের জন্য কল্যাণ কামনারও দিন। সুখ শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণের প্রত্যাশা নিয়েই নববর্ষ উদযাপন করা হয়। এভাবে উদ্দীপকে প্রবন্ধের এ কল্যাণ কামনার বিষয়টিই ফুটে উঠেছে।

278
উত্তরঃ

উদ্দীপকে 'বাংলা নববর্ষ' প্রবন্ধের মূল সুরটিই যেন ফুটে উঠেছে। উক্তিটি যথার্থ।

বাংলা নববর্ষ বাঙালির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। বিভিন্ন রকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় নববর্ষ উপলক্ষ্যে।

উদ্দীপকে নববর্ষে দুই বান্ধবী সীমা ও চৈতি রমনার বটমূলে অনুষ্ঠান দেখতে যায়। মেলায় সীমার দেখা হয় তার খালাতো বোনের সাথে। সে বাড়ির সকলের খবর নেয়। ছোট খালাতো বোনের জন্য উপহার কিনে
দেয়। এ ছাড়া সীমা বাড়ির জন্য কুলা, ঝুড়ি, হাঁড়ি ইত্যাদি কেনে এবং মনের আনন্দে চৈতি গান গেয়ে ওঠে। গানটির মূলকথা হলো- সকল দুঃখ-গ্লানি, জরা দূরীভূত হয়ে পৃথিবী যেন পবিত্র ও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। 'বাংলা নববর্ষ' প্রবন্ধেও বর্ণিত হয়েছে রমনার বটমূলের নববর্ষের আনন্দ উৎসব এবং পুরাতন সব দুঃখ-গ্লানি দূরীভূত হয়ে সবার জীবন সুখ-শান্তিতে ভরে ওঠার প্রত্যাশা।

নববর্ষ প্রত্যেক মানুষেরই আনন্দ-উৎসবের দিন। শুধু আনন্দ উচ্ছ্বাসই নয়, সব মানুষের কল্যাণ কামনারও দিন। তাই সবাই সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি ও কল্যাণের প্রত্যাশা নিয়ে মহা-ধুমধামে নতুন বছরে সবার সঙ্গে নববর্ষ পালন করে। উদ্দীপকের কল্যাণ কামনার বিষয়টি এবং আনন্দ উৎসব প্রবন্ধেরও মূল সুর। সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নে উল্লিখিত উক্তিটি যথার্থ।

215
উত্তরঃ

ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সব বাঙালি অভিন্ন জাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে উৎসবে মেতে ওঠে বলে বাংলা নববর্ষ আমাদের অন্যতম প্রধান জাতীয় উৎসব।

নতুন বছরের শুরুতে দিনের প্রথম প্রহরে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়। বাঙালি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনন্দে মেতে ওঠে। তারা নববর্ষের দিনে জাতির মঙ্গল কামনা করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পেছনে বাংলা নববর্ষ পালনের প্রেরণা সক্রিয় ছিল। কারণ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে বাঙালি নববর্ষ উৎসব উদ্যাপন করেছিল। সর্বোপরি বাংলা নববর্ষ আমাদের জাতীয় উৎসব।

325
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews