কোনো একটি দেশে সরকারি ও বেসরকারি উভয় উদ্যোগে জনগণের কল্যাণের জন্য যেসব সংস্থা রা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে, সেসব প্রতিষ্ঠানকে একত্রে সে দেশের সেবা খাত বলা হয়।
বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী। দেশের কয়েক কোটি মানুষ তাদের জীবিকার জন্য কৃষির ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির অবদান প্রায় ২০ শতাংশ। এ কারণেই এদেশের অর্থনীতিতে কৃষি খাত মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
এপ্রিতাশার অঞ্চলের জনগণ বাংলাদেশের শহরে অর্থনৈতিক জীবনধারার সাথে সম্পৃক্ত।
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশ শহরাঞ্চলে বাস করে। শহরে জনগোষ্ঠীর মধ্যে যারা ধনী তারা নগরীর অভিজাত এলাকায় বসবাস করে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষও তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী নিজস্ব বা ভাড়া বাসায় থাকে। এছাড়া বিপুলসংখ্যক মানুষ বস্তি এলাকায় বাস করে। বড়ো বড়ো শহরে ভাসমান মানুষের সংখ্যাও কম নয়। তারা অস্থায়িভাবে ফুটপাত, পার্ক, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট ইত্যাদিতে রাত কাটায়। বেঁচে থাকার জন্য তাদেরও কোনো না কোনো জীবিকা অবলম্বন করতে হয়। শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, পেশাজীবী, শ্রমিক, দিনমজুর, বস্তিবাসী সবাই মিলেই শহরের অর্থনৈতিক জীবনকে সচল রাখে। উদ্দীপকে তেমনি দেখা যাচ্ছে, প্রিতাশার অঞ্চলের জনগণও শ্রমিক, শিল্পপতি, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ইত্যাদি পেশায় নিযুক্ত হয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। কাজেই বোঝা যাচ্ছে, প্রিতাশার অঞ্চলের জনগণ শহুরে অর্থনৈতিক জীবনধারার সাথে সম্পৃক্ত।
উদ্দীপকে শাহেদের অঞ্চলের জনগণ কৃষক, জেলে, তাঁতি, কুমার, কামার ইত্যাদি পেশায় নিয়োজিত। অর্থাৎ শাহেদের অঞ্চলের জনগণ গ্রামীণ অর্থনৈতিক জীবনধারার সাথে সম্পৃক্ত।
আমাদের দেশের মোট খাদ্য চাহিদার বড়ো অংশ আসে কৃষি থেকে। আর গ্রামের মানুষই এর উৎপাদক। কোনো কারণে এক বছর দেশে খাদ্য উৎপাদন কম হলে বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করে সে ঘাটতি পূরণ করতে হয়। নতুবা দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে। দেশে শিল্পের কাঁচামালের অন্যতম উৎস হচ্ছে গ্রামীণ কৃষি খাত। অর্থাৎ দেশের শিল্প-বাণিজ্য ও জনগণের কর্মসংস্থানের বিষয়টি অনেকাংশে গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল। তা ছাড়া আমাদের অর্থনীতির সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ খাত হওয়া সত্ত্বেও একসময় কৃষি ছিল অভ্যন্ত অবহেলিত। কিন্তু বর্তমানে কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার এবং সার, কীটনাশক ও উচ্চ ফলনশীল বীজ প্রয়োগের কারণে ফসলের উৎপাদনই শুধু বাড়েনি, গ্রামীণ অর্থনীতির জন্যও তা নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে। জাতীয় অর্থনীতিতে গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্ব অপরিসীম। উদ্দীপকের শাহেদের অঞ্চলের জনগণ গ্রামীণ অর্থনীতির সাথে সম্পৃক্ত। হওয়ায় তারাও বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে।
উপরিউক্ত আলোচনার শেষে বলা যায়, গ্রামীণ অর্থনীতি এখনও জাতীয় অর্থনীতির মূলভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
Related Question
View Allবাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশ শহরাঞ্চলে বাস করে।
বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ কৃষির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। তাই বাংলাদেশকে কৃষিপ্রধান দেশ বলা হয়।
গ্রামের অধিকাংশ লোক কৃষিজীবী। কৃষিই তাদের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। এমনকি যাদের নিজস্ব জমি নেই তারাও অন্যের জমিতে কাজ করে জীবন নির্বাহ করে। অর্থাৎ দেশের কয়েক কোটি মানুষ তাদের জীবিকার জন্য সরাসরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সে কারণে বাংলাদেশকে কৃষিপ্রধান দেশ বলা হয়।
মিসেস জমিলার কাজটি অর্থনীতির কৃষি খাতের বৈশিষ্ট্যের সাথে সংগতিপূর্ণ।
পৃথিবীর অন্য যেকোনো দেশের মতো আমাদের অর্থনীতিরও প্রধান খাতগুলো হলো কৃষি, শিল্প, ব্যবসায় বাণিজ্য ও সেবা খাত। প্রাচীনকাল থেকে আজ অবধি কৃষি খাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত মিসেস জমিলা তার বাড়ির আঙিনায়, মুরগির খামার তৈরি করে তার থেকে উৎপাদিত প্রায় শতাধিক ডিম বাজারে বিক্রি করে। অর্থাৎ মিসেস জমিলা মুরগি পালনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। আর মুরগির খামার যেহেতু কৃষি খাতের, আওতাভুক্ত, সেহেতু মিসেস জমিলার কাজটি অর্থনীতির কৃষি খাতের বৈশিষ্ট্যের সাথে সংগতিপূর্ণ।
উদ্দীপকে আশরাফ আলীর কাজটি শিল্প খাতের অন্তর্ভুক্ত আর মিসেস জমিলার কাজটি কৃষি খাতের অন্তর্ভুক্ত। আশরাফ আলী ও মিসেস জমিলার কাজের মধ্যে আশরাফ আলীর কাজটি অর্থনৈতিক উন্নয়নে অধিক সহায়ক বলে আমি মনে করি।
অর্থনীতির খাত শিল্প ও ব্যবসায় বাণিজ্য একটি দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনে সহায়তা করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আশরাফ আলী লন্ডন ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে তার কারখানার উৎপাদিত চামড়ার ব্যাগ রপ্তানি করেন। আর মিসেস জমিলা তার মুরগির খামারে উৎপাদিত শতাধিক ডিম বাজারে বিক্রি করেন। এভাবে মিসেস জমিলার কাজের মাধ্যমে-স্থানীয় চাহিদা পূরণ হচ্ছে আর আশরাফ আলীর কাজের মাধ্যমে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জিত হচ্ছে।
সূতরাং নির্দ্বিধায় বলা যায়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উভয়ের কাজ গুরুত্বপূর্ণ হলেও মিসেস জমিলার কাজের তুলনায় আশরাফ আলীর কাজটি অর্থনৈতিক উন্নয়নে অধিক সহায়ক বলে আমি মনে করি।
আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির অবদান প্রায় ২০ শতাংশ।
যেকোনো দেশের অর্থনীতিতে সেবা খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, পরিবহণ বা যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যাংক, বিমা, জনপ্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এগুলো হলো সেবা খাতের উদাহরণ। সরকারি ও বেসরকারি উভয় উদ্যোগেই এ খাতটি পরিচালিত হয়। যে দেশ যত উন্নত এবং জনগণের কল্যাণকে যত বেশি গুরুত্ব দেয়, সেখানে এ সেবা খাতটি ততই শক্তিশালী।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!