'চন্ডাল' শব্দের অর্থ হিন্দু বর্ণব্যবস্থায় নিম্নবর্ণের লোক।
পৃথিবীতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সমান মনে করার চেতনাকে সাম্যবাদী চেতনা বলে।
পৃথিবীজুড়ে নানা ধর্মের-বর্ণের, জাতি-গোষ্ঠীর মানুষের বাস। বিচিত্র তাদের জীবনধারা। আচার-সংস্কৃতিতে আছে ভিন্নতা। কিন্তু তাদের একটি সাধারণ পরিচয় রয়েছে। তা হচ্ছে- তারা সবাই মানুষ। একই রকম রক্ত তাদের শরীরে প্রবাহিত। তাই ধনী-দরিদ্র, সাদা-কালো, ছোট-বড়, ধর্ম-বর্ণ প্রভৃতি দ্বারা মানুষে মানুষে পার্থক্য করা উচিত নয়।
উদ্দীপকে 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের উপেক্ষিত মানুষের জেগে ওঠার দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে।
একটি দেশ এগিয়ে যায় দেশের সব স্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে। এক্ষেত্রে সমাজের খেটে খাওয়া মানুষের অবদান সবচেয়ে বেশি। তাই মানুষের মধ্যে চলমান বিভেদ দূর করে সবাইকে একসাথে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
উদ্দীপকে সমাজের উপেক্ষিত মানুষের জেগে ওঠার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এই আহ্বানের মধ্যে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে যাদের কষ্ট ও পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে দেশ এগিয়ে যায়। অথচ এই দুঃখী মানুষেরা ন্যায্য অধিকারটুকুও পায় না। উঁচু শ্রেণির মানুষের ভয়ে তারা অধিকারবঞ্চিত হয়ে চুপচাপ বসে থাকে। উদ্দীপকের কবিতাংশে তাদের প্রতি জেগে ওঠার আহ্বান জানানো হয়েছে। 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধেও লেখক সাম্যবাদী সমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে সমাজের তথাকথিত নিচুশ্রেণির মানুষদের জেগে উঠতে হবে। নিজেদের অধিকার আদায়ের বিষয়ে সচেতন হয়ে একযোগে কাজ করতে হবে। দূর করতে হবে ধনী-দরিদ্র, উঁচু-নিচুর বিভেদ। প্রবন্ধের মতো উদ্দীপকেও এই আহ্বানের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
"উদ্দীপকটি 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের ভাবার্থের দর্পণ"- মন্তব্যটি যথার্থ।
সমাজের মানুষেরাই ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। শ্রমজীবী মানুষের অবদানের কথা বারবার উঁচু শ্রেণির মানুষ ভুলে গিয়ে তাদের ওপর অত্যাচার করেছে। সমাজে অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার এসব মানুষের সঠিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে সমাজের উপেক্ষিত শক্তির জেগে ওঠার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। যুগ যুগ ধরে যারা নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে, লেখক তাদের জেগে ওঠার কথা বলেছেন। সমাজের এই শ্রমজীবী মানুষেরাই আজ উপেক্ষিত, পায় না নিজেদের অধিকারটুকুও। 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধেও লেখক সাম্যবাদী মানসিকতার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। আর এই সাম্যবাদী চিন্তা-চেতনার প্রতিষ্ঠায় অবশ্যই আমাদের ছোট-বড়, উঁচু-নিচু, ধর্মীয় ও জাতিগত বিভেদ দূর করতে হবে। শ্রমজীবী সেসব মানুষকে জেগে উঠতে হবে যারা আজ নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত ও উপেক্ষিত।
'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধে লেখকের সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটেছে। লেখক সমাজের এই অধঃপতন থেকে মুক্তির জন্য উপেক্ষিত মানুষদের জেগে উঠতে বলেছেন। নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য আহবান জানিয়েছেন। উদ্দীপকের ভাবার্থেও এই বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্দীপকটিকে প্রবন্ধের ভাবার্থের দর্পণ বলা যায়। এই বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!