প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য 

ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা,

চোখে আর স্বপ্নের নেই নীল মদ্য 

কাঠফাটা রোদ সেঁকে চামড়া।

চিমনির মুখে শোন সাইরেন-শঙ্খ, 

গান গায় হাতুড়ি ও কাস্তে

তিল তিল মরণেও জীবন অসংখ্য 

জীবনকে চায় ভালোবাসতে।

শতাব্দীলাঞ্ছিত আর্তের কান্না 

প্রতি নিঃশ্বাসে আনে লজ্জা

মৃত্যুর ভয়ে ভীরু বসে থাকা, আর না- 

পরো পরো যুদ্ধের সজ্জা।

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

'চন্ডাল' শব্দের অর্থ হিন্দু বর্ণব্যবস্থায় নিম্নবর্ণের লোক।

উত্তরঃ

পৃথিবীতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সমান মনে করার চেতনাকে সাম্যবাদী চেতনা বলে।

পৃথিবীজুড়ে নানা ধর্মের-বর্ণের, জাতি-গোষ্ঠীর মানুষের বাস। বিচিত্র তাদের জীবনধারা। আচার-সংস্কৃতিতে আছে ভিন্নতা। কিন্তু তাদের একটি সাধারণ পরিচয় রয়েছে। তা হচ্ছে- তারা সবাই মানুষ। একই রকম রক্ত তাদের শরীরে প্রবাহিত। তাই ধনী-দরিদ্র, সাদা-কালো, ছোট-বড়, ধর্ম-বর্ণ প্রভৃতি দ্বারা মানুষে মানুষে পার্থক্য করা উচিত নয়।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের উপেক্ষিত মানুষের জেগে ওঠার দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে।

একটি দেশ এগিয়ে যায় দেশের সব স্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে। এক্ষেত্রে সমাজের খেটে খাওয়া মানুষের অবদান সবচেয়ে বেশি। তাই মানুষের মধ্যে চলমান বিভেদ দূর করে সবাইকে একসাথে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

উদ্দীপকে সমাজের উপেক্ষিত মানুষের জেগে ওঠার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এই আহ্বানের মধ্যে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে যাদের কষ্ট ও পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে দেশ এগিয়ে যায়। অথচ এই দুঃখী মানুষেরা ন্যায্য অধিকারটুকুও পায় না। উঁচু শ্রেণির মানুষের ভয়ে তারা অধিকারবঞ্চিত হয়ে চুপচাপ বসে থাকে। উদ্দীপকের কবিতাংশে তাদের প্রতি জেগে ওঠার আহ্বান জানানো হয়েছে। 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধেও লেখক সাম্যবাদী সমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে সমাজের তথাকথিত নিচুশ্রেণির মানুষদের জেগে উঠতে হবে। নিজেদের অধিকার আদায়ের বিষয়ে সচেতন হয়ে একযোগে কাজ করতে হবে। দূর করতে হবে ধনী-দরিদ্র, উঁচু-নিচুর বিভেদ। প্রবন্ধের মতো উদ্দীপকেও এই আহ্বানের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

উত্তরঃ

"উদ্দীপকটি 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের ভাবার্থের দর্পণ"- মন্তব্যটি যথার্থ।

সমাজের মানুষেরাই ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। শ্রমজীবী মানুষের অবদানের কথা বারবার উঁচু শ্রেণির মানুষ ভুলে গিয়ে তাদের ওপর অত্যাচার করেছে। সমাজে অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার এসব মানুষের সঠিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

উদ্দীপকের কবিতাংশে সমাজের উপেক্ষিত শক্তির জেগে ওঠার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। যুগ যুগ ধরে যারা নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে, লেখক তাদের জেগে ওঠার কথা বলেছেন। সমাজের এই শ্রমজীবী মানুষেরাই আজ উপেক্ষিত, পায় না নিজেদের অধিকারটুকুও। 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধেও লেখক সাম্যবাদী মানসিকতার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। আর এই সাম্যবাদী চিন্তা-চেতনার প্রতিষ্ঠায় অবশ্যই আমাদের ছোট-বড়, উঁচু-নিচু, ধর্মীয় ও জাতিগত বিভেদ দূর করতে হবে। শ্রমজীবী সেসব মানুষকে জেগে উঠতে হবে যারা আজ নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত ও উপেক্ষিত।

'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধে লেখকের সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটেছে। লেখক সমাজের এই অধঃপতন থেকে মুক্তির জন্য উপেক্ষিত মানুষদের জেগে উঠতে বলেছেন। নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য আহবান জানিয়েছেন। উদ্দীপকের ভাবার্থেও এই বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্দীপকটিকে প্রবন্ধের ভাবার্থের দর্পণ বলা যায়। এই বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

285

                                                                                                                                                                                             ‘হে মোর দুর্ভাগা দেশ! যাদের করেছ অপমান
                                                                                                                                                                                              অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।'
                                                                                                                                                                                                                                                            - রবীন্দ্রনাথ

আজ আমাদের এই নতুন করিয়া মহাজাগরণের দিনে আমাদের সেই শক্তিকে ভুলিলে চলিবে না— যাহাদের উপর আমাদের দশ আনা শক্তি নির্ভর করিতেছে, অথচ আমরা তাহাদিগকে উপেক্ষা করিয়া আসিতেছি। সে হইতেছে, আমাদের দেশের তথাকথিত ‘ছোটোলোক’ সম্প্রদায়। আমাদের আভিজাত্য-গর্বিত সম্প্রদায়ই এই হতভাগাদের এইরূপ নামকরণ করিয়াছেন। কিন্তু কোনো যন্ত্র দিয়া এই দুই শ্রেণির লোকের অন্তর যদি দেখিতে পারো, তাহা হইলে দেখিবে, ঐ তথাকথিত ‘ছোটোলোক’-এর অন্তর কাচের ন্যায় স্বচ্ছ, এই ‘ছোটোলোক’ এমন স্বচ্ছ অন্তর, এমন সরল মুক্ত উদার প্রাণ লইয়াও যে কোনো কার্য করিতে পারিতেছে না, তাহার কারণ এই ভদ্র সম্প্রদায়ের অত্যাচার। সে বেচারা জন্ম হইতে এই ঘৃণা, উপেক্ষা পাইয়া নিজেকে এত ছোটো মনে করে, সঙ্কোচ জড়তা তাহার স্বভাবের সঙ্গে এমন ওতপ্রোতভাবে জড়াইয়া যায় যে, সেও-যে আমাদেরই মতো মানুষ— সেও যে সেই এক আল্লাহ্-এর সৃষ্টি, তাহারও যে মানুষ হইবার সমান অধিকার আছে,- তাহা সে একেবারে ভুলিয়া যায়। যদি কেউ এই উৎপীড়নের বিরুদ্ধে বিদ্রোহাচরণ করে, অমনি আমাদের ভদ্র সম্প্রদায় তাহার মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করিয়া তাহাকে অজ্ঞান করিয়া ফেলে। এই হতভাগাদিগকে— আমাদের এই সত্যিকার মানুষদিগকে আমরা এই রকম অবহেলা ? করিয়া চলিয়াছি বলিয়াই আজ আমাদের এত অধঃপতন। তাই আমাদের দেশে জনশক্তি বা গণতন্ত্র গঠিত হইতে পারিতেছে না। হইবে কীরূপে? দেশের অধিবাসী লইয়াই তো দেশ এবং ব্যক্তির সমষ্টিই তো জাতি। আর সে-দেশকে, সে-জাতিকে যদি দেশের, জাতির সকলে বুঝিতে না পারে, তবে তাহার উন্নতির আশা করা আর আকাশে অট্টালিকা নির্মাণের চেষ্টা করা একই কথা। তোমরা ভদ্রসম্প্রদায়, মানি, দেশের দুর্দশা জাতির দুর্গতি বুঝো, লোককে বুঝাইতে পারো এবং ঐ দুর্ভাগ্যের কথা কহিয়া কাঁদাইতে পার, কিন্তু কার্যক্ষেত্রে নামিয়া কার্য করিবার শক্তি তোমাদের আছে কি? না, নাই । এ-কথা যে নিরেট সত্য, তাহা তোমরাই বুঝো। কাজেই তোমাদের এই দেশকে, জাতিকে উন্নত করিবার আশা ঐ কথাতেই শেষ হইয়া যায়। কিন্তু যদি একবার আমাদের এই জনশক্তিকে উদ্বুদ্ধ করিতে পারো, তাহাদিগকে মানুষ বলিয়া ভাই বলিয়া কোল দিবার তোমার উদারতা থাকে, তাহাদিগের শক্তির উন্মেষ করিতে পারো, তাহা হইলে দেখিবে তুমি শত বৎসর ধরিয়া প্রাণপণে চেষ্টা সত্ত্বেও যে-কাজ করিতে পারিতেছ না, একদিনে সেই কাজ সম্পন্ন হইবে। একথা হয়তো তোমার বিশ্বাস হইবে না, একবার মহাত্মা গান্ধীর কথা ভাবিয়া দেখো দেখি! তিনি ভারতে কি অসাধ্য সাধন করিতে পারিয়াছেন!
তিনি যদি এমনি করিয়া প্রাণ খুলিয়া ইহাদের সহিত না মিশিতেন, ইহাদের সুখ-দুঃখের এমন করিয়া ভাগী না হইতেন, ইহাদিগকে যদি নিজের বুকের রক্ত দিয়া, তাহারা খাইতে পাইল না বলিয়া নিজেও তাহাদের সঙ্গে উপবাস করিয়া ইহাদিগকে নিতান্ত আপনার করিয়া না তুলিতেন, তাহা হইলে আজ তাঁহাকে কে মানিত? কে তাঁহার কথায় কর্ণপাত করিত? কে তাঁহার একটি ইঙ্গিতে এমন করিয়া বুক বাড়াইয়া মরিতে পারিত? তাঁহার আভিজাত্য-গৌরব নাই, পদ-গৌরবের অহঙ্কার নাই, অনায়াসে প্রাণের মুক্ত উদারতা লইয়া তোমাদের ঘৃণ্য এই ‘ছোটলোক'কে বক্ষে ধরিয়া ভাই বলিয়া ডাকিয়াছেন, সে-আহ্বানে জাতিভেদ নাই, ধর্মভেদ নাই, সমাজ-ভেদ নাই, সে যে ডাকার মতো ডাকা, তাই নিখিল ভারতবাসী, এই উপেক্ষিত হতভাগারা তাঁহার দিকে এত হা হা করিয়া ব্যগ্র বাহু মেলিয়া ছুটিয়াছে । হায়, তাহাদের যে আর কেহ কখনো এমন করিয়া এত বুকভরা স্নেহ দিয়া আহ্বান করেন নাই! এ মহা-আহ্বানে কি তাহারা সাড়া না দিয়া পারে? যদি পারো, এমনি করিয়া ডাকো, এমনি করিয়া এই উপেক্ষিত শক্তির বোধন করো- দেখিবে ইহারাই দেশে যুগান্তর আনিবে, অসাধ্য সাধন করিবে। ইহাদিগকে উপেক্ষা করিবার, মানুষকে মানুষ হইয়া ঘৃণা করিবার, তোমার কি অধিকার আছে? ইহা তো আত্মার ধর্ম নয়। তাহার আত্মা তোমার আত্মার মতোই ভাস্বর, আর একই মহা- আত্মার অংশ। তোমার জন্মগত অধিকারটাই কি এত বড়? তুমি যদি এই চণ্ডাল বংশে জন্মগ্রহণ করিতে, তাহা হইলে তোমার মতো ভদ্রলোকদের দেওয়া এই সব হতাদর উপেক্ষার আঘাত, বেদনার নির্মমতা একবার কল্পনা করিয়া দেখো দেখি,- ভাবিতে তোমার আত্মা কি শিহরিয়া উঠিবে না?
আমাদের এই পতিত, চণ্ডাল, ছোটোলোক ভাইদের বুকে করিয়া তাহাদিগকে আপন করিয়া লইতে, তাহাদেরই মতো দীন বসন পরিয়া, তাহাদের প্রাণে তোমারও প্রাণ সংযোগ করিয়া উচ্চশিরে তার সম্মুখে আসিয়া দাঁড়াও, দেখিবে বিশ্ব তোমাকে নমস্কার করিবে। এস, আমাদের উপেক্ষিত ভাইদের হাত ধরিয়া আজ বোধন-বাঁশিতে সুর দিই-

 

                                                                                                                                                                                                       ‘কীসের দুঃখ, কিসের দৈন্য,

                                                                                                                                                                                                       কীসের লজ্জা, কীসের ক্লেশ!'
                                                                                                                                                                                                                                                               (সংক্ষেপিত)

Related Question

View All
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews