V-AID কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশে সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচির অগ্রযাত্রা শুরু হয়।
সমাজকর্মীরা সামাজিক কার্যক্রম পদ্ধতির প্রয়োগ করেন মূলত সামাজিক কুসংস্কার, কুপ্রথা দূরীকরণের জন্য এবং সামাজিক আইন প্রণয়নের ক্ষেত্র প্রস্তুত করার জন্য।
সামাজিক কার্যক্রম সমাজকর্মের একটি সাহায্যকারী প্রক্রিয়া। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও অধিকার রক্ষা, শিশু অধিকার রক্ষা, সামাজিক কুপ্রথা দূরীকরণের জন্য সামাজিক আইন অপরিহার্য। আর এসব ক্ষেত্রে সমাজকর্মীরা সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে জনমত সৃষ্টি করে সামাজিক আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করেন।
প্রেক্ষাপট-১ এ দক্ষতা ও যোগ্যতাসম্পন্ন সমাজকর্মীর অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।
সমাজকর্মী মূলত তারা যারা বিশেষ জ্ঞান এবং দক্ষতাসম্পন্ন হয়ে থাকেন এবং তারা তাদের অর্জিত জ্ঞানকে ব্যক্তি, দল এবং সমষ্টির আর্থ-সামাজিক সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে থাকেন। তারা ব্যক্তি, দল ও সমষ্টিকে এমনভাবে সহায়তা করেন যাতে তারা নিজেরাই নিজেদের সমস্যা সমাধানে সক্ষম হয় এবং একটি অনুকূল সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশে এ ধরনের সমাজকর্মীর যথেষ্ট অভাব রয়েছে।
মোড়লগঞ্জ গ্রামে নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তা সফলতার মুখ দেখেনি। কারণ সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য ও দক্ষতাসম্পন্ন কোনো লোক এখানে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও দক্ষতাসম্পন্ন সমাজকর্মীর প্রয়োজনীয়তা অত্যাবশ্যক। অথচ এদেশে এ ধরনের সমাজকর্মী খুব কম রয়েছে। বিদেশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কিছু বিশেষজ্ঞ এ দেশে তৈরি হলেও তাদের পেশা অনুশীলনের অনুকূল পরিবেশ এদেশে এখনও তৈরি হয় নি।
প্রেক্ষাপট-২ বাংলাদেশের সামাজিক নীতি ও পরিকল্পনায়
সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচির অগ্রগতি প্রমাণ করছে- বক্তব্যটি সঠিক। সাধারণত সামাজিক সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে সামাজিক নীতি এবং পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। সামাজিক নীতি এবং পরিকল্পনায় সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচিই বেশি থাকে। বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন নীতি ও পরিকল্পনায় সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে দেশকে একটি আত্মনির্ভর দেশ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।
উদ্দীপকে কল্যাণপুর গ্রামে গ্রহণ করা সর্বজনীন শিক্ষা কর্মসূচি, অসহায়, দুস্থদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, রোগীদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা, সরকারের সামাজিক নীতি ও পরিকল্পনার অগ্রগতি প্রমাণ করছে। বাংলাদেশ সরকার এ যাবৎ পাঁচটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সরকারের এ পাঁচটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং একটি দ্বিবার্ষিক পরিকল্পনায় সমাজকল্যাণ নীতি ও কর্মসূচির যথেষ্ট অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এসব নীতি ও পরিকল্পনায় দুস্থ ও অসহায়দের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, শারীরিক ও সামাজিক পঙ্গুদের দায়িত্ব গ্রহণে জনগণকে উৎসাহিত করা, অপরাধীদের পুনর্বাসন ও সংশোধন, সম্পদ বিবেচনা করে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমানো, গ্রাম ও শহরের ব্যবধান কমিয়ে আনা, কর্মমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষা চালু, ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন ও প্রশিক্ষণ, সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, চিকিৎসা ব্যবস্থাকে কার্যকরী করে তোলা, প্রতিবন্ধীদের উন্নয়ন, সর্বোপরি জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে সমাজের কল্যাণ সাধন করা সম্ভব। উদ্দীপকে কল্যাণপুর গ্রামের এসব কর্মসূচিরই কিছু অংশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ লক্ষ করা যাচ্ছে। উপরিউক্ত আলোচনায় এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, কল্যাণপুর গ্রামে গ্রহণ করা কর্মসূচিগুলো সরকারের সমাজকল্যাণমূলক কাজের অগ্রগতি প্রমাণ করছে।
Related Question
View Allবাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো- অদক্ষ জনশক্তি।
দানশীলতা বলতে শর্তহীনভাবে স্বার্থ ত্যাগ করে অন্যের কল্যাণে কোনো কিছু দান করার রীতিকে বোঝায়।
দানশীলতা মানবপ্রেম থেকে সৃষ্ট একটি কল্যাণমূলক ব্যবস্থা। এটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাপ্রণোদিত। তবে প্রত্যেক ধর্মই দুস্থ ও অসহায়দের কল্যাণে ধনী বা সম্পদশালীদের দান করার জন্য উৎসাহিত করে। সুতরাং দানশীলতা হলো মানবপ্রেম থেকে সৃষ্ট একটি মহৎ গুণ, যা দুস্থদের কল্যাণকে ত্বরান্বিত করে।
উদ্দীপকে সমাজকর্মের সাথে সমাজসেবার যৌথ সমন্বয় ঘটেছে।
সমাজসেবা ও সমাজকর্মের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য বিধানে তাকে সহায়তা করাই সমাজসেবার মূল লক্ষ্য। বর্তমানে সমাজসেবামূলক কার্যক্রম সংগঠিত ও পরিকল্পিত উপায়ে পরিচালিত হয়। সমাজের সামগ্রিক কল্যাণে এ দুটি বিষয় পরস্পর নির্ভরশীল। সমাজকর্ম ও সমাজসেবা উভয়ই সুসংগঠিতভাবে সমাজের মানুষের সেবা দিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিকল্পনা করে। এ দুটি বিষয়ই ব্যক্তির সামাজিক ভূমিকা পালন ক্ষমতার পুনরুদ্ধার, সংরক্ষণ ও উন্নয়নে সচেষ্ট এবং কার্যকর মানবীয় সেবা সৃষ্টিতে কাজ করে।
তাই বলা যায়, সমাজকর্মের সাথে সমাজসেবার যৌথ সমন্বয় রয়েছে এবং উভয়ই একে অপরের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের মাধ্যমে চীনের সমাজকর্ম শিক্ষার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
চীনে সর্বপ্রথম সমাজকর্ম শিক্ষার সূত্রপাত হয় ১৯২০ সালে। পেশাদার সামাজিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে চীনে 'Yanjing University' তে ১৯২২ সালে সর্বপ্রথম সমাজকর্ম বিভাগ খোলা হয়। পরবর্তীতে ১৯২৫ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত আটটি বিশ্ববিদ্যালয় সমাজসেবা ও সমাজকর্ম সংশ্লিষ্ট কোর্স চালু করে। ১৯৪৯ সাল
থেকে ১৯৮০-এর দশকের প্রথম দিক পর্যন্ত সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতে 'Civil Affairs Division' এর মাধ্যমে সরকার নিজেই বিভিন্ন সমাজকর্ম ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত। কিন্তু সময়ের প্রেক্ষিতে এই Division সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে নতুনভাবে সমাজকর্ম পেশার আবশ্যকতা দেখা দেয়। CCP, The State council এবং Central Government এর যৌথ উদ্যোগে সমাজকর্ম পেশাকে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর সার্বিক লক্ষ্য ছিল একটি কাঙ্ক্ষিত সমাজব্যবস্থা গঠন করা।
তাই বলা যায় যে, চীনের সমাজকর্মের শিক্ষাকে সেদেশের দ্রুত উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ইংল্যান্ডকে সমাজকর্মের সূতিকাগার বলা হয়।
যেসব দেশ প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বাধিক ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকৃত মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে সেসব দেশই উন্নত দেশ হিসেবে পরিচিত।
উন্নত দেশগুলোতে সাধারণত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি হয় এবং এসব দেশের মানুষ উন্নত জীবন যাপনে অভ্যস্ত। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশের মধ্যে রয়েছে- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, চীন প্রভৃতি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!