সামাজিক পরিবর্তন সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞানী কিংসলে ডেভিস বলেন, "সামাজিক পরিবর্তন হচ্ছে সামাজিক সংগঠনের মধ্যকার পরিবর্তন।"
শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ইতিবাচক প্রভাব থাকলেও এর বেশকিছু নেতিবাচক প্রভাব বিদ্যমান। যেমন- মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বেড়ে গেছে। কর্মব্যস্ততার কারণে পেশাগত জীবনের প্রভাব ব্যক্তি জীবনেও প্রতিফলিত হচ্ছে। শিল্প নগরীর বাসস্থান স্বল্পতার কারণে যৌথ পরিবারগুলো ভেঙে একক পরিবারের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে প্রবীণদের নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। শিল্পায়ন ও নগরায়ণের এ রকম বহু নেতিবাচক প্রভাব পড়তে দেখা যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত লাইলী বেগমের ক্ষেত্রে সামাজিক পরিবর্তনের বিশেষ উপাদান শিক্ষা প্রযোজ্য।
শিক্ষা হলো এক ধরনের সংস্কার সাধন ও বিরামহীন প্রক্রিয়া। সমাজের সদস্যদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার আত্মবিশ্বাস ও বিচার বিবেচনার ক্ষমতা জাগ্রত করে। শিক্ষা মানুষকে যাবতীয় অন্ধত্ব, অজ্ঞতা, কুসংস্কার থেকে মুক্তি দেয় এবং মানুষকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলে। শিক্ষা নারীকে তার অধিকার সচেতন ও কর্মমুখী হতে সহায়তা করে। ফলে নারীর ক্ষমতায়ন ঘটে। যা নারীকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করে। উদ্দীপকের লাইলী বেগম পড়াশুনা শেষে চাকরি লাভের মাধ্যমে সচেতনতার অধিকারী হয়ে তাঁর দুই মেয়েকেও স্কুলে পাঠায়। সে তার পরিবারকে সমাজে সম্মানের সহিত প্রতিষ্ঠিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সে শিক্ষার মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে এবং সচেতন মানুষ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
অতএব বলা যায়, লাইলী বেগমের ক্ষেত্রে সামাজিক পরিবর্তনে শিক্ষা উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
হ্যাঁ, হামিদের কাজে সামাজিক পরিবর্তনের প্রযুক্তি নামক উপাদানটি প্রতিফলিত হয়েছে। এবং প্রযুক্তি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের পথকে প্রশস্ত করেছে- আমি এ বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত।
প্রযুক্তি হলো বিজ্ঞানের প্রায়োগিক দিক। প্রযুক্তির প্রচলন ও প্রসারের মাধ্যমে সমাজ ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিবর্গের মানসিক গঠন এবং সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তন সাধিত হয়। প্রযুক্তির ফলে সামাজিক যোগাযোগ পরিধির বিস্তৃতি ঘটে এবং কৃষি, শিল্প ও সামাজিক জীবনের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটায় ফলে তা আর্থসামাজিক উন্নয়নকে গতিশীলতা দান করে। কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির কল্যাণে উন্নত জাতের বীজ, সেচ, সার প্রয়োগের ফলে কৃষি উৎপাদন বহুগুণে বেড়ে গেছে। তাছাড়া মৎস্য চাষে নতুন নতুন পদ্ধতির প্রয়োগ ঘটানো হচ্ছে। প্রযুক্তির ফলে সমন্বিত মাছ চাষ, গবাদি পশু প্রজনন, গরু মোটাতাজাকরণ প্রভৃতি সম্ভব হচ্ছে। যা আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখে। উদ্দীপকের হামিদ যুব উন্নয়নে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফসল ও মাছ চাষ এবং গরু পালন করে। সে গরু মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি অনুসরণ করে এবং মাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য প্রক্রিয়াজাত মাছের খাবার ব্যবহার করে। অর্থাৎ সে প্রযুক্তির ব্যবহার করে সফল হয়েছে। এভাবেই প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে হামিদের মতো অন্যান্য ব্যক্তিও সফলতা লাভ করতে সক্ষম। যা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখে।
সুতরাং বলা যায়, প্রযুক্তি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রযুক্তি উপাদানটির গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে।
Related Question
View Allসমাজ কাঠামো ঞ্চাশ্রয় কার্যাবলির পরিবর্তনই হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তন।
বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম একটি কারণ হলো। শিল্পায়ন। শিল্পায়নের ফলে মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। সমাজে অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রামীণ যৌথ পরিবার ভেঙে শহরে একক পরিবার গঠিত হচ্ছে। মেয়েরা ঘরে ও বাইরে সমানতালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'সর্বদয়া ও শ্রমদানা' কার্যক্রমের প্রভাবে সৃষ্ট সামাজিক পরিবর্তনের শিক্ষা উপাদানের সাথে মিল রয়েছে।
সামাজিক পরিবর্তনের একটি বিশেষ উপাদান হলো শিক্ষা। শিক্ষা হলো এক ধরনের সংস্কার সাধন এবং বিরামহীন প্রক্রিয়া। সমাজের সদস্যদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার আত্মবিশ্বাস ও বিচার-বিবেচনার ক্ষমতা জাগ্রত করে। শিক্ষা যাবতীয় অন্ধত্ব, অজ্ঞতা, কুসংস্কার প্রভৃতি থেকে মুক্তি দেয়। যেমন- বাংলাদেশের সমাজে নারী শিক্ষার প্রসার জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করেছে; যা বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেছে। এর ফলে দেশে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সৃষ্টি হয়েছে বহু সামাজিক নীতি ও আইন। যৌতুক আইন, পারিবারিক আইন, নারী উন্নয়ন নীতি প্রভৃতি সামাজিক সচেতনতার ফসল। নারী শিক্ষা নারীকে বহির্মুখী কর্মগ্রহণ ও চাকরিমুখী করেছে। এতে নারীর ক্ষমতায়ন ঘটেছে। এভাবে বিজ্ঞান শিক্ষা, বাণিজ্য শিক্ষা প্রভৃতি সমাজ জীবনে বহু কিছু সৃষ্টি করেছে; যা সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প নারীর ভূমিকার পরিবর্তনে সমাজজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
উদ্দীপকে ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পে কাজ করে সমাজজীবনে বহু নারীর ব্যাপক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রাম পর্যায়ে নারীরা সরকারি কিংবা বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। যার ফলে নারীরা এখন আত্মনির্ভরশীল হয়ে নিজেরা আয় করতে পারছে। নারীরা উপার্জিত টাকা পরিবারের অর্থনীতিতে ভূমিকা পালন করছে। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সামাজিক বহুবিধ দায়িত্ব পালন করছে। নারীর ভূমিকার এই পরিবর্তন নারীকে ক্ষমতায়নে ও মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত বেসরকারি সংস্থা বগুড়ার অবহেলিত জনগোষ্ঠীর সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। যা নারী উন্নয়ন সংঘ এখন জনসংখ্যারোধ ও ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পে কাজ করে সমাজজীবনে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের মাধ্যমে অনেক নারী তাদের অবস্থার উন্নয়নে অভাবনীয় পরিবর্তন সাধন করেছে।
তাই বলা যায়, ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের আওতায় এসে নারীরা সমাজজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
'মানবীয় সম্পর্কের পরিবর্তন হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তন'- উক্তিটি প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভারের।
সামাজিক পরিবর্তনের একটি অন্যতম উপাদান হলো শিক্ষা। শিক্ষা যাবতীয় অন্ধত্ব, অজ্ঞতা, কুসংস্কার প্রভৃতি থেকে মুক্তি দেয়। শিক্ষা এক ধরনের সংস্কার সাধন ও বিরামহীন প্রক্রিয়া। যা আত্মবিশ্বাস ও বিচার-বিবেচনা করার ক্ষমতা জাগ্রত করে সমাজের সদস্যদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!