ফজর আলী এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করার পর তিনি হজব্রত পালন করার জন্য মক্কায় গমন করেন। দীর্ঘদিন পর তিনি দেশে ফিরেন। দেশে ফিরে দেখেন তার এলাকার মুসলমানরা নানা প্রকার কুসংস্কারে লিপ্ত। তাই তিনি ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের ডাক দেন। শুধু তাই নয় মুসলমানদের আত্মশুদ্ধির জন্য ইসলামের পাঁচটি ফরজ পালনের ওপরও সর্বাধিক গুরত্বারোপ করেন।

Updated: 4 months ago
উত্তরঃ

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায় দুটিকে পৃথক জাতি হিসেবে চিহ্নিত করে ধর্মের ভিত্তিতে ভারত বিভক্তির যে দাবি তুলেছিলেন তাকে দ্বিজাতি তত্ত্ব বলে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
উত্তরঃ

মুসলমানদের দুরবস্থার অবসান করে তাদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য মুসলিম লীগ গঠন করা হয়।
ব্রিটিশ শাসনের শুরু থেকেই ভারতের মুসলমান সম্প্রদায় অবহেলিত ও বঞ্চিত হতে থাকে। ভারতের সব সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার জন্য ১৮৮৫ সালে কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু কংগ্রেসের কিছু নীতি ও সিদ্ধান্তের কারণে মুসলমানরা হতাশ এবং আশাহত হয়ে পড়ে। এছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুসলমানরা সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতো। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ শতকের প্রথমার্ধে মুসলমানদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি হয়। তারা নিজেদের জন্য আলাদা রাজনৈতিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। এমন প্রেক্ষাপটে ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের ফজর আলীর আন্দোলনের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের হাজী শরীয়তউল্লাহর ফরায়েজি আন্দোলনের সাদৃশ্য আছে।
বাংলায় পরিচালিত বিভিন্ন সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম হলো ফরায়েজি আন্দোলন। ইসলাম ধর্ম অনুসারে মুসলমানদের জন্য পাঁচটি ফরজ কাজ অবশ্য পালনীয়। এগুলো পালনের উদ্বুদ্ধকরণ সংক্রান্ত যে আন্দোলন পরিচালিত হয় তাই হলো ফরায়েজি আন্দোলন। উদ্দীপকের আন্দোলনটি এ আন্দোলনেরই নামান্তর।
উদ্দীপকের ফজর আলী ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ ও হজব্রত পালনের পর দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি কুসংস্কারে লিপ্ত মুসলমানদের ফরজ পালনের ওপর জোর দেন। এছাড়া তিনি একটি ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনও পরিচালনা করেন। হাজী শরীয়তউল্লাহর ফরায়েজি আন্দোলনের ক্ষেত্রেও এমনটি দেখা যায়। হাজী শরীয়তউল্লাহ ১৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৭৯৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি শিক্ষক বাশারত আলীর সাথে মক্কায় হজ করতে যান। সেখানে তিনি বিশ বছর অবস্থান করে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশে ফিরে আসেন। তৎকালীন বাংলার মুসলিম সমাজে নানাবিধ কুসংস্কার ও অনৈসলামিক রীতিনীতি ছড়িয়ে পড়েছিল। তারা পীরপূজা, কবর পূজা, মানত, ওরশ ইত্যাদি কুসংস্কারে লিপ্ত হয়ে পড়ে। হাজী শরীয়তউল্লাহ মুসলমানদের এসব রীতি পরিহারের উপদেশ দেন এবং তাদেরকে ইসলামের পাঁচটি ফরজ কাজ পালনে উদ্বুদ্ধ করেন। তার এ প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ করার জন্য তিনি ফরায়েজি আন্দোলন নামে একটি সংস্কার আন্দোলনের ডাক দেন। সুতরাং বোঝা যায়, উদ্দীপকের আন্দোলনটি ফরায়েজি আন্দোলনকেই ধারণ করছে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
উত্তরঃ

তৎকালীন সমাজে উত্ত আন্দোলন অর্থাৎ ফরায়েজি আন্দোলন ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।
ফরায়েজি আন্দোলন তৎকালীন কুসংস্কারাচ্ছন্ন মুসলিম সমাজে নতুন প্রাণের সঙ্খ্যার করে। তারা নিজেদেরকে নতুনভাবে উপলব্ধি করতে শুরু করে। আত্মপ্রত্যয় ও আত্মশুদ্ধির আহ্বানে তাদের জীবনে গতিশীলতা সৃষ্টি হয়।
হাজী শরীয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর তার সুযোগ্য পুত্র দুদু মিয়া পিতার অসমাপ্ত কাজের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। দুদু মিয়ার অপরিসীম সাংগঠনিক ক্ষমতা ও কর্মতৎপরতায় ফরায়েজি আন্দোলন রাজনৈতিক আন্দোলনে পরিণত হয়। তিনি নিজের সমর্থকদের নিয়ে ১৮৪৬ সালে পদ্মচরের সুরক্ষিত নীলকুঠির ওপর দুঃসাহসিক আক্রমণ পরিচালনা করেন। ফলে অত্যাচারী নীলকর ও জমিদারদের বিরোধিতা চরম আকার ধারণ করে।
তবে দুদু মিয়া এসব তোয়াক্কা করেননি। বরং আমৃত্যু তিনি এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দান করেন।
মূলত, হাজী শরীয়তউল্লাহর আন্দোলন ছিল সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন। এ আন্দোলন বাংলার মুসলমানগণের মধ্যে প্রবল আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলে। পরবর্তীকালে অনেক নেতা তার আন্দোলনের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। এ আন্দোলন বাংলার মুসলমানদেরকে সুসংগঠিত করতে সক্ষম হয়। তারা নিজেদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে। এই সচেতনতা বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামে অসামান্য ভূমিকা পালন করেছিল।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
48

Related Question

View All
উত্তরঃ

বেজাল প্যাক্ট হলো বাংলার হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক বিভেদ সমাধানের লক্ষ্যে সম্পাদিত চুক্তি।
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ অনুভব করেছিলেন যে, বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের দাবি অগ্রাহ্য করে স্বাধীনতা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এ দিক বিবেচনা করে চিত্তরঞ্জন দাশ মুসলমানদের সমর্থন ও হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। বাংলার মুসলিম নেতারাও তাঁর সাথে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন এ.কে. ফজলুল হক, মৌলবি আবদুল করিম এবং হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী। তাদের উদ্যোগে ১৯২৩ সালে 'বেঙ্গল প্যাক্ট' স্বাক্ষরিত হয়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
148
উত্তরঃ

উদ্দীপকের শামসুল হুদার সাথে আমার পঠিত মহান নেতা শহিদ তিতুমীরের সাদৃশ্য রয়েছে।

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্রসৈনিক শহিদ তিতুমীরের আসল নাম সৈয়দ মীর নিসার আলী। তিনি দেশের মানুষকে ইংরেজ, জমিদার এবং নীলকরদের অত্যাচার ও শোষণের হাত থেকে রক্ষার প্রচেষ্টা চালান। তিনি কৃষকদেরকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলেন এবং তাদেরকে সংঘবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। শোষকদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তিনি কৃষকদেরকে সামরিক প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন। এ লক্ষ্যে তিনি কলকাতার নিকটবর্তী নারিকেলবাড়িয়া নামক স্থানে একটি বাঁশের কেল্লা বা দুর্গ নির্মাণ করেন।
উদ্দীপকের শামসুল হুদার ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়, তিনি একজন সৎ ও সাহসী ব্যক্তি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সব সময় সোচ্চার। অত্যাচারী জমিদার ও সুদখোর মহাজনদের হাত থেকে জনগণকে রক্ষায় তিনি একটি বাহিনী গড়ে তোলেন এবং তাদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি দুর্গ প্রতিষ্ঠা করেন। তার এ লক্ষ্য ও কার্যক্রমের সাথে আমার পঠিত শহিদ তিতুমীরের সাদৃশ্য রয়েছে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
125
উত্তরঃ

উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যক্তিত্বের অর্থাৎ তিতুমীরের আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন গতি লাভ করেছিল।
তিতুমীরের কৃষক আন্দোলন ও বারাসাত বিদ্রোহ ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিদ্রোহ। এর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেন যে, রক্তদান ব্যতীত স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব নয়। তাঁর পরিচালিত এ বিদ্রোহ ছিল জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে। তিনি নারিকেলবাড়িয়ার আশপাশের জমিদারদের পরাজিত করে চব্বিশ পরগনা, নদীয়া এবং ফরিদপুর জেলার কিছু অংশ নিয়ে একটি স্বাধীন রাজ্য গঠন করেন এবং কোম্পানি সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তিনি ইংরেজ সরকারের আক্রমণ মোকাবিলার জন্য নারিকেলবাড়িয়ায় একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন। ১৮৩১ সালে ইংরেজ বাহিনীর সাথে যুদ্ধে তিতুমীরও শহিদ হন।
ইংরেজদের গোলাবারুদ এবং নীলকর ও জমিদারদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা ছিল সাহস আর দেশপ্রেমের প্রতীক। যা যুগে যুগে বাঙালিকে অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হতে সাহস যুগিয়েছে। প্রেরণা যুগিয়েছে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যেতে। উপরের আলোচনা থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে তিতুমীরের আন্দোলনের কারণেই পরবর্তী সময়ের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনগুলো গতি লাভ করেছে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
116
উত্তরঃ

ফরায়েজি আন্দোলন বলতে হাজী শরীয়তউল্লাহ কর্তৃক পরিচালিত ফরজভিত্তিক আন্দোলনকে বোঝায়।
১৮১৮ সালে হাজী শরীয়তউল্লাহ মক্কা থেকে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি দেখলেন মুসলমানরা নানা প্রকার কুসংস্কারে লিপ্ত। তারা কবরপূজা, পীরপূজা, ওরস ও মানত করে পরিত্রাণ পাবে বলে মনে করত। এ অবস্থা দেখে হাজী শরীয়তউল্লাহ ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের ডাক দেন। এতে ইসলাম ধর্মের পাঁচটি ফরজ পালনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করা হয়। এই আন্দোলনই ইতিহাসে ফরায়েজি আন্দোলন নামে পরিচিত।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
109
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews