ফরিদপুর শহরের দুটি এলাকার মধ্যে ফুটবল খেলা নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হলে অনেক লোক আহত হয়। এ অবস্থায় স্থানীয় একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এর একটি শান্তিপূর্ণ মীমাংসা করে দেয়। এ অবস্থা দেখে দশম শ্রেণির ছাত্র পল্লব তার বাবাকে বলে বিশ্বের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে এমন কোনো সংগঠন আছে কি? এর উত্তরে তার পিতা বলেন, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, ক্ষুধা, দারিদ্র্যসহ নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূর করতে একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন রয়েছে যার ভূমিকা প্রশংসনীয়।

Updated: 1 year ago
উত্তরঃ

বাংলাদেশে 'জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)' সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও মেয়ে শিশুদের মৌলিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে বিশেষত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে।

উত্তরঃ

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনগুলোতে বাংলাদেশ ঈর্ষণীয় অবদান রেখে চলেছে। বর্তমানে প্রায় ১১,০০০ এর বেশি, বাংলাদেশি সৈন্য বিশ্বের ১১টি দেশে জাতিসংঘের অধীনে শান্তিরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। আফ্রিকার দেশগুলোতে বাংলাদেশি সৈন্যদের অভূতপূর্ব সাফল্য সেই দেশগুলোতে তথা সারা বিশ্বে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতাকে অনেক বৃদ্ধি করেছে। তাই বলা যায়, জাতিসংঘে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত পল্লবের বাবা যে আন্তর্জাতিক সংগঠনের কথা বলেছেন সেটি হলো জাতিসংঘ। আর জাতিসংঘ নামক এ সংগঠনটির রয়েছে এক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।

বিংশ শতাব্দীর ইতিহাসে পৃথিবীজুড়ে দুটি বিশ্বযুদ্ধ ঘটে গেছে। গত শতাব্দীর প্রথমদিকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪-১৯১৮) এবং ৪০-এর দশকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৩৯-৪৫) সংঘটিত হয়। মূলত জাতিগত দ্বন্দ্ব নিরসনে মধ্যস্থতাকারী শান্তিকামী জনতা যুদ্ধের ধ্বংসলীলায় চুপ করে থাকেনি। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে ১৯২০ সালের ১০ জানুয়ারি বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে 'লীগ অব নেশন্স' সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু 'লীগ অব নেশন্স' এর সাংগঠনিক দুর্বলতা ও অন্যান্য কারণে বিশ্বশান্তি বিধানে তা ব্যর্থ হয়। ১৯৩৯ সালে পুনরায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা পৃথিবীকে গ্রাস করে। লক্ষ লক্ষ মানুষ নিহত ও আহত, গৃহহারা, পঙ্গুত্ব বরণ করে। প্রতিটি দেশ হারায় তাদের কর্মক্ষম যুব সম্প্রদায়কে। যাহোক, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা' বিশ্ব বিবেককে ভীষণ আতঙ্কিত করে তোলে এবং নাড়া দেয়। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্বের তৎকালীন নেতৃবৃন্দ বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানের জন্য আর একটি নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। উদ্দীপকেও তদ্রুপ ঘটনাটি পরিলক্ষিত হয়। দেখা যাচ্ছে, ফরিদপুর শহরে দুটি এলাকার ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মারামারিতে অনেক লোক আহত হয়। এ অবস্থায় স্থানীয় একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং একটি শান্তিপূর্ণ মীমাংসা করে। যা জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পটভূমির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

পরিশেষে বলতে পারি, বিশ্ব সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যেই ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ আত্মপ্রকাশ করে।

উত্তরঃ

হ্যাঁ, আমি মনে করি 'নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সাধনে' জাতিসংঘ নামক প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদটি 'সিডও সনদ' নামে পরিচিত, যা ১৯৭৯ সালের ডিসেম্বর মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়। ১৯৮১ সালে ২০টি দেশ সমর্থন করার পর এটি কার্যকর হয়। বাংলাদেশসহ মোট ১৩২টি দেশ বর্তমানে এ সনদটি সমর্থন করেছে। এ সনদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি নারীর অধিকারের একটি পূর্ণাঙ্গ দলিল, যা বিভিন্ন সময়ে নারীর প্রতি বৈষম্য নিরসনে গ্রহণকৃত বিভিন্ন ইস্যুকে সমন্বিত করে। নারী ও পুরুষের সমতার নীতির ওপর ভিত্তি করে সনদটি তৈরি। নারীর মানবাধিকারের বিষয়টিও এখানে ওঠে এসেছে। আইনগত পদ্ধতিতে এ অধিকারগুলো ম্যান্ডেটভুক্ত করায় সমর্থনকারী দেশগুলো এ সনদ মেনে চলতে বাধ্য। এ সনদে স্বীকার করা হয় যে, বিভিন্ন দেশে নারীর আইনগত অধিকার বলবৎ থাকলেও বৈষম্য রয়েছে এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে নারীর প্রবেশাধিকার খর্ব করার মাধ্যমেই তা করা হয়ে থাকে। এ সনদ নারীর প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্বকে নিশ্চিত করে। সিডও সনদে ৩০টি ধারা আছে। এর প্রথম ১৬টি ধারা নারীর প্রতি কত প্রকার বৈষম্য আছে তা বিশ্লেষণ করে। পরের ১৪টি ধারা ব্যাখ্যা করে এ বৈষম্যগুলো কীভাবে বিলোপ করা যায়। নারীর নির্যাতন প্রতিরোধে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ২৫ নভেম্বরকে 'আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস' হিসেবে পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ। জাতিসংঘ ৮ মার্চকে বিশ্ব নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে।

উপরিউক্ত আলোচনার দ্বারা আমি এটিই বোঝাতে চাই যে, নারীর উন্নয়নের জন্য জাতিসংঘ জন্মলগ্ন থেকে অনেক কাজ করেছে এবং নারীদের অবস্থানকে অনেক উন্নত করেছে।

217

Related Question

View All
উত্তরঃ

পাঁচটি প্রধান অঙ্গ ও একটি সেক্রেটারিয়েট নিয়ে জাতিসংঘ গঠিত। পাঁচটি অঙ্গের প্রধান অঙ্গটি হচ্ছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। বিতর্ক সভা বলতে এ সাধারণ পরিষদকেই বোঝায়। আর জাতিসংঘের সকল সদস্যরাষ্ট্র নিয়ে সাধারণ পরিষদ বা বিতর্ক সভা গঠিত।

1k
উত্তরঃ

রিতার মতো এ ধরনের নারীর অধিকার আদায়ে জাতিসংঘের নারী উন্নয়ন তহবিল বা ইউনিফেম (UNIFEM) অঙ্গ সংস্থাটি কাজ করছে।

ইউনিফেম বাংলাদেশে নারীদের উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করছে। নারীদের বিভিন্ন ধরনের অধিকার আদায়ে এবং অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে তাদের সংশ্লিষ্ট করছে। উদ্দীপকের গৃহবধূ রিতা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে কোনো কর্মক্ষেত্রে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়নি। অনেক যুক্তি ও সংগ্রামের পরে তিনি একটি প্রাইভেট ফার্মে চাকরি লাভ করেন। সেখানে একই পদমর্যাদার পুরুষ সহকর্মী অপেক্ষা তাকে কম আর্থিক সুবিধাদি দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে যোগ্য সম্মান ও প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য তিনি কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেন; অবশেষে সফল হন। বাংলাদেশের নারীদের নিরাপদ শ্রম অভিবাসনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে এ ইউনিফেম কাজ করছে। 

সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশের নারীদের অধিকার আদায়ে ইউনিফেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

774
উত্তরঃ

রিতার ভাই লাভলু বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের শান্তিমিশনে কাজ করছে এবং দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছেন।

জাতিসংঘের শান্তি মিশনে শুধু বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নয়; পাশাপাশি পুলিশও নিয়োজিত আছেন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে জাতিসংঘ তথা বিশ্বে বাংলাদেশ পেয়েছে ব্যাপক পরিচিতি ও শ্রদ্ধা এবং দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছেন। লাভলু সাহেব সিয়েরা লিওনে কর্মরত। সে হিসেবে তিনি দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছেন। বর্তমানে প্রায় ১১,০০০ এর বেশি বাংলাদেশি সৈন্য বিশ্বের ১১টি দেশে জাতিসংঘের অধীনে শান্তিরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। আফ্রিকার দেশগুলোতে বাংলাদেশি সৈন্যদের অভূতপূর্ব সাফল্য সে দেশগুলোতে তথা সারা বিশ্বে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতাকে অনেক বৃদ্ধি করেছে। আফ্রিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের কারণে অন্যান্য দেশের সৈন্যরা যেখানে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছিল না, সেখানে বাংলাদেশি সৈন্যরা শুধু গ্রহণযোগ্যতা নয়, পেয়েছে স্থানীয় গণমানুষের শ্রদ্ধা, ভক্তি ও ভালোবাসা। সিয়েরা লিওনে বাংলা ভাষা পেয়েছে সেই দেশের - দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা। তাছাড়া আইভরিকোস্টে অন্যতম একটি ব্যস্ত সড়কের নাম হয়েছে 'বাংলাদেশ সড়ক'।

অতএব, রিতার ভাই লাভলু দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

490
উত্তরঃ

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৫টি স্থায়ী সদস্যের জাতিসংঘে উত্থাপিত কোনো প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ার যে ক্ষমতা রয়েছে সেটিই হলো ভেটো।

360
উত্তরঃ

জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা হয়েছে বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। আর জাতিসংঘের শান্তিমিশনগুলোতে বাংলাদেশের অবদান ঈর্ষণীয়। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ১১টি দেশে ১১,০০০ এর বেশি সৈন্য F জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করে যাচ্ছে। এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের কারণে অন্যান্য দেশের সৈন্যরা যেখানে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছিল না, সেখানে বাংলাদেশি সৈন্যরা পেয়েছে স্থানীয় মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা, সিয়েরা লিওনে বাংলা ভাষা ২য় রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করেছে। আইভরিকোস্টের অন্যতম ব্যস্ত সড়কের নাম হয়েছে 'বাংলাদেশ সড়ক'। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি সঠিক।

282
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews