যে পুকুরে বছরে একটি নির্দিষ্ট সময় (৩-৮ মাস) পানি থাকে তাকে মৌসুমী পুকুর বলে।
বীজ থেকে চারা উৎপাদনের প্রক্রিয়াকেই বলে অঙ্গুরোদগম। আর নমুনা বীজের শতকরা কতটি বীজ গজায় তা বের করাই হলো বীজের অঙ্কুরোদগম পরীক্ষা।
অঙ্গুরোদগম পরীক্ষার মাধ্যমে ভালো মানের বীজ বাছাই করা সম্ভব হয়। ভালো বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা থাকে ৮০% এর উপরে যা এই পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়। এছাড়াও অঙ্কুরোদগম পরীক্ষায় গজানো চারা দেখে সেটি সুস্থ, সতেজ ও মিশ্রণহীন কিনা তা সঠিকভাবে নির্ণয় করা সম্ভব।
উদ্দীপকে কৃষিবিদদের মতামতটি হলো- "সকল উদ্ভিদতাত্ত্বিক বীজ কৃষিতাত্ত্বিক বীজের অন্তর্ভূক্ত।”
বীজ উদ্ভিদের বংশবিস্তারের প্রধান মাধ্যম। সাধারণভাবে উদ্ভিদ জন্মানোর জন্য যে অংশ ব্যবহার করা হয় তাকে বীজ বলে। উদ্ভিদতত্ত্ব অনুসারে, উদ্ভিদের নিষিক্ত ও পরিপক্ক ডিম্বককে বীজ বলে। এ ধরনের বীজকে ফসল বীজ বা প্রকৃত বীজ বা উদ্ভিদতাত্ত্বিক বীজও বলে। যেমন- ধান, গম, সরিষা, তিল, শিম, বরবটি, টমেটো, ফুলকপি, মরিচ, জিরা, ধৈঞ্চা, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি। কৃষিতত্ত্ব অনুসারে, উদ্ভিদের যেকোনো অংশ (মূল, পাতা, কাণ্ড, কুঁড়ি, শাখা) যা উপযুক্ত পরিবেশে একই জাতের নতুন উদ্ভিদ জন্ম দিতে পারে তাকে বংশ বিস্তারক বা, কৃষিতাত্ত্বিক বীজ বা অঙ্গজ বীজ বলে। যেমন- আমের কলম, আলুর কান্ড, মিষ্টি আলুর লতা, আখের কাণ্ড, পাথরকুচি গাছের পাতা, কাকরোলের মূল, গোলাপের ডাল ও কুঁড়ি, আনারসের মুকুট, কলাগাছের সাকার আদা, হলুদ, রসুন, কচু ও সকল উদ্ভিদতাত্ত্বিক বীজ। তাই সকল উদ্ভিদতাত্ত্বিক বীজ কৃষিতাত্ত্বিক বীজের অন্তর্ভূক্ত।
'অতএব বলা যায়, কৃষিবিদদের মতামতটি যথার্থ ছিল।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দুই ধরনের বীজ হলো- উদ্ভিদতাত্ত্বিক বীজ ও কৃষিতাত্ত্বিক বীজ। নিচে এই দুই ধরনের বীজের তুলনামূলক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-
ফসল বীজ বা উদ্ভিদতাত্ত্বিক বীজ ফসল উৎপাদনের মৌলিক উপকরণ।
যেসব ফসল কেবল বীজের মাধ্যমেই ফলানো সম্ভব সে ক্ষেত্রে উদ্ভিদের বংশরক্ষার্থে ফসল বীজের বিকল্প নেই। আবার, অনেক ফসলের বংশবিস্তার বীজ দ্বারা সম্ভব হয়না বা হলেও দীর্ঘসময়ের ব্যবধানে ফলন পাওয়া যায়।
উদ্ভিদতাত্ত্বিক বীজের মাধ্যমে উন্নত জাতের ফসল ফলানো সম্ভব, ফলে উদ্ভিদের বংশধারা টিকে থাকে। কোনো কোনো বীজ ঔষধ ও শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, কৃষিতাত্ত্বিক বীজে উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড, শাখা, পাতা, শিকড়, কুঁড়ি ইত্যাদি ব্যবহার করা হয় বলে মাতৃগুণাগুণ বজায় থাকে। একই গাছে একাধিক জাতের সংযোজন ঘটানো যায়। উদ্ভিদতাত্ত্বিক বীজ রোগ, পোকামাকড় ও আগাছা বিস্তার রোধ করে এবং মানুষসহ পশুপাখির খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়। অপরদিকে কৃষিতাত্ত্বিক বীজের মাধ্যমে বীজবাহিত রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
তাই বলা যায়, ফসল উৎপাদনে কৃষিতাত্ত্বিক ও উদ্ভিদতাত্ত্বিক বীজ উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ।
Related Question
View Allগবাদিপশু যে সকল উপাদান খাদ্যরূপে গ্রহণ করে এবং পরিপাক, শোষণ ও বিপাকের মাধ্যমে দেহে শক্তি উৎপাদন করে তাকে গো-খাদ্য বলে।
যে খাদ্যে কম পরিমাণ আঁশ এবং বেশি পরিমাণে শক্তি পাওয়া যায় তাকে দানাজাতীয় খাদ্য বলে।
দুধাল বা মাংস উৎপাদনকারী গবাদিপশুর ক্ষেত্রে শুধু আঁশ জাতীয় খাদ্য সরবরাহ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। কারণ দানাজাতীয় খাদ্যে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, আমিষ ও স্নেহ পদার্থ থাকে যা গবাদিপশুর দুধ ও মাংসের উৎপাদন বাড়ায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত কনক বড়ুয়া কাঁচা ঘাস শুকিয়ে হে তৈরির মাধ্যমে যথোপযুক্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন।
তিনি হে তৈরির জন্য মে সঠিক পূর্ণতাপ্রাপ্ত গাছ (ফুল আসার আগে) কেটেছিলেন। কেননা সুগিত মানের হে তৈরির জন্য কম বয়সের গাছ বেশি উপযুক্ত। এরপর ঘাসগুলোকে সঠিকভাবে শুকিয়েছিলেন যাতে এটি মোল্ডমুক্ত ও অতিরিক্ত তাপমুক্ত অবস্থায় সংরক্ষণ করা যায়। অতিরিক্ত সূর্যের আলো পরিহার করে ঘাসগুলোকে দ্রুত শুকিয়েছিলেন। ঘাসগুলোকে কেটে রৌদ্রে এমনভাবে উল্টাপাল্টা করে দিয়েছিলেন যেন এগুলোর পাতা ঝরে পড়ে না যায়। এরপর এগুলো শুষ্ক অবস্থায় (১৫-২০% আর্দ্রতায়) সংরক্ষণ করেছিলেন।
উল্লিখিত উপায়ে কনক বড়ুয়া কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ করেছিলেন।
কনক বড়ুয়া তার গবাদিপশুর সারাবছরের খাদ্য চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ করেন।
খরা মৌসুমে মাটিতে রসের পরিমাণ কম থাকায় ঘাসের উৎপাদন কমে আসে। ফলে গবাদিপশুকে শুকনো খড় জাতীয় খাদ্যের উপর নির্ভর করতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে খাদ্যের অভাবে কনক বড়ুয়ার গবাদিপশুর মাংস ও দুধের উৎপাদন কমে যায় এবং পশুগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। কনক বড়ুয়া তার চারণ ভূমিতে বর্ষা মৌসুমে উৎপাদিত অতিরিক্ত ঘাস হে তৈরির মাধ্যমে সংরক্ষণ করেছিলেন। এভাবে সবুজ ঘাস সংরক্ষণের মাধ্যমে সারাবছর গবাদিপশুর খাদ্য চাহিদা মেটানোর পাশাপাশির পশুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের চাহিদা মেটানো যায়। এতে করে গবাদিপশু পুষ্টিহীনতায় ভোগে না। মাংস ও দুধের উৎপাদনও হ্রাস পায় না। ফলে কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। যারা পশু পালনের সাথে জড়িত তাদের সবার উচিত এভাবে বর্ষা মৌসুমে উৎপাদিত অতিরিক্ত ঘাস সাইলেজ বা হে তৈরির মাধ্যমে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা। অর্থাৎ, কনক বড়ুয়ার কার্যক্রমটি সঠিক ও সুদূরপ্রসারি ছিল।
মাছ চাষের জন্য পুকুরের পানিতে প্রতি লিটারে কমপক্ষে ৫ মিলিগ্রাম দ্রবীভূত অক্সিজেন থাকা প্রয়োজন।
পানির পিএইচ কমে গেলে পুকুরে চুন প্রয়োগ করে পানির পিএইচ ঠিক করা হয়।
চুন পানির ঘোলাত্ব দূর করে পানি পরিষ্কার করে। সার প্রয়োগের আগে চুন প্রয়োগের মাধ্যমে সারের কার্যকারিতা বাড়ানো যায়। এভাবে চুন পানির উর্বরতা বাড়িয়ে পানির গুণগত মান বৃদ্ধি করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!