কোন অঞ্চলে কি ধরনের ফসল জন্মাবে তা ঐ অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপর নির্ভর করে। আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলোই ফসল উৎপাদনে প্রভাব বিস্তার করে। এ সব উপাদান কিভাবে ফসল উৎপাদনে প্রভাব বিস্তার করে, তা নিচে আলোচনা করা হলো-
১. সূর্যালোক: সূর্যালোক অনেকভাবে ফসল উৎপাদনে প্রভাব বিস্তার করে। আমরা জানি উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে। এ প্রক্রিয়ায় সূর্যালোকের উপস্থিতি একান্ত প্রয়োজন। সূর্যালোকের উপস্থিতিতে পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সমন্বয়ে পাতায় খাদ্য তৈরি হয়।
২. তাপ: বেঁচে থাকার জন্য সকল উদ্ভিদে একটি সর্বনিম্ন, সর্বোত্তম এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রয়েছে। একে কার্ডিনাল তাপমাত্রা বলে। কার্ডিনাল তাপমাত্রা উদ্ভিদের প্রজাতি ও জাতভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়। কোন স্থানের ফসলের বিস্তৃতি কার্ডিনাল তাপমাত্রা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
৩. বৃষ্টিপাত : বৃষ্টিপাত মাটিতে ধারণকৃত পানির প্রধান উৎস। সেজন্য বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, সময় ও ঘটন ফসল উৎপাদনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৃষ্টিপাতের পার্থক্যের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের ফসল জন্মে থাকে।
৪. বায়ুপ্রবাহ: প্রস্বেদন, সালোকসংশ্লেষণ, ফুলের পরাগায়ন ইত্যাদি বায়ুপ্রবাহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
৫. বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ: ফসলের প্রাথমিক বৃদ্ধি পর্যায়ে উচ্চ জলীয় বাষ্প সহায়ক। দানা গঠন পর্যায়ে নিম্ন জলীয় বাষ্প দানার সংকোচন ঘটাতে পারে। বাতাসে অধিক জলীয় বাষ্পের পরিমাণ রোগজীবাণু ও পোকার বিস্তার ঘটাতে সাহায্য করে।
৬ . শিশিরপাত ও কুয়াশা: কোন কোন সময় শিশিরপাত ও কুয়াশা বায়ুর আর্দ্রতা বাড়িয়ে ফসলে রোগ বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
Related Question
View Allফসলের মৌসুম বলতে কোনো ফসলের বীজ বপন থেকে শুরু করে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত সময়কে বোঝায়।
বেঁচে থাকার জন্য সকল উদ্ভিদে একটি সর্বনিম্ন, সর্বোত্তম এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রয়েছে, একে কার্ডিনাল তাপমাত্রা বলে। আলুর উৎপাদনের জন্য সর্বনিম্ন ০-৫° সে., সর্বোত্তম ২৫-৩১° সে. এবং সর্বোচ্চ সে. তাপমাত্রার প্রয়োজন। তাই আলুকে কার্ডিনাল তাপমাত্রার সবজি বলা হয়।
সাদিকের বাড়িটি কম বৃষ্টিপাত প্রবণ অঞ্চলে হলেও প্রচুর শাক-সবজি জন্মে। কৃষি পরিবেশ অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায় সাদিকের বাড়ি কৃষি পরিবেশ অঞ্চল-৩ ও ৪-এ অবস্থিত (রংপুর ও বগুড়ার অংশবিশেষ)।
এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কম হয়, কিন্তু গরম ও শীতের তীব্রতা খুব বেশি। রবি মৌসুমে শীতের প্রকোপ অন্য অঞ্চলের চেয়ে বেশি থাকে। রবি মৌসুমে এ অঞ্চলে বিভিন্ন ঠাণ্ডা সহিষ্ণু ফসল যেমন: টমেটো, মুলা, গাজর, লাউ, শিম, - ওলকপি, ব্রোকলি, শালগম, পালংশাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদি চাষ করা হয়। খরিপ-১ মৌসুমে মাঝারি সেচের প্রয়োজন হয় এমন ফসল যেমন: করলা, ঝিঙ্গা, পেঁপে, পাট প্রভৃতি ভালো জন্মে। খরিপ-২ মৌসুমে 'সেচের তেমন প্রয়োজন হয় না এমন ফসল যেমন: আমন ধান, ঢেঁড়স, কুমড়া, তুলা, ভুট্টা ইত্যাদি চাষ করা হয়।
অর্থাৎ, সাদিকের কৃষি অঞ্চলে বিভিন্ন মৌসুমে বৈচিত্র্যময় ফসল জন্মে
অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে সাদিকের মামাবাড়ি চট্টগ্রামের টিলাতলাতে অবস্থিত, যা কৃষি পরিবেশ অঞ্চল-২৩ এর অন্তর্ভুক্ত।
সাদিকের বাড়ির কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে শীত ও গরম উভয় ঋতুর তীব্রতা অনেক বেশি। ঝড়-বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। গ্রীষ্মকালে এখানে খরা হয়। এ অঞ্চলের আবহাওয়ার আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এখানে বর্ষাকালেও তেমন বৃষ্টিপাত হয় না। শীতকালে তুলনামূলকভাবে কুয়াশা বেশি থাকে। সাদিকের মামাবাড়ি কৃষি পরিবেশ অঞ্চল একদিকে যেমন পাহাড়ের পাদদেশের অঞ্চল তেমনি এটি উপকূলীয় অঞ্চল। এখানকার আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এখানে শীত ও গরমের তীব্রতা কম, কিন্তু বৃষ্টিপাত বেশি। ঝড়বৃষ্টিও খুব বেশি হয়। হঠাৎ করে আকাশ ঘনকালো মেঘে ঢেকে যায় ও ঝড়ো বাতাস বইতে শুরু করে। শীতকালে কুয়াশা খুব কম থাকে।
অতএব বলা যায় যে, সাদিকের মামা বাড়ির আবহাওয়া ও তার বাড়ির আবহাওয়া ভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন।
আবহাওয়া ও জলবায়ুর ভিত্তিতে বাংলাদেশকে ৩০টি কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে ভাগ করা হয়।
কখনো কখনো শীতকালে শিশিরপাত, কুয়াশা বেড়ে যায় ও বায়ুর আর্দ্রতা বেশি থাকে। যা রোগ বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
তখন ফসল খুব সহজে রোগে আক্রান্ত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
