সমাজের যে জনগোষ্ঠী স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে ব্যর্থ হয় এবং নিজেদের ও সমাজের চাহিদা পূরণ করতে পারে না, তারাই হলো বিশেষ চাহিদার জনগোষ্ঠী।
প্রশাসন ও সমাজের দুর্নীতি দমন করে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে সেটিই হলো দুর্নীতি দমন কমিশন।
দুর্নীতি দমন কমিশন স্বশাসিত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ একটি প্রতিষ্ঠান। এটি তিনজন কমিশনারের সমন্বয়ে গঠিত। এদের মধ্যে একজন হলেন চেয়ারম্যান। প্রত্যেকেই মনোনয়ন কমিটির সুপারিশক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন। দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে দুর্নীতি দমন কমিশন সব ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারেন।
ফারজানা আক্তার মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নামক সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত আছেন।
মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশের সংবিধান দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি পদ। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারের আয়-ব্যয়ের ওপর আইনসভার 'পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অতীব জরুরি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের সংবিধানের ১২৭নং অনুচ্ছেদ অনুসারে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। ফারজানা আক্তারের পদটি এই পদটিকেই নির্দেশ করে। তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক একটি সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি জাতীয় স্বার্থের অভিভাবক। ৬৫ বছর পর্যন্ত তিনি তার পদে বহাল থাকতে পারবেন। মহাহিসাব নিরীক্ষক পদটির ক্ষেত্রেও এ বিষয়গুলো লক্ষ করা যায়। এটি বাংলাদেশের সংবিধান দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি পদ। এটি বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ। তাই এই পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিকে জাতীয় স্বার্থের অভিভাবক হয়েই কাজ করতে হয়। সংবিধানের ১২৭নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহাহিসাব নিরীক্ষক রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগ লাভ করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বছর অথবা তার বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তিনি নিজ দায়িত্বে বহাল থাকবেন। সুতরাং বলা যায়, ফারজানা আক্তার মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক পদে বহাল আছেন।
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ পদ তথা মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে সরকারি অর্থের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত হতে পারে।
বর্তমান কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের প্রধান শর্ত হচ্ছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করা। এ শর্ত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা যথার্থ হওয়া প্রয়োজন। আর এ কাজটি যথার্থভাবে সম্পন্ন করা মহাহিসাব নিরীক্ষকের দায়িত্ব। মহাহিসাব নিরীক্ষক প্রতিবছরের সরকারি আয়-ব্যয়ের হিসাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। সরকারি খরচে কোনো গলদ আছে কিনা তা তার রিপোর্টেই উঠে আসে। সরকারের যেকোনো অপব্যয় বা অদক্ষতার ব্যাপারেও তিনি রিপোর্ট করতে পারেন। তিনিই বিভিন্ন অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশ অথবা অসামঞ্জস্যের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন। মহাহিসাব নিরীক্ষক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে বিতর্কিত বিষয়ে নিজস্ব মতামত প্রকাশ করতে পারেন। তিনি পার্লামেন্টের সরকারি অর্থ নিরীক্ষা কমিটির পথ-প্রদর্শকরূপে কার্যসম্পাদন করেন। অনেক সময় অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে শাসনতন্ত্রের ধারণাগুলো কতটুকু প্রয়োগ করা হচ্ছে তাও নিরীক্ষণ করেন।
পরিশেষে বলা যায়, মহাহিসাব নিরীক্ষক উপর্যুক্ত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে অর্থ-ব্যবস্থায় দুর্নীতি ঠেকানো সম্ভব। আর অর্থ-ব্যবস্থায় দুর্নীতি বন্ধ হলে নিঃসন্দেহে সরকারি অর্থের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
Related Question
View Allনির্বাচন হলো ভোটদানের মাধ্যমে প্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া।
সর্বজনীন ভোটাধিকার বলতে ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব নির্বিশেষে প্রাপ্তবয়স্ক সকল নাগরিকের ভোটদানের অধিকারকে বোঝায়।
ভোটদানের অধিকার নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার। রাষ্ট্রের সংবিধান এবং সরকারি বিধিবিধানের মাধ্যমে স্বীকৃত পন্থায় নাগরিকদের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষমতাকে ভোটাধিকার বলা হয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভোটদানের অধিকার সর্বত্র স্বীকৃত এবং সংরক্ষিত।
উদ্দীপকের উল্লিখিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির সাথে আমার পঠিত বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের সাদৃশ্য আছে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন একটি সাংবিধানিক সংস্থা। এ প্রতিষ্ঠানটি প্রজাতন্ত্রের বেসামরিক কাজের জন্য মেধাবী ও যোগ্য নাগরিকদের বাছাইয়ের কাজ করে। এজন্য সংস্থাটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কর্মকমিশন বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগকে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন সার্ভিস বা পদে নিয়োগকৃতদের পদোন্নতি এবং বদলি সংক্রান্ত বিষয়েও নীতিমালা প্রণয়নের পরামর্শ প্রদান করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বিধান সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত আছেন। উক্ত প্রতিষ্ঠান প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগদানের জন্য যোগ্যতাসম্পন্ন, মেধাবী ও দক্ষ লোক বাছাইয়ের কাজ করে। বাংলাদেশে এরূপ কাজ করে এমন একটি প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন।
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের ভূমিকার উপর রাষ্ট্রের উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভরশীল।
আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার কাঠামোয় মেধাবী ও দক্ষ কর্মকতা-কর্মচারীর গুরুত্ব অপরিসীম। এজন্য বিশ্বের প্রায় সকল রাষ্ট্রে মেধার ভিত্তিতে কর্মকর্তা বাছাইয়ের প্রক্রিয়া লক্ষ করা যায়। মেধা যাচাইয়ের ভিত্তিতে যোগ্যতাসম্পন্ন লোক বাছাইয়ের জন্য একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশের এমন একটি প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন।
বাংলাদেশ সংবিধানের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্মকমশিন গঠনের কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও সংবিধানে কর্মকমিশনের কার্যাবলি সম্পর্কে বিধানাবলি সন্নিবেশিত আছে। এ বিধানাবলি অনুসারে কমিশন প্রজাতন্ত্রের কাজে দক্ষ ও উপযুক্ত কর্মচারী নিয়োগের উদ্দেশ্যে প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা, ডাক্তারি পরীক্ষা, পুলিশি তদন্ত প্রভৃতি কার্যক্রম পরিচালনা করে। সততা ও নিরপেক্ষতার সাথে তারা প্রজাতন্ত্রের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বাছাই করে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেন। কর্মকমিশন যেহেতু নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেয়, তাই প্রকৃত মেধাবীরাই নিয়োগ পেয়ে থাকেন। আর সৎ, যোগ্য ও মেধাবীদের নিয়ে গড়ে ওঠা প্রশাসন সুষ্ঠু রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর ফলে সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সুষ্ঠুভাবে, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং এর সার্বিক উন্নয়নে উদ্দীপকে বর্ণিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের ভূমিকা অনেক।
বাংলাদেশের সংবিধানের অভিভাবক হলো- জাতীয় সংসদ।
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলতে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সংবিধান কর্তৃক সৃষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়।
প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র তার কাজের গতিশীলতার জন্য কতগুলো প্রতিষ্ঠান তৈরি করে। যার ক্ষমতা ও কার্যাবলি সংবিধান অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট ও সুনিয়ন্ত্রিত। এগুলোই হলো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারে। বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন, নির্বাচন কমিশন, অ্যাটর্নি জেনারেল, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক ইত্যাদি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!