যে অংশীদার ব্যবসায়ের স্বার্থে শুধু নিজের খ্যাতি বা সুনাম ব্যবহারের সুযোগ দেয় তাকে নামমাত্র অংশীদার বলে।
অংশীদারদের মধ্যকার চুক্তির বিষয়বস্তু যে দলিলে লিপিবদ্ধ করা হয়, তাকে অংশীদারি চুক্তিপত্র বলে।
চুক্তিই অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি। এরূপ চুক্তি মৌখিক, লিখিত এবং লিখিত ও নিবন্ধিত যেকোনো ধরনের হতে পারে। কিন্তু তা লিখিত হওয়াই উত্তম। কারণ লিখিত চুক্তি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়। অংশীদারি চুক্তিপত্র বিশদ বর্ণিত হয় এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকালে উদ্ভূত হতে পারে এমন সকল সমস্যার প্রয়োজনীয় সমাধানের বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত থাকে।
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি একটি সীমাবদ্ধ অংশীদারি কারবার। যদি কোনো অংশীদারি ব্যবসায়ে কোনো অংশীদারের দায় সীমিত বা সীমাবদ্ধ থাকে তবে তাকে সীমাবদ্ধ অংশীদারি ব্যবসায় বলে।
উদ্দীপকে ফারজানা ও তাঁর তিনবোন বোঝাপড়ার ভিত্তিতে অর্থাৎ চুক্তির ভিত্তিতে জেকস নামক বুটিক হাউস গড়ে তোলায় সংগঠনটি প্রথমে একটি সাধারণ অংশীদারি কারবার ছিল। তবে ৪ বছর পরে ফারজানার বড় বোন মারা গেলে তার ১৬ বছর বয়সি অর্থাৎ নাবালক ছেলেকে ব্যবসায় দেখাশুনার সুযোগ দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি সীমাবদ্ধ অংশীদারি কারবারে রূপান্তরিত হলো। কেননা আইন অনুযায়ী নাবালকের দায় সীমাবদ্ধ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি একটি সীমাবদ্ধ অংশীদারি কারবার।
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানে গৃহীত ব্যাংক ঋণের দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে তৌকিরের কোনো ভূমিকা নেই অর্থাৎ উক্ত দায় তার ওপরে বর্তাবে না। কেননা তৌকিরের দায় তার মূলধন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।
অংশীদারি আইনের ৩০(১) ধারায় বলা হয়েছে যে, কোনো নাবালক (যার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি) অংশীদার হওয়ার যোগ্য নয়। কিন্তু সকল অংশীদার সম্মত হলে কিছু সময়ের জন্য নাবালককে অংশীদারি ব্যবসায়ে সুবিধা প্রদানের জন্য গ্রহণ করা যায়। গ্রহণ করা হলেও নাবালক সীমাবদ্ধ অংশীদাররূপে গণ্য হয়। অর্থাৎ তার দায় মূলধন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে।
উদ্দীপকে ফারজানা ও তাঁর তিনবোন বোঝাপড়ার ভিত্তিতে অর্থাৎ চুক্তির ভিত্তিতে জেকস নামক বুটিক হাউস গড়ে তোলায় সংগঠনটি প্রথমে একটি সাধারণ 'অংশীদারি কারবার ছিল। তবে ৪ বছর পরে ফারজানার বড় বোন মারা গেলে তার ১৬ বছর বয়সি অর্থাৎ নাবালক ছেলেকে ব্যবসায় দেখাশুনার সুযোগ দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি সীমাবদ্ধ অংশীদারি কারবারে রূপান্তরিত হলো। কেননা আইন অনুযায়ী নাবালকের দায় সীমাবদ্ধ। তৌকির নাবালক বিধায় সে সীমাবদ্ধ অংশীদার হিসেবে গণ্য তাই আইন অনুযায়ী উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানে গৃহীত ব্যাংক ঋণের দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে তৌকিরের কোনো ভূমিকা নেই অর্থাৎ উক্ত দায় তার ওপরে বর্তাবে না। কেননা তৌকিরের দায় তার মূলধন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।
সুতরাং উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানে গৃহীত ব্যাংক ঋণের দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে তৌকিরের ওপর দায় বর্তাবে না।
Related Question
View Allসাধারণ অংশীদারি ব্যবসায়ের ন্যূনতম সদস্যসংখ্যা ২ জন।
অংশীদারি ব্যবসায়ের অংশীদারদের দায় ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগতভাবে অসীম।
অসীম দায় বলতে ব্যবসায়ে নিয়োজিত মূলধনের বাইরেও অংশীদারদের দায় সৃষ্টি হওয়াকে বোঝায়; যা তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিকে দায়বদ্ধ করে এবং ব্যক্তি দেউলিয়া হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তা বিস্তৃত থাকে। এরূপ অসীম দায়ের কারণেই অংশীদারি ব্যবসায় গঠনে সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা উৎসাহিত হয় না। যে কারণে সকল দেশেই এরূপ ব্যবসায়ের সংখ্যা কম। তাই বলা যায়, অংশীদারি ব্যবসায়ের দায় অসীম।
উদ্দীপকের জনাব সফিক একজন কর্মী অংশীদার।
যে অংশীদার ব্যবসায়ে কোনো মূলধন বিনিয়োগ করে না, শুধু নিজস্ব শ্রম ও দক্ষতাকে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত রাখে তাকে কর্মী অংশীদার বলে। চুক্তি অনুযায়ী কর্মী অংশীদার অন্যান্য অংশীদারের ন্যায় ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতিতে অংশগ্রহণ করে এবং অসীম দায় বহনে বাধ্য থাকে। অবশ্য ব্যবসায় পরিচালনার জন্য এদেরকে নির্দিষ্ট হারে বেতন বা লাভের অংশ দেওয়া হয়। সাধারণত ব্যবসায় পরিচালনায় যোগ্য কোনো ব্যক্তিকে এ ধরনের অংশীদার হিসেবে নেওয়া হয় যাতে ব্যবসায়ে অধিক মুনাফা অর্জন করতে সমর্থ হয়।
উদ্দীপকের জনাব সফিক একজন প্রকৌশলী। তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কারণে করিম, রহিম ও মিজান তাকে বিনা মূলধনে অংশীদার হিসাবে নেয়। যেহেতু জনাব সফিক ব্যবসায়ে কোনো মূলধন বিনিয়োগ না করেও শুধু নিজস্ব শ্রম ও দক্ষতাকে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত রাখার কারণে উক্ত ব্যবসায়ের অংশীদারিত্ব লাভ করেছে। তাই বলা যায়, জনাব সফিক একজন কর্মী অংশীদার।
উদ্দীপকের আলোকে আমি মনে করি মি. মিজান অন্যদের মতো সমান মুনাফা পাবে।
অংশীদারি ব্যবসায়ের সকল অংশীদার একই রকম হবে এমন নয়। বিভিন্ন ধরনের অংশীদারের মধ্যে অন্যতম হলো ঘুমন্ত অংশীদার। যে অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করে লাভ-ক্ষতিতে অংশগ্রহণ করে কিন্তু অধিকার থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায় পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে না তাকে ঘুমন্ত অংশীদার বলে।
মি. মিজান একজন ঘুমন্ত অংশীদার। উদ্দীপকে করিম, রহিম ও মিজান অংশীদারির ভিত্তিতে ব্যবসায় গঠন করেছে। এ ব্যবসায়ে করিম, রহিম ও সফিক পরিচালনায় অংশ নেয় কিন্তু মিজান পরিচালনায় অংশ নেয়নি। তবে বছর শেষে মিজান অন্যদের মতো মুনাফা দাবি করে। মি. মিজানের কার্যক্রম অনুযায়ী তিনি একজন ঘুমন্ত অংশীদার। এ অংশীদারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী মিজান সমান মুনাফা পাবেন।
সুতরাং বলা যায়, জনাব মিজান সমান মুনাফা পাবেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!