রানারের কাছে সহানুভূতির চিঠি পাঠাবে ভোরের আকাশ।
'দস্যুর ভয়, তারো চেয়ে ভয় কখন সূর্য ওঠে।'- এই চরণ দ্বারা কবি রানারের পেশাগত দায়িত্ববোধ ও সময়নিষ্ঠা বুঝিয়েছেন।
'রানার' কবিতায় কবি শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাপন, দুঃখবোধ এবং তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সততার দিকটি তুলে ধরেছেন। রানার মানুষের সুখ-দুঃখের অনেক অজানা সংবাদের বাহক। পিঠে খবরের বোঝা, মানিঅর্ডার নিয়ে রাতের অন্ধকারে লন্ঠন জ্বালিয়ে, ঝুমঝুম্ ঘণ্টা বাজিয়ে ছুটে চলে রানার। সূর্য ওঠার আগেই সে গন্তব্যে পৌঁছতে চায়। তাই নির্জন পথে দস্যুর ভয়ের চেয়ে সূর্য ওঠায় তার বড় ভয়।
উদ্দীপকের ফারুক সাহেবের মাঝে 'রানার' কবিতার রানার চরিত্রের পেশাগত দায়িত্ববোধের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
পেশাগত দায়িত্ব পালনে অবহেলা করা উচিত নয়। অথচ বহু লোক দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে না। এরা দেশ, জাতি ও সমাজের উন্নতির অন্তরায়। তবে যেসব শ্রেণি-পেশার মানুষ অর্পিত দায়িত্ব পালনে প্রাণপাত করেন তারাই সভ্যতার নির্মাতা, অগ্রযাত্রী।
উদ্দীপকে সহকারী প্রধান শিক্ষক ফারুক সাহেবের দায়িত্ববোধ, সততা ও সময়নিষ্ঠার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। ফারুক সাহেব ভাইয়ের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে বাড়িতে গেলেও পরদিন বিদ্যালয়ে আসতে তার দেরি হয়নি। তিনি দীর্ঘ চাকরি জীবনে সবার আগে বিদ্যালয়ে আসেন এবং সবার পরে যান। এই বিষয়টি তার দায়িত্ববোধ ও সময়নিষ্ঠার পরিচয় বহন করে। 'রানার' কবিতায় রানার পিঠে খবরের বোঝা নিয়ে রাতের অন্ধকারে লন্ঠন জ্বালিয়ে সে ছুটে চলে। পথে দস্যুর ভয়ের চেয়েও সে সূর্য ওঠার ভয়ে ভীত। সে পেশাগত দায়িত্ব পালনে অত্যন্ত সচেতন। উদ্দীপকের ফারুক সাহেব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হলেও তিনি অত্যন্ত দায়িত্বশীল। অতএব বলা যায় যে, উদ্দীপকের ফারুক সাহেবের মাঝে 'রানার' কবিতার রানারের দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
"উদ্দীপকের ফারুক সাহেব এবং 'রানার' কবিতার রানার দায়িত্বশীলতার দিক হতে সহঅবস্থানে বিরাজমান।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
সমাজে নানা পেশার লোক দেখা যায়। তাদের মধ্যে অনেকেই পেশাগত দায়িত্ব পালনে তৎপর, আবার অনেকেই তা পালনে উদাসীন থাকে। প্রত্যেকেরই উচিত তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা।
'রানার' কবিতায় কবি শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাপন, দুঃখবোধ এবং তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সততার দিকটি তুলে ধরেছেন। রানার মানুষের সুখ-দুঃখের অনেক অজানা সংবাদের বাহক। সে পিঠে খবরের বোঝা, মানিঅর্ডার নিয়ে রাতের অন্ধকারে লন্ঠন জ্বালিয়ে ঝুম্ ঝুম ঘণ্টা বাজিয়ে শহরের পথে ছুটে চলে। অন্ধকার পথে দস্যুর ভয় অপেক্ষা শহরে পৌঁছানোর আগে তার সূর্য ওঠার ভয়। অর্থের অভাবে, খাদ্যের অভাবে অতি পরিশ্রমে ক্লান্ত রানারের পিঠে টাকার বোঝা থাকলেও সে তা ছুঁয়ে দেখে না। 'রানার' কবিতার রানারের এই দায়িত্ববোধ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে নৈতিক দৃঢ়তার বিষয়টি উদ্দীপকের শিক্ষক ফারুক সাহেবের দায়িত্ব সচেতনতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তিনিও সময়নিষ্ঠ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে অত্যন্ত সজাগ ও তৎপর।
উদ্দীপকের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ফারুক সাহেব ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে বাড়িতে গেলেও পরের দিনই বাড়ি থেকে ফিরে এসে তার কর্মস্থলে যোগ দেন। এখানে কাজের প্রতি তার মনোযোগ ও দায়িত্ববোধের যে পরিচয় পাওয়া যায় তা 'রানার' কবিতার রানারের দায়িত্ববোধের সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা। তার কারণে বিদ্যালয়ের অন্যরা যাতে বিবিধ সমস্যার সম্মুখীন না হন, সেই দিকেও তিনি অত্যন্ত সচেতন। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!