পাশ্চাত্য দেশে প্রতি ছয় মাস অন্তর অন্তর ফ্যাশন পরিবর্তন হয়।
ফ্যাশন পরিবর্তনে সামাজিক প্রভাব বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
যেকোনো দেশের সমাজ ব্যবস্থা সে দেশের ফ্যাশনকে বেশ প্রভাবিত করে। তাই সমাজের ভাবধারা ফ্যাশনেও প্রতিফলিত হয়। পাশ্চাত্যে যে পোশাক পরিধানযোগ্য তা আমাদের রক্ষণশীল সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়।
এসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করেই পোশাকের ফ্যাশন নির্ধারিত হয়। তাই বলা যায়, সমাজব্যবস্থা ফ্যাশনের ওপর বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করে।
ফাল্গুনীর চাকরিতে অবস্থান ফ্যাশন পরিবর্তনের যে বিষয়টিকে নির্দেশ করে তা হলো সমাজে নারীদের পরিবর্তিত ভূমিকা।
সময়ের সাথে সাথে ফ্যাশন পরিবর্তন হয়ে থাকে। ফ্যাশন পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে থাকে। এর মধ্যে একটি হলো বর্তমান সমাজে নারীদের বহির্মুখী ভূমিকা।
বর্তমানকালে সমাজে নারীদের নানামুখী ভূমিকা রয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে দৈনন্দিন ফ্যাশনেও। বর্তমানকালে তারা বিভিন্ন অফিস আদালতে চাকরি করছে। ফলে সহজে পরিধানযোগ্য আরামদায়ক ও কার্যকরি পোশাকের প্রতিই তারা বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে। এতে করে ফ্যাশনের পরিবর্তন ঘটছে এবং কর্মজীবি নারীরা আরামদায়ক পোশাক হিসেবে সালোয়ার-কামিজকে বেছে নিচ্ছে। উদ্দীপকের কর্মজীবি নারীদের আরামদায়ক পোশাক হিসেবে সালোয়ার-কামিজকে বেছে নেওয়া ফ্যাশন পরিবর্তনের উক্ত বিষয়টিকেই নির্দেশ করে।
বর্তমানে নারীরা সহজে পরিধানযোগ্য আরামদায়ক ও কার্যকরী পোশাকের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে।
ফ্যাশন পরিবর্তনের পেছনে বিভিন্ন কারণ প্রভাব বিস্তার করে থাকে।
এসব কারণের মধ্যে রয়েছে নারীদের কর্মক্ষেত্রের বিস্তৃিতি। নারীদের কর্মক্ষেত্রের বিস্তৃতি ঘটার ফলে পোশাকের ফ্যাশনেও এর প্রভাব পড়ছে। ফাল্গুনীর সালোয়ার-কামিজকে আরামদায়ক পোশাক মনে করার পেছনে কর্মক্ষেত্রের বিস্তৃতি ঘটার বেশ প্রভাব রয়েছে। নারীদের কর্মক্ষেত্রে যোগদান করা এ ফ্যাশন পরিবর্তন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। কেননা, তারা কর্মক্ষেত্রের জন্য আরামদায়ক পোশাক বাছাই করে যা ফ্যাশন পরিবর্তনে সহায়তা করে।
ফাল্গুনী আরামদায়ক পোশাক হিসেবে সালোয়ার-কামিজকেই বেছে নিয়েছেন। আবার, যেকোনো মিটিংয়ে বা অনুষ্ঠানে তিনি শাড়িও পরিধান করে থাকেন। এক্ষেত্রে কর্মক্ষেত্রের বিস্তৃতি তার পোশাক বাছাই প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে। কর্মক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা, শালীনতা রক্ষা ও আরামদায়ক হয় এমন সব উদ্দেশ্য পূরণ করার জন্য নিত্য নতুন পোশাকের প্রচলন হচ্ছে। শাড়ির পরিবর্তে সালোয়ার-কামিজের প্রচলন বেশি হওয়া এ বিষয়টিকেই নির্দেশ করে।
Related Question
View Allস্টাইল হলো ব্যক্তি বিশেষের চিন্তা-চেতনা ও সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ।
ফ্যাশন যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চক্রাকারে পরিবর্তিত হয়।
প্রথমে একটি ফ্যাশনের প্রবর্তন ঘটে, তা জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ধীরে ধীরে তার প্রচলন বৃদ্ধি পায়। এক সময় ফ্যাশনটির পতন ঘটে। পূর্বে যে ফ্যাশন ছিল তা আবার নতুন করে ফিরে আসে। অর্থাৎ ফ্যাশন একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে চক্রাকারে ঘুরে ঘুরে আসে।
সোহানার জামায় সজ্জামূলক ডিজাইন করা হয়েছে।
কোনো কিছু করার আগে যে পরিকল্পনা বা রূপরেখা চিন্তা করা হয় তাই ডিজাইন। ডিজাইন প্রধানত দুই প্রকারের হয়। যথা- গঠনমূলক ও সজ্জামূলক ডিজাইন।পহেলা বৈশাখে সোহানা সাদার উপর লাল এপ্লিক করে একটি জামা তৈরি করল। এটিকে সজ্জামূলক ডিজাইন বলে। এ ধরনের ডিজাইনের মাধ্যমে পোশাকের বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। সজ্জামূলক ডিজাইন এমনভাবে করতে হবে যাতে বস্তুর বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং সেই সাথে বস্তুটি সুবিধাজনকভাবে ব্যবহার করা যায়। সজ্জামূলক ডিজাইন করার সময় লক্ষ রাখতে হবে যেন নকশার উপাদান ও নীতিসমূহ অনুসরণ করা হয়। যেমন- ব্যাগের ক্ষেত্রে মূল আকারের সঙ্গে মিল রেখে সজ্জামূলক ডিজাইনের আকার দেওয়া আবশ্যক। পোশাকে সূচী কাজ সজ্জামূলক ডিজাইন। সোহানা তার সাদা জামার উপর লাল এপ্লিক করে। এপ্লিক এক ধরনের সজ্জামূলক ডিজাইন। তাই বলা যায়, সোহানা তার জামায় সজ্জামূলক ডিজাইন করেছে।
সোহানার বস্ত্র নির্বাচন ও ক্রয় যথার্থ হয়নি বলে আমি মনে করি।
পোশাক নির্বাচন ও ক্রয় করার সময় আয়, পেশা, বয়স, পরিবারের সদস্য সংখ্যা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করতে হয়। তা না হলে পোশাক নির্বাচন ও ক্রয় ব্যর্থ হয়। সোহানা তার মায়ের জন্য একটি জামদানি শাড়ি কিনল। আর বাবার জন্য একটি জমকালো পাঞ্জাবি কিনল। এক্ষেত্রে তার পোশাক নির্বাচনটি সঠিক হয়নি। বয়স্কদের জন্য স্বাস্থ্যের অনুকূল ও বয়সের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পোশাক নির্বাচন করতে হবে। সেক্ষেত্রে তারা আরাম পাবে "এরকম পোশাক নির্বাচন ও ক্রয় করতে হবে। এজন্য সোহানার উচিত ছিল তার মা-বাবার জন্য হালকা রং এবং সাদাসিধা ডিজাইনের পোশাক কেনা। এছাড়া সোহানা তার ছোট বোনের জন্য একটি ফ্রক কেনে। কিন্তু ফ্রকটি সে পরতে পারল না। কারণ একেক বয়সে একেক রকম পোশাক উপযোগী। শিশুর পোশাক স্বাস্থ্যসম্মত, ঢিলেঢালা, ডিজাইন বিবর্জিত এবং উজ্জ্বল রঙের হতে হবে। কৈশোরে এবং যৌবনে পোশাক পরিধান করার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে সৌন্দর্য এবং ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলা। এজন্যে সাধারণত উজ্জ্বল রঙের, বৈচিত্র্যময় ও আধুনিক ডিজাইনের পোশাক নির্বাচন করতে হয়। এসকল বিষয়ে লক্ষ না রেখে সোহানা তার ছোট বোনের জন্য ফ্রক কেনে। তাই সে ফ্রকটি পরতে পারল না। এছাড়া সোহানা পোশাক ক্রয়ের সময় অনেক অর্থ ব্যয় করে। ফলে তার বাবা আপত্তি করেন। কারণ পোশাক নির্বাচন ও ক্রয়ে প্রথমেই আয়ের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। পরিবারের আয় বেশি হলে বস্ত্র খাতে বরাদ্দ বেশি হবে। আর আয় কম হলে এ খাতে বরাদ্দ সীমিত হবে। সীমিত বাজেটে পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে পোশাক যেন টেকসই এবং প্রচলিত ফ্যাশন উপযোগী হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, সোহানা উল্লিখিত বিষয়গুলো মেনে চললে তার পোশাক নির্বাচন ও ক্রয় যথার্থ হতো।
Yarn dying হলো তন্তু থেকে সুতা তৈরি হওয়ার পর একে রং প্রয়োগ করা।
কাপড়ের রং, প্রকৃতি, দাগের উৎস ও স্থায়িত্ব জানার পর দাগ যথাযথভাবে দূর করার কতগুলো সাধারণ নিয়ম রয়েছে।
কাপড়ে দাগ লাগাই মাত্রই তা দ্রুত দূর করার চেষ্টা করতে হবে। দাগ ওঠানোর সময় কাপড়ের প্রকৃতি ও ব্যবহার বিবেচনা করা উচিত। দাগের উৎস যদি অজানা থাকে তবে প্রথমে মৃদু অপসারক ব্যবহার করতে হবে। কাপড় অপসাপরক দ্রবণের মধ্যে বেশিক্ষণ ভিজিয়ে রাখা ঠিক নয়। সাদা ও রঙিন কাপড় থেকে আলাদা আলাদাভাবে দাগ অপসারণ করা উচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!