লরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ই মে জন্মগ্রহণ করেন।
কাগজের উপর একটি ছোটো হাতের ছাপ মিনির বাবাকে মিনির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ায় মিনির বাবার চোখ ছলছল করে ওঠে।
কাবুলিওয়ালার দেশে একটি মেয়ে আছে। সে মেয়ের কাছ থেকে দূরে সরে থাকার কষ্ট ভুলে থাকতে মিনির জন্য মেওয়া নিয়ে আসে। সেই সঙ্গে সে আরও বলে সে সওদা করতে আসে না এই বলে সে পকেট থেকে একটি কাগজ বের করে দেখায়। যাতে তার মেয়ের ভূষা মাখানো হাতের চিহ্ন। কন্যার প্রতি পিতার ভালোবাসা স্বৰূপ হাতের চিহ্ন সম্বলিত কাগজ বয়ে বেড়ানো দেখে মিনির বাবার চোখ ছলছল কর ওঠে। সেই হাতের ছাপ মিনির বাবাকে মিনির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
উদ্দীপকের সঙ্গে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে সন্তানের জন্য পিতৃহৃদয়ের হাহাকারের ভাবের সাদৃশ্য বিদ্যমান।
'কাবুলিওয়ালা' গল্পে লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন কীভাবে দেশের সীমারেখায় পিতৃহৃদয়ের আবেগ ও সন্তানের জন্য হাহাকার সীমাবদ্ধ থাকে না। কলকাতায় ছোট্ট মিনিকে দেখে কাবুলিওয়ালা তার নিজের মেয়েকে দেখার হাহাকার মেটায়। তাই তো মিনির প্রতি রহমতের পিতৃস্নেহ জেগে ওঠে। মিনির সাথে সময় কাটানোর মাধ্যমে রহমত নিজ কন্যার স্মৃতি ভুলে থাকে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কন্যা হারানো এক পিতার শোকার্ত হৃদয়ের হাহাকার প্রতিধ্বনিত হয়েছে। সোনার প্রতিমার মতো মেয়ে সাপের দংশনে মারা যায়। পিতা নিজ হাতে তার সোনার প্রতিমা কন্যাকে কবরে শুইয়ে দিয়েছে। মারা যাওয়ার পরও কন্যার সেই সোনামুখ ও গোলগাল হাতের স্মৃতি পিতার হৃদয়ে শোক সৃষ্টি করে। 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে রহমত সুদূর কাবুলে রেখে আসা মেয়ের মুখচ্ছবি খুঁজে বেড়ায় ছোট্ট মিনির মাঝে। মিনিকে ভালোবাসার মধ্য দিয়েই তার পিতৃহৃদয়ের হাহাকার মেটে। উভয় প্রেক্ষাপটেই সন্তানের জন্য পিতৃহৃদয়ের আবেগ ও হাহাকারের অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কবিতাংশের সাথে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের পিতৃহৃদয়ের হাহাকারের যে অনুভূতি সেই অনুভূতির ভাবগত সাদৃশ্য বিদ্যমান।
সন্তানের জন্য পিতৃস্নেহ ও আবেগের বিষয়টির দিক থেকে মিল থাকলেও উদ্দীপটি 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের সমগ্র চিত্র তুলে ধরতে পারেনি।
'কাবুলিওয়ালা' গল্পে আফগানিস্তান থেকে কলকাতায় মেওয়া বিক্রি করতে আসা রহমতের সজো ছোট্ট মিনির স্নেহময় সম্পর্কের বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। নিজ কন্যার মুখচ্ছবি খুঁজতে খুঁজতে মিনির সাথে কাবুলিওয়ালা স্নেহের বাঁধনে বাঁধা পড়ে। মিনির মা কাবুলিওয়ালার সঙ্গে মিনির এই বন্ধন দেখে শঙ্কিত হয়ে ওঠেন এবং মিনির পিতাকে কাবুলিওলার ওপর চোখ রাখতে বলেন। মিনির পিতা কাবুলিওয়ালার সঙ্গে মিনির ঘনিষ্ঠতা প্রাথমিক ভাবে মেনে নিলেও জেল খেটে ফিরে আসার পর মিনির সাথে কাবুলি ওয়ালাকে দেখা করতে দিতে চান না। পরবর্তীতে পিতৃহৃদয়ের হাহাকার অনুভব করে তিনিও মিনির সঙ্গে কাবুলিওয়ালার দেখা করিয়ে দেন।
উদ্দীপকে কন্যা হারানো পিতার শোকার্ত হৃদয়ের করুণ আর্তি। ভেসে উঠেছে। সাপের দংশনে প্রাণ হারানো কন্যাকে নিজ হাতে কবর দেয় পিতা। কন্যার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে পিতার যেন শোকে বুক ফেটে যায়।
'কাবুলিওয়ালা' গল্পে পিতৃহৃদয়ে সন্তানবাৎসল্যের পাশাপাশি উপস্থাপিত হয়েছে কীভাবে দেশের সীমানা ভেদ করে পিতুমের মহীয়ান হয়ে ওঠে। সন্তানের প্রতি ভালোবাসা দেশ, কাল ও সংস্কৃতি ছাড়িয়ে যায়। এছাড়াও, গল্পে মিনির মায়ের রহমতের প্রতি শঙ্কতা কাজ করে। তবে মিনির বাবার পিতৃহৃদয় রহমতের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানায়। সে নিজেও কন্যার পিতা হিসেবে নিজ কন্যার থেকে দূরে থাকার কষ্ট বুঝতে পারে। পক্ষান্তরে উদ্দীপকে কেবল সন্তানের জন্য পিতার হাহাকার আর আর্তনাদ ফুটে উঠেছে। এ প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকটি 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের সমগ্র ভাব প্রকাশ করতে পারেনি।
Related Question
View Allকাবুলিওয়ালার মলিন কাগজটিতে ছিল তার মেয়ের ছোট্ট হাতের ছাপ।
মিনির প্রতি সন্তান-বাৎসল্যের কারণে কাবুলিওয়ালা বারবার গল্পকথকদের বাড়ি আসার বিষয়টি বোঝাতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।
'কাবুলিওয়ালা' গল্পে রহমত প্রতিবছর কলকাতায় মেওয়া বেচতে আসে। তার বাড়িতেও গল্পকথকের মেয়ে মিনির মতো এক মেয়ে আছে। ফলে মিনির মধ্যেই সে নিজের মেয়ের ছায়া দেখতে পায়। এজন্য স্নেহের টানে রহমত বারবার মিনিকে দেখতে আসে। এসময় সে মিনির জন্য আঙুর, কিশমিশ, বাদাম প্রভৃতি নিয়ে আসে। তার এখানে আসা যে কেবল স্নেহের টানেই সেটি বোঝাতেই রহমত প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে।
উদ্দীপক-১ অংশে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের গল্পকথকের স্ত্রীর সন্দেহপ্রবণ মানসিকতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
'কাবুলিওয়ালা' গল্পের মিনির মা ভীতু প্রকৃতির মানুষ। তিনি কাবুলিওয়ালাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারেন না। এ কারণে তিনি কাবুলিওয়ালার সাথে মিনুর কথা বলাকে সহজভাবে নিতে পারেন না। তাই তিনি মিনুর বাবাকে বারবার কাবুলিওয়ালার দিকে নজর রাখতে বলেন।
উদ্দীপক-১-এ দেখা যায়, নতুন দারোয়ান সামাদ মিয়ার সাথে ছেলের ভাব-বন্ধুত্ব মেনে নিতে পারেন না আবীরের মা। তিনি স্বামীকে বোঝান যে, অনেক মানুষ বিভিন্ন ফন্দি করে অন্যের বাচ্চা চুরি করে নিয়ে যায়। সামাদ মিয়াও সে রকম কিছু করে বসতে পারে। 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের কথকের স্ত্রীও রহমতের সঙ্গে তার মেয়ে মিনির বন্ধুত্ব মেনে নিতে পারেন না। তিনিও রহমতকে সন্দেহের চোখে দেখতে থাকেন। গল্পের এ দিকটিই উদ্দীপক-১-এ প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপক এবং 'কাবুলিওয়ালা' গল্প উভয় ক্ষেত্রেই পিতৃত্বের সর্বজনীন রূপ ফুটে ওঠায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
কাবুলিওয়ালা' গল্পে লেখক দেখিয়েছেন যে, দেশ ভিন্ন হলেও পিতৃহৃদয়ে থাকা স্নেহ-বাৎসল্যের মধ্যে কোনো ভিন্নতা নেই। দেশ আলাদা হতে পারে, সংস্কৃতি আলাদা হতে পারে কিন্তু সন্তানের প্রতি সকল পিতার ভালোবাসা একরকম। সন্তানের মঙ্গল-চিন্তা সব পিতারই সহজাত আকাঙ্ক্ষা। কাবুলিওয়ালা রহমত চরিত্রের মধ্য দিয়ে এ সত্যই প্রকাশিত হয়েছে।
উদ্দীপক-১ অংশে দেখা যায়, নতুন দারোয়ান সামাদ মিয়ার সঙ্গে আবীরের অন্তরঙ্গতা মেনে নিতে পারেন না তার মা। এজন্য তিনি স্বামীর কাছে তার উদ্বেগের কথা জানান। কিন্তু উদ্দীপক-২ অংশে আমরা দেখি, আবীর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে সেই সন্দেহভাজন সামাদ মিয়াই রক্ত দিতে ছুটে আসে। 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে রহমত মিনিকে নিজের মেয়ের মতোই ভালোবাসত। দেশে তারও মিনির বয়সি একটি মেয়ে ছিল। তাই বহুদিন পর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে সে ছুটে আসে মিনিকে দেখতে। তার জন্য নিয়ে আসে বাদাম-কিশমিশ।
'কাবুলিওয়ালা' গল্পের রহমত ও উদ্দীপকের সামাদ মিয়া দুজনের মাঝেই সন্তানবাৎসল্যের দিকটি ফুটে উঠেছে। 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে রহমতের মধ্য দিয়ে পিতৃত্বের সর্বজনীন রূপটিকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। উদ্দীপকের সামাদও তেমনই একজন স্নেহবৎসল পিতা। সামাদ মিয়া যেন 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের মূলভাবকেই ধারণ করে আছে। এ বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
কাবুলিয়ালার ঝুলি সম্পর্কে মিনির অন্ধ বিশ্বাস ছিল যে, বুঝুলির ভিতরে তার মতে দুটো-চারটে জীবিত মানব সন্তান পাওয়া যেতে পারে।
কাবুলিওয়ালা তার পিতৃসুলভ স্নেহভালোবাসা দিয়ে মিনির ক্ষুদ্র হৃদয় জয় করে নিয়েছিল।
মিনিকে দেখে কাবুলিওয়ালার দূর দেশে রেখে আসা নিজ কন্যার কথা মনে পড়ে। তাই সে প্রায় প্রতিদিনই মিনির সাথে দেখা করতে আসে। বসে বসে মিনির কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে। মিনির জন্য নিয়ে আসে বাদাম আর কিশমিশ। এমন করেই মিনির ক্ষুদ্র হৃদয়ে স্থান করে নেয় সে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

