মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী 'যৌথ কমান্ড' গঠন করেছিল ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে জাতিসংঘ তেমন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা না দিয়ে সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান যখন বাঙালি নিধনে তৎপর, তখন জাতিসংঘ বলতে গেলে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ও মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ কোনো যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
অমি রহমানের বক্তব্যের মাঝে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আল বদর ও রাজাকারদের অপতৎপরতা ফুটে উঠেছে।
রাজাকার, আল বদর, আল শামস ও শান্তি কমিটি গঠিত হয়েছিল আনসার, মুজাহিদ ও পাকিস্তানপন্থিদের নিয়ে। তারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতন, হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন ইত্যাদি অপকর্মে । পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেছে। এদেরকে ট্রেনিং দিতো • পাকিস্তান সেনাবাহিনী। এরা দখলদার বাহিনীর দোসর হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। এছাড়াও আল বদর বাহিনী একটি ভয়ঙ্কর দল ছিল। বাঙালি বুদ্ধিজীবী হত্যার প্রধান দায়িত্ব ছিল আল বদর বাহিনীর ওপর। এছাড়া আল শামস বাহিনী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহচর ছিল। জেনারেল টিক্কা খানের সহায়তায় মুক্তিবাহিনীকে হটানোর জন্য গঠিত হয়েছিল শান্তি কমিটি। ১৯৭১ সালের পাকিস্তানিদের হত্যাকাণ্ডে সর্বোতভাবে সহযোগিতা করেছিল এদেশের দালালরা। সুতরাং, অমি রহমানের বক্তব্য ও উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধী অর্থাৎ, রাজাকার, আলবদরসহ পাকিস্তানি দালালদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক।
হ্যাঁ, আমি মনে করি মুষ্টিমেয় কিছু লোক স্বাধীনতাবিরোধী হলেও অধিকাংশ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে সংগ্রাম করেছিল।
বাংলাদেশের সামরিক, বেসামরিক, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, নারী, শিক্ষক কবি, সাংবাদিক, চিকিৎসক, শিল্পীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ছিল ছাত্র। ব্যক্তিগত লাভ-লোকসানের হিসাবে গুরুত্ব না দিয়ে বাংলার কৃষকেরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। মুক্তিযুদ্ধে নারীদের গৌরবোজ্জ্বল অবদান ছিল যুদ্ধের নয় মাস কয়েক লক্ষ মা-বোন পাক বাহিনীর অত্যাচারের শিকার হন। সারাদেশে অনেক নারী মুক্তিযোদ্ধা বিভিন্ন রণাঙ্গনে পাক বাহিনীর মোকাবিলা করেছেন।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমেরও অনেক ভূমিকা ছিল। অনেক প্রবাসী বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধে নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেন। সাধারণ মানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়ে, শত্রুর অবস্থান ও চলাচলের তথ্য দিয়ে, সেবা দিয়ে ও খাবার সরবরাহ করে সহায়তা করেছে।
সুতরাং বলা যায়, কিছু বিপথগামী ছাড়া এ দেশের অধিকাংশ লোক কোনো না কোনোভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল।
Related Question
View Allমুক্তিবাহিনী সরকারি পর্যায়ে ২ ভাগে বিভক্ত ছিল।
নিয়মিত বাহিনী গঠিত হওয়ার পর নিয়মিত বাহিনীর অংশ হিসেবে স্থল বা সেনাবাহিনী গঠিত হয়।
১৯৭১ সালের ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকার ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার জলঢাকায় এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ অনষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ৬১ তরুণ মুক্তিযোদ্ধাকে দ্বিতীয় লেফটেন্যান্ট পদে কমিশন দেয়। এভাবে শুরু হয় বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর যাত্রা। এসব অফিসার পরবর্তীকালে বিভিন্ন সেক্টরে যোগ দেওয়ায় মুক্তিযুদ্ধে গতি সঞ্চার হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যক্তিরা মূলত ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অনিয়মিত বাহিনী হিসেবে পরিচিত ছিল।
অনিয়মিত বাহিনী গঠিত হয় যুবক, ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক ও সকল পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে বিভিন্ন সেক্টরের অধীনে। এ বাহিনীর সরকারি নামকরণ ছিল গণবাহিনী বা এফএফ (ফ্রিডম ফাইটার বা মুক্তিযোদ্ধা)। এ বাহিনীর সদস্যদের দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণের পর একজন কমান্ডারের অধীনে তাদের নিজ নিজ এলাকায় গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ করার জন্য প্রেরণ করা হতো। এ বাহিনীর জন্য কোনো সামরিক আইন কার্যকর ছিল না। গেরিলা বাহিনীর সদস্যদের কোনো বেতনভাতা দেওয়া হতো না। অনিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার। এছাড়া উল্লিখিত বাহিনীর বাইরে আরও কয়েকটি অনিয়মিত বাহিনী ছিল। মূলত স্থানীয় ভিত্তিতে ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে এসব গেরিলা বাহিনী গঠিত ছিল। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে শেখ ফজলুল হক মণির নিয়ন্ত্রণাধীনে গঠিত হয়, মুজিব বাহিনী। এ বাহিনীর সদস্যদের সকলে ছাত্রলীগের সদস্য। তন্মধ্যে আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, সিরাজুল আলম খান, আ.স.ম. আব্দুর রব, শাহজাহান সিরাজ, নূরে আলম সিদ্দিকী প্রমুখ যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেন। মুজিব বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল ৬,০০০। এছাড়া ন্যাপ (মোজাফফর), কমিউনিস্ট পার্টির নিজস্ব দলীয় বাহিনী ছিল।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত বাহিনী অর্থাৎ নিয়মিত বাহিনীর কার্যক্রম ছিল মূলত পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করা।
এ ধরনের সাধারণ লোকজন ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয় ছিল অসম্ভব- উক্তিটি যথার্থ।
১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধকালীন সেই বিভীষিকাময় সময়ে বজঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষ দেশের স্বাধীনতা অর্জনে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। বাংলাদেশের যুবক, ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক এবং সকল পর্যায়ের মানুষের সার্বিক অংশগ্রহণে গঠিত হয়েছিল অনিয়মিত বাহিনী। এ বাহিনীর সদস্যদের দুই সপ্তাহ প্রশিক্ষণের পর একজন কমান্ডারের অধীনে নিজ এলাকায় গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ করার জন্য প্রেরণ করা হতো। মূলত স্থানীয় ভিত্তিতে ও রাজনৈতিক মতাদর্শে এসব গেরিলা বাহিনী গঠিত ছিল বলে গেরিলা বাহিনী কখনো তাদের নীতি থেকে চ্যুত হয়নি। এছাড়া আঞ্চলিক পর্যায়ে অর্থাৎ সেক্টর এলাকার বাইরে কিছু বাহিনী গড়ে উঠেছিল। এ সকল বাহিনীর বেতনভাতা না থাকলেও তারা তাদের দায়িত্বে কখনো অবহেলা করেনি।
গেরিলা বাহিনীর কর্মকাণ্ড ছিল ছেচ্ছাসেবা ও তারা ছিল স্বল্প প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।
দেশের অভ্যন্তরে জনগণের মনোবল অটুট রাখা, পাকিস্তানি ও তাদের দোসরদের অতর্কিত আক্রমণে পরাস্ত করা ও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু যেমন-যোগাযোগ ও বিদ্যুৎব্যবস্থা ধ্বংস করা, যুদ্ধের জন্য লোকবল সংগ্রহ ও তাদের ট্রেনিং প্রদান ছিল এসব বাহিনীর প্রধান কাজ। কাগজে-কলমে গেরিলারা সেক্টর কমান্ডার দ্বারা পরিচালিত হলেও বাস্তবে এরা এলাকাভিত্তিক নিয়ন্ত্রিত হতো। বিভিন্ন এলাকাভিত্তিক বাহিনীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গেরিলা ছিল লক্ষাধিক। এছাড়া এর কয়েকগুণ ছিল স্বেচ্ছাসেবক।
পরিশেষে বলা যায়, অনিয়মিত বা সাধারণ লোকজন ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয় অসম্ভব ছিল।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন ৬নং সেক্টরের বিস্তৃতি ছিল রংপুর, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও পর্যন্ত।
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের আঞ্চলিক সুবিধা চিন্তা করে যে প্রশাসনিক পরিষদ গঠন করা হয়, তা জোনাল কাউন্সিল নামে পরিচিত।
বেসামরিক প্রশাসনকে অধিক গণতান্ত্রিক করার জন্য বাংলাদেশের আঞ্চলিক সুবিধা চিন্তা করে সমগ্র বাংলাদেশকে ১৯৭১ সালে প্রথমে ৯টি ও পরে ১১টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়। সেপ্টেম্বর নাগাদ অঞ্চলগুলোর বিন্যাস হয়েছিল আঞ্চলিক প্রশাসনিক পরিষদ গঠনের মাধ্যমে। সংশ্লিষ্ট এলাকার জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ সদস্যদের প্রশাসনিক পরিষদের সদস্য করে তাদের ভোটে নির্বাচিত একজন করে চেয়ারম্যানকে পরিষদের প্রধান করা হয়। চেয়ারম্যানের অধীনে একজন করে সচিব নিযুক্ত করা হয়। একই সাথে প্রতিটি জোনে সরকার হতে ৭ জন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়, যা জোনাল কাউন্সিল নামে পরিচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!