ফিরোজ শাহ তুঘলক ১৩৫১ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ মার্চ সালতানাতে অধিষ্ঠিত হন।
Related Question
View Allফিরোজ শাহ ছিলেন ক্রীতদাসদের প্রতি অনুরক্ত।
ফিরোজ শাহ একটি বিরাট ক্রীতদাস বিভাগ গড়ে তোলেন। তার আমলে ১,৮০,০০০ জন ক্রীতদাস ছিল। এর মধ্যে দরবারে প্রায় বারো হাজার ক্রীতদাস বিভিন্ন কাজে নিযুক্ত থেকে পারদর্শী হয়ে ওঠে। ক্রীতদাসদের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য 'দিওয়ান-ই-বন্দেগান' নামে একটি নতুন বিভাগ স্থাপন করা হয়। যুদ্ধবন্দিদের অযথা হত্যা না করে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য সুলতান তাদের প্রতি উদার নীতি গ্রহণ করেন। এ ব্যবস্থা মানবোচিত হলেও এতে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি পায়। ফলে পরবর্তীকালে রাজ্যে আর্থিক সংকট দেখা দেয় এবং এসব দাস দিল্লি সালতানাতের জন্য হুমকি হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকে তকী খানের প্রজাহিতৈষী কাজের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ফিরোজ শাহ তুঘলকের কাজের সাদৃশ্য রয়েছে।
জমিদার তকী খান প্রজাদরদি ছিলেন। তিনি এতিম ও অসহায়দের সাহায্যার্থে বিভিন্ন দফতর প্রতিষ্ঠা করেন এবং এ কাজে রাজকোষের প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন। ফলে তিনি জনগণের নিকট প্রশংসিত হন। ফিরোজ শাহ তুঘলকও তার প্রজাতিতৈষী কাজের জন্য প্রশংসিত ছিলেন।
ফিরোজ শাহ তুঘলকের গৃহীত কয়েকটি প্রজাহিতৈষী পদক্ষেপ ইতিহাসে 'মাতামহীসুলভ ব্যবস্থা' নামে পরিচিত। এ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য দিকের মধ্যে ছিল বিবাহ দপ্তর এবং চাকরি দপ্তর প্রতিষ্ঠা। বিবাহ দপ্তরের মাধ্যমে গরিব ও অনাথ মেয়েদের সরকারি খরচে বিয়ে এবং বেওয়ারিশ লাশের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্নের ব্যবস্থা করা হতো। 'দিওয়ান-ই-ইস্তহাক' নামক দপ্তর থেকে দরিদ্র, অনাথ ও বিধবাদের আর্থিক সাহায্য দেওয়া হতো। প্রজাসাধারণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুলতান 'দারউস শেফা' নামক দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন করেছিলেন। অন্যান্য শহরে এরকম আরও ৪টি হাসপাতাল নির্মাণ করেন। সুলতান ৩৬টি ক্ষুদ্র ও বৃহৎ শিল্পকারখানা গড়ে তুলেছিলেন। কৃষিকাজের উন্নতির জন্য খাল খনন করেন এবং প্রায় ১২০০ উদ্যান নির্মাণ করে আয়ের টাকা দিয়ে খাদ্যঘাটতি পূরণ করেন। এভাবে সুলতান জনস্বার্থমূলক কাজের দ্বারা তার শাসনব্যবস্থাকে স্মরণীয় করে রাখেন। সুতরাং জনকল্যাণকর উদ্যোগ গ্রহণের দিক দিয়ে তকী খান এবং ফিরোজ শাহ তুঘলক পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের তকী খানের জমিদারির পরিণতির সাথে তুঘলক বংশের পরিণতির সাদৃশ্য বিদ্যমান। সুতরাং জনকল্যাণকর উদ্যোগ গ্রহণের দিক দিয়ে তকী খান এবং ফিরোজ শাহ তুঘলক পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।
প্রজাহিতৈষী কার্যক্রমের মাধ্যমে জমিদার তকী খান জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা পেলেও শেষ পর্যন্ত তিনি সফল হতে পারেননি। তার গৃহীত পদক্ষেপ আর্থিক সংকট সৃষ্টি করে এবং তার জমিদারির পতন ঘটে।
দিল্লি সালতানাতের ইতিহাসে ফিরোজ শাহ তুঘলককেও অনুরূপ পরিণতির শিকার হতে দেখা যায়।
ফিরোজ শাহ জনপ্রিয় সুলতান ছিলেন কিন্তু সিংহাসনের মূলভিত্তি তিনি রক্ষা করতে পারেননি। সাম্রাজ্যের বিদ্রোহ, বিশৃঙ্খলা দমনে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তার আরেকটি বড় ভুল ছিল জায়গিরদারি প্রথার পুনঃপ্রবর্তন। এর ফলে অভিজাতবর্গ ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে এবং কেন্দ্রীয় শাসনের ক্ষমতা শিথিল হয়ে পড়ে। তিনি সেনাবাহিনীতে বংশানুক্রমিক চাকরির অধিকার প্রদান করে সাম্রাজ্যের স্থায়িত্বের মূলে কুঠারাঘাত করেন। তার সৃষ্ট ক্রীতদাস বাহিনীর ভরণপোষণে রাজকোষের প্রচুর অর্থ অপচয় হয়। ফলে সাম্রাজ্যের পতন অনিবার্য হয়ে পড়ে। সুলতান যুদ্ধনীতি পরিহার করায় সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। সুলতান ফিরোজ শাহ শাসনকার্যে উলামাদের প্রাধান্য দেওয়ায় অসুন্নি মুসলমান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের রোষানলে পতিত হন। অপরাধীদের শাস্তি প্রদান রহিত করার ফলে দুর্নীতি বেড়ে যায় এবং দুর্নীতিপরায়ণ কর্মচারীরা সরকারি অর্থসম্পদ লুট করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এতে রাজ্যের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
পরিশেষে বলা যায়, ফিরোজ শাহ তুঘলকের শাসননীতি ও কার্যাবলি তুঘলক বংশের পতনের জন্য প্রত্যক্ষভাবে দায়ী না হলেও এ বংশের পতনের পথকে ত্বরান্বিত করেছিল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!