কর্তব্যের অর্থ হচ্ছে নাগরিকের করণীয় কাজ। অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশকিছু দায়িত্ব পালন করতে হয়। নাগরিকের এ সকল দায়িত্বকেই কর্তব্য বলা হয়।
নাগরিকের কর্তব্য পালন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রগতি অব্যাহত রাখার জন্য নাগরিক কর্তব্য অবশ্য পালনীয় বিষয়। সুসংহত ও উন্নত জীবনযাপনের অপরিহার্য শর্ত হলো নাগরিকের কর্তব্য পালন। অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগের নিশ্চয়তা কেবলমাত্র নাগরিক কর্তব্য পালনের মধ্য দিয়েই হতে পারে। এটি সচেতন কর্তব্যবোেধ সভ্য, সুস্থ ও উন্নত সমাজ গঠনের চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে।
ফিরোজ সাহেব নাগরিক হিসেবে অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে সচেতন থাকলেও কর্তব্য পালনে দারুণ অবহেলা করেন। তবে, নাগরিক রাষ্ট্রে দু ধরনের কর্তব্য পালন করে- (i) নৈতিক কর্তব্য ও (ii) আইনগত কর্তব্য। এখানে আইনগত কর্তব্যে অবহেলা করলে নাগরিককে শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়। তাই ফিরোজ সাহেবকে শাস্তি এড়াতে আইনগত কর্তব্যগুলো যথাযথভাবে পালন করতে হবে। এ উদ্দেশ্যে তাকে নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে হবে-
আনুগত্য : রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের ভিত্তিতেই নাগরিকত্বের সৃষ্টি করা হয়। এ কারণে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন হলো ফিরোজ সাহেবের প্রাথমিক ও প্রধান কর্তব্য। রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত নাগরিক যথাসর্বস্ব। এমন কি জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দিতে প্রস্তুত থাকবে। রাষ্ট্রের কাজকর্মে যথাসাধ্য সহযোগিতা করতে হবে।
আইন মান্য করা: ফিরোজ সাহেবকে আইন মান্য করতে হবে। আইনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের আদর্শ ও উদ্দেশ্য ব্যক্ত হয়। তাকে শুধু নিজেই আইন মানলে হবে না। অপর সকলেই যেন আইন মেনে চলে সেদিকেও নজর রাখতে হবে। অপর কেউ যদি আইন অমান্য করে তাহলে তাকে ধরিয়ে দিতে হবে।
কর প্রদান করা: জনকল্যাণের জন্য রাষ্ট্র ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করে।
এ কার্যক্রমকে বাস্তবায়িত করার জন্য পর্যাপ্ত অর্থের প্রয়োজন হয়। নাগরিকদের প্রদেয় করের মাধ্যমে এ অর্থের সংস্থান করতে হয়। তাই ফিরোজ সাহেবকে নিয়মিত কর প্রদান করতে হবে। নাগরিকগণ যদি নিয়মিত কর প্রদান না করে তাহলে রাষ্ট্রের ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে না। ফলে রাষ্ট্রের কর্মপরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যাবে। সেজন্য প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য হলো নিয়মিতভাবে ন্যায্য কর প্রদান করা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় সহযোগিতা করা
ভোট প্রদান করা: ভোট প্রদান প্রত্যেক নাগরিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ
দায়িত্ব। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বলতে এখন জনগণের প্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়। এরকম প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থায় সঠিকভাবে ভোট দিয়ে উপযুক্ত জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করা হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য হলো সব রকম ব্যক্তিগত বা দলগত সংকীর্ণ স্বার্থবোধের ঊর্ধ্বে ওঠে সৎভাবে যোগ্যতম প্রার্থীকে ভোট প্রদান করা। বর্তমানে শাসনতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ভোট দেওয়ার অধিকার হলো সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অধিকার তেমনি সৎভাবে ভোট দেওয়া হলো প্রত্যেক নাগরিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র কর্তব্য। তাই রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ফিরোজ সাহেবকে সৎভাবে যোগ্যতম ব্যক্তিতে ভোট দিতে হবে নির্বাচিত হওয়ার জন্য
ফিরোজ সাহেব গ্রামের উন্নয়নে স্বেচ্ছাশ্রম দিতে অসম্মতি জানিয়েছেন। অতঃপর গ্রামের সবাই তাকে মন্দ চোখে দেখতে শুরু করেছে। আমি একমত যে, গ্রামে নৈতিক কর্তব্যে অবহেলা করার জন্যই ফিরোজ সাহেবের দুর্নাম ছড়িয়ে পড়ে। নিচে আমার মতামত যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করা হলো-
নিজ পরিবারের প্রতি কর্তব্য সম্পাদনের মাধ্যমেই রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্যবোধের সৃষ্টি হয়। নিজ পরিবারের প্রতি উদাসীন ব্যক্তি কখনও রাষ্ট্রের প্রতি তার কর্তব্য সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতে পারে না। আবার নিজ পরিবারের প্রতি সকল কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে পরিবারের সকলকে সুখী করতে পারলে কার্যত রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য করা হয়। কারণ রাষ্ট্রীয় কল্যাণ পারিবারিক কল্যাণের ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে পারিবারিক কর্তব্য নাগরিক কর্তব্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য হয়। পরিবারের প্রতি কর্তব্য বলতে পরিবারের সকলকেই সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিধানের দায়িত্বকে বোঝায়। কিন্তু ফিরোজ সাহেব নিজ পরিবারের প্রতি কর্তব্য পালনে অবহেলা করলেও সমাজ তা জানতে পারে নি এবং তার নিন্দা পরিবারের চার দেয়ালের মধ্যেই আবদ্ধ ছিল। কিন্তু সামাজিক প্রেক্ষাপটের ক্ষেত্রে দেখলে দেখা যায় মানুষ প্রকৃতিগতভাবে সামাজিক জীব। সমাজবদ্ধ বসবাস করার জন্যই মানুষের, বর্তমান উন্নত জীবনযাত্রা সম্ভব হয়েছে। সমাজের বাইরে ব্যক্তিসত্তায় পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটতে পারে না। সমাজের উন্নতির মাধ্যমে ব্যক্তির উন্নতি সম্ভব। ব্যক্তিগত মঙ্গল ও সমষ্টিগত মঙ্গল ওতপ্রোতভাবে পরস্পরের সাথে যুক্ত। তাই সমাজের সর্বাঙ্গীণ উন্নতির জন্য প্রত্যেক নাগরিকেরবিশেষভাবে যত্নবান হওয়া দরকার। ব্যক্তিগত সংকীর্ণ স্বার্থ ত্যাগ করে সমাজের বৃহত্তর কল্যাণ সাধনের জন্য নাগরিক মাত্রেরই আত্মনিয়োগ করা উচিত। এর জন্য অর্থ, শ্রম, বিদ্যাবুদ্ধি সবকিছুই নিয়োগ করা প্রয়োজন। সমাজের অক্ষম ও অবহেলিত গোষ্ঠীদের সেবায় দরদ ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে অগ্রসর হতে হবে। সমাজসেবামূলক কাজে দ্বিধাহীনচিত্তে যোগ দিতে হবে। সমাজের জনহিতকর কাজে সমাজ চেতনার দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণ করা দরকার। কিন্তু ফিরোজ সাহেব এরূপ সমাজসেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ করে নি। এতে গ্রামে সবাই তার সংকীর্ণ হৃদয়ের পরিচয় পেয়েছে এবং সে নিন্দা করতে বাধ্য হয়েছে। তাই সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, গ্রামের প্রতি নৈতিক কর্তব্যের অবহেলাই ছিল গ্রামে ফিরোজ সাহেবের নিন্দা ছড়ানোর প্রধান কারণ।
Related Question
View Allপ্রত্যেক রাষ্ট্রই এর প্রদত্ত অধিকারসমূহ দ্বারা পরিচিতি লাভকরে"- উক্তিটি করেছেন অধ্যাপক লাঙ্কি।
'মানুষ' হিসেবে প্রতিটি মানুষ যে অধিকার ভোগ করতে জন্মগতভাবে প্রত্যাশী তাই মানবাধিকার। মানুষের মূল্য ও মর্যাদার সাথে সংশ্লিষ্ট এ অধিকারগুলো মানুষ জন্মগতভাবে লাভ করে থাকে। অর্থাৎ আমরা মানুষ হিসেবে বাঁচতে প্রকৃতিগত ও সহজাত যে অধিকার প্রত্যাশা করি, তাই হলো মানবাধিকার। যেমন- জীবন ধারণের অধিকার, নিরাপত্তা লাভের অধিকার, নিষ্ঠুরতার শিকার না হওয়ার অধিকার, ন্যায়বিচার লাভের অধিকার ইত্যাদি।
উদ্দীপকে অধিকার ও কর্তব্যের মধ্যকার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এগুলোর পারস্পরিক নির্ভরশীলতার কথা বলা হয়েছে।
অধিকার ও কর্তব্য নাগরিকতার দুটি দিক। নাগরিকদের যেমন অধিকার আছে, তেমনি কর্তব্যও পালন করতে হয়। অধিকার ও কর্তব্য পরস্পর পরিপূরক। এ দুটি যেন একই মুদ্রার দুটি দিকের ন্যায়। সামাজিক সচেতনতা থেকে এদের সৃষ্টি এবং সমাজের মধ্যেই এরা অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে। নাগরিকগণ নিজ নিজ অধিকারের বিনিময়ে রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য পালন করে থাকে। এজন্যই লাস্কি বলেন, "আমার নিরাপদে থাকার অধিকার থাকলে অন্যের কর্তব্য হলো আমাকে অন্যায়ভাবে আক্রমণ না করা।" অধিকার বলতে যেমন কতকগুলো শর্তকে বুঝানো হয়, তেমনি তা পালনও দায়িত্ব। যেমন-ভোটদানের অধিকার বলতে ভোটাধিকার প্রয়োগের দায়িত্বকেও বোঝায়। কারও অধিকার বলতে যেমন তার কর্তব্যকেও বোঝায়, তেননি একজনের অধিকার বলতে অন্যের কর্তব্যকেও বোঝানো হয়। আমার সম্পত্তির ভোগের অধিকার আছে, এর অর্থ অন্যের সম্পত্তিতে অন্যায় হস্তক্ষেপ না করাও আমার দায়িত্ব।
কারও অধিকার বলতে যেমন তার কর্তব্যকে বোঝায়, তেমনি একজনের অধিকার বলতে অন্যের কর্তব্যকে বোঝায়। একজনের অধিকার ভোগ করা অন্যের কর্তব্য পালনের ওপর নির্ভরশীল। এজন্যই বলা হয়, অধিকারের মধ্যেই কর্তব্য নিহিত। যেমন- আমার বেঁচে থাকার যদি অধিকার থেকে থাকে, তবে আমার কর্তব্য হলো
অন্যের বেঁচে থাকার পথে কোনো বাধার সৃষ্টি না করা। অনুরূপভাবে অন্যের কর্তব্যও হলো আমাকে হত্যা না করা। অধিকার ও কর্তব্য একটি ছাড়া অন্যটি কল্পনা করা যায় না। সমাজের একজনের অধিকারের পরিধি অন্য সকলের কর্তব্যবোধ দ্বারা সীমাবদ্ধ। কারণ অধিকার যদি অবাধ ও সীমাহীন হয় তবে এ থেকে স্বেচ্ছাচারিতার জন্ম হবে। এতে সবল ব্যক্তি অধিকার ভোগ করবে; কিন্তু দুর্বল তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
রাষ্ট্র নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করবে। বিনিময়ে নাগরিকগণ রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করবে। নাগরিকের যা দায়িত্ব রাষ্ট্রের তা অধিকার আর রাষ্ট্রের যা দায়িত্ব নাগরিকের তা অধিকার। রাষ্ট্র নাগরিকের অধিকার উপভোগের নিশ্চয়তা দেয়। ফলে রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হয়। অর্থাৎ বলা যায়, অধিকার ও কর্তব্য নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। কার্ল মার্কস বলেছেন, "কর্তব্য ছাড়া কোনো অধিকার নেই আর অধিকার ছাড়া কোনো কর্তব্য নেই।” সুতরাং বলা যায়, অধিকারের মধ্যেই কর্তব্য নিহিত থাকে
বাংলাদেশে ২০০৯ সালের ৫ এপ্রিল তথ্য অধিকার আইন প্রণীত হয়
সাধারণভাবে যেকোনো বস্তু বা বিষয় সম্পর্কে জানার জন বিবরণকে তথ্য বলা হয়। তথ্য অধিকার আইনে তথ্যকে সুনির্দিষ্টভাে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো কর্তৃপক্ষের গঠন কাঠামো ও দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত যে কোনো স্মারক, বই, নকশ মানচিত্র, চুক্তি, তথ্য- উপাত্ত, আদেশ, বিজ্ঞপ্তি, দলিল, আলোকচিত্র অডিও, ভিডিও, যান্ত্রিকভাবে পঠনযোগ্য দলিলাদি এবং বৈশিষ্ট নির্বিশেষে যেকোনো তথ্যবহ বস্তু ইত্যাদিকে তথ্য বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!