দৃশ্যকল্প ১.ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেধাবী ছাত্র রোমেল কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়ায় জন্মগ্রহণ করে। উপকূলীয় জীবনযাত্রার খোলা আবহাওয়ায় বেড়ে ওঠায় সে সুঠামদেহী, প্রচণ্ড সাহসী ও পরিশ্রমী।
দৃশ্যকল্প-২: জীবনে চলার পথে মানুষ একে অপরের সাহায্য করে, বিপদে এগিয়ে এসে সমাজের মঙ্গল সাধন করে। আবার সমাজের কিছু মানুষ সর্বক্ষণ মানুষের ক্ষতি, ঘুষ, দুর্নীতি করে মানুষের ক্ষতি করে চলেছে।
X' ক্রোমোজোম বহনকারী ডিম্বাণু যদি 'X' ক্রোমোজোম বহনকারী শুক্রাণুর সাথে মিলিত হলে কন্যা শিশুর লিজা নির্ধারিত হয়। কোন ধরনের শুক্রাণু ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হবে তার ওপর নির্ভর করে সন্তান ছেলে নাকি মেয়ে হবে। পরিপক্ক ডিম্বাণুতে ২২টি সমরূপী ক্রোমোজোম ও একটি × অথবা একটি 'Y' ক্রোমোজোম থাকে। এই 'X' এবং 'Y' ক্রোমোজোমগুলোই শিশুর লিজা নির্ধারণ করে। 'X' ক্রোমোজোম বহনকারী ডিম্বাণু 'Y' ক্রোমোজোম বহনকারী শুক্রাণুর সাথে মিলিত হলে সন্তান ছেলে হয়। পক্ষান্তরে, 'X' ক্রোমোজোম বহনকারী ডিম্বাণু 'X' ক্রোমোজোম বহনকারী শুক্রাণুর সাথে মিলিত হলে শিশু মেয়ে হয়।
দৃশ্যকল্প-১ এ রোমেলের ক্ষেত্রে জন্মপরবর্তী প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যক্তির পরিবেশকে জন্ম-পূর্ব পরিবেশ ও জন্ম-পরবর্তী পরিবেশ এ দুভাগে ভাগ করা যায়। শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত যে সব উপাদান ব্যক্তির জীবনকে প্রভাবিত করে তাই হলো তার জন্ম-পরবর্তী পরিবেশ। ভূ-প্রকৃতি, আবহাওয়া, জলবায়ু, আলো-বাতাস, গাছ-পালা, বন-জঙ্গল, পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা প্রভৃতি জন্ম-পরবর্তী প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদান। যেমন- সমতলভূমিতে বেড়ে ওঠা ব্যক্তির জীবনপ্রণালি পাহাড়ি এলাকায় বেড়ে ওঠা ব্যক্তি থেকে আলাদা, আবার শীতপ্রধান অঞ্চলের লোকের সাথে গরম প্রধান অঞ্চলের লোকের তুলনা করলে তাদের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য দেখা যায়। বিভিন্ন অঞ্চলের লোকদের মধ্যে দৈহিক গড়ন ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতার মূলে রয়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব।
উদ্দীপকের দিকে লক্ষ করলে দেখতে পাই যে, ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেধাবী ছাত্র রোমেল কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়ায় জন্মগ্রহণ করে। উপকূলীয় জীবনযাত্রার খোলা আবহাওয়ায় বেড়ে ওঠায় সে সুঠামদেহী, প্রচণ্ড সাহসী ও পরিশ্রমী। তাহলে দেখা যায়, উপকূলীয় খোলা আবহাওয়া তার জীবন ও শারীরিক গঠনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। এই উপকূলীয় এলাকা তথা কক্সবাজারের কুতুবদিয়া প্রাকৃতিক পরিবেশেরই অংশ। তাই বলা যায়, দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত রোমেলের ক্ষেত্রে জন্ম-পরবর্তী প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব উল্লেখ করা হয়েছে।
দৃশ্যকল্প-২ এর প্রথমাংশে মানুষের আচরণের ইতিবাচক দিক তথা সামাজিক বিকাশ এবং দ্বিতীয়াংশে আচরণের নেতিবাচক তথা খারাপ দিক অর্থাৎ দুর্নীতির উল্লেখ করা হয়েছে। মানুষ সামাজিক জীব হিসেবে তাকে সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য আচরণ করতে হয়। সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য আচরণ শেখার জন্য সামাজিক বিকাশ প্রয়োজন। সামাজিক বিকাশ বলতে বোঝায় সামাজিক প্রবণতার সাথে সামাঞ্জস্যপূর্ণ আচরণের ক্ষমতা অর্জন। এ ধরনের বিকাশের কারণে শিশু সামাজিক পরিবেশের সাথে খাপ-খাওয়াতে শিখে এবং সে অনুযায়ী আচরণ করে। জীবনে চলার পথে পরিবার ও সমাজে মানুষ নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হয়। এ সকল সমস্যা সমাধান করা কোনো মানুষের একার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই মানুষ একে অপরের বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য সহযোগিতা করে। একে অপরের খোঁজ-খবর নেয়। এভাবে মানুষের মাঝে যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার মূলেই রয়েছে সামাজিক বিকাশ।
প্রদত্ত দৃশ্যকল্প-২ এর দিকে লক্ষ করলে দেখতে পাই, সেখানে বলা হয়েছে সমাজের কিছু মানুষ সর্বক্ষণ মানুষের ক্ষতি, ঘুষ ও দুর্নীতি করে মানুষের ক্ষতিসাধন করে থাকে। মূলত সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব; ক্রমবর্ধমান ভোগবাদী প্রবণতা এবং তথ্য অধিকারের অভাব দুর্নীতির অন্যতম কারণ। দুর্নীতি একই সাথে পারিবার ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর আবার অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে অন্যতম প্রতিবন্ধক। দুর্নীতির ফলে এক শ্রেণির মানুষ সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলে, ফলে সমাজে ধনী ও দরিদ্রের আয়ের বৈষম্য বেড়ে যায়। দুর্নীতির ফলে মানব উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যাহত হয় এবং মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে। বৃহৎ ভাবে বলতে গেলে দুর্নীতির কারণে একটি দেশে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নীতি নির্ধারণ পদ্ধতিতে জনগণের স্বার্থ সংরক্ষিত হয় না। ফলে মৌলিক অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অভাব ও আয় বৈষম্য দেখা দেয়। এককথায় বলতে গেলে দুর্নীতি সকল উন্নতির অন্তরায়। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, সামাজিক বিকাশ যেমন সুস্থ সমাজ গঠনের জন্য পূর্বশর্ত তেমনি দুর্নীতি সমাজের জন্য অভিশাপস্বরূপ। তাই সুস্থ সমাজ বিনির্মাণের জন্য সরকারের সাথে সাথে আমাদের সকলেরই দুর্নীতির বিরুদ্ধে এগিয়ে আসা জরুরি।
গর্ভজাত সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে, তা মূলত ক্রোমোসোমের ওপর নির্ভর করে একটি পরিপক্ক ডিম্বাণুতে ২২টি সমরূপী ক্রোমোসোম এবং একটি 'X' ক্রোমোসোম থাকে। অপরদিকে, একটি পরিপক্ক শুক্রাণুতে ২২টি সমরূপী ক্রোমোসোম এবং একটি 'X' অথবা 'Y' ক্রোমোসোম থাকে। সমরূপী ক্রোমোসোমকে অটোসম এবং 'X' এবং 'Y' কে যৌন ক্রোমোসোম বলে। 'X' ক্রোমোসোম বহনকারী ডিম্বাণু যদি 'Y ক্রোমোসোম বহনকারী শুক্রাণুর সাথে মিলিত হয় তাহলে সন্তানটি হবে 'XY' বা ছেলে। আর যদি 'X' ক্রোমোসোম বহনকারী ডিম্বাণু, 'X' ক্রোমোসোম বহনকারী শুক্রাণুর সাথে মিলিত হয়, তবে সন্তানটি হবে 'XX' বা মেয়ে।
মাতার ডিম্বাণু এবং পিতার শুক্রাণু মিলিত হয়ে জাইগোট তৈরি হয়। এই ভ্রুণ মাতৃগর্ভে বড় হতে থাকে এবং প্রায় ২৮০ দিন পর শিশু ভূমিষ্ঠ হয়। মাতৃগর্ভে থাকাকালীন যে সব উপাদান তার ওপর প্রভাব বিস্তার করে সেসব নিয়েই শিশুর জন্ম-পূর্ব পরিবেশ। মায়ের স্বাস্থ্য পুষ্টি, বয়স, আবেগ, কর্মপরিবেশ, ধূমপান ও মাদকাশক্তি, এক্স-রে, রক্তের Rh উপাদান জন্ম-পূর্ব পরিবেশে শিশুর ওপর প্রভাব বিস্তার করে। এজন্য গর্ভাবস্থায় মাতৃস্বাস্থ্য রক্ষায় সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
উদ্দীপকে বর্ণিত রহিমা ৬ মাসের গর্ভবতী। সে একটি রাসায়নিক পদার্থ উৎপাদনকারী কারখানায় কাজ করে। এ ধরনের পরিবেশ মা ও শিশু উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। হাসপাতাল রূপ চর্চা কেন্দ্র, ওষুধ পরীক্ষাগার ও কল-কারখানায় কর্মরত গর্ভবতী মহিলারা বিভিন্ন প্রকার রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আসার কারণে সন্তানদের মধ্যে বেশি জন্মগত ত্রুটি দেখা যায়। এ ধরনের পরিবেশে মায়ের স্বাস্থ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকার কারণে বিপর্যয় ঘটে থাকে, যা পরবর্তীতে শিশুর জন্মগত ত্রুটির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উদ্দীপকের রহিমা যেহেতু এখনো সন্তান প্রসব করেনি, সেহেতু বলা যায় সে সন্তানের জন্ম-পূর্ববর্তী পরিবেশ নিয়ে চিন্তিত।