'ইবাদত' শব্দটি আরবি শব্দ 'আবদুন' শব্দ থেকে এসেছে। 'আবদুন' শব্দের অর্থ দাস বা চাকর। আর ইবাদত অর্থ দাসত্ব, আনুগত্য ও বন্দেগি করা।
আলোচ্য অনুচ্ছেদে সাজ্জাদ ইবাদত বিষয়টিতে সালাত, রোযা ও হজ ইত্যাদি মৌলিক ইবাদতের পাশাপাশি সব রকম উত্তম কাজকে বুঝিয়েছে। অর্থাৎ ব্যাপক অর্থে যেকোনো উত্তম কাজই ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে। যেমন- রোগীর সেবা করা, কোনো অসহায়কে সাহায্য করা, কোনো ভালো কাজের শুরুতে আল্লাহকে স্মরণ করা ইত্যাদি।
আল্লাহ তায়ালা যেহেতু আমাদের ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন, কাজেই সর্বক্ষণ তাঁর ইবাদতে মশগুল থাকা আমাদের কর্তব্য। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে যে, সর্বক্ষণই কি ইবাদত করা সম্ভব? হ্যাঁ, দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা ইবাদত করা সম্ভব। যেমন আমরা খেতে বসলে যদি বিসমিল্লাহ বলে খাওয়া শুরু করি, তবে যতক্ষণ খাওয়ার মধ্যে থাকব ততক্ষণ আল্লাহর রহমত পেতে থাকব। এটিই ইবাদত। পড়ার সময় যদি বিসমিল্লাহ বলে পড়া শুরু করি তবে যতক্ষণ পর্যন্ত লেখাপড়া করব, ততক্ষণই ইবাদতে গণ্য হবে। স্কুলে যাবার সময় বিসমিল্লাহ বলে যাত্রা শুরু করলে রাস্তার সকল বিপদাপদ থেকে আল্লাহ আমার হেফাযত করবেন। রাস্তার একটি অম্বলোক রাস্তা পার হতে পারছে না, তাকে হাত ধরে পার করে দিলে তাও আল্লাহর নিকট ইবাদত বলে গণ্য হবে। এমনিভাবে সাজ্জাদও সর্বক্ষণ ইবাদতের মধ্যে কাটাতে পারে।
ইবাদতের জন্য পাক-পবিত্র থাকা প্রয়োজন। পাক-পবিত্র না হয়ে সালাত আদায় করা যায় না। অপবিত্র অবস্থায় কুরআন মজিদ স্পর্শ করা নিষেধ। পবিত্রতা সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, “যারা পাকসাফ এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন।" এ সম্পর্কে মহানবি (স.) বলেন, “পাক-পবিত্রতা ইমানের অর্ধেক।”
মহান আল্লাহর ইবাদত করতে হলে পাক-পবিত্র থাকা প্রয়োজন। পবিত্রতা ছাড়া ইবাদত কবুল হয় না। পাক-পবিত্র থাকলে শরীর সুস্থ থাকে এবং মন প্রফুল্ল থাকে। ফলে ইবাদত-বন্দেগিসহ যেকোনো কাজকর্মে মন বসে। প্রফুল্লচিত্তে ইবাদত-বন্দেগি করার জন্য আমাদের পাক-পবিত্র থাকা প্রয়োজন। আল্লাহ যেমন সবরকম অপবিত্রতা থেকে মুক্ত তেমনি তিনি চান তাঁর বান্দাগণ পাক-পবিত্র অবস্থায় তাঁর সামনে দণ্ডায়মান হোক। কোনো রকম অপবিত্রতা তাঁর পছন্দ নয়। অর্থাৎ, ইসলামের মৌলিক ইবাদতসমূহ পালন করার জন্য পাক-পবিত্রতা ফরয। এজন্য হাদিসে বলা হয়েছে "পাক-পবিত্রতা ইমানের অর্ধেক।"
Related Question
View Allইবাদত শব্দের অর্থ হলো- আল্লাহর আদেশ-নিষেধ, বিধিবিধান মেনে চলা।
আমাদের পবিত্র থাকা প্রয়োজন। কেননা আল্লাহ তায়ালা পবিত্র ব্যক্তিকে ভালোবাসেন। আল্লাহ তায়ালা এ মর্মে বলেন, "আর উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জনকারীদের আল্লাহ তায়ালা ভালোবাসেন” (সূরা আত-তাওবা : ১০৮)। সালাত ও তিলাওয়াতের জন্য পবিত্রতা প্রয়োজন। এছাড়া পবিত্রতা ইমানের অঙ্গস্বরূপ। তাই আমাদের পবিত্র থাকা প্রয়োজন।
শরীফ পাঁচ ওয়াক্ত নামাযসহ সকল প্রকার ইবাদত করার চেষ্টা. করে। সে তার বন্ধু আরিফকেও সালাতের জন্য আহ্বান করে। এসব কাজের দ্বারা বোঝা যায়, শরীফ একজন মুমিন মুসলমান।
মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদত-বন্দেগি করার জন্য। আল্লাহ তায়ালা এ মর্মে বলেন, “আর আমি জিন ও মানবজাতিকে শুধু আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি” (সূরা আয যারিআত : ৫৬)। এজন্য কোনো মানুষ ইমান আনার সাথে সাথে সালাত আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্য প্রকাশ করে।
এছাড়া সে ইসলামের অন্যান্য মৌলিক বিধান যথা: সাওম, যাকাত, হজ ইত্যাদি পালন করে। ব্যক্তিজীবনে সততা অবলম্বন করে, অন্যায় ও পাপাচার থেকে বিরত থাকে। সবার কল্যাণে কাজ করে। এগুলোই মুমিনের বৈশিষ্ট্য। উদ্দীপকের শরীফের মাঝে এসব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। বস্তুত সে নামায আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত করার চেষ্টা করে বিধায় তাকে মুমিন হিসেবে গণ্য করা হবে।
আরিফ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে নামায পড়া হতে বিরত থাকে, সে আরও বলে- শুধু যে আমি একা ইবাদত করি না তাতো নয়। অনেকেই তো আছে যারা কোনো প্রকার ইবাদত করে না। তাদের যা হবে আমারও তাই হবে। আরিফের এরূপ আচরণ ও কর্মকাণ্ডের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।
ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত পরিত্যাগ করা কুফরি। রাসুল (স.) বলেছেন, "মুমিন ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হলো- সালাত পরিত্যাগ করা।” তিনি আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ত্যাগ করল, সে কুফরি করল।" আর কুফরির পরিণাম জাহান্নাম। আরিফ শুধু নামাযই পরিত্যাগ করেনি, সে তার কথায় আল্লাহর প্রতি চরম ঔদ্ধত্যও প্রকাশ করেছে। এ ধরনের ঔদ্ধত্য প্রকাশের জন্যও সে জাহান্নামে যাবে। কারণ ইবলিশ ঔদ্ধত্য প্রকাশ করার কারণে আল্লাহর অভিশাপে নিপতিত হয় এবং চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামি হয়। মানুষকে সৃষ্টির একমাত্র উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর ইবাদত করা। কেউ যদি ইবাদত না করে ভুল স্বীকার করে আল্লাহর দরবারে অনুতপ্ত হয়ে তওবা করে, তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন। কিন্তু কেউ যদি ইবাদত না করে এবং বলে অন্যদের যা হবে আমারও তা হবে, তাহলে আল্লাহর শাস্তি হতে সে রেহাই পাবে না। কারণ আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা কুফরি কর, তাহলে জেনে রাখ আমার শাস্তি অত্যন্ত কঠিন।
সালাত আদায়ের অন্যতম কারণ হলো- এটি ইসলামের দ্বিতীয় রুকন। এজন্য আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক মুমিনকে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'এবং তোমরা নামায কায়েম কর ও যাকাত আদায় কর' (সূরা আল বাকারা : ৪৩)। তাছাড়া সালাত মানুষকে অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরতি রাখে। এ মর্মে আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই সালাত মানুষকে অশ্লীল ও অন্যায় কাজ হতে বিরত রাখে। (সূরা আনকাবুত : ৩৫)
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!