ফয়েজ সাহেবের বক্তব্যে যুক্তফ্রন্টের গুরুত্ব বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে। ভাষা আন্দোলন ফলপ্রসূ হওয়ার পথ ধরে যুক্তফ্রন্ট বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম বিজয় সূচিত হয় ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে। এ ফ্রন্টের উন্মেষের মাধ্যমে বাংলার জাগ্রত জনতা তৎকালীন মুসলিম লীগের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের এক নব অধ্যায় সূচনা করে। উদ্দীপকে ফয়েজ সাহেবও বলেছেন, বাঙালি জাতি যখন মুসলিম লীগের পাটাতনে নিষ্পেষিত হয়, ঠিক তখনই যুক্তফ্রন্ট মানুষের মুক্তি ঘটায়। কেননা এ যুক্তফ্রন্টের মাধ্যমেই মুসলিম লীগের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে। অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনার বিকাশ এবং পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হয়। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে বাঙালির ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দিকটি বুঝতে পারে। এর ফলে তারা ১৯৫৬ সালের সংবিধানে উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দান করে। সুতরাং যুক্তফ্রন্টের গুরুত্বের ওপর ফয়েজ সাহেবের বক্তব্য ছিল সঠিক ও তাৎপর্যপূর্ণ।
Related Question
View All১৯৫৮ সালে তদানীন্তন পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করেন ইস্কান্দার মির্জা।
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম লীগ রাজনৈতিক দুর্বলতা ও দুঃশাসনের কারণে পরাজিত হন। এছাড়া মুসলিম লীগের অপশাসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শোষণ, দলের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব, দুর্নীতি, পাকিস্তানের দুই অংশে বৈষম্য ইত্যাদি মুসলিম লীগের জনপ্রিয়তা অনেক হ্রাস করে। ফলে যুক্তফ্রন্টের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায় এবং মুসলিম লীগের পরাজয় ঘটে।
কাশিমপুরের মানুষের আন্দোলনে পূর্ব পাকিস্তানের ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।
১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন উপায়ে তাদের ক্ষমতা আঁকড়ে থাকে এবং স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে। তাদের কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে বাঙালি জনগোষ্ঠী বারবার রাজপথে নেমেছে। যার প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই ১৯৬৬ সালের ৬ দফা দাবি ঘোষণার পর থেকে। সরকার এ আন্দোলনকে দমন করার জন্য পুলিশি নির্যাতন শুরু করে। এ সময় ঢাকায় ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র আসাদুজ্জামান (আসাদ) নিহত হয়। আসাদ নিহত হওয়ার পর এ আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মনে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। জনগণের ঐক্য, জাগরণ যে স্বৈরাচারী শাসকদের বুলেটের চেয়ে শক্তিশালী তা উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের উল্লিখিত তথ্যসমূহের সাথে কাশিমপুরের মানুষের আন্দোলনের মিল পাওয়া যায়।
তাই বলা যায়, কাশিমপুর অঞ্চলের মানুষের আন্দোলনে পূর্ব পাকিস্তানের ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।
কাশিমপুরের চেয়ারম্যানের পরিণতি যেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের পরিণতিরই প্রতিচ্ছবি- উক্তিটি যথার্থ।
তদানীন্তন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইয়ুব খানের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তার স্বৈরাচারী মনোভাব ও কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে পূর্ব-পাকিস্তানের সুবিধাবঞ্চিত জনগণ দুর্বার গণআন্দোলন শুরু করে। জেনারেল আইয়ুব খান এ আন্দোলন দমন করার জন্য পুলিশি নির্যাতন শুরু করেন। পুলিশের গুলিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদ শহিদ হওয়ার পর এ আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়। আন্দোলনের তীব্রতায় ভীত হয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে ১৯৬৯ সালের ২৫শে মার্চ জেনারেল আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। একইভাবে কাশিমপুর অঞ্চলের মানুষ তাদের চেয়ারম্যানের স্বৈরাচারী মনোভাব ও কার্যকলাপে অতিষ্ট হয়ে আন্দোলন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। চেয়ারম্যান পেশিশক্তি ও রক্তপাত ঘটিয়েও এ আন্দোলন স্তিমিত করতে পারেনি। এক পর্যায়ে উক্ত 'চেয়ারম্যান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, যেমনটি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের ক্ষেত্রে ঘটেছে।
সুতরাং বলা যায়, কাশিমপুরের চেয়ারম্যানের পরিণতি তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের পরিণতিরই প্রতিচ্ছবি।
শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা (রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য) দায়ের করা হয়।
৬ দফা পূর্ব বাংলার জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সকল অধিকারের কথা তুলে ধরে। এতে প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার কথা বলা না হলেও এ কর্মসূচি বাঙালিদের স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। এ ছয় দফার পথ ধরে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি। তাই ছয় দফাকে বাংলার মানুষের মুক্তির দলিল বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!