"বক্তব্যের দিক থেকে 'গরবিনী মা-জননী' কবিতাটি উদ্দীপকের তুলনায় বহুমাত্রিক"- মন্তব্যটিকে যথার্থ বলেই আমি মনে করি।
'গরবিনী মা-জননী' কবিতায় কবি পুণ্যবতী, ভাগ্যবতী দেশমাতৃকার গর্বিত হয়ে ওঠার কারণ অন্বেষণ করেছেন। কবির মতে, এদেশের অনুপম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের তুলনা হয় না। সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে এদেশ অনন্য।
উদ্দীপকের কবিতাংশে মাতৃভক্ত কবি মায়ের চরণতলে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। কেননা, মায়ের একান্ত আশ্রয়েই তিনি প্রশান্তি খুঁজে পান। তাই মাকেই স্বর্গতুল্য মনে করেছেন তিনি। মায়ের প্রতি মমত্ববোধ থেকে তাঁর সেবায় আত্মনিয়োগ করে জীবন উৎসর্গ করতে চেয়েছেন। কবির বিশ্বাস, মায়ের স্নেহধন্য হয়েই তাঁর জীবন সার্থক হয়ে উঠবে।
'গরবিনী মা-জননী' কবিতায় দেশমাতৃকার অপার রূপসৌন্দর্য তুলে ধরার পাশাপাশি কবি এদেশের রক্তদানের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও সংগ্রামের ঐতিহ্যকে উপস্থাপন করেছেন। উদ্দীপকের কবিতাংশে এ বিষয়টির উল্লেখ নেই। তবে কবিতা ও উদ্দীপক উভয় স্থলেই প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করার প্রসঙ্গটি এসেছে। কিন্তু সেটি উপস্থাপিত হয়েছে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। তাছাড়া উদ্দীপকের কবিতাংশের মাতৃস্তুতির বিপরীতে আলোচ্য কবিতাটিতে বিস্তৃত পরিসরে মাতৃভূমির রূপ-গুণ তুলে ধরে এর বন্দনা করা হয়েছে। উদ্দীপকের স্বল্পপরিসরে এ সবকিছু উঠে আসেনি। সে বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allসন্ধ্যা-দুপুর মার পায়ে ধুলোর নূপুর বাজে।
'রক্তে-ধোওয়া সরোজিনী' বলতে আত্মত্যাগের স্মৃতিবিজড়িত দেশমাতৃকাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
'গরবিনী মা-জননী' কবিতার কবি দেশমাতৃকা বাংলাকে তুলনা করেছেন কোমল পদ্মের সাথে। দেশমাতৃকার মর্যাদা রক্ষার জন্য এদেশের সন্তানেরা অনেক সংগ্রাম করেছে, বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে। এ কারণেই কবি দেশমাতাকে 'রক্তে-ধোওয়া সরোজিনী' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত সাজিদের মাধ্যমে 'গরবিনী মা-জননী' কবিতায় উল্লিখিত দেশমাতৃকার মুক্তির লক্ষ্যে যেকোনো ধরনের ত্যাগ স্বীকারের অঙ্গীকার করার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
সিকান্দার আবু জাফর রচিত 'গরবিনী মা-জননী' কবিতায় সর্বাবস্থায় বাংলা মাকে রক্ষার দৃঢ়প্রতিজ্ঞার কথা উঠে এসেছে। এই মায়ের মর্যাদা রক্ষার জন্য তাঁর সন্তানেরা অনেক কষ্ট স্বীকার করে। তবুও কোনো অন্যায় অবিচারকে তারা মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। দেশমাতৃকার জন্য প্রয়োজনে বুকের তাজা রক্ত উৎসর্গ করতেও তাদের দ্বিধা নেই। উদ্দীপকে বর্ণিত সাজিদ তার মাকে অনেক ভালোবাসে। মায়ের মুখের হাসির জন্য সে যেকোনো ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। এমন মাতৃভক্তির প্রকাশ 'গরবিনী মা-জননী' কবিতায়ও লক্ষ করা যায়। সাজিদের বক্তব্যে কবিতার এ বিশেষ দিকটিই ফুটে উঠেছে।
প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও 'গরবিনী মা-জননী' কবিতা উভয় ক্ষেত্রেই মায়ের মহিমা ও তাঁর প্রতি সন্তানের গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তি প্রকাশ পেয়েছে।
সিকান্দার আবু জাফর রচিত 'গরবিনী মা-জননী' কবিতায় দেশমাতৃকার বন্দনা প্রকাশিত হয়েছে। মাতৃভূমি মমতা দিয়ে তাঁর সন্তানদের বুকে আগলে রাখেন। দেশমাতৃকার মর্যাদা রক্ষায় তাই তার সন্তানেরাও থাকে অবিচল।
উদ্দীপকে বর্ণিত সাজিদ তাঁর মায়ের অসামান্য ত্যাগের কথা তুলে ধরেছেন। শত প্রতিকূলতার মাঝেও তাঁর রত্নগর্ভা মা সন্তানদের মানুষ করেছেন। সাজিদ তাই মায়ের প্রতি সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে অঙ্গীকার করেছেন- মায়ের মুখের হাসি ফোটাতে তিনি যেকোনো ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকবেন।
'গরবিনী মা-জননী' কবিতায় দেশকে মায়ের সাথে তুলনা করা হয়েছে। মা-ই পৃথিবীতে আমাদের সবচেয়ে আপনজন। মায়ের মতো দেশও আলো-বাতাস দিয়ে আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। তাই মাকে আমরা যেমন ভালোবাসি দেশের জন্যও আমাদের তেমন ভালোবাসাই জ্ঞাপন করতে হবে। মায়ের জন্য আমরা যেকোনো ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকব। দেশের মর্যাদা রক্ষার জন্য নিজিদের বিলিয়ে দিতে থাকব। উদ্দীপকে মায়ের কথা বলা হয়েছে, আর আলোচ্য কবিতায় দেশমাতৃকার কথা। তবে উভয় ক্ষেত্রেই মায়ের জন্য একই অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। সার্বিক বিবেচনায় তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
সবুজ তৃণ মায়ের আঁচল কোণে লেগে থাকে।
সাহসী ও সংগ্রামী সন্তানদের কারণে বাংলাদেশ গর্বিত।
বিভিন্ন পেশাজীবী সন্তান দেশমাতৃকার কোল জুড়ে থাকে। এই মাকে রক্ষা করার জন্য এই সন্তানরা শত কষ্ট সহ্য করে। কোনো অন্যায়, অত্যাচার, অবিচারকে তারা মেনে নিতে পারে না। দেশের জন্য তারা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতেও দ্বিধা করে না। দেশমাতৃকাকে সমস্ত দুঃশাসন থেকে রক্ষার জন্য মায়ের সন্তানরা ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা যেকোনো দুঃসময়ে জেল জুলুম ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে নিজের সুখ শান্তি ও আলস্য পরিহার করে দেশের জন্য আত্মত্যাগ করতে দ্বিধা করে না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

